
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

লেবাননে ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা না পেরোতেই সেখানে নতুন করে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট নিরসনের যে প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে, তা শুরুর দিকেই বড় এক পরীক্ষার মুখে পড়েছে। তবে এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, উইটকফ ও আরাগচির নেতৃত্বে অনুষ্ঠেয় এই আলোচনা মূলত চলতি সপ্তাহে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন ১৪ দফার সমঝোতাকে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটানোই এই কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
কিন্তু শান্তি প্রচেষ্টার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তাও। লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন হামলার খবর পাওয়া গেছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে সংঘাত বন্ধ হওয়া মার্কিন-ইরান আলোচনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুই পক্ষের মধ্যে যে ৬০ দিনের সময়সীমাভিত্তিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা, তার অন্যতম প্রধান শর্তই ছিল লেবানন ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত রাখা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করাও এই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং আরও বেশ কিছু জটিল আঞ্চলিক ইস্যুর সমাধান খোঁজা হবে।
যুদ্ধবিরতির পরও হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। হিজবুল্লাহর দুটি সূত্র এবং ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তবে সেই ঘোষণা টেকসই হওয়ার আগেই নতুন করে হামলার অভিযোগ সামনে আসে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন শুক্রবার রাতভর এবং শনিবার সকাল পর্যন্ত নাবাতিহ অঞ্চলে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে। ভোরের আগে নাবাতিহ ও আশপাশের এলাকায় কামান থেকেও গোলাবর্ষণ করা হয়।
সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন উইটকফ ও আরাগচি
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও থেমে নেই। এক্সিওস জানিয়েছে, স্টিভ উইটকফ ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সেখানে তিনি ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে যোগ দেবেন, যিনি আগেই সেখানে পৌঁছেছেন। অপরদিকে আব্বাস আরাগচিও শনিবার সুইজারল্যান্ড যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও উইটকফের সফর নিয়ে হোয়াইট হাউজ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে ইরানও আরাগচির সফর পরিকল্পনা এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি।
এর আগে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছিল। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায়, সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি রিসোর্ট বুর্গেনস্টকে অনুষ্ঠিতব্য কারিগরি আলোচনা প্রায় প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স গত বৃহস্পতিবার তার সফর বাতিল করেন। এতে আলোচনা প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছিল।
তবে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এখনও মার্কিন-ইরান সংলাপ সহজতর করতে প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ অব্যাহত আছে।
গত বুধবার স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্রদের লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিতে হবে। তবে এই আলোচনা প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা এই চুক্তির কোনো পক্ষ নয়।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে আব্বাস আরাগচি বলেছেন, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধসহ চুক্তির অধীনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে তার দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
লেবাননকে ঘিরে উত্তেজনার পেছনে রয়েছে কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাত। গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা চালালে লেবানন সরাসরি এই আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে।
ইসরায়েল-লেবানন আলোচনার প্রস্তুতি
লেবাননের নেতৃত্ব এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথেই আস্থা রাখছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনায় আগামী ২৩ থেকে ২৫ জুন ওয়াশিংটনে সম্ভাব্য ইসরায়েল-লেবানন সংলাপ আয়োজনের বিষয়টি উঠে এসেছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, একটি ব্যাপক ও কার্যকর যুদ্ধবিরতিই হবে ভবিষ্যৎ আলোচনার মূল ভিত্তি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চলমান ইরান সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই ইরান ও লেবাননের নাগরিক। যুদ্ধের প্রভাব শুধু মানবিক সংকটেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারেও বড় অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে।
তবে চলতি সপ্তাহে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন আবারও গতি পেতে শুরু করেছে। এর ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাপ্তাহিক হিসেবে প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। যুদ্ধ চলাকালে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল সীমিত করেছিল, যা বিশ্ববাজারে বড় উদ্বেগ তৈরি করেছিল।
হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ইরানের একটি সংস্থা শুক্রবার জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি কার্যকর থাকা অবস্থায় তারা নির্ধারিত ট্রানজিট ফি মওকুফ করবে।
চুক্তির অর্থনৈতিক অংশটিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এতে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, কয়েক বিলিয়ন ডলারের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল এবং আরও বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনার কথাও বলা হয়েছে।
তবে এসব উদ্যোগ নিয়ে ওয়াশিংটনে বিতর্কও কম নয়। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে একটি অজনপ্রিয় যুদ্ধ শেষ করতে গিয়ে ট্রাম্প ইরানকে অতিরিক্ত ছাড় দিচ্ছেন কি না— এমন প্রশ্ন তুলেছেন তার নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির অনেক নেতাও।
এসব সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প আবারও চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘এই যুদ্ধ ইরানকে দুর্বল করে দিয়েছে।’ একই পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মরিয়া হয়ে তাদের সঙ্গে বসিনি, ইরানই বসেছে। ওরা শেষ! আমরা এই ৬০ দিন দেখে নেব। ওরা কোনো টাকা পাচ্ছে না, এক কানাকড়িও না।’

লেবাননে ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা না পেরোতেই সেখানে নতুন করে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট নিরসনের যে প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে, তা শুরুর দিকেই বড় এক পরীক্ষার মুখে পড়েছে। তবে এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, উইটকফ ও আরাগচির নেতৃত্বে অনুষ্ঠেয় এই আলোচনা মূলত চলতি সপ্তাহে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন ১৪ দফার সমঝোতাকে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটানোই এই কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
কিন্তু শান্তি প্রচেষ্টার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তাও। লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন হামলার খবর পাওয়া গেছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে সংঘাত বন্ধ হওয়া মার্কিন-ইরান আলোচনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুই পক্ষের মধ্যে যে ৬০ দিনের সময়সীমাভিত্তিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা, তার অন্যতম প্রধান শর্তই ছিল লেবানন ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত রাখা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করাও এই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং আরও বেশ কিছু জটিল আঞ্চলিক ইস্যুর সমাধান খোঁজা হবে।
যুদ্ধবিরতির পরও হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। হিজবুল্লাহর দুটি সূত্র এবং ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তবে সেই ঘোষণা টেকসই হওয়ার আগেই নতুন করে হামলার অভিযোগ সামনে আসে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন শুক্রবার রাতভর এবং শনিবার সকাল পর্যন্ত নাবাতিহ অঞ্চলে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে। ভোরের আগে নাবাতিহ ও আশপাশের এলাকায় কামান থেকেও গোলাবর্ষণ করা হয়।
সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন উইটকফ ও আরাগচি
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও থেমে নেই। এক্সিওস জানিয়েছে, স্টিভ উইটকফ ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সেখানে তিনি ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে যোগ দেবেন, যিনি আগেই সেখানে পৌঁছেছেন। অপরদিকে আব্বাস আরাগচিও শনিবার সুইজারল্যান্ড যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও উইটকফের সফর নিয়ে হোয়াইট হাউজ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে ইরানও আরাগচির সফর পরিকল্পনা এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি।
এর আগে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছিল। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায়, সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি রিসোর্ট বুর্গেনস্টকে অনুষ্ঠিতব্য কারিগরি আলোচনা প্রায় প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স গত বৃহস্পতিবার তার সফর বাতিল করেন। এতে আলোচনা প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছিল।
তবে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এখনও মার্কিন-ইরান সংলাপ সহজতর করতে প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ অব্যাহত আছে।
গত বুধবার স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্রদের লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিতে হবে। তবে এই আলোচনা প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা এই চুক্তির কোনো পক্ষ নয়।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে আব্বাস আরাগচি বলেছেন, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধসহ চুক্তির অধীনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে তার দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
লেবাননকে ঘিরে উত্তেজনার পেছনে রয়েছে কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাত। গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা চালালে লেবানন সরাসরি এই আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে।
ইসরায়েল-লেবানন আলোচনার প্রস্তুতি
লেবাননের নেতৃত্ব এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথেই আস্থা রাখছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনায় আগামী ২৩ থেকে ২৫ জুন ওয়াশিংটনে সম্ভাব্য ইসরায়েল-লেবানন সংলাপ আয়োজনের বিষয়টি উঠে এসেছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, একটি ব্যাপক ও কার্যকর যুদ্ধবিরতিই হবে ভবিষ্যৎ আলোচনার মূল ভিত্তি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চলমান ইরান সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই ইরান ও লেবাননের নাগরিক। যুদ্ধের প্রভাব শুধু মানবিক সংকটেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারেও বড় অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে।
তবে চলতি সপ্তাহে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন আবারও গতি পেতে শুরু করেছে। এর ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাপ্তাহিক হিসেবে প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। যুদ্ধ চলাকালে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল সীমিত করেছিল, যা বিশ্ববাজারে বড় উদ্বেগ তৈরি করেছিল।
হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ইরানের একটি সংস্থা শুক্রবার জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি কার্যকর থাকা অবস্থায় তারা নির্ধারিত ট্রানজিট ফি মওকুফ করবে।
চুক্তির অর্থনৈতিক অংশটিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এতে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, কয়েক বিলিয়ন ডলারের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল এবং আরও বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনার কথাও বলা হয়েছে।
তবে এসব উদ্যোগ নিয়ে ওয়াশিংটনে বিতর্কও কম নয়। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে একটি অজনপ্রিয় যুদ্ধ শেষ করতে গিয়ে ট্রাম্প ইরানকে অতিরিক্ত ছাড় দিচ্ছেন কি না— এমন প্রশ্ন তুলেছেন তার নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির অনেক নেতাও।
এসব সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প আবারও চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘এই যুদ্ধ ইরানকে দুর্বল করে দিয়েছে।’ একই পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মরিয়া হয়ে তাদের সঙ্গে বসিনি, ইরানই বসেছে। ওরা শেষ! আমরা এই ৬০ দিন দেখে নেব। ওরা কোনো টাকা পাচ্ছে না, এক কানাকড়িও না।’

যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের দৃষ্টিতে যাকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেই ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই সম্ভাব্য সমঝোতার মাধ্যমে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের একটিতে পরিণত হতে পারে।
১০ ঘণ্টা আগে
৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর জন্য পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবেও কঠিন হয়ে উঠেছে। দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন এই নেতা এখন ভোটারদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এখনও তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।
১০ ঘণ্টা আগে
লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর অন্তর্বর্তীকালীন ইরান যুদ্ধ চুক্তিকে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা আবারও জোরদার হয়েছে। এই আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উভয়েই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে এক্সিওসের বরাতে জানিয়ে
১২ ঘণ্টা আগে
কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী এ ধরনের হাই-প্রোফাইল আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর। কিন্তু ট্রাম্প দৃশ্যত রুবিওর পরিবর্তে ভ্যান্সকেই সামনে নিয়ে এসেছেন। ফলে প্রশাসনের ভেতরে রুবিওর প্রকৃত ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
১৩ ঘণ্টা আগে