যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি উদ্যোগ, তবু রাশিয়া-ইউক্রেনে সংঘাত অব্যাহত

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার চেষ্টা সত্ত্বেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে হামলা-পালটা হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে কিয়েভে রুশ হামলার চিত্র। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা জোরালো হলেও এখনো বড় কোনো অগ্রগতি আসেনি। মস্কো ও কিয়েভে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের বৈঠকের পর আলোচনার পথ কিছুটা সক্রিয় হলেও যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা-পালটা হামলা অব্যাহত রয়েছে।

গত সপ্তাহে উইটকফ ও কুশনার প্রথমে মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর কিয়েভে গিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা করেন।

বার্তা সংস্থা এপি ও রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা বৈঠকগুলোকে ইতিবাচক ও অর্থবহ বলে বর্ণনা করেছেন। জেলেনস্কিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র শীতকালে সংঘাত কমানোর কিছু পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরকে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরুর সম্ভাব্য সময় হিসেবে দেখছে কিয়েভ।

তবে মূল অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। রাশিয়া-ইউক্রেনের সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিতে ভূখণ্ড, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও যুদ্ধবিরতির শর্ত সবচেয়ে বড় বিরোধের জায়গা। মস্কো এখনো ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে বড় ধরনের ছাড় দাবি করছে, আর কিয়েভ রুশ দখল মেনে নেওয়ার অবস্থানে নেই। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনও আলোচনায় বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার আগ্রহের কোনো স্পষ্ট সংকেত দেননি।

এর মধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা আরও তীব্র হয়েছে। এপির খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোতে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। পালটা রুশ হামলায় ইউক্রেনের শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের ওপর প্রকাশ্য চাপ দিয়েছেন ট্রাম্প। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি জেলেনস্কিকে রাশিয়ার ডিজেল অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তার দাবি, এসব হামলা বৈশ্বিক ডিজেল সরবরাহে সংকট তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দামও রেকর্ড পর্যায়ে উঠেছে। তবে কিয়েভের যুক্তি, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলো যুদ্ধ পরিচালনার অর্থের গুরুত্বপূর্ণ উৎস এবং সেগুলো বৈধ সামরিক লক্ষ্য।

জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরেও নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রুশ পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের প্রধান দাবি করেছেন, কেন্দ্রটির কাছে জ্বালানি বহনকারী ট্রাকে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে। এতে দুজন রুশ সেনা নিহত হয়েছেন বলে মস্কোর দাবি। কেন্দ্রটির জরুরি জেনারেটর সচল রাখতে ডিজেল গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ঘটনাটি পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ফলে আপাতত যুদ্ধের চিত্রটি পরস্পরবিরোধী— একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন শান্তি আলোচনার নতুন পথ খুঁজছে, অন্যদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়েই যুদ্ধক্ষেত্রে চাপ বাড়াচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়াশিংটনের জন্য এখন বড় পরীক্ষা— পুতিন ও জেলেনস্কিকে এমন একটি সমঝোতায় আনা, যেখানে ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রশ্নে উভয় পক্ষই অন্তত সীমিত ছাড় দিতে রাজি হয়। সেই জায়গায় পৌঁছাতে না পারলে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতাও আগের উদ্যোগগুলোর মতোই অচলাবস্থায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই ঐক্যের ডাক ব্রিকসের, বিকল্প বিশ্বব্যবস্থার বার্তা কতটা বাস্তব?

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই নিজেদের মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিলো ব্রিকস। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, একতরফা বাণিজ্যনীতি ও সামরিক আগ্রাসনের বিরোধিতা করে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ১১ দেশের জোটটি। তবে দুই দিনের নয়াদিল্লি সম্মেলনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে থাকল— ব্রিকস কি সত্যিই পশ্চিমা

৬ ঘণ্টা আগে

মধ্যপ্রাচ্যে ‘সর্বোচ্চ সংযমে’র আহ্বান, আরও যা আছে ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায়

৪০টির বেশি পৃষ্ঠার ঘোষণায় ব্রিকস নেতারা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দ্রুত অবনতিতে গভীর উদ্বেগ জানান। সংঘাত আরও বাড়াতে পারে— এমন যেকোনো পদক্ষেপ এড়িয়ে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়ে তারা সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর জোর দেন। তবে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়ে

৭ ঘণ্টা আগে

ইউক্রেনের ট্রেনে রুশ হামলা, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে রক্ষা পেলেন বরিস জনসন

ইউক্রেনীয় রেল কর্তৃপক্ষের ধারণা, হামলার লক্ষ্য ওই কূটনৈতিক ট্রেনটিও হয়ে থাকতে পারে। তবে মস্কো বলেছে, তারা ইউক্রেনের রেল অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যেগুলো ইউরোপ থেকে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে।

৮ ঘণ্টা আগে

ইয়েমেনে হুতি-সরকারি বাহিনীর লড়াই তীব্র, সৌদির ১২৯ বিমান হামলার দাবি

শনিবার ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী জানায়, লোহিত সাগর উপকূলে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সরকারি সংবাদ সংস্থা সাবার প্রতিবেদনে বলা হয়, মোখার কাছে হামলায় হুতিদের কয়েকটি যান ও অস্ত্র ধ্বংস এবং বেশ কয়েকজন যোদ্ধা নিহত হয়েছে। মোখা-ধুবাব সড়কেও হুতিদের যান ও সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালান

১৮ ঘণ্টা আগে
Advertisement