
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইথিওপিয়ার সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের নেতৃত্বাধীন প্রসপারিটি পার্টি বিপুল জয় পেয়েছে। ৫০১টি আসনের মধ্যে ৪৩৮টিতে জয়ী হয়ে দলটি আবারও সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। এর ফলে আগামী অক্টোবরের শুরুতে আবি আহমেদ নতুন মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন।
সমর্থকদের মতে, এই বিজয় অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজন, নিরাপত্তা সংকট ও আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও গভীর হতে পারে।
২০১৮ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে ক্ষমতায় আসেন ৪৯ বছর বয়সী আবি আহমেদ। শুরুতে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ও প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতা নিরসনের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক প্রশংসা পান। ২০১৯ সালে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কারও অর্জন করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেশটি আবারও একাধিক সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
এবারের নির্বাচনও সেই অস্থিরতার ছাপ বহন করেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে দেশটির সবচেয়ে জনবহুল দুই অঞ্চল আমহারা ও ওরোমিয়ায় ১৪৩টি ভোটকেন্দ্র খুলতেই পারেনি। আমহারা অঞ্চলের ফানো মিলিশিয়া ও ওরোমিয়া অঞ্চলের নিষিদ্ধ ওরোমো লিবারেশন আর্মি (ওএলএ) নির্বাচন ও ফলাফল উভয়ই প্রত্যাখ্যান করেছে। দুটি গোষ্ঠীই কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবর্তে নিজেদের অঞ্চলের জন্য অধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি উত্তরাঞ্চলীয় টাইগ্রেতে। ২০২২ সালে দুই বছরের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ শেষ হলেও অঞ্চলটি এখননো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় প্রায় ৬০ লাখ মানুষের এই অঞ্চলকে পুরোপুরি নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে।
টাইগ্রের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ইরিত্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি। যুদ্ধ চলাকালে ইরিত্রিয়া ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনীর মিত্র ছিল। তবে যুদ্ধ শেষে দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত খারাপ হয়। বর্তমানে ইরিত্রিয়া টাইগ্রের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইরিত্রিয়া টাইগ্রে বাহিনীর পক্ষ নিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলকে বড় সংকটে ফেলতে পারে।
এদিকে সুদানেও চলমান গৃহযুদ্ধ ঘিরে ইথিওপিয়ার বিরুদ্ধে এক পক্ষকে সমর্থনের অভিযোগ উঠেছে। যদিও আদ্দিস আবাবা এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে। ফলে আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে বিভিন্ন সংঘাত একে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
২০২২ সালের শান্তি চুক্তির পরও আবি সরকারের সঙ্গে টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি। উভয় পক্ষই একে অন্যের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। সম্প্রতি টিপিএলএফ যুদ্ধপূর্ব প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বহাল করেছে এবং তরুণদের জোর করে সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের অভিযোগও উঠেছে। যদিও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তরুণদের শুধু আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
আফ্রিকাবিষয়ক বিশ্লেষক ক্যামেরন হাডসনের মতে, উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য উভয় পক্ষই দায়ী। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক ম্যাগনাস টেলরের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা কম হলেও বর্তমান নিম্নমাত্রার উত্তেজনা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং যেকোনো সময় তা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন উত্তর ইথিওপিয়ায় অবিলম্বে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। আর ২০২২ সালের শান্তি চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা যুক্তরাষ্ট্র টাইগ্রে সংকট সমাধান ব্যাহত করার অভিযোগে টিপিএলএফের কট্টরপন্থি সদস্যদের বিরুদ্ধে নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় আবি আহমেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। তবে তিনি এই শক্তিকে জাতীয় পুনর্মিলন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজে লাগাবেন, নাকি নতুন সংঘাতের দিকে দেশকে ঠেলে দেবেন— সেটিই আগামী কয়েক মাসে ইথিওপিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।
সূত্র: ডয়েচে ভেলে

ইথিওপিয়ার সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের নেতৃত্বাধীন প্রসপারিটি পার্টি বিপুল জয় পেয়েছে। ৫০১টি আসনের মধ্যে ৪৩৮টিতে জয়ী হয়ে দলটি আবারও সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। এর ফলে আগামী অক্টোবরের শুরুতে আবি আহমেদ নতুন মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন।
সমর্থকদের মতে, এই বিজয় অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজন, নিরাপত্তা সংকট ও আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও গভীর হতে পারে।
২০১৮ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে ক্ষমতায় আসেন ৪৯ বছর বয়সী আবি আহমেদ। শুরুতে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ও প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতা নিরসনের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক প্রশংসা পান। ২০১৯ সালে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কারও অর্জন করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেশটি আবারও একাধিক সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
এবারের নির্বাচনও সেই অস্থিরতার ছাপ বহন করেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে দেশটির সবচেয়ে জনবহুল দুই অঞ্চল আমহারা ও ওরোমিয়ায় ১৪৩টি ভোটকেন্দ্র খুলতেই পারেনি। আমহারা অঞ্চলের ফানো মিলিশিয়া ও ওরোমিয়া অঞ্চলের নিষিদ্ধ ওরোমো লিবারেশন আর্মি (ওএলএ) নির্বাচন ও ফলাফল উভয়ই প্রত্যাখ্যান করেছে। দুটি গোষ্ঠীই কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবর্তে নিজেদের অঞ্চলের জন্য অধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি উত্তরাঞ্চলীয় টাইগ্রেতে। ২০২২ সালে দুই বছরের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ শেষ হলেও অঞ্চলটি এখননো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় প্রায় ৬০ লাখ মানুষের এই অঞ্চলকে পুরোপুরি নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে।
টাইগ্রের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ইরিত্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি। যুদ্ধ চলাকালে ইরিত্রিয়া ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনীর মিত্র ছিল। তবে যুদ্ধ শেষে দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত খারাপ হয়। বর্তমানে ইরিত্রিয়া টাইগ্রের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইরিত্রিয়া টাইগ্রে বাহিনীর পক্ষ নিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলকে বড় সংকটে ফেলতে পারে।
এদিকে সুদানেও চলমান গৃহযুদ্ধ ঘিরে ইথিওপিয়ার বিরুদ্ধে এক পক্ষকে সমর্থনের অভিযোগ উঠেছে। যদিও আদ্দিস আবাবা এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে। ফলে আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে বিভিন্ন সংঘাত একে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
২০২২ সালের শান্তি চুক্তির পরও আবি সরকারের সঙ্গে টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি। উভয় পক্ষই একে অন্যের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। সম্প্রতি টিপিএলএফ যুদ্ধপূর্ব প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বহাল করেছে এবং তরুণদের জোর করে সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের অভিযোগও উঠেছে। যদিও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তরুণদের শুধু আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
আফ্রিকাবিষয়ক বিশ্লেষক ক্যামেরন হাডসনের মতে, উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য উভয় পক্ষই দায়ী। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক ম্যাগনাস টেলরের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা কম হলেও বর্তমান নিম্নমাত্রার উত্তেজনা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং যেকোনো সময় তা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন উত্তর ইথিওপিয়ায় অবিলম্বে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। আর ২০২২ সালের শান্তি চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা যুক্তরাষ্ট্র টাইগ্রে সংকট সমাধান ব্যাহত করার অভিযোগে টিপিএলএফের কট্টরপন্থি সদস্যদের বিরুদ্ধে নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় আবি আহমেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। তবে তিনি এই শক্তিকে জাতীয় পুনর্মিলন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজে লাগাবেন, নাকি নতুন সংঘাতের দিকে দেশকে ঠেলে দেবেন— সেটিই আগামী কয়েক মাসে ইথিওপিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।
সূত্র: ডয়েচে ভেলে

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ৬০ দিন বা তারপরও এই প্রণালিতে কাউকে কোনো টোল দিতে হবে না। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দুপক্ষ চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে টোল আরোপ করবে।
১৬ ঘণ্টা আগে
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। সে আলোচনায় যোগ দিতেই শনিবার গভীর রাতে ওয়াশিংটন ছাড়েন ভ্যান্স।
১ দিন আগে
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, উইশাহ হামাসের সামরিক শাখার সদস্য ছিলেন এবং স্নাইপার হিসেবে কাজ করতেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি তারা।
১ দিন আগে
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতাগুলোর বাস্তবায়নে সমর্থন দেওয়া এবং তা এগিয়ে নিতে কাজ চালিয়ে যাবে।
১ দিন আগে