পাকিস্তানের হামলা থেমেছে, সংঘাত এড়াতে চায় তালেবানও

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানের হামলার পর মর্টার শেলের আঘাতে আহত কয়েকজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানের হামলার পর মর্টার শেলের আঘাতে আহত কয়েকজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। ছবি: সংগৃহীত

রাতে কয়েক দফা হামলা চালানোর পর থেমেছে পাকিস্তান। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ কয়েকটি শহরে তাদের আক্রমণ বন্ধ হয়েছে। হামলার শিকার শহরগুলোর বাসিন্দারা বলছেন, পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হয়েছে। তবে সবাই সতর্ক রয়েছেন।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে বিবিসির আফগানিস্তান প্রতিনিধি হাফিজুল্লাহ মারুফ জানিয়েছেন, কাবুলসহ কান্দাহার ও নানগরহার প্রদেশেও পাকিস্তানি হামলা বন্ধ হয়ে।

হাফিজুল্লাহ মারুফ বলেন, ‘আমি কাবুলের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা ও স্থানীয় কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। পাশাপাশি কান্দাহার ও নানগরহার প্রদেশের লোকজনের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি আপাতত শান্ত বলে মনে হচ্ছে, যদিও সীমান্তের দুদিকেই উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।’

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তালেবান বাহিনীর টহল। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তালেবান বাহিনীর টহল। ছবি: সংগৃহীত

তালেবানের এক সামরিক মুখপাত্রের সঙ্গেও কথা হয়েছে বিবিসির প্রতিনিধির। তালেবানের ওই মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের ওপর হামলা হলে আমরা পালটা জবাব দেবো। কিন্তু এই মুহূর্তে আমরা সংঘর্ষ শুরু করতে চাই না।’

কয়েকজন বিশ্লেষকও বিবিসি উর্দুকে বলেছেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনীর মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের সম্ভাবনা কম। এর পেছনে তারা দুই দেশের সামরিক সক্ষমতার বড় ধরনের পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন।

পরমাণু অস্ত্রধারী পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতার শীর্ষ ১৫ দেশের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিপরীতে তালেবানের সামরিক সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। সাবেক আফগান সেনাবাহিনীর ফেলে যাওয়া অস্ত্র, দেশ ছেড়ে যাওয়া বিদেশি বাহিনীর রেখে যাওয়া সামরিক সরঞ্জাম ও কালোবাজারসহ বিভিন্ন উৎস থেকে নতুন করে সংগ্রহ করা অস্ত্র দিয়েই তাদের অস্ত্রের ভাণ্ডার গঠিত।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, অতীতের সীমান্ত সংঘর্ষের ভিডিওতে দেখা যায়, তালেবান বাহিনী বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে হালকা অস্ত্র ব্যবহার করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তালেবানদের গেরিলা যুদ্ধের ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে।

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর টহল। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর টহল। ছবি: সংগৃহীত

একজন আফগান নিরাপত্তা বিশ্লেষক বিবিসি উর্দুকে বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে তালেবানদের অনেক সংঘর্ষেই অতর্কিত হামলা ও সড়কপথে বোমা পেতে রাখার মতো গেরিলা কৌশল ব্যবহার করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আফগানিস্তানের কয়েকটি শহরে হামলা চালায় পাকিস্তানি বিমান বাহিনী। ইসলামাবাদের দাবি, তালেবান বাহিনীর হামলার জবাবেই তাদের পক্ষ থেকে এ হামলা করা হয়েছে। হামলায় আফগান অর্ধশতাধিক সামরিক ব্যক্তির প্রাণহানিসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল পিটিভি।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement