সীমান্তে আফগানদের হামলা, পালটা আক্রমণ করে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা পাকিস্তানের

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০: ১৫
(ওপরে বাঁ থেকে ঘড়ির কাঁটার দিকে) পাকিস্তানের রাষ্ট্রায়াত্ত গণমাধ্যমের সরবরাহ করা ছবিতে আফগানিস্তানের খুররামে একটি তালেবান চৌকিতে হামলা; আফগানিস্তানের নানগরহর প্রদেশে হামলায় বিধ্বস্ত একটি গাড়ি [এএফপি]; হামলার পর নানগরহর প্রদেশের একটি গ্রামে হতাহতদের উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে তালেবান বাহিনী [এএফপি]; পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা [রয়টার্স]
(ওপরে বাঁ থেকে ঘড়ির কাঁটার দিকে) পাকিস্তানের রাষ্ট্রায়াত্ত গণমাধ্যমের সরবরাহ করা ছবিতে আফগানিস্তানের খুররামে একটি তালেবান চৌকিতে হামলা; আফগানিস্তানের নানগরহর প্রদেশে হামলায় বিধ্বস্ত একটি গাড়ি [এএফপি]; হামলার পর নানগরহর প্রদেশের একটি গ্রামে হতাহতদের উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে তালেবান বাহিনী [এএফপি]; পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা [রয়টার্স]

পাকিস্তানের সীমান্তে তালেবান বাহিনীর হামলার জবাবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ইসলামাবাদ। এরই মধ্যে হামলা করা হয়েছে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল, কান্দাহার ও পকতিয়া শহরে। এসব হামলায় আফগানিস্তানের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান সরকার।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে প্রথম বিমান হামলা চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। কিছুক্ষণ পরই দ্বিতীয় দফা হামলা শুরু হয়। এ সময় পাকিস্তানি বাহিনীর বোমা হামলার জবাবে আফগান বাহিনীও গুলি ছুড়তে থাকে।

পাতিস্তানি বাহিনীর এ হামলার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন গজব লিল-হক’, যার অর্থ ‘ন্যায়সঙ্গত ক্রোধ’।

রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন জানিয়েছে, হামলায় কমপক্ষে ৫৮ জন তালেবান যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নিজেদের নাগরিকদের জানমালের হেফাজত করতে ও আসন্ন সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধ করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে।

আফগান সরকারের একটি সূত্র আল জাজিরাকে কাবুলে বিমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানগুলো দক্ষিণ আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, তারা দেশের বাহিনী যেকোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্য নস্যাৎ করতে সম্পূর্ণ সক্ষম। এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি বলেন, প্রিয় মাতৃভূমির প্রতিরক্ষায় কোনো আপস হবে না এবং প্রতিটি আগ্রাসনের জবাব উপযুক্তভাবে দেওয়া হবে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি কড়া বার্তার মাধ্যমে আফগান তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘সরাসরি যুদ্ধের’ ঘোষণা দিয়েছেন।

আফগান বাহিনীর হামলায় পাকিস্তানি সেনা হতাহত হওয়ার পর আফগানিস্তানের প্রধান শহরগুলোতে পাকিস্তানের সিরিজ বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে ঘোষণাটি এলো।

খাজা আসিফ লিখেছেন, ‘সরাসরি ও বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য পাকিস্তান সব রকম চেষ্টা করেছিল। পাকিস্তান পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক তৎপরতাও চালিয়েছিল। কিন্তু আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন তোমাদের ও আমাদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলো।’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানান, তাদের হামলায় এ পর্যন্ত আফগান তালেবানের ২৭টি সামরিক পোস্ট ধ্বংস এবং আরও ৯টি দখল করা হয়েছে। ৮০টির বেশি ট্যাংক, আর্টিলারি ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে।

অন্যদিকে তালেবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বৃহস্পতিবার রাতে ১৯টি পাকিস্তানি সামরিক চৌকি ও দুটি ঘাঁটি দখল করেছে। মোট ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে।

এর আগে বেশ কিছু প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর গত অক্টোবরে দুপক্ষ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। ওই যুদ্ধবিরতি কোনো কাজেই আসেনি। কারণ ওই বিরতির পর বিচ্ছিন্নভাবে লড়াই চলে আসছিল। পাকিস্তানে বেশ কয়েকটি আত্মঘাতী হামলা ঘটে। পরে গত সপ্তাহেও আফগানিস্তানে একাধিক বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান।

তালেবানের দাবি, এসব হামলায় নারী-শিশুসহ অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সীমান্তের কাছে সাতটি কথিত জঙ্গি শিবির ও আস্তানাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

কাবুল জানিয়েছে, বেসামরিক বাড়ি ও একটি ধর্মীয় বিদ্যালয়কে নিশানা করেছিল পাকিস্তান। তালেবান বলেছে, প্রতিক্রিয়া জানাতে তারা ‘বৃহৎ পরিসরে’ অভিযান শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার তারা দাবি করেছে, তাদের অভিযানে ‘অসংখ্য’ পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এক মুখপাত্র এ দাবি অস্বীকার করেন এবং তালেবান মুখপাত্র মুজাহিদের ১৫টি সামরিক পোস্ট দখলের দাবিও খণ্ডন করেন। পরে ওইদিন পাকিস্তান নিশ্চিত করে, যৌথ সীমান্তে ‘উসকানিবিহীন গুলি’র জবাব দিতে গিয়ে তাদের দুই সেনা নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক্সে লিখেছেন, সাম্প্রতিক পাকিস্তানি হামলায় কেউ আহত হয়নি।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি আফগান তালেবান হামলার বিরুদ্ধে তার দেশের প্রতিক্রিয়ার প্রশংসা করেছেন। শুক্রবার সকালে এক্সে তিনি লিখেছেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিক্রিয়া সর্বাঙ্গীন ও দৃঢ়। যারা আমাদের শান্তিকে দুর্বলতা মনে করে, তারা কঠোর জবাব পাবে এবং কেউই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে না।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement