
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

নিরাপত্তাজনিত কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো মারাত্মকভাবে সীমিত থাকায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইতালিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ স্থগিতের মেয়াদ বাড়িয়েছে কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি কাতারএনার্জি।
ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের বরাত দিয়ে দোহা নিউজের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের কারণে এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন ক্রেতার জন্য এলএনজি সরবরাহে ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির ঘোষণা বাড়িয়েছে কাতারএনার্জি।
কাতারের এলএনজি রপ্তানি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত এলো। এর ফলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইতালির ক্রেতাদের জন্য নির্ধারিত এলএনজি কার্গো সরবরাহ বাতিলের সময়সীমাও আরও বাড়ল।
ব্লুমবার্গ শুক্রবার জানায়, চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের ক্রেতাদের কাতারএনার্জি জানিয়েছে, এলএনজি কার্গো বাতিলের সময়সীমা অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ফোর্স মেজরের মেয়াদ সেপ্টেম্বরের পরও বাড়ানো হয়েছে। ইউরোপের আরও কয়েকজন ক্রেতাও একই ধরনের নোটিশ পেতে শুরু করেছেন।
ইতালির ক্ষেত্রে কাতারএনার্জি নভেম্বরের শুরুর দিক পর্যন্ত সরবরাহ স্থগিতের সময়সীমা বাড়িয়েছে বলে শুক্রবার নিশ্চিত করেছে দেশটির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এডিসন জানায়, ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি গ্রহণকেন্দ্রে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত আরও পাঁচটি এলএনজি কার্গো দিতে পারবে না কাতারএনার্জি।

ফলে এপ্রিলের শুরু থেকে নভেম্বরের শুরুর দিক পর্যন্ত ফোর্স মেজরের সময়সীমা কার্যকর থাকবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি কার্গোর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯টিতে। এসব কার্গোর মাধ্যমে প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ হওয়ার কথা ছিল।
তবে নিজেদের গ্রাহকদের জন্য করা প্রতিশ্রুতি পূরণে বিকল্প উৎস থেকে ইতিমধ্যে ২১টি এলএনজি কার্গোর ব্যবস্থা করেছে এডিসন। এসব কার্গোর পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাসের সমান। বাকি কার্গোগুলোর ক্ষেত্রেও গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ৪ মার্চ প্রথম এলএনজি কার্যক্রম স্থগিত করে ফোর্স মেজর ঘোষণা করে কাতারএনার্জি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এরপর মার্চে কাতারএনার্জির রাস লাফান স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অবকাঠামোর ক্ষতি হয়। কাতারএনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কাতারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানিয়েছিলেন, রাস লাফানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে।
ইউরোনিউজের খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম ছয় মাসে কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করতে পেরেছে। অথচ আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানি করেছিল ৫০৯টি কার্গো। আন্তর্জাতিক জ্বালানি তথ্য সংস্থা আইসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, রপ্তানি কমে যাওয়ায় কাতারের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার বা ২ দশমিক ০৭ লাখ কোটি ইউরো সমপরিমাণ গ্যাস বিক্রির আয় কমেছে।

কাতারের সরবরাহের ঘাটতির একটি অংশ পূরণ করেছে অন্য রপ্তানিকারক দেশগুলো। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির গ্লোবাল রিসার্চ স্কলার অ্যান-সোফি করবোর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে এলএনজি সরবরাহ বেড়েছে। এর মধ্যে গত এক বছরে উৎপাদন শুরু করা কিছু স্থাপনাও রয়েছে। নাইজেরিয়া ও মালয়েশিয়াতেও এলএনজি উৎপাদন বেড়েছে।
তবে এসব বিকল্প সরবরাহ কাতারের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। এশিয়ার কিছু বাজারে এলএনজি ব্যবহার কমানো হয়েছে অথবা অন্য জ্বালানিতে চলে গেছে। ইউরোপে আবার তুলনামূলক বেশি গ্যাস মজুত থেকে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে উচ্চমূল্যের স্পট মার্কেট থেকে অতিরিক্ত এলএনজি কিনতে ইউরোপের আগ্রহও কমেছে।
করবোর বলেন, যে কার্গোগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো বেশি দাম দিতে সক্ষম ক্রেতাদের কাছেই যাচ্ছে। উচ্চ দাম সত্ত্বেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু ক্রেতা এখনো সক্রিয় রয়েছেন। তার মতে, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দীর্ঘ সময় এলএনজি সরবরাহ না এলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক এলএনজি বাণিজ্যের পরিমাণ কমে যেতে পারে, যদিও অন্য দেশগুলোর উৎপাদন বাড়ছে।
এলএনজি সরবরাহ সংকটের প্রভাব আমদানিকারক দেশগুলোতে একরকম নয়। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের এলএনজি আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। চীনের আমদানিও কমেছে, যদিও মাসভেদে এর মাত্রা ভিন্ন ছিল।
করবোরের মতে, যেসব দেশ কাতার বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের এলএনজির ওপর বেশি নির্ভরশীল এবং পর্যাপ্ত বিকল্প কার্গো নিশ্চিত করতে পারেনি, তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি ক্রয়ের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো বেশি চাপের মুখে পড়েছে।

তিনি বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে জাপান তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। কারণ দেশটি কাতার থেকে অপেক্ষাকৃত কম এলএনজি কেনে এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পরিধিও বেশি। এসব চুক্তির অনেকগুলো তেল বা যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাসের দামের সঙ্গে যুক্ত।
চীন এখন পর্যন্ত কাতার থেকে বিপুল পরিমাণ এলএনজি সরবরাহ হারানোর ধাক্কা সামাল দিতে পেরেছে। ইউরোপও আংশিকভাবে মজুত গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামলাচ্ছে। তবে এতে ইউরোপের গ্যাস মজুতের পরিমাণ কমে গেছে।
করবোর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নাইজেরিয়ায় নির্মাণাধীন নতুন এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ধীরে ধীরে কাতারের বাইরে থেকে আরও সরবরাহ বাজারে আনতে পারে। তবে বৈশ্বিক এলএনজি বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার যে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক ভারসাম্য ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ ফেরার কথা ছিল, তা ফিরতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালির গুরুত্বও বড়। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। যুদ্ধের মধ্যেও কিছু তেলবাহী ট্যাংকার এ জলপথ ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে। তবে এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজের সংখ্যা তুলনামূলক কম, এগুলো বিশেষায়িত এবং দ্রুত বিকল্প জাহাজ দিয়ে প্রতিস্থাপন করাও কঠিন। ফলে কাতারের জন্য গ্যাস রপ্তানির বিকল্প পথ খুবই সীমিত।
করবোরের মতে, হরমুজ প্রণালি নিরাপদ হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়ার পর কাতারএনার্জি তাদের ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া ১২টি এলএনজি উৎপাদন ইউনিট থেকে প্রায় দুই মাসের মধ্যে উৎপাদন স্বাভাবিক করতে পারবে বলে আশা করছে।
তবে কাতারএনার্জি জানিয়েছে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস লাফানের আরও দুটি উৎপাদন ইউনিট মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।
জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক হওয়ার পর হরমুজ দিয়ে সীমিত পরিসরে এলএনজি পরিবহন আবার শুরু হয়েছিল। তবে সেই স্বাভাবিকতা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। নতুন করে হামলা শুরু হওয়ায় আবারও জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
করবোর বলেন, সীমিত পরিসরে সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ার ঘটনা দেখিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া স্থাপনাগুলো থেকে কাতার তুলনামূলক দ্রুত এলএনজি রপ্তানি পুনরায় শুরু করতে পারে। তবে এর জন্য প্রথম শর্ত হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজকে নিরাপদ ও ধারাবাহিকভাবে চলাচলের সুযোগ দিতে হবে।
জুলাইয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় কাতারএনার্জির এলএনজি ট্যাংকার ‘আল রেকাইয়াত’ হামলার শিকার হয়। কাতার এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে। হামলায় জাহাজটির বাম পাশের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর সব ক্রুকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
করবোরের ভাষায়, এলএনজি রপ্তানি স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালিটি সত্যিকার অর্থে নিরাপদ ও উন্মুক্ত থাকা। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটিই সবচেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো মারাত্মকভাবে সীমিত থাকায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইতালিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ স্থগিতের মেয়াদ বাড়িয়েছে কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি কাতারএনার্জি।
ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের বরাত দিয়ে দোহা নিউজের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের কারণে এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন ক্রেতার জন্য এলএনজি সরবরাহে ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির ঘোষণা বাড়িয়েছে কাতারএনার্জি।
কাতারের এলএনজি রপ্তানি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত এলো। এর ফলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইতালির ক্রেতাদের জন্য নির্ধারিত এলএনজি কার্গো সরবরাহ বাতিলের সময়সীমাও আরও বাড়ল।
ব্লুমবার্গ শুক্রবার জানায়, চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের ক্রেতাদের কাতারএনার্জি জানিয়েছে, এলএনজি কার্গো বাতিলের সময়সীমা অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ফোর্স মেজরের মেয়াদ সেপ্টেম্বরের পরও বাড়ানো হয়েছে। ইউরোপের আরও কয়েকজন ক্রেতাও একই ধরনের নোটিশ পেতে শুরু করেছেন।
ইতালির ক্ষেত্রে কাতারএনার্জি নভেম্বরের শুরুর দিক পর্যন্ত সরবরাহ স্থগিতের সময়সীমা বাড়িয়েছে বলে শুক্রবার নিশ্চিত করেছে দেশটির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এডিসন জানায়, ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি গ্রহণকেন্দ্রে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত আরও পাঁচটি এলএনজি কার্গো দিতে পারবে না কাতারএনার্জি।

ফলে এপ্রিলের শুরু থেকে নভেম্বরের শুরুর দিক পর্যন্ত ফোর্স মেজরের সময়সীমা কার্যকর থাকবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি কার্গোর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯টিতে। এসব কার্গোর মাধ্যমে প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ হওয়ার কথা ছিল।
তবে নিজেদের গ্রাহকদের জন্য করা প্রতিশ্রুতি পূরণে বিকল্প উৎস থেকে ইতিমধ্যে ২১টি এলএনজি কার্গোর ব্যবস্থা করেছে এডিসন। এসব কার্গোর পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাসের সমান। বাকি কার্গোগুলোর ক্ষেত্রেও গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ৪ মার্চ প্রথম এলএনজি কার্যক্রম স্থগিত করে ফোর্স মেজর ঘোষণা করে কাতারএনার্জি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এরপর মার্চে কাতারএনার্জির রাস লাফান স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অবকাঠামোর ক্ষতি হয়। কাতারএনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কাতারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানিয়েছিলেন, রাস লাফানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে।
ইউরোনিউজের খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম ছয় মাসে কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করতে পেরেছে। অথচ আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানি করেছিল ৫০৯টি কার্গো। আন্তর্জাতিক জ্বালানি তথ্য সংস্থা আইসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, রপ্তানি কমে যাওয়ায় কাতারের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার বা ২ দশমিক ০৭ লাখ কোটি ইউরো সমপরিমাণ গ্যাস বিক্রির আয় কমেছে।

কাতারের সরবরাহের ঘাটতির একটি অংশ পূরণ করেছে অন্য রপ্তানিকারক দেশগুলো। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির গ্লোবাল রিসার্চ স্কলার অ্যান-সোফি করবোর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে এলএনজি সরবরাহ বেড়েছে। এর মধ্যে গত এক বছরে উৎপাদন শুরু করা কিছু স্থাপনাও রয়েছে। নাইজেরিয়া ও মালয়েশিয়াতেও এলএনজি উৎপাদন বেড়েছে।
তবে এসব বিকল্প সরবরাহ কাতারের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। এশিয়ার কিছু বাজারে এলএনজি ব্যবহার কমানো হয়েছে অথবা অন্য জ্বালানিতে চলে গেছে। ইউরোপে আবার তুলনামূলক বেশি গ্যাস মজুত থেকে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে উচ্চমূল্যের স্পট মার্কেট থেকে অতিরিক্ত এলএনজি কিনতে ইউরোপের আগ্রহও কমেছে।
করবোর বলেন, যে কার্গোগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো বেশি দাম দিতে সক্ষম ক্রেতাদের কাছেই যাচ্ছে। উচ্চ দাম সত্ত্বেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু ক্রেতা এখনো সক্রিয় রয়েছেন। তার মতে, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দীর্ঘ সময় এলএনজি সরবরাহ না এলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক এলএনজি বাণিজ্যের পরিমাণ কমে যেতে পারে, যদিও অন্য দেশগুলোর উৎপাদন বাড়ছে।
এলএনজি সরবরাহ সংকটের প্রভাব আমদানিকারক দেশগুলোতে একরকম নয়। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের এলএনজি আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। চীনের আমদানিও কমেছে, যদিও মাসভেদে এর মাত্রা ভিন্ন ছিল।
করবোরের মতে, যেসব দেশ কাতার বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের এলএনজির ওপর বেশি নির্ভরশীল এবং পর্যাপ্ত বিকল্প কার্গো নিশ্চিত করতে পারেনি, তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি ক্রয়ের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো বেশি চাপের মুখে পড়েছে।

তিনি বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে জাপান তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। কারণ দেশটি কাতার থেকে অপেক্ষাকৃত কম এলএনজি কেনে এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পরিধিও বেশি। এসব চুক্তির অনেকগুলো তেল বা যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাসের দামের সঙ্গে যুক্ত।
চীন এখন পর্যন্ত কাতার থেকে বিপুল পরিমাণ এলএনজি সরবরাহ হারানোর ধাক্কা সামাল দিতে পেরেছে। ইউরোপও আংশিকভাবে মজুত গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামলাচ্ছে। তবে এতে ইউরোপের গ্যাস মজুতের পরিমাণ কমে গেছে।
করবোর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নাইজেরিয়ায় নির্মাণাধীন নতুন এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ধীরে ধীরে কাতারের বাইরে থেকে আরও সরবরাহ বাজারে আনতে পারে। তবে বৈশ্বিক এলএনজি বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার যে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক ভারসাম্য ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ ফেরার কথা ছিল, তা ফিরতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালির গুরুত্বও বড়। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। যুদ্ধের মধ্যেও কিছু তেলবাহী ট্যাংকার এ জলপথ ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে। তবে এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজের সংখ্যা তুলনামূলক কম, এগুলো বিশেষায়িত এবং দ্রুত বিকল্প জাহাজ দিয়ে প্রতিস্থাপন করাও কঠিন। ফলে কাতারের জন্য গ্যাস রপ্তানির বিকল্প পথ খুবই সীমিত।
করবোরের মতে, হরমুজ প্রণালি নিরাপদ হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়ার পর কাতারএনার্জি তাদের ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া ১২টি এলএনজি উৎপাদন ইউনিট থেকে প্রায় দুই মাসের মধ্যে উৎপাদন স্বাভাবিক করতে পারবে বলে আশা করছে।
তবে কাতারএনার্জি জানিয়েছে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস লাফানের আরও দুটি উৎপাদন ইউনিট মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।
জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক হওয়ার পর হরমুজ দিয়ে সীমিত পরিসরে এলএনজি পরিবহন আবার শুরু হয়েছিল। তবে সেই স্বাভাবিকতা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। নতুন করে হামলা শুরু হওয়ায় আবারও জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
করবোর বলেন, সীমিত পরিসরে সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ার ঘটনা দেখিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া স্থাপনাগুলো থেকে কাতার তুলনামূলক দ্রুত এলএনজি রপ্তানি পুনরায় শুরু করতে পারে। তবে এর জন্য প্রথম শর্ত হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজকে নিরাপদ ও ধারাবাহিকভাবে চলাচলের সুযোগ দিতে হবে।
জুলাইয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় কাতারএনার্জির এলএনজি ট্যাংকার ‘আল রেকাইয়াত’ হামলার শিকার হয়। কাতার এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে। হামলায় জাহাজটির বাম পাশের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর সব ক্রুকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
করবোরের ভাষায়, এলএনজি রপ্তানি স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালিটি সত্যিকার অর্থে নিরাপদ ও উন্মুক্ত থাকা। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটিই সবচেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সময় রোববার ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমানঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে তেহরান।
১ দিন আগে
কর্ণাটকের কোপ্পাল জেলার কুকনুর শহরে বক্তব্য দেওয়ার সময় রায়ারেড্ডি ইসলামকে একটি মহান ও অত্যন্ত মানবিক ধর্ম হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ইসলাম বিজ্ঞানভিত্তিক এবং মানুষকে কীভাবে জীবনযাপন করতে হয়, তা শেখায়।
১ দিন আগে
সৌদি আরবের তায়েফে এক সৌদি তরুণের গুলিতে মো. কামরুল জামান (৩৭) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। পরে নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন ওই সৌদি তরুণ। স্থানীয় সময় রোববার (৩০ আগস্ট) ভোরে তায়েফের হাওয়াইয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
১ দিন আগে
তবে টানেলের ভেতর থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। টানেলে ঠিক কতজন আটকে আছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। নেপালি সেনাবাহিনীর প্রযুক্তিগত মূল্যায়নে অন্তত ৩৫ জন সেখানে আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে নেপাল পুলিশের হিসাবে সংখ্যাটি প্রায় ২০০ হতে পারে।
১ দিন আগে