
কূটনৈতিক প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক বেকারত্ব স্থিতিশীল থাকলেও শোভন কাজ (ডিসেন্ট ওয়ার্ক) অর্জনে অগ্রগতি থমকে আছে। এ ছাড়া তরুণরা এখনও সংগ্রামের মুখে রয়েছেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা শ্রমবাজারকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
‘কর্মসংস্থান ও সামাজিক প্রবণতা ২০২৬’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায় আইএলও। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক বেকারত্বের হার ৪.৯ শতাংশে স্থির থাকতে পারে— যা প্রায় ১৮৬ মিলিয়ন (৮ কোটি ৬০ লক্ষ) মানুষের সমান। তবুও বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি শ্রমিক এখনও মানসম্মত কাজ, সামাজিক সুরক্ষা ও চাকরির নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত।
আইএলও-এর মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হংবো বলেন, “স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি ও বেকারত্বের হার দেখে আমাদেরকে গভীর বাস্তবতা থেকে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়; কোটি কোটি শ্রমিক এখনও দারিদ্র্য, অনানুষ্ঠানিকতা এবং বঞ্চনার ফাঁদে আটকে আছেন।”
চাকরির গুণগত মানে চাপ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৩০ কোটি শ্রমিক এখনও চরম দারিদ্র্যে বাস করছেন- যাদের দৈনিক আয় ৩ মার্কিন ডলার বা ৩৬৩ টাকার কম। একই সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান বাড়ছে; ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ২১০ কোটি শ্রমিক অনানুষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এসব কাজে সামাজিক সুরক্ষা, কর্মক্ষেত্রে অধিকার এবং চাকরির নিরাপত্তার সুযোগ সীমিত। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে অগ্রগতির ঘাটতি সবচেয়ে তীব্র, ফলে সবচেয়ে খারাপ কর্মপরিস্থিতিতে থাকা শ্রমিকরা আরও পিছিয়ে পড়ছেন।
অঞ্চল, আয়স্তর, জেন্ডার ও বয়সভিত্তিক তথ্য উপস্থাপন করে প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে যে, উচ্চ-মূল্য সংযোজনকারী শিল্প বা সেবাখাতে অর্থনীতির রূপান্তর ধীর হওয়াই চাকরির গুণগত মান ও উৎপাদনশীলতার টেকসই অগ্রগতির বড় বাধা।
তরুণ ও এআই-এর ঝুঁকি
তরুণরা এখনও কঠিন অবস্থার মুখে। ২০২৫ সালে তরুণ বেকারত্ব বেড়ে ১২.৪ শতাংশে দাঁড়ায়। প্রায় ২৬ কোটি তরুণ শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণ (NEET)— কোনোটিতেই যুক্ত নয়। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে NEET হার উদ্বেগজনকভাবে ২৭.৯ শতাংশ।
আইএলও সতর্ক করেছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয়করণ (automation) এই চ্যালেঞ্জগুলো আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে— বিশেষ করে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে উচ্চদক্ষতা সম্পন্ন পেশায় প্রথমবারের মত চাকরি খুঁজতে থাকা শিক্ষিত তরুণদের জন্য।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “তরুণদের কর্মসংস্থানে এআই-এর পূর্ণ প্রভাব এখনও অনিশ্চিত হলেও, এর সম্ভাব্য ব্যাপকতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে।”
প্রোথিত জেন্ডার বৈষম্য
নারীরা এখনও সামাজিক রীতি ও প্রচলিত ধারণা থেকে সৃষ্ট গভীর বাধার মুখোমুখি। বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের মাত্র দুই-পঞ্চমাংশ নারীদের দখলে, এবং শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের সুযোগ পুরুষদের তুলনায় ২৪ শতাংশ কম। নারী শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির গতি থমকে গেছে, ফলে কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গসমতার অগ্রগতি ধীর হয়েছে।
জনমিতিক পরিবর্তনে শ্রমবাজারের রূপান্তর
প্রতিবেদনটি দেখিয়েছে, জনমিতিক পরিবর্তন কীভাবে শ্রমবাজারকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে। উন্নত দেশগুলোতে কর্মক্ষম বয়সের মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় জনসংখ্যার বার্ধক্য শ্রমশক্তির প্রবৃদ্ধি কমিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের দেশগুলো দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানে রূপ দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
২০২৬ সালে কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে— উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে ০.৫ শতাংশ, নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে ১.৮ শতাংশ এবং নিম্ন আয়ের দেশে ৩.১ শতাংশ। পর্যাপ্ত উৎপাদনশীল কাজের সুযোগ তৈরি না হলে, দরিদ্র দেশগুলো তাদের জনমিতিক লভ্যাংশ (demographic dividend) নষ্ট করার ঝুঁকিতে পড়বে বলে আইএলও সতর্ক করেছে।
নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে দুর্বল শ্রম উৎপাদনশীলতা ভৌগোলিক বৈষম্য আরও বাড়াচ্ছে, শোভন কাজের অগ্রগতি ব্যাহত করছে এবং উন্নত অর্থনীতির সঙ্গে জীবনমানের সমতা অর্জনকে ধীর করছে।
আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনোন বলেন, “এই প্রতিবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো - বাংলাদেশে যে উদ্বেগজনক প্রবণতাগুলো আমরা দেখছি, সেগুলোর প্রতিধ্বনি বৈশ্বিক পর্যায়েও রয়েছে। জনমিতিক লভ্যাংশ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। বাংলাদেশসহ অনেক দেশ আজ একটি বড় প্রশ্নের মুখোমুখি: উৎপাদনশীল ও মানসম্মত কর্মসংস্থানে বিনিয়োগ করা, না কি দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব, অনানুষ্ঠানিকতা ও সামাজিক চাপের ঝুঁকি নেওয়া।”
বাণিজ্য অস্থিরতা
বৈশ্বিক বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়ায় শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বাণিজ্য নিয়ম নিয়ে অনিশ্চয়তা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিবন্ধকতা শ্রমিকদের মজুরি কমিয়ে দিচ্ছে— বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া ও ইউরোপে। তবুও, বাণিজ্য এখনও কর্মসংস্থানের একটি বড় উৎস; বিশ্বব্যাপী ৪৬.৫ কোটি শ্রমিকের কাজ বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত, যার অর্ধেকেরও বেশি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে।
প্রতিবেদনটি বলছে, বাণিজ্য শোভন কাজের শক্তিশালী চালিকাশক্তি হতে পারে, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে, যেখানে রপ্তানি-নির্ভর খাতগুলো তুলনামূলকভাবে ভালো মজুরি, কম অনানুষ্ঠানিকতা এবং নারী ও তরুণদের জন্য বেশি সুযোগ দেয়। ডিজিটাল খাতে সরবরাহকৃত সেবা এখন বৈশ্বিক রপ্তানির ১৪.৫ শতাংশ, এবং বাণিজ্য-সম্পর্কিত প্রায় অর্ধেক চাকরি বাজারভিত্তিক সেবাখাতে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাড়লেও, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশ এখনও বাণিজ্য-সম্পর্কিত অধিকাংশ কাজের জন্য অঞ্চলবহির্ভূত বাজারের ওপর নির্ভরশীল।
আইএলওর মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হংবো শোভন কাজ ও সামাজিক ন্যায়বিচার এগিয়ে নিতে সমন্বিত উদ্যোগ ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন— বিশেষ করে দরিদ্র অর্থনীতিগুলোতে, যেগুলো সরবরাহ শৃঙ্খল ও ডিজিটাল বাণিজ্য সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে আছে।
হংবো বলেন, “সরকার, নিয়োগকর্তা ও শ্রমিকরা যদি দায়িত্বশীলভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং নারী ও তরুণদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে - সমন্বিত ও সুসংহত প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ না করেন, তবে শোভন কাজের ঘাটতি থেকেই যাবে এবং সামাজিক সংহতি ঝুঁকির মুখে পড়বে।”
প্রতিবেদনের সুপারিশসমূহ
বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিবেদনটি কয়েকটি সুপারিশ করেছে—

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক বেকারত্ব স্থিতিশীল থাকলেও শোভন কাজ (ডিসেন্ট ওয়ার্ক) অর্জনে অগ্রগতি থমকে আছে। এ ছাড়া তরুণরা এখনও সংগ্রামের মুখে রয়েছেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা শ্রমবাজারকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
‘কর্মসংস্থান ও সামাজিক প্রবণতা ২০২৬’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায় আইএলও। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক বেকারত্বের হার ৪.৯ শতাংশে স্থির থাকতে পারে— যা প্রায় ১৮৬ মিলিয়ন (৮ কোটি ৬০ লক্ষ) মানুষের সমান। তবুও বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি শ্রমিক এখনও মানসম্মত কাজ, সামাজিক সুরক্ষা ও চাকরির নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত।
আইএলও-এর মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হংবো বলেন, “স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি ও বেকারত্বের হার দেখে আমাদেরকে গভীর বাস্তবতা থেকে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়; কোটি কোটি শ্রমিক এখনও দারিদ্র্য, অনানুষ্ঠানিকতা এবং বঞ্চনার ফাঁদে আটকে আছেন।”
চাকরির গুণগত মানে চাপ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৩০ কোটি শ্রমিক এখনও চরম দারিদ্র্যে বাস করছেন- যাদের দৈনিক আয় ৩ মার্কিন ডলার বা ৩৬৩ টাকার কম। একই সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান বাড়ছে; ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ২১০ কোটি শ্রমিক অনানুষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এসব কাজে সামাজিক সুরক্ষা, কর্মক্ষেত্রে অধিকার এবং চাকরির নিরাপত্তার সুযোগ সীমিত। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে অগ্রগতির ঘাটতি সবচেয়ে তীব্র, ফলে সবচেয়ে খারাপ কর্মপরিস্থিতিতে থাকা শ্রমিকরা আরও পিছিয়ে পড়ছেন।
অঞ্চল, আয়স্তর, জেন্ডার ও বয়সভিত্তিক তথ্য উপস্থাপন করে প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে যে, উচ্চ-মূল্য সংযোজনকারী শিল্প বা সেবাখাতে অর্থনীতির রূপান্তর ধীর হওয়াই চাকরির গুণগত মান ও উৎপাদনশীলতার টেকসই অগ্রগতির বড় বাধা।
তরুণ ও এআই-এর ঝুঁকি
তরুণরা এখনও কঠিন অবস্থার মুখে। ২০২৫ সালে তরুণ বেকারত্ব বেড়ে ১২.৪ শতাংশে দাঁড়ায়। প্রায় ২৬ কোটি তরুণ শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণ (NEET)— কোনোটিতেই যুক্ত নয়। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে NEET হার উদ্বেগজনকভাবে ২৭.৯ শতাংশ।
আইএলও সতর্ক করেছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয়করণ (automation) এই চ্যালেঞ্জগুলো আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে— বিশেষ করে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে উচ্চদক্ষতা সম্পন্ন পেশায় প্রথমবারের মত চাকরি খুঁজতে থাকা শিক্ষিত তরুণদের জন্য।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “তরুণদের কর্মসংস্থানে এআই-এর পূর্ণ প্রভাব এখনও অনিশ্চিত হলেও, এর সম্ভাব্য ব্যাপকতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে।”
প্রোথিত জেন্ডার বৈষম্য
নারীরা এখনও সামাজিক রীতি ও প্রচলিত ধারণা থেকে সৃষ্ট গভীর বাধার মুখোমুখি। বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের মাত্র দুই-পঞ্চমাংশ নারীদের দখলে, এবং শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের সুযোগ পুরুষদের তুলনায় ২৪ শতাংশ কম। নারী শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির গতি থমকে গেছে, ফলে কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গসমতার অগ্রগতি ধীর হয়েছে।
জনমিতিক পরিবর্তনে শ্রমবাজারের রূপান্তর
প্রতিবেদনটি দেখিয়েছে, জনমিতিক পরিবর্তন কীভাবে শ্রমবাজারকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে। উন্নত দেশগুলোতে কর্মক্ষম বয়সের মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় জনসংখ্যার বার্ধক্য শ্রমশক্তির প্রবৃদ্ধি কমিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের দেশগুলো দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানে রূপ দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
২০২৬ সালে কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে— উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে ০.৫ শতাংশ, নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে ১.৮ শতাংশ এবং নিম্ন আয়ের দেশে ৩.১ শতাংশ। পর্যাপ্ত উৎপাদনশীল কাজের সুযোগ তৈরি না হলে, দরিদ্র দেশগুলো তাদের জনমিতিক লভ্যাংশ (demographic dividend) নষ্ট করার ঝুঁকিতে পড়বে বলে আইএলও সতর্ক করেছে।
নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে দুর্বল শ্রম উৎপাদনশীলতা ভৌগোলিক বৈষম্য আরও বাড়াচ্ছে, শোভন কাজের অগ্রগতি ব্যাহত করছে এবং উন্নত অর্থনীতির সঙ্গে জীবনমানের সমতা অর্জনকে ধীর করছে।
আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনোন বলেন, “এই প্রতিবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো - বাংলাদেশে যে উদ্বেগজনক প্রবণতাগুলো আমরা দেখছি, সেগুলোর প্রতিধ্বনি বৈশ্বিক পর্যায়েও রয়েছে। জনমিতিক লভ্যাংশ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। বাংলাদেশসহ অনেক দেশ আজ একটি বড় প্রশ্নের মুখোমুখি: উৎপাদনশীল ও মানসম্মত কর্মসংস্থানে বিনিয়োগ করা, না কি দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব, অনানুষ্ঠানিকতা ও সামাজিক চাপের ঝুঁকি নেওয়া।”
বাণিজ্য অস্থিরতা
বৈশ্বিক বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়ায় শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বাণিজ্য নিয়ম নিয়ে অনিশ্চয়তা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিবন্ধকতা শ্রমিকদের মজুরি কমিয়ে দিচ্ছে— বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া ও ইউরোপে। তবুও, বাণিজ্য এখনও কর্মসংস্থানের একটি বড় উৎস; বিশ্বব্যাপী ৪৬.৫ কোটি শ্রমিকের কাজ বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত, যার অর্ধেকেরও বেশি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে।
প্রতিবেদনটি বলছে, বাণিজ্য শোভন কাজের শক্তিশালী চালিকাশক্তি হতে পারে, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে, যেখানে রপ্তানি-নির্ভর খাতগুলো তুলনামূলকভাবে ভালো মজুরি, কম অনানুষ্ঠানিকতা এবং নারী ও তরুণদের জন্য বেশি সুযোগ দেয়। ডিজিটাল খাতে সরবরাহকৃত সেবা এখন বৈশ্বিক রপ্তানির ১৪.৫ শতাংশ, এবং বাণিজ্য-সম্পর্কিত প্রায় অর্ধেক চাকরি বাজারভিত্তিক সেবাখাতে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাড়লেও, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশ এখনও বাণিজ্য-সম্পর্কিত অধিকাংশ কাজের জন্য অঞ্চলবহির্ভূত বাজারের ওপর নির্ভরশীল।
আইএলওর মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হংবো শোভন কাজ ও সামাজিক ন্যায়বিচার এগিয়ে নিতে সমন্বিত উদ্যোগ ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন— বিশেষ করে দরিদ্র অর্থনীতিগুলোতে, যেগুলো সরবরাহ শৃঙ্খল ও ডিজিটাল বাণিজ্য সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে আছে।
হংবো বলেন, “সরকার, নিয়োগকর্তা ও শ্রমিকরা যদি দায়িত্বশীলভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং নারী ও তরুণদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে - সমন্বিত ও সুসংহত প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ না করেন, তবে শোভন কাজের ঘাটতি থেকেই যাবে এবং সামাজিক সংহতি ঝুঁকির মুখে পড়বে।”
প্রতিবেদনের সুপারিশসমূহ
বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিবেদনটি কয়েকটি সুপারিশ করেছে—

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন বীরেশ্বর। নিজের গাড়িতে করে কলকাতা থেকে পালিয়ে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে গিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। ঝাড়খণ্ডে বীরেশ্বরের কয়েকজন কর্মচারীর বাড়ি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানেই গিয়ে তিনি তাদের সহায়তা নিয়েছিলেন।
১ দিন আগে
তবে অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্সের মোট আইনি খরচ কতটা বাদীদের দিতে হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অযৌক্তিক হিসেবে বিবেচিত খরচের বিষয়ে আদালত আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হলে আলাদা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই খরচ নির্ধারণ করা হবে।
১ দিন আগে
জাতিসংঘের পাওনা ৪০০ কোটি ডলারের বেশি বকেয়া অর্থের একটি অংশ পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘকে ৭২ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেবে। এ বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসকেও অবহিত করা হয়েছে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা।
১ দিন আগে
ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট জজ জ্যানেট ভার্গাস শুক্রবার (২১ আগস্ট) এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তিনি বলেন, স্টেট ডিপার্টমেন্টের জানুয়ারিতে ঘোষিত এই নীতি ছিল ‘স্পষ্টতই বেআইনি’। এটি কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনেরও পরিপন্থি। কারণ, ওই আইনে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি ক
১ দিন আগে