এপস্টেইন ইস্যুতে নতুন মোড়, এবার মুখ খুলছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ১১
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত ছবিতে জেফরি এপস্টিন ও তার প্রেমিকা জিসলেন ম্যাক্সওয়েলকে দেখা গেছে। ছবিটি ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয়, যা এপস্টিনকে নিয়ে চলমান তদন্তের নতুন নথির অংশ। ছবি: রয়টার্স

প্রয়াত কুখ্যাত মার্কিন যৌন অপরাধী প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের নিউ মেক্সিকোর খামারবাড়ি ‘জোরা র‍্যাঞ্চে’ স্থানীয় নারী ও কিশোরীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কি না— তা নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রয়টার্সের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলছে, একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন যে তাদের এপস্টেইনের ওই খামারবাড়িতে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে এপস্টেইন ও তার সহযোগীদের হাতে তারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফে-এর ম্যাসাজ থেরাপিস্ট র‍্যাচেল বেনাভিদেজ ছাড়া আর কোনো স্থানীয় ভুক্তভোগীর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

সান্তা ফে-এর প্রায় ৩০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত ৭ হাজার ৬০০ একর আয়তনের জোরা র‍্যাঞ্চে যেসব অতিথি আসতেন এবং সেখানে কী চলছে তা যেসব রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের জানা ছিল বা যেসব কর্মকর্তা যৌন অপব্যবহারের মতো কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন, তাদেরকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে এপস্টেইন সংক্রান্ত ট্রুথ কমিশন।

নিউ মেক্সিকোর আইনপ্রণেতা মারিয়ানা আনায়া জানিয়েছেন, ট্রুথ কমিশন স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, যারা র‍্যাঞ্চে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘স্থানীয় কিছু অভিযোগকারী ভুক্তভোগীর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত

ট্রুথ কমিশন বর্তমানে নিউ মেক্সিকো বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে, যাতে সম্ভাব্য ফৌজদারি মামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কমিশন প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে জোরো র‍্যাঞ্চে এপস্টেইনের ২৫ বছরের মালিকানাকালে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত বিপুল নথির ভিত্তিতে নতুন করে তদন্ত শুরু করে নিউ মেক্সিকো। ওই নথির একটি ইমেইলে দাবি করা হয়, এপস্টেইনের সাবেক এক কর্মচারী জানিয়েছিলেন— র‍্যাঞ্চের বাইরে পাহাড়ি এলাকায় দুই কিশোরীর মরদেহ গোপনে পুঁতে রাখা হয়েছিল।

আদালতের বিভিন্ন সাক্ষ্য অনুযায়ী, এপস্টেইন ও তার সহযোগীরা নিউইয়র্ক ও পাম বিচের বাসভবনে স্থানীয় কিশোরীদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যেতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের সহায়তা কেন্দ্রের তথ্য

সান্তা ফেতে অবস্থিত সহায়তা কেন্দ্র ‘সলেস সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট সার্ভিসেস’-এর পরিচালক মারিয়া হোসে রদ্রিগেজ কাদিজ জানান, ২০১৯ সালে যখন এপস্টেইন গ্রেপ্তার হন এবং পরে কারাগারে মারা যান— প্রায় ৪৫ জন ব্যক্তি তাদের কেন্দ্রে সহায়তা ও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করেছিলেন।

তিনি বলেন, তাদের মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ থেকে অর্ধেক নারী দাবি করেছিলেন যে তারা জোরো র‍্যাঞ্চে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে কেন্দ্রটি বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক রেকর্ড সংরক্ষণ করেনি।

তার মতে, এপস্টেইনের গ্রেপ্তার এবং বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়া #MeToo আন্দোলনের কারণে ওই সময়ে অভিযোগের সংখ্যা বেড়ে যায়। তিনি আরও জানান, ওই সময়ে কেউই পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেননি।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে যৌন সহিংসতার মাত্র প্রায় ২৪ শতাংশ ঘটনা পুলিশের কাছে রিপোর্ট করা হয়েছে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরানের সঙ্গে বৈরিতার মধ্যেই ২ মুসলিম শক্তিধর দেশকে পাশে পেল সৌদি

চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে ‘তিন দেশের সবার ওপর হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তিন দেশের প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো ‘যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা’ এবং ‘তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সব দিক আরও

১৯ ঘণ্টা আগে

হরমুজ নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্তের পথে, তবে নৌপথ খুলছে না: ইরান

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতাকে যুদ্ধ বন্ধে বৃহত্তর একটি চুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। এর পর বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানি পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরান কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

২১ ঘণ্টা আগে

বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, দীর্ঘ যানজট

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত বাহাদুরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই অবরোধ চলে।

১ দিন আগে

শিক্ষার্থীর গুলিতে নিহত ৮: অস্ত্র আইন কঠোর হচ্ছে থাইল্যান্ডে

থাই প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এমন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা করছেন, যাতে জনসমক্ষে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। নতুন আইনে শুধু দায়িত্ব পালনরত সরকারি কর্মকর্তাদের আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

১ দিন আগে