শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যেতে নিষেধ, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়কে রাহুলের তোপ— ‘সাহস কীভাবে হলো?’

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১৩: ৫৮

শিক্ষার্থীদের নয়া দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান আন্দোলনে যেতে নিষেধ করায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডিইউ) ওপর বেজায় চটেছেন ভারতের বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।

এমন নিষেধাজ্ঞার কড়া সমালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করায় শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার সাহস তাদের হলো কীভাবে?’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ‘অবৈধ সমাবেশ’ থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দেয়। যন্তর মন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে চলমান বিক্ষোভে অংশ না নিতেও বলা হয়। তারই প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাহুল এমন মন্তব্য করেন।

এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে রাহুল গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ের এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে লেখেন, “গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করায় শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার সাহস কীভাবে হলো আপনাদের?” রাহুল আরও লেখেন, “মনে রাখবেন, সময় এলে জবাবদিহি করতে হবে আপনাদেরই।”

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সতর্কবার্তায় বলা হয়, “প্রিয় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ, আপনাদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অনুগ্রহ করে মনে রাখবেন, ভারতের সম্মানিত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে যেকোনো অবৈধ সমাবেশ বা বিক্ষোভে অংশ নিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।”

এতে আরও বলা হয়, “এ ধরনের কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং তাদের একাডেমিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পেশাগত সুযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সব শিক্ষার্থীকে যন্তর মন্তর থেকে দূরে থাকার এবং নিজেদের নিরাপত্তা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এছাড়া পরিস্থিতি উসকে দিতে বিপুল পরিমাণ ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

গত কয়েক সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলন থেকে শুধু দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, শুক্রবার সকালে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ও (জেএনইউ) শিক্ষার্থীদের এতে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত সতর্কবার্তায় বলা হয়, “জেএনইউর জ্ঞানচর্চার সঙ্গে যুক্ত সব অংশীজনকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে এবং নিজেদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভারতের সম্মানিত সুপ্রিম কোর্টের জনসমাবেশ-সংক্রান্ত নির্দেশনার আলোকে আপনাদের অনুরোধ করা হচ্ছে, নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর বা এর আশপাশের কোনো সমাবেশে অংশগ্রহণ বা সেখানে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।”

জেএনইউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল হোন। আইন লঙ্ঘন করলে প্রচলিত আইনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।”

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এ পদক্ষেপ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখে পড়েছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সতর্কবার্তার সমালোচনা করে অভিনেত্রী ও নির্মাতা পূজা ভাট শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, “শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধ করা হলে তাদের নিরাপত্তাই আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে। যদি সত্যিই আমরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হই, তাহলে নীরবতার ষড়যন্ত্র বজায় রাখার বদলে তাদের কথা বলার অধিকারকে সমর্থন করা উচিত।”

কংগ্রেসের সংসদ সদস্য এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী দীপেন্দর হুডাও বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সতর্কবার্তার সমালোচনা করেছেন।

তিনি এক্সে লেখেন, “দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং একজন সংসদ সদস্য হিসেবে কর্তৃপক্ষের এই বিভ্রান্তিকর ও ভয় দেখানো বক্তব্যের আমি তীব্র নিন্দা জানাই। সুপ্রিম কোর্টের কোন রায়ে যন্তর মন্তরের সব সমাবেশ বা বিক্ষোভকে ডিইউর দাবি অনুযায়ী ‘অবৈধ’ ঘোষণা করা হয়েছে? নিজেদের শিক্ষার্থীদের কাছে মিথ্যা বলার জন্য ডিইউর লজ্জা পাওয়া উচিত।”

কয়েক দিন আগে ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ্যা প্রতিষ্ঠান (আইআইটি রুরকি)-ও একই ধরনের একটি সতর্কবার্তা জারি করেছিল। সেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, তারা বর্তমানে জনপরিসরে আলোচিত রাজনৈতিক আন্দোলনের মতো কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের পূর্বানুমতি ছাড়া রাজনৈতিক বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্যও দেওয়া যাবে না।

তবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার মুখে আইআইটি রুরকি স্পষ্ট করে জানায়, এটি নতুন কোনো নীতি বা নতুন নির্দেশনা নয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বিদ্যমান আচরণবিধির আওতায় প্রতি শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই এ ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। তাই এটিকে প্রেক্ষাপটের বাইরে দেখে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার আইআইটি মাদ্রাজের এক শিক্ষার্থী দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটির ডিন শিক্ষার্থীদের যন্তর মন্তরের আন্দোলনের সমর্থনে দেওয়া ইনস্টাগ্রাম পোস্ট সরিয়ে ফেলতে বলেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে ওই শিক্ষার্থী বলেন, “বন্ধুরা, ডিন আমাদের যন্তর মন্তরের আন্দোলন-সংক্রান্ত পোস্টগুলো সরিয়ে ফেলতে বলেছেন। আমাদের ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজারকে ডাকা হয়েছিল। তাই সংহতির ভিডিওসহ সব পোস্ট আমরা সরিয়ে ফেলব। যেহেতু তোমরাও ভিডিওটিতে অবদান রেখেছিলে, তাই বিষয়টি জানানো প্রয়োজন মনে করেছি।”

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডির ঐতিহাসিক জয়, মের্ৎসের দলে ধাক্কা

চূড়ান্ত ফলে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে রাজ্য পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রথম হয়েছে এএফডি। বিপরীতে মের্ৎসের সিডিইউ পেয়েছে মাত্র ১৭ দশমিক ২ শতাংশ ভোট। এ ভোটকে সিডিইউয়ের জন্যও বড় ধাক্কা মনে করা হচ্ছে।

১৭ ঘণ্টা আগে

মালয়েশিয়ায় পাসপোর্ট-ভিসাহীনদেরও আইনিভাবে দেশে ফেরার সুযোগ

তরিকুল ইসলাম বলেন, অনিয়মিত বা নথিবিহীন বিদেশি অভিবাসীদের জন্য বর্তমানে ‘মাইগ্র্যান্ট রিপেট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২’ (বিআরএম২.০) নামে মালয়েশিয়ার সরকারের মাইগ্রেশন বিভাগের একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু রয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনিয়মিত বা নথিবিহীন বিদেশি নাগরিক বা কর্মীরা আইনসম্মতভা

১৮ ঘণ্টা আগে

পুতিন-জেলেনস্কির মাঝে ফের ট্রাম্প প্রশাসন, মিলবে কি যুদ্ধবিরতি?

মার্কিন এই কূটনৈতিক তৎপরতা সত্ত্বেও মস্কো এখনো যুদ্ধের মূল কারণ হিসেবে যে বিষয়গুলো তুলে ধরে আসছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। রাশিয়া ইউক্রেনের দখল করা ভূখণ্ড নিয়ে নিজেদের দাবি, ইউক্রেনের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান এবং দেশটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কঠোর অব

২০ ঘণ্টা আগে

দিল্লিতে পিজি ভবন ধসে নিহত ৩, ধ্বংসস্তূপে বহু শিক্ষার্থী আটকে থাকার শঙ্কা

পুলিশ জানিয়েছে, ভবনটি প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছরের পুরোনো ছিল। এতে একটি বেজমেন্টের ওপর পাঁচটি তলা ছিল এবং সেটি পিজি আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ভবনের বেজমেন্টে সংস্কার ও খননকাজ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই কাজের সময় ভবনের একটি স্তম্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পুরো কাঠামোটি ধসে পড়ে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের

১ দিন আগে
Advertisement