
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি যা এখন 'পেন্ডুলামের মতো দুলছে'। একটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়া, যা নাকি 'অগ্রগতির দিকে যাচ্ছে'। ওদিকে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি এখনো 'সন্তুষ্ট নন'। আর এরই মধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান সম্পর্কটা চরম গোলমেলে ও বিভ্রান্তিকর। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে— দুই দেশ কি আসলেই শান্তির কাছাকাছি রয়েছে, নাকি ফের একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে?
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিবিসির এক বিশ্লেষণে বলা হয়, চলতি সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ নিশ্চিতভাবেই গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতিকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে।
সম্প্রতি দক্ষিণ ইরানের বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসে একটি 'গ্রাউন্ড কন্ট্রোল সাইটে' (স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র) মার্কিন হামলার জবাবে ইরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, 'এই আগ্রাসন কোনোভাবেই জবাবহীন ছেড়ে দেওয়া হবে না।' এরপরই ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মার্কিন এক বিমান ঘাঁটিতে পালটা হামলা চালানোর দাবি করে।
ইরান সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ঘাঁটির নাম না জানালেও, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) পরে জানায় যে কুয়েতের আকাশে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। তেহরানের সুরেই সুর মিলিয়ে সেন্টকম এই ইরানি হামলাকে 'যুদ্ধবিরতির জঘন্য লঙ্ঘন' বলে অভিহিত করেছে।
যুদ্ধের ভয়াবহ সেই সাড়ে পাঁচ সপ্তাহ
এসব ঘটনাকে আপাতদৃষ্টিতে 'চরম উসকানি' মনে হলেও, যুদ্ধের প্রথম সাড়ে পাঁচ সপ্তাহের সেই ভয়াবহ রূপের তুলনায় এটি এখনও অনেকখানি শান্ত। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের প্রথম সাড়ে পাঁচ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হাজারও হামলা চালিয়েছে, আর তেহরানও মার্কিন ঘাঁটি, উপসাগরীয় দেশ এবং ইসরায়েলে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার তারা হরমুজ প্রণালির আশেপাশে 'হুমকি তৈরি করা' পাঁচটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এতে বোঝা যায়, বাণিজ্যিক বা সামরিক জাহাজ চলাচল নিয়ে আবারও উদ্বেগ বাড়ছে।
তবে কোনো পক্ষই চলতি সপ্তাহের এই 'ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়' গোছের পালটা আক্রমণকে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেওয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখছে না। এই প্রকাশ্য উত্তেজনার আড়ালে দুই দেশের মধ্যে একটি অত্যন্ত জটিল কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলছে। মাঝে মাঝে এই প্রক্রিয়ার কিছু হালকা আভাস পাওয়া গেলেও তা খুবই আংশিক ও ক্ষণস্থায়ী।
ইরানের খসড়া চুক্তি ও ট্রাম্পের অসন্তোষ
গত বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অনানুষ্ঠানিক একটি ১৪ দফার খসড়া সমঝোতা স্মারকের বিবরণ প্রকাশ করে। এতে মূলত তেহরান যেসব সুবিধা চায় তার সবই অন্তর্ভুক্ত ছিল; যেমন— ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ ও দেশটির 'আশেপাশের এলাকা' থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং ইরান ও ওমানের যৌথ পরিচালনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু করা।
তবে এতে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো ছাড় দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল না, বিশেষ করে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কোনো কথাই বলা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই হোয়াইট হাউজ একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে ইরানের এই খসড়াকে 'সম্পূর্ণ বানোয়াট' বলে উড়িয়ে দিয়েছে। পরবর্তীতে হোয়াইট হাউজে আয়োজিত এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, চুক্তির জন্য আসা প্রস্তাবগুলোতে তিনি এখনো 'সন্তুষ্ট নন'।
ট্রাম্প বলেন, ইরান এখন 'আমাদের সেই জিনিসগুলো দেওয়া শুরু করেছে যা তাদের দেওয়া উচিত'। তবে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে হুঁশিয়ারি দেন, তেহরান যদি শর্ত মানতে ব্যর্থ হয় তবে ফের যুদ্ধ শুরু হবে। বৈঠকে নিজের বাম পাশে বসা মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দিকে ইশারা করে ট্রাম্প বলেন, 'তারা যদি কথা না শোনে, তবে আমার বাম পাশে থাকা ভদ্রলোক তাদের পুরোপুরি শেষ করে দেবেন।'
বৈঠকে ট্রাম্পের চিরচেনা অধৈর্য আচরণও প্রকাশ পায়। ওমান ও ইরান মিলে যৌথভাবে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে— ইরানে পক্ষ থেকে আসা এমন প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র ওমানকে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন, 'তাদেরকে অন্য সবার মতোই আচরণ করতে হবে, অন্যথায় আমরা তাদের উড়িয়ে দিতে বাধ্য হব।'

ওদিকে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় গত বুধবার ইরানের নবগঠিত 'পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি'র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা হরমুজ প্রণালির নৌপথ তদারকির জন্য গঠন করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন একে বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্য থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একটি 'ইরানি অপচেষ্টা' বলে বর্ণনা করেছে।
উভয় সংকটে দুই পক্ষই
বরাবরের মতোই ট্রাম্প এমন ভাব দেখানোর চেষ্টা করছেন যেন যুদ্ধ একদম পরিকল্পনা মাফিক চলছে। বিশ্ববাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি কিংবা আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাজনৈতিক ধাক্কা এড়াতে দ্রুত যে একটি চুক্তি করা দরকার— এমন ধারণাকে তিনি পাত্তাই দিচ্ছেন না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ট্রাম্প বর্তমানে একটি বড় গ্যাঁড়াকলে পড়েছেন।
একটি সন্তোষজনক চুক্তি এখনও অধরা রয়ে গেছে। অন্যদিকে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির কিছু কট্টরপন্থি নেতা এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চাচ্ছেন ট্রাম্প যেন ফের যুদ্ধ শুরু করেন।
ঠিক একই ধরনের অভ্যন্তরীণ চাপ রয়েছে তেহরানেও। ইরানের কট্টরপন্থি নেতারা কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে তাদের সর্বোচ্চ লক্ষ্য অর্জনে অনড় থাকার দাবি জানাচ্ছেন। তাদের যুক্তি, ইরান বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে তাদের সহজে দমন করা সম্ভব নয়।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ
বর্তমানে পাকিস্তানের নেতৃত্বে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে। দুই পক্ষকে বিভক্ত করে রাখা ইস্যুগুলো অনেক গভীর— যার মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের অবরুদ্ধ থাকা তহবিল সচল করা।
তাদের বর্তমান ও তাৎক্ষণিক উদ্দেশ্য হলো একটি সমঝোতা স্মারক তৈরি করা, যা সাময়িকভাবে যুদ্ধ শেষ করবে এবং পরবর্তীতে চূড়ান্ত ও জটিল কূটনৈতিক আলোচনার জন্য একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করবে। কিন্তু সেই লক্ষ্যটি বারবার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।
বিবিসি বলছে, দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তপ্ত পরিস্থিতি সত্ত্বেও, আপাতদৃষ্টিতে ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র কেউই এই মুহূর্তে নতুন করে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নয়। সব নাটকীয়তার পরও, সাত সপ্তাহেরও বেশি পুরনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখনও কোনোমতে টিকে রয়েছে।
রাজনীতি/আইআর

একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি যা এখন 'পেন্ডুলামের মতো দুলছে'। একটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়া, যা নাকি 'অগ্রগতির দিকে যাচ্ছে'। ওদিকে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি এখনো 'সন্তুষ্ট নন'। আর এরই মধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান সম্পর্কটা চরম গোলমেলে ও বিভ্রান্তিকর। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে— দুই দেশ কি আসলেই শান্তির কাছাকাছি রয়েছে, নাকি ফের একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে?
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিবিসির এক বিশ্লেষণে বলা হয়, চলতি সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ নিশ্চিতভাবেই গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতিকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে।
সম্প্রতি দক্ষিণ ইরানের বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসে একটি 'গ্রাউন্ড কন্ট্রোল সাইটে' (স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র) মার্কিন হামলার জবাবে ইরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, 'এই আগ্রাসন কোনোভাবেই জবাবহীন ছেড়ে দেওয়া হবে না।' এরপরই ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মার্কিন এক বিমান ঘাঁটিতে পালটা হামলা চালানোর দাবি করে।
ইরান সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ঘাঁটির নাম না জানালেও, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) পরে জানায় যে কুয়েতের আকাশে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। তেহরানের সুরেই সুর মিলিয়ে সেন্টকম এই ইরানি হামলাকে 'যুদ্ধবিরতির জঘন্য লঙ্ঘন' বলে অভিহিত করেছে।
যুদ্ধের ভয়াবহ সেই সাড়ে পাঁচ সপ্তাহ
এসব ঘটনাকে আপাতদৃষ্টিতে 'চরম উসকানি' মনে হলেও, যুদ্ধের প্রথম সাড়ে পাঁচ সপ্তাহের সেই ভয়াবহ রূপের তুলনায় এটি এখনও অনেকখানি শান্ত। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের প্রথম সাড়ে পাঁচ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হাজারও হামলা চালিয়েছে, আর তেহরানও মার্কিন ঘাঁটি, উপসাগরীয় দেশ এবং ইসরায়েলে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার তারা হরমুজ প্রণালির আশেপাশে 'হুমকি তৈরি করা' পাঁচটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এতে বোঝা যায়, বাণিজ্যিক বা সামরিক জাহাজ চলাচল নিয়ে আবারও উদ্বেগ বাড়ছে।
তবে কোনো পক্ষই চলতি সপ্তাহের এই 'ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়' গোছের পালটা আক্রমণকে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেওয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখছে না। এই প্রকাশ্য উত্তেজনার আড়ালে দুই দেশের মধ্যে একটি অত্যন্ত জটিল কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলছে। মাঝে মাঝে এই প্রক্রিয়ার কিছু হালকা আভাস পাওয়া গেলেও তা খুবই আংশিক ও ক্ষণস্থায়ী।
ইরানের খসড়া চুক্তি ও ট্রাম্পের অসন্তোষ
গত বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অনানুষ্ঠানিক একটি ১৪ দফার খসড়া সমঝোতা স্মারকের বিবরণ প্রকাশ করে। এতে মূলত তেহরান যেসব সুবিধা চায় তার সবই অন্তর্ভুক্ত ছিল; যেমন— ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ ও দেশটির 'আশেপাশের এলাকা' থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং ইরান ও ওমানের যৌথ পরিচালনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু করা।
তবে এতে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো ছাড় দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল না, বিশেষ করে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কোনো কথাই বলা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই হোয়াইট হাউজ একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে ইরানের এই খসড়াকে 'সম্পূর্ণ বানোয়াট' বলে উড়িয়ে দিয়েছে। পরবর্তীতে হোয়াইট হাউজে আয়োজিত এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, চুক্তির জন্য আসা প্রস্তাবগুলোতে তিনি এখনো 'সন্তুষ্ট নন'।
ট্রাম্প বলেন, ইরান এখন 'আমাদের সেই জিনিসগুলো দেওয়া শুরু করেছে যা তাদের দেওয়া উচিত'। তবে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে হুঁশিয়ারি দেন, তেহরান যদি শর্ত মানতে ব্যর্থ হয় তবে ফের যুদ্ধ শুরু হবে। বৈঠকে নিজের বাম পাশে বসা মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দিকে ইশারা করে ট্রাম্প বলেন, 'তারা যদি কথা না শোনে, তবে আমার বাম পাশে থাকা ভদ্রলোক তাদের পুরোপুরি শেষ করে দেবেন।'
বৈঠকে ট্রাম্পের চিরচেনা অধৈর্য আচরণও প্রকাশ পায়। ওমান ও ইরান মিলে যৌথভাবে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে— ইরানে পক্ষ থেকে আসা এমন প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র ওমানকে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন, 'তাদেরকে অন্য সবার মতোই আচরণ করতে হবে, অন্যথায় আমরা তাদের উড়িয়ে দিতে বাধ্য হব।'

ওদিকে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় গত বুধবার ইরানের নবগঠিত 'পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি'র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা হরমুজ প্রণালির নৌপথ তদারকির জন্য গঠন করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন একে বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্য থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একটি 'ইরানি অপচেষ্টা' বলে বর্ণনা করেছে।
উভয় সংকটে দুই পক্ষই
বরাবরের মতোই ট্রাম্প এমন ভাব দেখানোর চেষ্টা করছেন যেন যুদ্ধ একদম পরিকল্পনা মাফিক চলছে। বিশ্ববাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি কিংবা আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাজনৈতিক ধাক্কা এড়াতে দ্রুত যে একটি চুক্তি করা দরকার— এমন ধারণাকে তিনি পাত্তাই দিচ্ছেন না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ট্রাম্প বর্তমানে একটি বড় গ্যাঁড়াকলে পড়েছেন।
একটি সন্তোষজনক চুক্তি এখনও অধরা রয়ে গেছে। অন্যদিকে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির কিছু কট্টরপন্থি নেতা এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চাচ্ছেন ট্রাম্প যেন ফের যুদ্ধ শুরু করেন।
ঠিক একই ধরনের অভ্যন্তরীণ চাপ রয়েছে তেহরানেও। ইরানের কট্টরপন্থি নেতারা কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে তাদের সর্বোচ্চ লক্ষ্য অর্জনে অনড় থাকার দাবি জানাচ্ছেন। তাদের যুক্তি, ইরান বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে তাদের সহজে দমন করা সম্ভব নয়।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ
বর্তমানে পাকিস্তানের নেতৃত্বে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে। দুই পক্ষকে বিভক্ত করে রাখা ইস্যুগুলো অনেক গভীর— যার মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের অবরুদ্ধ থাকা তহবিল সচল করা।
তাদের বর্তমান ও তাৎক্ষণিক উদ্দেশ্য হলো একটি সমঝোতা স্মারক তৈরি করা, যা সাময়িকভাবে যুদ্ধ শেষ করবে এবং পরবর্তীতে চূড়ান্ত ও জটিল কূটনৈতিক আলোচনার জন্য একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করবে। কিন্তু সেই লক্ষ্যটি বারবার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।
বিবিসি বলছে, দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তপ্ত পরিস্থিতি সত্ত্বেও, আপাতদৃষ্টিতে ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র কেউই এই মুহূর্তে নতুন করে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নয়। সব নাটকীয়তার পরও, সাত সপ্তাহেরও বেশি পুরনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখনও কোনোমতে টিকে রয়েছে।
রাজনীতি/আইআর

জিসিএইচকিউ পরিচালক অ্যান কিস্ট-বাটলার তার প্রথম জনসমক্ষে দেওয়া বক্তৃতায় এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্যের জন্য বর্তমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের রূপরেখা ব্যাখ্যা করেন।
১৫ ঘণ্টা আগে
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, হজরত ইবরাহিম (আ.) যখন মহান আল্লাহর নির্দেশে তার পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন শয়তান তাকে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করতে প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছিল। সেই সময় হজরত ইবরাহিম (আ.) তিন স্থানে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করেছিলেন। হাজিদের এই আনুষ্ঠানিকতা সেই
১ দিন আগে
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার খসড়া সামনে এসেছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। মার্কিন ওই খসড়া অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবার যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে তেহরান, যার বিনিময়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রত্যাহার করা হবে নৌ অবরোধ ও
১ দিন আগে
এরদোয়ান বলেন, ধর্মীয় উৎসবগুলো মূলত সামাজিক বন্ধন, পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সংহতিকে শক্তিশালী করার দিন। তবে এবার গাজা উপত্যকার চলমান পরিস্থিতি তুরস্কসহ পুরো বিশ্বের মুসলমানদের ঈদ উদ্যাপনে বিষাদের ছায়া ফেলেছে।
১ দিন আগে