
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ৩৭ বছর ধরে নেতৃত্বে থাকা এই নেতার জন্য দেশটি ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে আসীন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনির ঘনিষ্ঠত ছিলেন আলি খামেনি। ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহর মৃত্যুর পর তিনিই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসেন। তখন থেকে তিনিই ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা। কিন্তু কে এই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি? কীভাবেই বা তিনি ইরানের নেতৃত্বের চূড়ায় উঠলেন?
বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ইরানের শাসন পদ্ধতি বেশ আলাদা। সেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বা সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হলেও দেশের মূল ক্ষমতা থাকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে। বলতে গেলে ধর্মীয় নেতাই সবকিছুর নেপথ্যে থেকে দেশটি পরিচালনা করে থাকেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলাতে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছিল, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে। এমনকি দেশটির অন্য কোনো নেতা নন, আলি খামেনিই দীর্ঘ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য হিসেবে রয়েছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসনের এই ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। ওই বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভির রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর দেশটি দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। তাদের পদবী হিসেবে আয়াতুল্লাহ ব্যবহার করা হয়, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে যার অর্থ সিনিয়র ধর্মীয় নেতা।
সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ছিলেন। এ ছাড়া দেশের সব বড় বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার সম্মতি দরকার হতো। এমনকি ইরান পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী হবে কি না অথবা জাতিসংঘের আণবিক শক্তি সংস্থাকে সহযোগিতা করবে কি না, এসবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও তিনি দিতেন।
১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তরপূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে এক আলেমের ঘরে জন্ম নেওয়া আলি খামেনি নিজ শহরের ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রে পড়ালেখা করেন। পরে শিয়া মুসলিমদের পবিত্র নগরী কোমে চলে যান তিনি।
১৯৬২ সালে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধাচরণকারী রুহুল্লাহ খামেনির ধর্মীয় আন্দোলনে যোগ দেন তরুণ আলি খামেনি। তিনি রুহুল্লাহর একনিষ্ঠ অনুসারী হয়ে ওঠেন। তার নিজের ভাষায়, তিনি যা করেছেন এবং এখন যা বিশ্বাস করেন, সবই রুহুল্লাহ খামেনির ইসলামি ভাবধারা থেকে প্রাপ্ত।
ইসলামি বিপ্লবের সময় আলি খামেনি নিজে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধে সরাসরি বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।
![আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি [১৯ এপ্রিল ১৯৩৯ - ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬]](https://cdn.rajneete.com/images/Ayatollah_Ali_Khamenei_03_File_Photo_01-03-20.width-750.webp)
১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর আলি খামেনি বিপ্লবী পরিষদে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী হন এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরকে সংগঠিত করতে সহায়তা করেন। এই বিপ্লবী গার্ড ইরানের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
১৯৮১ সালের জুন মাসে তেহরানের একটি মসজিদে বোমা হামলায় গুরুতর আহত হন আলি খামেনি। দেশটির বামপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তার ওপর ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। এ ঘটনায় খামেনির ডান হাত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
দুই মাস পর একই বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইরানের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ-আলি রাজাইকে হত্যা করে। রাজাইয়ের মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে আলি খামেনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আট বছর ধরে আনুষ্ঠানিক এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি। ওই সময় তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মির হোসেইন মুসাভির সঙ্গে নানা মতবিরোধে জড়ান। কারণ তিনি মনে করতেন, মুসাভি ইরানের ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সংস্কার আনতে চাইছেন।
১৯৮৯ সালের জুনে রুহুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ (ধর্মীয় আলেমদের একটি পরিষদ) আলি খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করে। তবে এ সময় তার পদবি ছিল ‘হোজ্জাতুল ইসলাম’। তিনি সংবিধানে নির্ধারিত শিয়া ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদমর্যাদা বা ‘গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ’ উপাধি অর্জন করতে পারেননি।
পরে ইরানের সংবিধানে সংশোধন আনা হয়। সংশোধনীনে বলা হয়েছিল, সর্বোচ্চ নেতাকে ইসলামি পাণ্ডিত্য অর্জন করতে হবে এবং আলি খামেনি নির্বাচিত হতে পারবেন। পরে রাতারাতি তাকে হোজ্জাতুল ইসলাম থেকে আয়াতুল্লাহ পদে উন্নীত করা হয়েছিল।
ইরানের সংবিধানে তখন আরও একটি পরিবর্তন আনা হয়। প্রধানমন্ত্রী পদ বাতিল করা হয় এবং রাষ্ট্রপতির হাতে বেশি ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। ইরানের সংবিধানও পরিবর্তন করে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রপতির হাতে বৃহত্তর কর্তৃত্ব ন্যস্ত করা হয়েছিল।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনামলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ছয়জন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের অনেকেই খামেনির কর্তৃত্বকে কিছুটা চ্যালেঞ্জ করলেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করেননি।
১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সংস্কারপন্থি নেতা মোহাম্মদ খাতামি। খাতামি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চেয়েছিলেন। খাতামি প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় ইরানের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও তখন সর্বোচ্চ নেতা খামেনি এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
খাতামির উত্তরসূরি হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রক্ষণশীল নেতা মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। তাকে কেউ কেউ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অনুসারী মনে করতেন। কিন্তু অর্থনীতি ও বৈদেশিক নীতি নিয়ে আহমাদিনেজাদ সরকারের অবস্থান তখন ইরানে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। একই সঙ্গে আহমাদিনেজাদ নিজের ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ নেতা খামেনির সঙ্গে তার বিরোধও দেখা দেয়।
২০০৯ সালে আহমাদিনেজাদের বিতর্কিত পুনর্নির্বাচন ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় আন্দোলনের জন্ম দেয়। সর্বোচ্চ নেতা খামেনি ওই নির্বাচনের ফলাফল বৈধ বলে ঘোষণা দেন এবং তীব্র আন্দোলন দমনে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। এই দমন অভিযানে অনেক বিরোধী কর্মী নিহত হন, গ্রেপ্তার হন হাজার হাজার মানুষ।
২০১৩ সালে ইরানের উদারপন্থি নেতা হাসান রুহানি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি করেন। এই চুক্তি খামেনির সম্মতিতেই সম্পন্ন হয়। তবে রুহানির নাগরিক অধিকার প্রসার ও অর্থনৈতিক সংস্কার উদ্যোগে বাধা দেন খামেনি।
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে এসে ইরানের ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সাধারণ ইরানিদের অর্থনৈতিক দুর্দশা আরও বাড়তে শুরু করে। রুহানি সেই চাপ সামলাতে ব্যর্থ হন এবং ২০১৯ সালের নভেম্বরে ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু হয়।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরাকের মাটিতে একটি ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করে। সোলেইমানি আয়াতুল্লাহ খামেনির ঘনিষ্ঠ মিত্র ও ব্যক্তিগত বন্ধু ছিলেন। এ হামলার পর খামেনি সোলেইমানি হত্যার প্রতিশোধের ঘোষণা দেন। ইরাকের দুটি মার্কিন ঘাটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।
পরে খামেনি বলেছিলেন, ইরাকে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের প্রতিশোধমূলক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছিল ‘আমেরিকার গালে চপেটাঘাত’। খামেনি তখন জোর দিয়ে বলেছিলেন, ‘এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।’
শীর্ষ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ খামেনি বহুবারই ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০১৮ সালে তিনি ইসরায়েলকে ‘একটি ক্যানসার আক্রান্ত টিউমার’ আখ্যা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মুছে ফেলার ফেলার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। হলোকাস্ট বা ‘ইহুদি গণহত্যা’ আদৌ ঘটেছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।

২০১৪ সালে টুইটার অ্যাকাউন্টের একটি বার্তায় খামেনি বলেন, ‘হলোকাস্ট এমন এক ঘটনা যার বাস্তবতা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। আর যদি ঘটেও থাকে, সেটি কীভাবে ঘটেছিল, তা স্পষ্ট নয়।’
২০২০ সালে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও ইরানের সরকার দুটি বড় সংকটের মুখোমুখি হয়। প্রথম সংকটটি শুরু হয় ওই বছরের ৮ জানুয়ারি। তখন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ভুল করে ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান তেহরানের কাছে ভূপাতিত করে। এতে বিমানে থাকা ১৭৬ জন যাত্রীর সবাই নিহত হন, যাদের অনেকেই ছিলেন ইরানি নাগরিক।
ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার ফলে ইরানের ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। কট্টরপন্থি সংবাদপত্রগুলো আলি খামেনির পদত্যাগের দাবি জানায় এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভের নতুন ঢেউ ওঠে দেশটিতে। সে সময় ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলির ব্যবহারও করে বলে অভিযোগ ছিল।
ওই সময় শুক্রবারের জুমার নামাজের বিরল এক খুতবায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তিনি মর্মাহত। তবে তিনি তখন সামরিক বাহিনীর পক্ষই নিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ইরানের শত্রুরা এই ট্র্যাজেডিকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে।
দ্বিতীয়বার ইরান বড় সংকটের মুখে পড়ে ওই বছরেরই ফেব্রুয়ারিতে, যখন ইরানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ছড়িয়ে পড়ে। আয়াতুল্লাহ খামেনি প্রথমে করোনাভাইরাসের হুমকিকে খাটো করে দেখেছিলেন। বলেছিলেন, ইরানের শত্রুরা একে ভয় দেখানোর কৌশল হিসেবে অতিরঞ্জিত করছে।
অর্থনৈতিক দুরবস্থা ইরানের জনজীবনকে আরও দুর্দশাগ্রস্ত করে তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় ইরানে প্রায়ই সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। ইরানের নির্বাসিত নেতারা এসব আন্দোলন-বিক্ষোভকে সমর্থন দিয়েছেন। এসব বিক্ষোভে সরকারি বাহিনীর হাতে ইরানের নাগরিকদের প্রাণহানির নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ।
সবশেষ গত বছরের শেষভাগে সরকাবিরোধী আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। ইরানের সরকারি হিসাব, সে আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ তিন হাজারের কিছু বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, সে আন্দোলনে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আলি খামেনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বহির্শক্তি এসব আন্দোলন উসকে দিচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ এসব আন্দোলন-বিক্ষোভের মধ্যেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও ইরান দ্বন্দ্বমুখর সময় কাটিয়েছে। সবশেষ ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু চুক্তির জন্য ইরানকে ১০ দিন সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাও চলছিল। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে ইরানের ওপর। আর এ হামলাতেই আলি খামেনির ৩৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটল।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, গার্ডিয়ান

সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ৩৭ বছর ধরে নেতৃত্বে থাকা এই নেতার জন্য দেশটি ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে আসীন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনির ঘনিষ্ঠত ছিলেন আলি খামেনি। ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহর মৃত্যুর পর তিনিই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসেন। তখন থেকে তিনিই ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা। কিন্তু কে এই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি? কীভাবেই বা তিনি ইরানের নেতৃত্বের চূড়ায় উঠলেন?
বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ইরানের শাসন পদ্ধতি বেশ আলাদা। সেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বা সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হলেও দেশের মূল ক্ষমতা থাকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে। বলতে গেলে ধর্মীয় নেতাই সবকিছুর নেপথ্যে থেকে দেশটি পরিচালনা করে থাকেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলাতে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছিল, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে। এমনকি দেশটির অন্য কোনো নেতা নন, আলি খামেনিই দীর্ঘ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য হিসেবে রয়েছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসনের এই ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। ওই বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভির রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর দেশটি দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। তাদের পদবী হিসেবে আয়াতুল্লাহ ব্যবহার করা হয়, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে যার অর্থ সিনিয়র ধর্মীয় নেতা।
সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ছিলেন। এ ছাড়া দেশের সব বড় বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার সম্মতি দরকার হতো। এমনকি ইরান পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী হবে কি না অথবা জাতিসংঘের আণবিক শক্তি সংস্থাকে সহযোগিতা করবে কি না, এসবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও তিনি দিতেন।
১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তরপূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে এক আলেমের ঘরে জন্ম নেওয়া আলি খামেনি নিজ শহরের ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রে পড়ালেখা করেন। পরে শিয়া মুসলিমদের পবিত্র নগরী কোমে চলে যান তিনি।
১৯৬২ সালে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধাচরণকারী রুহুল্লাহ খামেনির ধর্মীয় আন্দোলনে যোগ দেন তরুণ আলি খামেনি। তিনি রুহুল্লাহর একনিষ্ঠ অনুসারী হয়ে ওঠেন। তার নিজের ভাষায়, তিনি যা করেছেন এবং এখন যা বিশ্বাস করেন, সবই রুহুল্লাহ খামেনির ইসলামি ভাবধারা থেকে প্রাপ্ত।
ইসলামি বিপ্লবের সময় আলি খামেনি নিজে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধে সরাসরি বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।
![আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি [১৯ এপ্রিল ১৯৩৯ - ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬]](https://cdn.rajneete.com/images/Ayatollah_Ali_Khamenei_03_File_Photo_01-03-20.width-750.webp)
১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর আলি খামেনি বিপ্লবী পরিষদে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী হন এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরকে সংগঠিত করতে সহায়তা করেন। এই বিপ্লবী গার্ড ইরানের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
১৯৮১ সালের জুন মাসে তেহরানের একটি মসজিদে বোমা হামলায় গুরুতর আহত হন আলি খামেনি। দেশটির বামপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তার ওপর ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। এ ঘটনায় খামেনির ডান হাত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
দুই মাস পর একই বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইরানের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ-আলি রাজাইকে হত্যা করে। রাজাইয়ের মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে আলি খামেনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আট বছর ধরে আনুষ্ঠানিক এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি। ওই সময় তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মির হোসেইন মুসাভির সঙ্গে নানা মতবিরোধে জড়ান। কারণ তিনি মনে করতেন, মুসাভি ইরানের ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সংস্কার আনতে চাইছেন।
১৯৮৯ সালের জুনে রুহুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ (ধর্মীয় আলেমদের একটি পরিষদ) আলি খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করে। তবে এ সময় তার পদবি ছিল ‘হোজ্জাতুল ইসলাম’। তিনি সংবিধানে নির্ধারিত শিয়া ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদমর্যাদা বা ‘গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ’ উপাধি অর্জন করতে পারেননি।
পরে ইরানের সংবিধানে সংশোধন আনা হয়। সংশোধনীনে বলা হয়েছিল, সর্বোচ্চ নেতাকে ইসলামি পাণ্ডিত্য অর্জন করতে হবে এবং আলি খামেনি নির্বাচিত হতে পারবেন। পরে রাতারাতি তাকে হোজ্জাতুল ইসলাম থেকে আয়াতুল্লাহ পদে উন্নীত করা হয়েছিল।
ইরানের সংবিধানে তখন আরও একটি পরিবর্তন আনা হয়। প্রধানমন্ত্রী পদ বাতিল করা হয় এবং রাষ্ট্রপতির হাতে বেশি ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। ইরানের সংবিধানও পরিবর্তন করে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রপতির হাতে বৃহত্তর কর্তৃত্ব ন্যস্ত করা হয়েছিল।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনামলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ছয়জন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের অনেকেই খামেনির কর্তৃত্বকে কিছুটা চ্যালেঞ্জ করলেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করেননি।
১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সংস্কারপন্থি নেতা মোহাম্মদ খাতামি। খাতামি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চেয়েছিলেন। খাতামি প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় ইরানের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও তখন সর্বোচ্চ নেতা খামেনি এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
খাতামির উত্তরসূরি হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রক্ষণশীল নেতা মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। তাকে কেউ কেউ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অনুসারী মনে করতেন। কিন্তু অর্থনীতি ও বৈদেশিক নীতি নিয়ে আহমাদিনেজাদ সরকারের অবস্থান তখন ইরানে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। একই সঙ্গে আহমাদিনেজাদ নিজের ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ নেতা খামেনির সঙ্গে তার বিরোধও দেখা দেয়।
২০০৯ সালে আহমাদিনেজাদের বিতর্কিত পুনর্নির্বাচন ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় আন্দোলনের জন্ম দেয়। সর্বোচ্চ নেতা খামেনি ওই নির্বাচনের ফলাফল বৈধ বলে ঘোষণা দেন এবং তীব্র আন্দোলন দমনে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। এই দমন অভিযানে অনেক বিরোধী কর্মী নিহত হন, গ্রেপ্তার হন হাজার হাজার মানুষ।
২০১৩ সালে ইরানের উদারপন্থি নেতা হাসান রুহানি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি করেন। এই চুক্তি খামেনির সম্মতিতেই সম্পন্ন হয়। তবে রুহানির নাগরিক অধিকার প্রসার ও অর্থনৈতিক সংস্কার উদ্যোগে বাধা দেন খামেনি।
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে এসে ইরানের ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সাধারণ ইরানিদের অর্থনৈতিক দুর্দশা আরও বাড়তে শুরু করে। রুহানি সেই চাপ সামলাতে ব্যর্থ হন এবং ২০১৯ সালের নভেম্বরে ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু হয়।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরাকের মাটিতে একটি ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করে। সোলেইমানি আয়াতুল্লাহ খামেনির ঘনিষ্ঠ মিত্র ও ব্যক্তিগত বন্ধু ছিলেন। এ হামলার পর খামেনি সোলেইমানি হত্যার প্রতিশোধের ঘোষণা দেন। ইরাকের দুটি মার্কিন ঘাটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।
