ডনের সম্পাদকীয়

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা ইসরায়েল

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতি না থাকলেও কিছু ইতিবাচক দিক সামনে এসেছে, যা ভবিষ্যতের জন্য আশার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই নিবন্ধটি লেখার সময় পর্যন্ত উভয় পক্ষ লিখিত খসড়া বা টেক্সট বিনিময় করেছে এবং আলোচনার এই শুরু হওয়াটাই নিজগুণে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

খবর পাওয়া যাচ্ছে, ইসরায়েল লেবাননে তাদের বর্বরোচিত হামলা কমাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ মুক্তি দেওয়া হবে। তবে হরমুজ প্রণালির মতো অমীমাংসিত জটিল বিষয়গুলো বিদ্যমান থাকায়, যতক্ষণ না উভয় পক্ষ বিস্তারিত বিষয়গুলো নিশ্চিত করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত যে কোনো উদযাপন হবে সময়ের আগে বাড়াবাড়ি।

প্রকৃত সত্য হলো, ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর থেকে যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, তা কয়েকদিন, সপ্তাহ বা মাসেও ঠিক হওয়ার নয়; এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া হবে।

পারস্পরিক আস্থা তৈরিতে সময় লাগবে, বিশেষ করে যখন কেউ মনে করবে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে আলোচনার মাঝপথেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল। তবে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ চিরস্থায়ী শত্রুতা দিয়ে চিহ্নিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

যদিও বিভেদ অত্যন্ত গভীর, তবুও অন্তত একটি প্রাথমিক চুক্তির লক্ষ্যে কাজ করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যাবতীয় আলাপ বন্ধ করতে হবে এবং ইরানের মানুষ কী ধরনের সরকার ব্যবস্থা চায়, তা তাদের ওপরই ছেড়ে দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের তোলা অন্যান্য ইস্যুগুলোর ক্ষেত্রে—যেমন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন—এগুলো আদর্শগতভাবে তেহরান এবং তার প্রতিবেশীদের ওপরই মীমাংসার জন্য ছেড়ে দেওয়া উচিত, কারণ এটি সামগ্রিকভাবে এই অঞ্চলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

পারমাণবিক ইস্যুটিও সমাধানযোগ্য; যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণের আগে ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা সন্তোষজনকভাবে এগোচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে সম্মানের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং নির্দিষ্ট কিছু সীমারেখা অতিক্রম না করে, তবে ইরানের উচিত হবে একই ধরনের সাড়া দেওয়া এবং সম্পর্কের উন্নতির চেষ্টা করা।

কিন্তু সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের উন্নতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ইসরায়েল এবং ওয়াশিংটনের সেই ইহুদিবাদী লবি, যারা ইসরায়েলের আজ্ঞা পালন করে। মার্কিন নীতির ওপর তেল আবিবের এই ক্ষতিকর প্রভাব যতক্ষণ না নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে, ততক্ষণ ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির সম্ভাবনা কম। সর্বোপরি, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসলামাবাদ আলোচনার পরেও তার দেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি ইসরায়েলের তৈরি করা যুদ্ধে লড়বে, নাকি ইরানের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাবে।

স্পষ্টতই, প্রথম বিকল্পটি এই অঞ্চলকে আরেকটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাবে। সৌভাগ্যবশত, সামনের পথ অসুবিধা এবং সন্দেহে ভরা থাকলেও উত্তেজনা প্রশমনের একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার জন্য মূলত পাকিস্তান এবং অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোর আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবিদার।

এখন সময় এই গতিশীলতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার, উভয় রাষ্ট্রের জন্য যা অর্জনযোগ্য তা অর্জন করার এবং একটি শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর। শান্তির পথে যারা বাধা সৃষ্টি করতে চায়, যেমন ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ গোষ্ঠী এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সমর্থক—তাদের অবশ্যই বিচ্ছিন্ন এবং উপেক্ষা করতে হবে।

সূত্র: ডন

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

তৃতীয় কোনো দেশে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নয়: ইরান

শুক্রবার (২৯ মে) রুশ সংবাদমাধ্যম আরআইএ নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আজিজি বলেন, ‘ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনো তৃতীয় দেশের কাছে হস্তান্তর করতে চায় না।’

২০ ঘণ্টা আগে

গাজার ৭০% দখলের নির্দেশ নেতানিয়াহুর, যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ার শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ৫৩ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখে একটি নির্ধারিত সীমারেখায় অবস্থান নেয়। তবে এরপর থেকেই ধীরে ধীরে তারা পশ্চিমমুখী অগ্রসর হয়ে হামাস-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর দিকে নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করে আসছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী বিস্ত

১ দিন আগে

মিত্রদের সঙ্গে ইরান শান্তিচুক্তির খসড়া ভাগাভাগি ট্রাম্পের, সমঝোতা আটকে পারমাণবিক ইস্যুতে

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য বলছে, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির যে খসড়া, তাতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও এ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহার এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের আটকে থাকা ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের প্রস্তাব রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিবদমান এসব ইস্যুতে সমঝোতা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এখনো চূড়ান

১ দিন আগে

ইবোলা মহামারি ঠেকাতে একগুচ্ছ চিকিৎসা ও টিকা পরীক্ষার সুপারিশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

এক ঘোষণায় ডব্লিউএইচও জানায়, সম্ভাব্য চিকিৎসাগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করতে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করা হবে। সংস্থাটি এরই মধ্যে বাইরের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মিলে সম্ভাব্য ওষুধ ও টিকার তালিকা চূড়ান্ত করতে কাজ করছে।

১ দিন আগে