
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। শুরুতে এ যুদ্ধকে ‘স্বল্পমেয়াদি অভিযান’ বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, তিন সপ্তাহ পরেও এ যুদ্ধ থামার সুস্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত মিলছে না। বরং বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি থামানোই সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে মিত্রদের থেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের চলাচলও।
পরিস্থিতির জটিলতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন নতুন সংকটের মুখে পড়েছেন। ‘স্বল্পমেয়াদি অভিযানে’র কথা বলে এখন নতুন করে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যদিও হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ন্যাটোর সদস্যসহ কোনো মিত্রদেশকেই সামরিক অভিযানে রাজি করাতে পারেননি তিনি। এ কারণে ন্যাটো দেশগুলোকে ‘ভীরু’ বলেও আখ্যা দেন।
এত কিছুর মধ্যেও ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানে তার সামরিক অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। ‘যুদ্ধ সামরিকভাবে জিতে গেছি’ বলেও শুক্রবার মন্তব্য করেছেন তিনি। তার দাবিকে বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল-গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি অব্যাহত রেখেছে। এ অঞ্চলের দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও থামায়নি।
চলমান পরিস্থিতি বলছে, ক্ষমতায় এসে ‘অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্প এখন এমন এক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন, যার ফলাফল কিংবা বার্তা— কোনোটিই তার নিয়ন্ত্রণে নেই বলে মনে হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে বের হওয়ারও স্পষ্ট কোনো কৌশল না থাকায় এখন ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তো বটেই, বিশেষ করে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তার দলের জন্যও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক মার্কিন আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ‘ট্রাম্প নিজেই ইরান যুদ্ধ নামের একটি ঘরে নিজেকে আটকে ফেলেছেন, যেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। এটিই তার সবচেয়ে বড় হতাশা।’
তবে হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা এ মূল্যায়নের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনেককে সরানো হয়েছে, নৌ বাহিনীর বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। তার ভাষায়, ‘এটি নিঃসন্দেহে সামরিক সাফল্য।’
ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট
গত এক সপ্তাহে কূটনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক— প্রতিটি ক্ষেত্রেই ট্রাম্পের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি রক্ষায় নৌ বাহিনী পাঠাতে ন্যাটো ও অন্যান্য মিত্রদের অনীহা ট্রাম্প প্রশাসনকে অপ্রস্তুত করে দেয়।
হোয়াইট হাউজের কিছু উপদেষ্টা ট্রাম্পকে দ্রুত সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ খোঁজার এবং সামরিক অভিযানের পরিধি সীমিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এতে ট্রাম্প কতটা রাজি হবেন, তা স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মিত্রদের এই অনীহা শুধু যুদ্ধ এড়ানোর প্রবণতা নয়, বরং ট্রাম্প এর আগে বিভিন্ন সময় জোটগুলোকে নিয়ে যেভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন, এই অনীহা তার প্রতিক্রিয়াও বটে।
এদিকে ইসরায়েলের সঙ্গেও মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে ট্রাম্পের। ইরানের সাউথ পারস গ্যাসক্ষেত্রে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প আগাম কিছু জানতেন না বলে দাবি করেছেন। বিপরীত দাবি করেছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই ওই হামলা চালানো হয়। ফলে চূড়ান্তভাবে ইরান যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্পের হাতে কতটা রয়েছে, সে প্রশ্ন বড় হয়ে ধরা দিয়েছে।
দুই পথের মোড়ে ট্রাম্প
বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে এখন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন ট্রাম্প। তিনি চাইলে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন, যার অধীনে ইরানের খার্গ দ্বীপের তেলকেন্দ্র দখল বা উপকূলে সেনা মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ নিতে পারেন। তবে এ ধরনের পদক্ষেপে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা মার্কিন জনমতের সমর্থন নাও পেতে পারে।
অন্যদিকে আলোচনার সম্ভাবনা আপাতত একেবারেই নেই। ফলে ট্রাম্প একতরফাভাবে ‘বিজয়’ ঘোষণা করে সরে আসতেও পারেন। তবে এতে উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে এবং ইরান পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করে অঞ্চল জুড়ে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত হাজার হাজার মেরিন ও নৌ সেনা মোতায়েন করছে, যদিও ইরানের ভেতরে সরাসরি সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
অভ্যন্তরীণ চাপ ও সমালোচনা
এই যুদ্ধ ট্রাম্পের ‘মাগা’ ঘাঁটির ওপর তার আগের মতো দৃঢ় নিয়ন্ত্রণও দুর্বল করে দিচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলছে। প্রভাবশালী কিছু সমর্থক এরই মধ্যে যুদ্ধবিরোধী অবস্থানও নিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে এবং সেনা মোতায়েন বাড়লে ট্রাম্পের জনসমর্থন আরও কমতে পারে। রিপাবলিকান কৌশলবিদ ডেভ উইলসন বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হলে মানুষ প্রশ্ন তুলবে— কেন আবার উচ্চ দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে? কেন হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আমার ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলবে?’
ভুল হিসাবের মাশুল
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর প্রশাসনের ভেতরে এ উপলব্ধি জোরালো হয়েছে যে সংঘাতের সম্ভাব্য পরিণতি আগে থেকেই আরও ভালোভাবে বিবেচনা করা উচিত ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের বড় ভুল ছিল— ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তা সঠিকভাবে অনুমান করতে না পারা।
ইরান তার অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে পালটা হামলা চালাচ্ছে এবং বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি প্রায় অচল করে দিয়েছে।
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন বাস বলেন, ‘তারা সংঘাতের সম্ভাব্য জটিল পরিস্থিতিগুলো নিয়ে যথেষ্ট চিন্তা করেনি, যেখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোয় না।’
সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় ট্রাম্পের হতাশাও বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি গণমাধ্যমের সমালোচনা করে যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ পর্যন্ত আখ্যা দিয়েছেন, যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ নেই।
সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ব্রেট ব্রুয়েন বলেন, ‘তিনি এখন আর আগের মতো সংবাদ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। কেন এই যুদ্ধে জড়ালেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী— এ প্রশ্নের জবাব দিতে না পারায় তার নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়েছে।’

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। শুরুতে এ যুদ্ধকে ‘স্বল্পমেয়াদি অভিযান’ বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, তিন সপ্তাহ পরেও এ যুদ্ধ থামার সুস্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত মিলছে না। বরং বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি থামানোই সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে মিত্রদের থেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের চলাচলও।
পরিস্থিতির জটিলতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন নতুন সংকটের মুখে পড়েছেন। ‘স্বল্পমেয়াদি অভিযানে’র কথা বলে এখন নতুন করে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যদিও হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ন্যাটোর সদস্যসহ কোনো মিত্রদেশকেই সামরিক অভিযানে রাজি করাতে পারেননি তিনি। এ কারণে ন্যাটো দেশগুলোকে ‘ভীরু’ বলেও আখ্যা দেন।
এত কিছুর মধ্যেও ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানে তার সামরিক অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। ‘যুদ্ধ সামরিকভাবে জিতে গেছি’ বলেও শুক্রবার মন্তব্য করেছেন তিনি। তার দাবিকে বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল-গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি অব্যাহত রেখেছে। এ অঞ্চলের দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও থামায়নি।
চলমান পরিস্থিতি বলছে, ক্ষমতায় এসে ‘অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্প এখন এমন এক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন, যার ফলাফল কিংবা বার্তা— কোনোটিই তার নিয়ন্ত্রণে নেই বলে মনে হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে বের হওয়ারও স্পষ্ট কোনো কৌশল না থাকায় এখন ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তো বটেই, বিশেষ করে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তার দলের জন্যও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক মার্কিন আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ‘ট্রাম্প নিজেই ইরান যুদ্ধ নামের একটি ঘরে নিজেকে আটকে ফেলেছেন, যেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। এটিই তার সবচেয়ে বড় হতাশা।’
তবে হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা এ মূল্যায়নের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনেককে সরানো হয়েছে, নৌ বাহিনীর বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। তার ভাষায়, ‘এটি নিঃসন্দেহে সামরিক সাফল্য।’
ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট
গত এক সপ্তাহে কূটনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক— প্রতিটি ক্ষেত্রেই ট্রাম্পের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি রক্ষায় নৌ বাহিনী পাঠাতে ন্যাটো ও অন্যান্য মিত্রদের অনীহা ট্রাম্প প্রশাসনকে অপ্রস্তুত করে দেয়।
হোয়াইট হাউজের কিছু উপদেষ্টা ট্রাম্পকে দ্রুত সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ খোঁজার এবং সামরিক অভিযানের পরিধি সীমিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এতে ট্রাম্প কতটা রাজি হবেন, তা স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মিত্রদের এই অনীহা শুধু যুদ্ধ এড়ানোর প্রবণতা নয়, বরং ট্রাম্প এর আগে বিভিন্ন সময় জোটগুলোকে নিয়ে যেভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন, এই অনীহা তার প্রতিক্রিয়াও বটে।
এদিকে ইসরায়েলের সঙ্গেও মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে ট্রাম্পের। ইরানের সাউথ পারস গ্যাসক্ষেত্রে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প আগাম কিছু জানতেন না বলে দাবি করেছেন। বিপরীত দাবি করেছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই ওই হামলা চালানো হয়। ফলে চূড়ান্তভাবে ইরান যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্পের হাতে কতটা রয়েছে, সে প্রশ্ন বড় হয়ে ধরা দিয়েছে।
দুই পথের মোড়ে ট্রাম্প
বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে এখন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন ট্রাম্প। তিনি চাইলে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন, যার অধীনে ইরানের খার্গ দ্বীপের তেলকেন্দ্র দখল বা উপকূলে সেনা মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ নিতে পারেন। তবে এ ধরনের পদক্ষেপে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা মার্কিন জনমতের সমর্থন নাও পেতে পারে।
অন্যদিকে আলোচনার সম্ভাবনা আপাতত একেবারেই নেই। ফলে ট্রাম্প একতরফাভাবে ‘বিজয়’ ঘোষণা করে সরে আসতেও পারেন। তবে এতে উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে এবং ইরান পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করে অঞ্চল জুড়ে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত হাজার হাজার মেরিন ও নৌ সেনা মোতায়েন করছে, যদিও ইরানের ভেতরে সরাসরি সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
অভ্যন্তরীণ চাপ ও সমালোচনা
এই যুদ্ধ ট্রাম্পের ‘মাগা’ ঘাঁটির ওপর তার আগের মতো দৃঢ় নিয়ন্ত্রণও দুর্বল করে দিচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলছে। প্রভাবশালী কিছু সমর্থক এরই মধ্যে যুদ্ধবিরোধী অবস্থানও নিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে এবং সেনা মোতায়েন বাড়লে ট্রাম্পের জনসমর্থন আরও কমতে পারে। রিপাবলিকান কৌশলবিদ ডেভ উইলসন বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হলে মানুষ প্রশ্ন তুলবে— কেন আবার উচ্চ দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে? কেন হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আমার ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলবে?’
ভুল হিসাবের মাশুল
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর প্রশাসনের ভেতরে এ উপলব্ধি জোরালো হয়েছে যে সংঘাতের সম্ভাব্য পরিণতি আগে থেকেই আরও ভালোভাবে বিবেচনা করা উচিত ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের বড় ভুল ছিল— ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তা সঠিকভাবে অনুমান করতে না পারা।
ইরান তার অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে পালটা হামলা চালাচ্ছে এবং বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি প্রায় অচল করে দিয়েছে।
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন বাস বলেন, ‘তারা সংঘাতের সম্ভাব্য জটিল পরিস্থিতিগুলো নিয়ে যথেষ্ট চিন্তা করেনি, যেখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোয় না।’
সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় ট্রাম্পের হতাশাও বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি গণমাধ্যমের সমালোচনা করে যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ পর্যন্ত আখ্যা দিয়েছেন, যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ নেই।
সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ব্রেট ব্রুয়েন বলেন, ‘তিনি এখন আর আগের মতো সংবাদ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। কেন এই যুদ্ধে জড়ালেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী— এ প্রশ্নের জবাব দিতে না পারায় তার নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়েছে।’

ইরান ভারত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন-ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়ার দিকে দুটি মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। তবে সেগুলো লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি বলে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
৭ ঘণ্টা আগে
যুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও ধর্মীয় অনুশাসন পালনে পিছিয়ে থাকেননি ইরানের মানুষ। পবিত্র রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ করে শনিবার (২১ মার্চ) দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর। এ উপলক্ষে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মুসল্লি খোলা মাঠে ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছেন।
৯ ঘণ্টা আগে
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া আলোচনার বিষয়ে অবগত দুই ব্যক্তি জানান, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রাশিয়ার দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ ট্রাম্প প্রশাসনের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের কাছে এই প্রস্তাব দেন।
৯ ঘণ্টা আগে
আজ শনিবার (২১ মার্চ) নাতানজ পরমাণু কেন্দ্রে এ হামলা চালানো হয়। তবে এতে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়েনি বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
১০ ঘণ্টা আগে