দাদির মৃত্যুর খবর অভিজিৎকে জানায়নি পুলিশ— দাবি পরিবারের, থমকে শেষকৃত্য

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
অভিজিৎ দীপকেকে শনিবার উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। রোববার আদালতের আদেশে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। ছবি: সংগৃহীত
অভিজিৎ দীপকেকে শনিবার উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। রোববার আদালতের আদেশে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। ছবি: সংগৃহীত

দাদির মৃত্যুর খবর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপকেকে জানায়নি দিল্লি পুলিশ— এমন অভিযোগ করেছে তার পরিবার। শনিবার মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমান থেকেই তাকে আটক করে পুলিশ। এরপর সারা দিন তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার।

ওই দিনই মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলায় তাদের পৈতৃক গ্রামে মারা যান অভিজিতের ৮৫ বছর বয়সী দাদি সাবিত্রীবাঈ শঙ্কর। নাতি বাড়ি ফিরবেন, এই আশায় এখনো তার শেষকৃত্য করেনি পরিবার। অভিজিতের বাবা ভগবান দীপকে রোববার সকালে সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ওর (দীপকে) কোনও যোগাযোগ হয়নি। ফোন করেছিলাম। যোগাযোগের চেষ্টা করেছি অনেক বার।’

দিল্লি পুলিশের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে পুলিশ মিথ্যে বলছে। ওকে জানানো হয়ে থাকলে ও এতক্ষণে চলে আসত। দিল্লি থেকে তো সরাসরি বিমান ছিল। ওর বন্ধুদের সঙ্গেও আমরা যোগাযোগ করেছিলাম। তারাও বলছে, যোগাযোগ করতে পারছে না। দিল্লি থেকে ওকে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ও দিল্লিতে ছিলই না।’

দাদির শেষকৃত্য না করার কারণ জানিয়ে ভগবান দীপকে বলেন, ‘শেষকৃত্য এখনও করিনি। ও আসবে বলে আশা করে বসে আছি। দিল্লি পুলিশকে আমার আর কিছু বলার নেই। মিথ্যা প্রচার চলছে। বাড়িতে একটা মৃত্যু ঘটেছে। কালই ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল ওকে।’

অভিজিতের মা অনিতাও পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ওর সঙ্গে একেবারেই যোগাযোগ করতে পারিনি। দিল্লি পুলিশ মিথ্যা কথা বলছে। ও যদি খবর পেয়ে থাকত, সঙ্গে সঙ্গে ছুটে চলে আসত। আমরা শেষকৃত্য আটকে রেখেছি ওর জন্য।’

তবে শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ দাবি করে, অভিজিতের দাদির মৃত্যুর খবর তাকে জানানো হয়নি বলে যে প্রচার চলছে, তা ভুয়া। পুলিশের ভাষ্য, যথাযথ সংবেদনশীলতার সঙ্গে তাকে মৃত্যুসংবাদ জানানো হয়েছে। শেষকৃত্যের সময়ও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিজের শহরে ফিরতে চাইলে মানবিকতার খাতিরে তাকে সব ধরনের সহায়তা করার কথাও জানানো হয়। পুলিশের এই বক্তব্যের পরই তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তোলে অভিজিতের পরিবার।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। ওই কর্মসূচিতে যোগ দিতে শনিবার সকালে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর অভিজিৎ, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বিমান থেকে আটক করে পুলিশ। পরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটক থাকার পর রোববার সকালে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

রোববার সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে অভিজিৎ ও সিজেপির অন্য দুই নেতাকে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়। ৫০ হাজার টাকার বন্ড এবং নির্দিষ্ট শর্তে তারা মুক্তি পান। শর্ত অনুযায়ী, আগামী এক বছর অভিজিৎ, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস এমন কোনো কাজ করতে পারবেন না, যাতে শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা তৈরি হয়। এদিকে সিজেপির বিক্ষোভের প্রতি সংহতি জানানোয় আটক জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গড়ে তুলেছেন বোস্টন ইউনিভার্সিটির স্নাতক অভিজিৎ দীপকে। ভারতে ফিরে তিনি নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ ছাড়তে হয়েছিল। বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন বিরোধী দলের সমর্থন রয়েছে সিজেপির প্রতি।

তবে ক্ষমতাসীন বিজেপি সিজেপিকে বিরোধী শক্তিগুলোর একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। দলটির অভিযোগ, সিজেপি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীন অভিযোগ করেছেন, ‘বিদেশি শক্তির’ নির্দেশনায় বিরোধী গোষ্ঠীগুলো ভারতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।

সূত্র: আনন্দবাজার ও এনডিটিভি

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement