ইরানি ‘ক্লাস্টার বোমা’য় নাজেহাল ইসরায়েলি আয়রন ডোম

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
শনিবার (২১ মার্চ) দক্ষিণ ইসরায়েলের দিমোনায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করছেন ইসরায়েলি সেনারা। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ‘ক্লাস্টার বোমা’ হামলা বিশ্বের অন্যতম অত্যাধুনিক ও বহুমুখী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসরায়েলের আয়রন ডোমকে নাজেহাল করে তুলেছে। এই বোমা বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র ‘খোররামশাহর’ এখন দেশটির জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক।

‘খোররামশাহর’ ইরানের সবচেয়ে উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি। এটি একটি ক্লাস্টার ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম, যা মাঝআকাশে ৮০টি পর্যন্ত ছোট বোমা (সাবমিউনিশন) ছড়িয়ে দিতে পারে। এতে একবার ছড়িয়ে পড়ার পর এসব সাবমিউনিশন প্রতিহত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ২৮ মার্চ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯টি ক্লাস্টার ওয়ারহেডবাহী ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে জনবসতিতে আঘাত হেনেছে। এই পরিসংখ্যান ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯ জন নিহত ও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। গত রোববারও ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মধ্য ইসরায়েলে আঘাত হানে, আহত হন ১৫ জন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) তথ্যমতে, সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অর্ধেকই ক্লাস্টার ওয়ারহেডবাহী।

ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ তাল ইনবার বলেন, ক্লাস্টার বোমা প্রতিহত করতে হলে মূল ক্ষেপণাস্ত্রটি বিস্ফোরণের আগেই ধ্বংস করতে হয়, যা সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অত্যন্ত জটিল। একাধিক ছোট বোমা ধ্বংস করতে গিয়ে ইসরায়েলকে বিপুল পরিমাণ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে।

তাল ইনবার বিষয়টিকে একটি অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা হিসেবেও দেখছেন। তার মতে, প্রতিটি ছোট বোমার পেছনে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করা কোনোভাবেই সাশ্রয়ী নয়। যদিও ইসরায়েলের মজুদের প্রকৃত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে।

অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক সময় মূল ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করা হলেও সাবমিউনিশনগুলো পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয় না। এ ছাড়া এই ছোট বোমাগুলো তৎক্ষণাৎ না ফেটে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করে, যা পরে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইরানের ক্লাস্টার বোমার ব্যবহারকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘চরম লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে। ২০০৮ সালের কনভেনশন অন ক্লাস্টার মিউনিশনস অনুযায়ী জনবহুল এলাকায় এই বোমার ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন। কনভেনশনে নিষিদ্ধ হলেও ইরান ও ইসরায়েল কেউই এতে স্বাক্ষর করেনি।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

‘খামেনিকে কখনও বিদায় জানাব না’— ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের আবেগঘন বক্তব্য

শনিবার তেহরানে অনুষ্ঠিত ‘ইমাম খামেনেয়ী; প্রতিরোধের চিরন্তন নেতা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন পেজেশকিয়ান। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে পার্সটুডে।

১৫ ঘণ্টা আগে

আলি খামেনির জানাজায় উপস্থিত ৩ ছেলে, ছিলেন না মোজতবা

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, খামেনির তিন ছেলে— মোস্তাফা, মেইসাম ও মাসউদ খামেনি তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে বাবার কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে জানাজার নামাজে অংশ নিচ্ছেন। তবে উত্তরসূরি মোজতবা খামেনির কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি।

১৫ ঘণ্টা আগে

২৫০ বছরের পুরনো বিতর্ক সামনে— ট্রাম্প কি প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা বদলে দিচ্ছেন?

দ্বিতীয় মেয়াদের প্রায় অর্ধেক পথ পেরিয়ে আসার সময়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, তার ক্ষমতার ‘কোনো সীমা নেই’। এ মন্তব্যকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল দর্শনের সম্পূর্ণ বিপরীত বলে মনে করছেন। প্রায় আড়াই শ বছর আগে ব্রিটিশ রাজতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করে যে রাষ্ট্রের জন

১৮ ঘণ্টা আগে

আমেরিকার সোনালি যুগের স্বপ্ন ফিরিয়ে এনেছি— স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ট্রাম্প

প্রায় ৪০ মিনিটের ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, সামরিক শক্তি ও নিজের প্রশাসনের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমেরিকান ড্রিম ফিরে এসেছে।’ তার দাবি, বর্তমানে সামরিক বাহিনী ও পুলিশে এত বেশি মানুষ যোগ দিতে আগ্রহী যে এসব পেশায় চাকরি পাওয়া এখন ‘কঠিন’ হয়ে গেছে।

২০ ঘণ্টা আগে