খামেনিসহ শীর্ষ নেতারা জীবিত, ইরানের হামলা আত্মরক্ষার্থে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩: ০১
খামেনিসহ শীর্ষ নেতারা জীবিত, ইরানের হামলা আত্মরক্ষার্থে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জীবিত আছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। দেশটির অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি৷

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এনবিসি নিউজকে দেওয়া আব্বাস আরাগচির এক সাক্ষাৎকারের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। ওই সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরান কারও ওপর হামলা করতে আগ্রহী না। তারা কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলের আচমকা হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পালটা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এতে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ফের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে।

এর মধ্যে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদাহ এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমেনির অবস্থান ও বেঁচে থাকা নিয়ে নানা গুঞ্জনও ছড়িয়েছে।

এসব গুঞ্জনের পরিপ্রেক্ষিতেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, আমার জানামতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জীবিত আছেন। শীর্ষ পর্যায়ের সব কর্মকর্তাই জীবিত আছেন।

ইরান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী বলেও সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন আব্বাস আরাগচি। উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের ব্যাখ্যা করে জানিয়েছি—আমরা তাদের ওপর হামলার কোনো ইচ্ছা পোষণ করি না। শুধু আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাচ্ছি।’

মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি আরব দেশকে উপসাগরীয় দেশ বলা হয়ে থাকে। এগুলো হলো— সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন। এর মধ্যে ওমান ছাড়া বাকি পাঁচ দেশেই মার্কিন স্থায়ী ঘাঁটি রয়েছে। ইসরায়েলের আক্রমণের জবাবে এর সবগুলোতেই হামলা চালিয়েছে ইরান।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, এসব হামলা উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর নয়, বরং মার্কিন ঘাঁটি তাদের হামলা আত্মরক্ষার জন্য। এমন বার্তাই তিনি দিয়েছেন এসব দেশকে।

বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের কোনো যোগাযোগ নেই বলেও জানান আরাগচি। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি চলমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করতে চায়, ইরানের আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরাগচি বলেন, ‘আমেরিকানরা যদি আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চায়, তারা জানে কীভাবে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। আমরা অবশ্যই উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী।’

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement