এডেন বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা, বাব এল-মান্দেবে তীব্র লড়াই

ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। এ হামলার মধ্যে দিয়ে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী ও হুতিদের লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। সংঘাতের কেন্দ্র এখন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের এলাকা, যে নৌপথটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার পর আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, এডেন বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ওই সময় কায়রো থেকে আসা একটি উড়োজাহাজ অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হামলার আশঙ্কায় উড়োজাহাজটির অবতরণ বাতিল করে সেটিকে সৌদি আরবের জেদ্দায় পাঠানো হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ওই সময় রানওয়েতে থাকা আরও দুটি উড়োজাহাজও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে লড়াই মূলত বাব এল-মান্দেবের কাছে ধুবাব এলাকায় কেন্দ্রীভূত হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান সহায়তায় ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী সেপ্টেম্বরে হুতিদের দখলে যাওয়া কৌশলগত এলাকা পুনর্দখলে পালটা অভিযান শুরু করেছে। তাদের অন্যতম লক্ষ্য সমুদ্রবন্দরনগরী মোখা ও এর আশপাশের অঞ্চল।
ইয়েমেনি সামরিক সূত্রগুলো বলছে, ধুবাবের উপকূলীয় সমভূমির পূর্বে কৌশলগত পাহাড়গুলো দখলের চেষ্টা করছে সরকারি বাহিনী। এসব উচ্চভূমির নিয়ন্ত্রণ পেলে উপকূল ধরে আরও উত্তরে অগ্রসর হওয়া সহজ হবে। তবে হুতিরা দাবি করেছে, তারা সরকারি বাহিনীর একাধিক হামলা প্রতিহত করেছে।
সানা সেন্টারের গবেষক হুসাম রাদমান বলেন, পালটা অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছে জায়ান্টস ব্রিগেডসহ সরকারি বাহিনীর কয়েকটি ইউনিট। তবে মোখা দখলের দাবি ইয়েমেন সরকার আগেভাগেই করেছে বলে মাঠপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।
বাব এল-মান্দেবের ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইছে। ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক প্রতিরক্ষামূলক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে বলে দেশটির দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
সৌদি আরবেও হামলার দাবি
বুধবার সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, রিয়াদের উত্তরে একটি হুতি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির উৎক্ষেপণস্থল হুতিদের নিয়ন্ত্রিত সানা এলাকায় শনাক্ত করে সেটি ধ্বংসের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানায় জোট।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, তারা রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দরে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। একই দিনে হুতিরা আবহা বিমানবন্দর ও খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবিও করেছে।
আবারও মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা
২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখলের পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। ২০২২ সালের জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর বড় ধরনের লড়াই অনেকটাই কমে এলেও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান হয়নি।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, এবার নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়েছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, ‘মানুষ প্রাণ বাঁচাতে পালাচ্ছে, কিন্তু যাওয়ার মতো নিরাপদ জায়গা পাচ্ছে না।’
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইয়েমেনের কিছু এলাকায় প্রতি চার পরিবারের তিনটি পরিবারই খাদ্যসংকটে রয়েছে। ফলে কৌশলগত নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন যুদ্ধ শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, দীর্ঘদিনের মানবিক সংকটকেও আরও গভীর করে তুলছে।




















-00acda-256x144.webp)
