পর্তুগালে বামপন্থিদের জয়জয়কার, প্রেসিডেন্ট হলেন সেগুরো

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
সোশ্যালিস্ট পার্টির অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ আন্তোনিও জোসে সেগুরো। ছবি: সংগৃহীত
সোশ্যালিস্ট পার্টির অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ আন্তোনিও জোসে সেগুরো। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের দেশ পর্তুগালে কট্টর ডানপন্থি রাজনীতির উত্থান রুখে দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন সোশ্যালিস্ট পার্টির অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ আন্তোনিও জোসে সেগুরো। বৈরী আবহাওয়া আর বন্যার কারণে কয়েক দফায় ভোটগ্রহণের পর প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আন্দ্রে ভেঞ্চুরাকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।

অভিবাসনবিরোধী এবং কট্টর ডানপন্থি চেগা পার্টির নেতা ভেঞ্চুরার জনপ্রিয়তা বাড়লেও সেগুরোর এই নিরঙ্কুশ বিজয় দেশটিতে বামপন্থি ও উদারপন্থী রাজনীতির অবস্থানকে আরও সুসংহত করল।

৬৩ বছর বয়স্ক সেগুরো দেশটির বামপন্থি দল সোশ্যালিস্ট পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আর ৪৩ বছর বয়স্ক আন্দ্রে ভেঞ্চুরা পর্তুগালের ডানপন্থি দল চেগা-এর শীর্ষ নেতা।

ভোট গণনা শেষে গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে পর্তুগালের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মোট ৯৭ শতাংশ ভোট কাস্ট করা হয়েছে। কাস্টকৃত এই ভোটের ৬৩ শতাংশ পেয়েছেন সেগুরো। আর ৩৪ শতাংশ পেয়েছেন ভেঞ্চুরা।

রোববার পর্তুগালের নির্বাচন কমিশন যে ফলাফল প্রকাশ করেছে, তা দ্বিতীয় দফা বা রান অফ নির্বাচনের। গত ১৮ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে সময় পর্তুগালের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার কারণে সেসব অঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোতে আর ভোটগ্রহণ হয়নি।

তবে উত্তরাঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ হয়েছিল সেদিন। প্রায় ৩৭ হাজার ভোটার ভোটও দিয়েছিলেন, যা পর্তুগালের মোট ভোটারের দশমিক ৩ অংশ। কিন্তু মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপারটি আমলে নিয়ে দেশটির নির্বাচন কমিশন ১৮ জানুয়ারির ভোট স্থগিত করেন এবং পরবর্তী ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করেন গত ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার।

রোববার যে ফলাফল প্রকাশ করেছে পর্তুগালের নির্বাচন কমিশন, সেখানে ১৮ জানুয়ারির ভোটগুলোও হিসেবের আওতায় আনা হয়েছে।

পর্তুগালের রাজনৈতিক কাঠামো ও শাসনতন্ত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত, তবে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের মতো পুরোপুরি আলঙ্করিক নয়। জরুরি অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই পার্লামেন্টের বিলুপ্তি ঘোষণা করা-সহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট রাখেন।

আকস্মিক বন্যার কারণে পর্তুগালের নির্বাচন কমিশন ১৮ জানুয়ারির ভোট স্থগিত করে ৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফা ভোটগ্রহণের দিন ঘোষণার পর কঠোর আপত্তি জানিয়েছিলেন পরাজিত প্রার্থী আন্দ্রে ভেঞ্চুরা। তিনি পুরো ভোট বাতিল করে নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছিলেন, তবে পর্তুগালের নির্বাচন কমিশন সেই দাবি আমলে নেয়নি।

তবে পরাজিত হলেও এবারের ভোটে বেশ অগ্রগতি হয়েছে আন্দ্রে ভেঞ্চুরা ও তার দল চেগা পার্টি’র। দেশটির রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বিগত নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচনে ভেঞ্চুরা ও অভিবাসনবিরোধী চেগা পার্টির জনপ্রিয়তা বেড়েছে ২২ দশমিক ৮ শতাংশ।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement