দ্য ওয়্যারের বিশ্লেষণ

দিল্লির আন্দোলনে পুলিশি হামলা, ১২ প্রশ্নের মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ভারতে বিক্ষোভকারী এক শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ (বাঁয়ে) ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমিত শাহ (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গত সোমবার (২০ জুলাই) শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কাছে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার। তাদের যুক্তি— দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন। একইভাবে অভিযানে অংশ নেওয়া র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর অংশ হিসেবে একই মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। ফলে ওই দিনের অভিযানের দায় শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ওপরই বর্তায়।

শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের নানা ভিডিও, ছবি ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য সামনে এলেও এবং জবাবদিহির দাবি জোরালো হলেও অমিত শাহ এখনো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি। দিল্লি পুলিশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা বিভিন্ন প্রতিবেদকের উদ্ধৃত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বক্তব্য দিয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে না। প্রশাসনিকভাবে সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবে এসব প্রশ্নের জবাব অমিত শাহরই দেওয়া উচিত।

১. কেন জলকামান ব্যবহার করা হয়নি?

ভারতে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী, সবচেয়ে কম ক্ষতিকর পদ্ধতি আগে ব্যবহার করার কথা। কোনো ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে প্রথমে জলকামান ব্যবহার করাই অপ্রাণঘাতী ও স্বীকৃত পদ্ধতি। এরপর প্রয়োজন হলে ধাপে ধাপে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কিন্তু সোমবারের ঘটনায় এই ধাপ অনুসরণ না করে সরাসরি বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণের বদলে শুরু থেকেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। কেন এই মানক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

২. পেরেক লাগানো লাঠি কেন ব্যবহার করা হলো?

ঘটনাস্থলের ভিডিও ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্যের লাঠিতে পেরেক লাগানো ছিল। সাধারণ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের লাঠিকে এভাবে পরিবর্তন করলে তা গুরুতর জখম করার মতো অস্ত্রে পরিণত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকরা। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ছবি: রয়টার্স
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকরা। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ছবি: রয়টার্স

নিরস্ত্র শিক্ষার্থী, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এমন লাঠি ব্যবহার মানবাধিকার এবং পুলিশের প্রচলিত নির্দেশিকার পরিপন্থী। এসব লাঠি পরিবর্তনের অনুমোদন কে দিয়েছিলেন এবং কেন সেগুলো ব্যবহার করা হলো, সেই প্রশ্নের জবাব চাওয়া হয়েছে।

৩. পেলেট গান ব্যবহারের নির্দেশ কে দিয়েছিল?

পেলেট গানকে একেবারে শেষ বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের কথা, কারণ এতে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানো, গুরুতর শারীরিক আঘাত ও মানসিক ট্রমার ঝুঁকি থাকে।

আহত আন্দোলনকারীদের চিকিৎসা প্রতিবেদনে শরীর থেকে ধাতব পেলেট বের করার তথ্য পাওয়া গেছে, যা দিল্লি পুলিশের অস্বীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা হাসপাতালে এক আহত ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করায় সরকারও অস্ত্রটি ব্যবহারের বিষয়ে অবগত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পেলেট গানের গুলিতে আহত এক শিক্ষার্থীর শরীরের ক্ষতচিহ্ন দেখাচ্ছেন রাহুল গান্ধী। ছবি: সংগৃহীত
পেলেট গানের গুলিতে আহত এক শিক্ষার্থীর শরীরের ক্ষতচিহ্ন দেখাচ্ছেন রাহুল গান্ধী। ছবি: সংগৃহীত

আরএএফ, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন, তাদের মাধ্যমে জাতীয় রাজধানীতে এই অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন কে দিয়েছিলেন এবং এরপর এ বিষয়ে অমিত শাহ কী পদক্ষেপ নিয়েছেন— সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।

৪. নারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুরুষ পুলিশ কেন লাঠিচার্জ করল?

বহু ভিডিওতে দেখা গেছে, পুরুষ পুলিশ সদস্যরা নারী শিক্ষার্থীদের মারধর করছেন। অথচ প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নারী বিক্ষোভকারীদের সামলানোর দায়িত্ব নারী পুলিশ সদস্যদের।

ভিডিওতে লাঠির আঘাত, মাথা লক্ষ্য করে হামলা এবং পোশাক টেনে ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্যও দেখা গেছে। পুলিশ যদি দাবি করেও থাকে যে ভিড় আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিল, তবুও তাদের প্রতিক্রিয়া হতে হবে পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং লিঙ্গ-সংবেদনশীল।

এক নারী শিক্ষার্থীকে টেনে হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলার চেষ্টা করছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
এক নারী শিক্ষার্থীকে টেনে হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলার চেষ্টা করছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

ঘটনাস্থলে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারাও এসব ঘটনার সময় হস্তক্ষেপ না করায় তারা দায় এড়াতে পারেন না। কেন পুলিশের মধ্যে এমন মানসিকতা তৈরি হয়েছে যে তারা আইন লঙ্ঘনে সাহসী হয়ে উঠেছে, তার ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।

৫. সাধারণ পোশাক পরা লাঠিধারী ব্যক্তিরা কারা ছিলেন?

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ পোশাক পরা কয়েকজন ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অংশ নিচ্ছেন।

সিজেপির সমর্থকদের পদযাত্রার সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। সাধারণ পোশাক পরিহিত ব্যক্তিদেরও লাঠিচার্জ করতে দেখা গেছে। ছবি: রয়টার্স
সিজেপির সমর্থকদের পদযাত্রার সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। সাধারণ পোশাক পরিহিত ব্যক্তিদেরও লাঠিচার্জ করতে দেখা গেছে। ছবি: রয়টার্স

তারা যদি সাধারণ পোশাকের পুলিশ সদস্য হয়ে থাকেন, তাহলে পরিচয় গোপন রেখে নাগরিকদের ওপর হামলা করা বেআইনি। আর যদি পুলিশ সদস্য না হন, তবে এটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বেসরকারি ব্যক্তিদের দিয়ে আইন প্রয়োগের গুরুতর অভিযোগ তৈরি করে।

এসব ব্যক্তির পরিচয়, তাদের সরকারি সংযোগ এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

৬. অধিকাংশ পুলিশ সদস্যের নামফলক ছিল না কেন?

পুলিশের বিধিমালা ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনের সময় প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের পোশাকে স্পষ্টভাবে নামফলক প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

নামফলক সরিয়ে ফেলা বা আড়াল করা অনেক সময় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের দায় এড়ানোর কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি কি ঊর্ধ্বতন নির্দেশে করা হয়েছিল, নাকি অঘোষিত নিয়মে পরিণত হয়েছে— সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।

৭. নারীকে মারধরে জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা সন্দীপ লাম্বাকে এক নারী আন্দোলনকারীকে আঘাত করতে দেখা গেছে।

পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে এক নারী বিক্ষোভকারীকে চড় মারতে দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত
পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে এক নারী বিক্ষোভকারীকে চড় মারতে দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত

এ ধরনের ঘটনার পর সাধারণত সাময়িক বরখাস্ত, বিভাগীয় তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন কিছু হয়নি। জানা গেছে, তাকে কেবল ঘটনাস্থলের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অমিত শাহর নীরবতা কি সরকারের জবাবদিহির অভাবকে নির্দেশ করে— সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।

৮. কতটি টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়া হয়েছিল এবং কোথায়?

সোমবার যন্তর মন্তর ও পার্লামেন্ট স্ট্রিটের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নির্বিচারে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে, যা আন্দোলনকারী ও সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে।

বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়ছেন এক পুলিশ সদস্য। ছবি: সংগৃহীত
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়ছেন এক পুলিশ সদস্য। ছবি: সংগৃহীত

কতটি টিয়ার গ্যাসের শেল ব্যবহার করা হয়েছে এবং ঠিক কোথায় সেগুলো নিক্ষেপ করা হয়েছে— সে তথ্য প্রকাশ করলে বোঝা যাবে পুলিশ আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে ছিল, নাকি পিছু হটা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে।

এ কারণে ব্যবহৃত সব ধরনের সরঞ্জামের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

৯. পুলিশি ব্যারিকেডে কি বিদ্যুৎপ্রবাহ ছিল?

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থল থেকে প্রকাশিত ছবি ও প্রতিবেদনে পুলিশি ব্যারিকেডে বিদ্যুৎপ্রবাহ থাকার অভিযোগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে সংসদের দিকে এগোতে গিয়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকরা। ছবি: সংগৃহীত
‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে সংসদের দিকে এগোতে গিয়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকরা। ছবি: সংগৃহীত

যদি স্বাধীনভাবে এ অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে বিষয়টি শুধু জনতা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা সাংবিধানিক ও আইনি প্রশ্নও তৈরি করবে।

১০. কতজনকে আটক করা হয়েছে এবং কী অভিযোগে?

অভিযানের পর শত শত শিক্ষার্থীকে আটক করে দিল্লির বিভিন্ন আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। পরিবার ও আইনজীবীরা তাদের অবস্থান ও আইনি অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের কাছে আটক ব্যক্তিদের পূর্ণ তালিকা, কোন আইনে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তারা কোথায় আছেন— সে তথ্য প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। স্বচ্ছ অভিযোগ ছাড়াই আটক রাখাকে মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এ ধরনের প্রক্রিয়া কি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনেই হয়েছে?

১১. বিভাগীয় বা ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কি?

ভাঙা মাথার খুলি, পেলেটের আঘাতসহ বহু গুরুতর আহতের খবর পাওয়া গেছে। তাই নিরপেক্ষ ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্ত জরুরি।

শুধু অভ্যন্তরীণ পুলিশি তদন্ত যথেষ্ট নয়, কারণ পুলিশ নিজের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারে না। এ কারণে ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন।

কয়েকটি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সংগঠন ইতোমধ্যে পুলিশি বলপ্রয়োগকে ‘উসকানিবিহীন ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ উল্লেখ করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে। কিন্তু এখনো স্বতন্ত্র তদন্তের ঘোষণা না দেওয়ায় সরকারের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

১২. এখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো বিবৃতি আসেনি কেন?

জাতীয় রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে এমন সহিংস ঘটনার পরও এবং বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক দাবির পরও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখন পর্যন্ত কোনো বিবৃতি দেননি।

দিল্লি পুলিশ ও আরএএফ— উভয়ই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চূড়ান্ত দায় অমিত শাহর ওপর বর্তায়।

পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের মুখেও সরকারের এই নীরবতাকে অনেকেই অভিযানের প্রতি নীরব সমর্থন হিসেবে দেখছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দ্রুত জবাবদিহি এবং জনসমক্ষে ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।

বিশ্লেষণের শেষে বলা হয়েছে, যদি মোদি সরকার মনে করে দিল্লি পুলিশ ও আরএএফ আইনসম্মত এবং প্রয়োজনীয় মাত্রার বলপ্রয়োগ করেছে, তাহলে তাদের উচিত সেই অবস্থান স্পষ্টভাবে জানানো, ঘটনার সব তথ্য প্রকাশ করা এবং একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া। ততক্ষণ পর্যন্ত এই ১২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মিলবে না এবং এর দায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ওপরই বর্তাবে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

স্পেনে দাবানলে নাসার গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ যোগাযোগ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত

নাসার এক মুখপাত্র বিবৃতিতে জানান, “দাবানল এমডিএসসিসি কেন্দ্রের সীমানার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। কেন্দ্রের সব কর্মীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিরাপদ হলে সেখানকার সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।”

৪ ঘণ্টা আগে

ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, হিমশিম খাচ্ছেন অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা

স্পেন সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। প্রায় ৬৩ হাজার মানুষকে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে অথবা ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২৫ হাজার মানুষকে সরাসরি এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৪ ঘণ্টা আগে

ইরানকে সাহায্য করলে রাশিয়া ও চীনের পরিণতি ‘খুব খারাপ’ হবে: ট্রাম্প

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, সম্প্রতি বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে শি তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন—চীন বা কোনো চীনা কোম্পানি ইরানকে কোনো অস্ত্র দেবে না। অন্যদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও তাঁকে ইয়েমেন বা ইরানে অস্ত্র বিক্রি না করা

৪ ঘণ্টা আগে

ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দিলে সৌদির পারমাণবিক চুক্তি বাতিলের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে জানান, সৌদির সাথে এই পারমাণবিক সহযোগিতা কেবল বেসামরিক কাজের জন্যই নির্ধারিত। তবে এর বাস্তবায়ন সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ওপর।

৫ ঘণ্টা আগে