মিনায় ‘শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ’, শেষ বড় আনুষ্ঠানিকতায় লাখো হাজি

পবিত্র হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতীকী আনুষ্ঠানিকতা ‘রামি আল-জামারাত’ পালন করেছেন লাখো হজযাত্রী। বুধবার ভোর থেকেই সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার অদূরে মিনায় জড়ো হন হাজিরা। সেখানে তারা শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভ লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন।
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, হজরত ইবরাহিম (আ.) যখন মহান আল্লাহর নির্দেশে তার পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন শয়তান তাকে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করতে প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছিল। সেই সময় হজরত ইবরাহিম (আ.) তিন স্থানে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করেছিলেন। হাজিদের এই আনুষ্ঠানিকতা সেই ঘটনারই প্রতীকী পুনরাবৃত্তি।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ১৭ লাখের বেশি মুসল্লি হজে অংশ নিয়েছেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ পালন ফরজ।
এর আগে মঙ্গলবার হাজিরা আরাফাতের ময়দানে হজের মূল রুকন ‘ওকুফে আরাফা’ পালন করেন। বিশ্বাস করা হয়, এখানেই মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) তার বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও লাখো মানুষ সেখানে দোয়া, ইবাদত ও তওবায় মগ্ন ছিলেন। সৌদি আবহাওয়া বিভাগ জানায়, অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।
সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফায় যান এবং খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন। সেখানে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করেন এবং মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য ছোট ছোট কঙ্কর সংগ্রহ করেন। বুধবার ফজরের পর তারা মিনার উদ্দেশে রওনা দেন।
মিনায় ‘জামারাত আল-আকাবা’য় সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে কোরবানির দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর হাজিরা পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা এবং তাওয়াফে ইফাদাসহ হজের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। পরে তারা আবার মসজিদুল হারামে গিয়ে কাবা শরিফ তাওয়াফ করেন।
এদিকে হজ ও ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে সৌদি আরব জুড়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা। মিনায় ভিড় নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী, ট্রাফিক টিম ও জরুরি সেবা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতা এড়াতে হাজিদের নিয়মিত পানি পান, ছাতা ব্যবহার ও নির্ধারিত সময়সূচি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঈদুল আজহার দিনটি মুসলিমদের জন্য ত্যাগ ও আনুগত্যের প্রতীক। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের স্মরণে বিশ্বের মুসলমানরা এ দিনে পশু কোরবানি করেন এবং সেই মাংসের একটি অংশ দরিদ্র ও অভাবীদের মধ্যে বিতরণ করেন।
রাজনীতি/এসআই


















