গাজার ধ্বংসস্তূপে শত শত মরদেহ, যুদ্ধাপরাধের শঙ্কা জাতিসংঘের

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
গাজায় গত সপ্তাহে একসঙ্গে উদ্ধার হওয়া কিছু মরদেহের গণজানাজা। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে গাজায় ৬৩০টির বেশি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক বলেছেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে এমন পরিবারও রয়েছে, যাদের একসঙ্গে নিহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতদের অনেকেই নারী ও শিশু বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টুর্ক বলেন, ধ্বংস হওয়া ভবনগুলোর নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ এখনো চলছে। এ পর্যন্ত যে মরদেহগুলো পাওয়া গেছে, সেগুলো হয়তো মোট প্রাণহানির একটি ছোট অংশ মাত্র। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া স্থাপনাগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আট হাজারের বেশি মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আল-জাজিরা ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহ উদ্ধারের কাজ সহজ হচ্ছে না। জাতিসংঘ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ফরেনসিক সক্ষমতার ঘাটতির পাশাপাশি ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে উদ্ধার তৎপরতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ডিএনএ পরীক্ষার কিট ও ভারী খননযন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশে বাধা রয়েছে। ফলে উদ্ধার করা মরদেহ শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান গাজায় আন্তর্জাতিক তদন্তকারীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, ধ্বংসস্তূপ সরানোর আগে ঘটনাস্থলগুলোতে সম্ভাব্য প্রমাণ সংরক্ষণ এবং ফরেনসিক তদন্ত করা জরুরি। কারণ ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় নিহতদের পরিচয় ও মৃত্যুর পরিস্থিতি নির্ধারণ করা ভবিষ্যতের আইনি তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতেও জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছিলেন, ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে থাকা গাজার এলাকাগুলো থেকে বড় আকারে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ সম্ভাব্য নৃশংসতার প্রমাণ মুছে দিতে পারে।

টুর্কের নতুন মন্তব্য সেই উদ্বেগ আরও জোরালো করেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপ থেকে একসঙ্গে পুরো পরিবারের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা হামলার ধরন এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।

গাজায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধে ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সেখানে সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষই একে অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। মঙ্গলবারও গাজার উত্তরাঞ্চলের শেখ রাদওয়ান এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক শিশুসহ দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং অন্তত সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইসরায়েল বরাবরই বলে আসছে, তাদের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন মেনেই পরিচালিত হয়েছে এবং তারা বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর এর আগে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিভিন্ন ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

এখন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ফলে সেই অভিযোগের সম্ভাব্য প্রমাণ সংরক্ষণ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। জাতিসংঘের আহ্বান অনুযায়ী আন্তর্জাতিক তদন্তকারীরা গাজায় প্রবেশের সুযোগ পেলে এসব মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

মক্কায় আকাশপথে হামলার শঙ্কায় জরুরি সতর্কতা, কয়েক মিনিট পরই বিপদমুক্ত ঘোষণা

সতর্কতা জারির পর বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি অপ্রয়োজনে এক জায়গায় জড়ো না হতে এবং সতর্কতার ঘটনা বা পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। বিপদ কেটে যাওয়ার কথা জানানো হলেও সতর্কবার্তায় দেওয়া নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে

১০ ঘণ্টা আগে

ইরান যুদ্ধে অস্ত্রের ঘাটতি ও রেকর্ড ব্যয়, ট্রাম্প প্রশাসনে চতুর্মুখী চাপ

টানা গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিজস্ব কৌশলগত অস্ত্রভাণ্ডারে বড় ধরণের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে চাহিদামতো দ্রুত নতুন অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের মতো শিল্প-সক্ষমতাও এই মুহূর্তে মার্কিন ডিফেন্স সেক্টরের নেই। ফলে একদিকে অর্থনৈতিক ক্ষতি আর অন্যদিকে নতুন অস্ত্র সরবরাহের সীমাবদ্ধতা—স

১৮ ঘণ্টা আগে

এবার হুতিদের দখলে লোহিত সাগরের আরও ২ দ্বীপ

লোহিত সাগরের দক্ষিণাংশে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আরও দুটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। ‘গ্রেটার হানিশ’ ও ‘লেসার হানিশ’ নামের এই দুটি দ্বীপ দখলের মধ্য দিয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে নিজেদের অবস্থান ও নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করল ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি।

১ দিন আগে

ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেলও নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

ট্রাম্প বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা ইরান থেকে বেরিয়ে আসব, যদি না আমরা সেখানে থেকে যাওয়ার এবং ভেনেজুয়েলার মতো তেল নিজেদের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত নিই।’ তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে রাজস্ব পাচ্ছে, তা দিয়ে ‘অনেকবার যুদ্ধের খরচ’ মেটানো হয়ে গেছে।

২ দিন আগে
Advertisement