পরে খামেনি বলেছিলেন, ইরাকে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের প্রতিশোধমূলক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছিল ‘আমেরিকার গালে চপেটাঘাত’। খামেনি তখন জোর দিয়ে বলেছিলেন, ‘এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।’
শীর্ষ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ খামেনি বহুবারই ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০১৮ সালে তিনি ইসরায়েলকে ‘একটি ক্যানসার আক্রান্ত টিউমার’ আখ্যা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মুছে ফেলার ফেলার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। হলোকাস্ট বা ‘ইহুদি গণহত্যা’ আদৌ ঘটেছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।

২০১৪ সালে টুইটার অ্যাকাউন্টের একটি বার্তায় খামেনি বলেন, ‘হলোকাস্ট এমন এক ঘটনা যার বাস্তবতা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। আর যদি ঘটেও থাকে, সেটি কীভাবে ঘটেছিল, তা স্পষ্ট নয়।’
২০২০ সালে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও ইরানের সরকার দুটি বড় সংকটের মুখোমুখি হয়। প্রথম সংকটটি শুরু হয় ওই বছরের ৮ জানুয়ারি। তখন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ভুল করে ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান তেহরানের কাছে ভূপাতিত করে। এতে বিমানে থাকা ১৭৬ জন যাত্রীর সবাই নিহত হন, যাদের অনেকেই ছিলেন ইরানি নাগরিক।
ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার ফলে ইরানের ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। কট্টরপন্থি সংবাদপত্রগুলো আলি খামেনির পদত্যাগের দাবি জানায় এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভের নতুন ঢেউ ওঠে দেশটিতে। সে সময় ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলির ব্যবহারও করে বলে অভিযোগ ছিল।
ওই সময় শুক্রবারের জুমার নামাজের বিরল এক খুতবায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তিনি মর্মাহত। তবে তিনি তখন সামরিক বাহিনীর পক্ষই নিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ইরানের শত্রুরা এই ট্র্যাজেডিকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে।
দ্বিতীয়বার ইরান বড় সংকটের মুখে পড়ে ওই বছরেরই ফেব্রুয়ারিতে, যখন ইরানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ছড়িয়ে পড়ে। আয়াতুল্লাহ খামেনি প্রথমে করোনাভাইরাসের হুমকিকে খাটো করে দেখেছিলেন। বলেছিলেন, ইরানের শত্রুরা একে ভয় দেখানোর কৌশল হিসেবে অতিরঞ্জিত করছে।
অর্থনৈতিক দুরবস্থা ইরানের জনজীবনকে আরও দুর্দশাগ্রস্ত করে তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় ইরানে প্রায়ই সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। ইরানের নির্বাসিত নেতারা এসব আন্দোলন-বিক্ষোভকে সমর্থন দিয়েছেন। এসব বিক্ষোভে সরকারি বাহিনীর হাতে ইরানের নাগরিকদের প্রাণহানির নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ।
সবশেষ গত বছরের শেষভাগে সরকাবিরোধী আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। ইরানের সরকারি হিসাব, সে আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ তিন হাজারের কিছু বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, সে আন্দোলনে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আলি খামেনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বহির্শক্তি এসব আন্দোলন উসকে দিচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ এসব আন্দোলন-বিক্ষোভের মধ্যেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও ইরান দ্বন্দ্বমুখর সময় কাটিয়েছে। সবশেষ ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু চুক্তির জন্য ইরানকে ১০ দিন সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাও চলছিল। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে ইরানের ওপর। আর এ হামলাতেই আলি খামেনির ৩৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটল।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছাড়াও ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দোলরহিম মৌসাভিও নিহত হয়েছেন।
৩ ঘণ্টা আগে
সিভিল হাসপাতাল করাচির ট্রমা সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ সাবির মেমন দ্য ডনকে জানিয়েছেন, মাই কোলাচি রোডে মার্কিন কনস্যুলেটের নিকটে প্রতিবাদকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার পর অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে এবং ২০-এর বেশি আহত হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ইরানের মিসাইল হামলায় তছনছ হয়ে গেছে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চল। ইসরাইলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিবে শনিবার (১ মার্চ) চালানো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
৪ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে খামেনির ৩৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে। তার মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ইরান।
৭ ঘণ্টা আগে