
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরানে জুয়া নিষিদ্ধ। দেশটির আইনে অনলাইন বেটিংও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অথচ নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত দেশটিতে দুই হাজারের বেশি ওয়েবসাইটের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে বিশাল এক অনলাইন জুয়া নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে শুধু দেশের ভেতরে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিপুল অর্থ স্থানান্তর হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দীর্ঘ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই নেটওয়ার্কের লেনদেনের সঙ্গে এমন এক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ জড়িয়ে আছে, যেটি অন্তত ৪ বিলিয়ন ডলার বা ৪০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো লেনদেন করেছে এবং যার সঙ্গে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ও নিষেধাজ্ঞার অধিক একাধিক প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুবাইয়ের একটি অখ্যাত ও প্রায় অচেনা অফিস থেকে পরিচালিত এ এক্সচেঞ্জটির নাম শেলবিট। বাইরে থেকে দেখলে সেটি যেন আর দশটি ছোট ব্যবসার মতোই— একটি সস্তা হোটেলের ওপরের তলায় অফিস, দরজায় অন্য একটি কোম্পানির নাম, ভেতরে পুরোনো ঘড়ি আর নগদ টাকা গোনার যন্ত্র। কিন্তু ব্লকচেইন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানটি গত মে ২০২৪ থেকে অন্তত ৪০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো লেনদেন প্রক্রিয়াজাত করেছে।
এর মধ্যে কয়েক শ মিলিয়ন ডলার গেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বিন্যান্সে। শেলবিট থেকে বিন্যান্সের বিভিন্ন ঠিকানায় গেছে অন্তত ৬৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের ক্রিপ্টো। একই সময়ে শেলবিটের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন হয়েছে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এবং এমন কিছু ওয়ালেটের, যেগুলো ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করেছে।
এই অর্থের একটি বড় উৎস আবার সেই জুয়া নেটওয়ার্ক, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো অনুসারী থাকা দুই ইরানি ইনফ্লুয়েন্সার—সাশা সোবহানি ও পুয়ান মোখতারির প্রচারে সামনে এসেছে।

রয়টার্সের অনুসন্ধান অনুযায়ী, এটি শুধু একটি অনলাইন জুয়ার ব্যবসা নয়, বরং এমন এক সমান্তরাল আর্থিক অবকাঠামো, যেখানে নিষিদ্ধ ব্যবসা, ক্রিপ্টোকারেন্সি, রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কৌশল একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে।
ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানে জুয়া দীর্ঘদিন ধরেই নিষিদ্ধ। দেশটির দণ্ডবিধির ৭০৫ নম্বর ধারায় জুয়ার জন্য কারাদণ্ড ও বেত্রাঘাতের বিধান রয়েছে। ২০২৩ সালে আইন সংশোধন করে অনলাইন বেটিংকেও স্পষ্টভাবে এর আওতায় আনা হয়। তবু রয়টার্স যে নেটওয়ার্কটি শনাক্ত করেছে, তার ওয়েবসাইটগুলো ইরানের ভেতরে সক্রিয় ছিল। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো— তাদের ইরানের অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার ছিল।
এই জায়গাটিই পুরো কাহিনির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ ইরানে ব্যাংক কার্ড, ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ও অর্থ স্থানান্তরের অবকাঠামোর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শক্ত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে একটি অবৈধ জুয়া নেটওয়ার্ক কীভাবে দেশটির অভ্যন্তরীণ পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে— সে প্রশ্নের উত্তরই শেষ পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে আইআরজিসির অর্থনৈতিক প্রভাব ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে এর সম্পর্কের জায়গায়।
সাবেক ইরানি সরকারি কর্মকর্তা রেজা ঘেইবি, একসময় আইআরজিসিকে পরামর্শ দেওয়া কৌশলবিদ হামিদ নিকু এবং আইআরজিসির একটি ইউনিটে কাজ করা সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হোসেইন তোরকামান— তিনজনই রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানে অনলাইন জুয়া দ্রুত বড় হয়ে উঠতে শুরু করার পর আইআরজিসি এই খাতের নিয়ন্ত্রণ নিতে এগিয়ে আসে।
নিকুর ভাষ্য, ইরানের কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুব বড় হয়ে উঠলে এবং স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে শুরু করলে আইআরজিসি সেটির ওপর নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। জুয়ার ওয়েবসাইটগুলোও সেই ধরনের একটি ব্যবস্থায় পরিণত হয়, যার মাধ্যমে দেশের ভেতরের আর্থিক ব্যবস্থা এবং দেশের বাইরের অর্থের জগতকে সংযুক্ত করা সম্ভব হয়।
অর্থাৎ, যা কাগজে-কলমে নিষিদ্ধ, সেটিই অন্য এক বাস্তবতায় হয়ে ওঠে অর্থ সরানোর একটি মাধ্যম।
রয়টার্সের সঙ্গে কাজ করা সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ইনফ্লক্স ও ক্রিপ্টো বিশ্লেষকদের মাসব্যাপী অনুসন্ধানে দুই হাজারের বেশি জুয়ার ওয়েবসাইটের একটি নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা হয়েছে। সেখানে স্লট, ব্ল্যাকজ্যাক, রুলেটসহ নানা ধরনের জুয়ার ব্যবস্থা ছিল।
বিভিন্ন ওয়েবসাইটকে আলাদা আলাদা ব্র্যান্ডের মতো দেখানো হলেও তাদের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, সফটওয়্যার ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে মিল পাওয়া গেছে। ফলে অনেকগুলো স্বতন্ত্র ব্যবসা আসলে একই বৃহৎ নেটওয়ার্কের অংশ— এমন ধারণা জোরালো হয়েছে।
ইনফ্লক্সের সাবেক গবেষক ও এখন ট্রিএম ল্যাবসের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জন ওজিক এই নেটওয়ার্ককে ইরানে আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় অবৈধ জুয়া নেটওয়ার্ক এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অবৈধ জুয়া নেটওয়ার্ক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রয়টার্স অন্তত ৬০ জন ইরানি ইনফ্লুয়েন্সারকে শনাক্ত করেছে, যারা এসব জুয়া ওয়েবসাইট প্রচার করতেন। তাদের প্রায় অর্ধেকের অনুসারী ১০ লাখের বেশি। তিনজনের অনুসারী এক কোটিরও বেশি।
এই বিশাল অনলাইন উপস্থিতি জুয়াকে শুধু গোপন কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে রাখেনি, বরং একে একটি জনপ্রিয় ডিজিটাল সংস্কৃতির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। বিশেষ করে যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব ও নিষেধাজ্ঞার কারণে চাপের মধ্যে থাকা ইরানি তরুণদের কাছে বিদেশে বিলাসী জীবনযাপনের ছবি দেখিয়ে এই সাইটগুলোকে আকর্ষণীয় করে তোলা হতো।
এই নেটওয়ার্কের সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর একজন সাশা সোবহানি। তার আসল নাম মোহাম্মদ জাভাদ। তিনি একজন সংগীতশিল্পী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী প্রায় ৩৭ লাখ।
তার অনলাইন উপস্থিতিতে সংগীত, দামি গাড়ি, বিলাসী জীবনযাপন এবং জুয়া— সবকিছুরই মিশেল দেখা যায়। তার প্রোফাইলে এমন জুয়ার ওয়েবসাইটের লিংকও ছিল, যেগুলো অনুসারীদের সরাসরি সাইটে ঢুকতে উৎসাহিত করত।

সোবহানি মাদ্রিদে একটি বিলাসবহুল ভিলায় থাকতেন। বাড়িটি এর আগে রিয়াল মাদ্রিদের এক খেলোয়াড়ের মালিকানাধীন ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে বিলাসবহুল হোটেল কক্ষে টাকা উড়াতে, দামি গাড়ির পাশে দাঁড়াতে এবং আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন প্রদর্শন করতে দেখা গেছে।
২০২৫ সালে তার স্প্যানিশ বান্ধবীর পোস্টে দেখা যায়, সোবহানি তাকে জন্মদিনে একটি উজ্জ্বল গোলাপি রঙের রোলস-রয়েস উপহার দিয়েছেন।
এসব দৃশ্য নিছক ব্যক্তিগত জীবনযাপন ছিল, নাকি জুয়া ব্যবসার প্রচারণার কৌশল— সেই প্রশ্নও অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আর তার পারিবারিক পরিচয়ও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সোবহানি সাবেক এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কূটনীতিক ও সরকারি মন্ত্রীর ছেলে। তার বাবা প্রকাশ্যে ছেলের কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন এবং সেগুলোকে ইসলামবিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছেন।
অন্য মুখটি পুয়ান মোখতারি— ইরানি গায়ক ও ইনফ্লুয়েন্সার। একসময় ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী ছিল আরও বেশি। পরে তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়।
মোখতারির পোস্টগুলোতে একদিকে ছিল সুপারকার, দামি ঘড়ি ও বিলাসী হোটেল, অন্যদিকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি সমর্থনসূচক বার্তাও।
তার মালিকানাধীন বা পরিচালিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে জুয়ার ব্যবসার যোগসূত্র রয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। তিনি অবশ্য জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি আইআরজিসির সদস্য নন এবং কোনো সামরিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন। একই সঙ্গে তিনি তার বিরুদ্ধে অর্থপাচার, নিষেধাজ্ঞা এড়ানো বা সন্ত্রাসে অর্থায়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মোখতারি ও সোবহানি দুজনেই দাবি করেছেন, তারা যে জুয়া সাইটগুলোর প্রচার করেছেন, সেগুলো পরস্পর সম্পর্কিত নয়। তারা আরও বলেছেন, ইরানি রাষ্ট্রীয় সংস্থার সঙ্গে জুয়া ব্যবসার কোনো যোগসূত্র সম্পর্কে তাদের জানা ছিল না।
কিন্তু প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ বলছে অন্য কথা। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ভিন্ন নামে, ভিন্ন সময়ে নিবন্ধিত হলেও তাদের সফটওয়্যার এবং প্রযুক্তিগত কাঠামোর মিল রয়েছে।
সোবহানি ও মোখতারির বিরুদ্ধে এর আগেও মামলা ছিল। ইরানি আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকেই তারা একাধিক অবৈধ জুয়া সাইট পরিচালনার অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়ার মুখে পড়েছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার মধ্যে ছিল এবিটি৯০ ও হাজরাত নামের সাইটও।
২০২৩ সালে দুজনকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই মামলায় শেলবিটের প্রতিষ্ঠাতা সিয়াভাশ কায়ভানপুরও জড়িত ছিলেন এবং তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা শেলবিট ও জুয়া নেটওয়ার্কের মধ্যে সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিভিত্তিক সূত্রগুলোর একটি।
ইরান তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশও চেয়েছিল। পরে দুজন স্পেনে আটক হয়েছিলেন। মোখতারি জানান, তিনি এক মাসের বেশি সময় আটক ছিলেন।
কিন্তু এখানেও কাহিনিটি অস্বাভাবিক। যে ব্যক্তিদের ইরানি কর্তৃপক্ষ অবৈধ জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করতে চেয়েছিল, তাদের প্রচার করা সাইটগুলোই পরবর্তী সময়ে আরও বড় নেটওয়ার্ক হিসেবে সক্রিয় থেকে যায়।
সাবেক ইরানি কর্মকর্তাদের একজনের বক্তব্য, নিষেধাজ্ঞা কিংবা অভিযান সবসময় জুয়ার বিরুদ্ধে নীতিগত লড়াই নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসাকে সরিয়ে দেওয়ার একটি পদ্ধতি।
২০২৪ সালের মার্চে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় ৫৪টি অবৈধ জুয়া সাইট পরিচালনার অভিযোগে ‘নাইট্রো বেট’ নামে লন্ডনভিত্তিক একটি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। তখন সেটিকে ইরানের সবচেয়ে বড় জুয়া নেটওয়ার্ক বলা হয়েছিল। অথচ রয়টার্সের অনুসন্ধানে পাওয়া নেটওয়ার্কটি তার চেয়ে বহু গুণ বড়।
এই পুরো ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুবাইভিত্তিক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ শেলবিট। একনজরে প্রতিষ্ঠানটিকে দেখে বড় কোনো আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কথা মনে হওয়ার সুযোগ নেই। দুবাইয়ের দেইরা এলাকায় একটি কম বাজেটের হোটেলের ওপরের তলায় এর নিবন্ধিত ঠিকানা। কিন্তু সেখানে গিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদক যে চিত্র দেখেছেন, তা বিস্ময়কর।
অফিসের দরজায় শেলবিটের নাম নেই। সেখানে ছিল ‘ভেলোরিক্স ওয়াচেস ট্রেডিং এলএলসি’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড। এই কোম্পানিটিও শেলবিটের প্রতিষ্ঠাতা কায়ভানপুরের সঙ্গে যুক্ত বলে দুবাইয়ের করপোরেট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
ভেতরে মাত্র তিনটি কক্ষ। প্রদর্শনীতে রাখা ছিল ১৩টি পুরোনো ঘড়ি, একটি নগদ টাকা গোনার যন্ত্র এবং কয়েকটি ডেস্ক। সেখানে থাকা কর্মীদের একজন কায়ভানপুরের নামই শুনেছেন বলে মনে হয়নি। তারা শেলবিট নামের কোম্পানি সম্পর্কেও অবগত ছিলেন না।
কিন্তু ব্লকচেইনে ছবিটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ক্রিপ্টো বিশ্লেষকদের মতে, মে ২০২৪ থেকে শেলবিট অন্তত ৪০০ কোটি ডলারের লেনদেন করেছে। শুধু একটি জুয়া সাইটের সঙ্গেই এর লেনদেনের পরিমাণ ছিল অন্তত ১৩ কোটি ডলার।
আর ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে শেলবিটের লেনদেনের পরিমাণ ছিল অন্তত সাড়ে ১২ কোটি ডলার। এর বড় অংশ সরাসরি এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়ালেট থেকে।
ক্রিপ্টো বিশ্লেষকদের মতে, আরও অন্তত দুই কোটি ডলার এসেছে এমন একটি সন্দেহভাজন ইরানি বিটকয়েন মাইনিং অপারেশন থেকে, যেখানে মধ্যবর্তী ওয়ালেট ব্যবহার করে অর্থের উৎস আড়াল করা হয়েছে।
অর্থাৎ, জুয়া থেকে পাওয়া টাকা, ইরানের রাষ্ট্রীয় আর্থিক ব্যবস্থার টাকা, ক্রিপ্টো মাইনিং থেকে আসা সম্পদ— সবকিছুই কোনো না কোনো পর্যায়ে একই নেটওয়ার্কে এসে মিলেছে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও বৈদেশিক মুদ্রার বাজার থেকে বিচ্ছিন্ন। সেই শূন্যতা পূরণে ক্রিপ্টোকারেন্সি দেশটির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইরান ২০১৯ সালে বিটকয়েন মাইনিংকে বৈধতা দেয় এবং লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসে। এরপর থেকে দেশটির জন্য ক্রিপ্টো মাইনিং বৈশ্বিক আর্থিক নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে।
রয়টার্সের পর্যালোচনা করা তথ্য অনুযায়ী, ইরানে মাইন করা বিটকয়েন আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির ক্ষেত্রে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা রয়েছে। ২০২৪ সালে মার্কিন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও অ্যাঙ্গাস কিংও মার্কিন প্রশাসনের কাছে লেখা এক চিঠিতে ইরানের বিটকয়েন মাইনিং ও বৈদেশিক বাজারে তা বিক্রির বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন।
এখানে ক্রিপ্টোর সুবিধাটি স্পষ্ট— প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করেই অর্থ দেশের সীমানা পার হতে পারে।
আর শেলবিটের মতো একটি মধ্যবর্তী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেই অর্থ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জে পৌঁছানো সম্ভব হলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এই অনুসন্ধানের সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলোর ভূমিকা।
শেলবিটের ঠিকানা থেকে অন্তত ৬৭ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো বিন্যান্সে গেছে বলে ব্লকচেইন বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আনুমানিক ৫৪ কোটি ডলার গেছে তখন, যখন দুবাইয়ের ভার্চুয়াল অ্যাসেটস রেগুলেটরি অথরিটি (ভারা) শেলবিটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো— স্বাধীন গবেষক রিচ স্যান্ডার্স ২০২৫ সালের অক্টোবরে বিন্যান্সকে শেলবিটের ইরান সংযোগের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন বলে জানিয়েছেন। এরপরও শেলবিট থেকে বিন্যান্সে ক্রিপ্টো প্রবাহ অব্যাহত ছিল।
বিন্যান্স অবশ্য বলেছে, শেলবিটের নামে তার প্ল্যাটফর্মে কোনো অ্যাকাউন্ট ছিল না এবং শেলবিট নিজে নিষেধাজ্ঞার তালিকায়ও ছিল না। কোম্পানিটির বক্তব্য, তাদের প্ল্যাটফর্মে শেলবিট-সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের লেনদেন ঝুঁকি মূল্যায়নের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে তথ্য দেওয়া হয়েছিল।
তবে লেনদেনের পরিমাণ নিয়ে স্বাধীন বিশ্লেষকদের সঙ্গে বিন্যান্সের ব্যাখ্যার পার্থক্য রয়ে গেছে।
এর আগে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিন্যান্সকে ৪৩০ কোটি ডলার জরিমানা করেছিল অর্থপাচারবিরোধী নিয়ম ভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগে, যার মধ্যে ইরানি ক্রিপ্টো লেনদেনও ছিল।
দুবাইয়ের ভার্চুয়াল অ্যাসেটস রেগুলেটরি অথরিটি (ভারা) এরই মধ্যে শেলবিটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তারা এবং দুবাইয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমি অ্যান্ড ট্যুরিজম শেলবিটের বিরুদ্ধে লাইসেন্সবিহীনভাবে ভার্চুয়াল অ্যাসেট কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে পদক্ষেপ নেয়।
পরে ২৪ জুলাই রয়টার্সের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন পাঠানোর পর ভারা একটি নোটিশ জারি করে। সেখানে বলা হয়, শেলবিট অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নবিরোধী আইনের লঙ্ঘন করেছে এবং লাইসেন্স ছাড়া ভার্চুয়াল অ্যাসেট-সংক্রান্ত কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
তবে এখানেই নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়। যদি শেলবিটের কার্যক্রম নিয়ে আগে থেকেই সন্দেহ থাকে, যদি তাকে লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রমের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে, তারপরও কীভাবে তার ওয়ালেট থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে শত শত মিলিয়ন ডলারের অর্থ যেতে পারে?
আরও গুরুত্বপূর্ণ— এই অর্থের কিছু অংশ কেন এমন প্রতিষ্ঠান থেকে আসছিল, যাদের সঙ্গে ইরানি রাষ্ট্রের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে?
এই প্রশ্নগুলোর পূর্ণ উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।
রয়টার্সের অনুসন্ধানে কথা বলা স্বাধীন ব্লকচেইন গবেষক রিচ স্যান্ডার্সের দাবি, শেলবিটের কার্যক্রমের মধ্যে আইআরজিসির উপস্থিতি এতটাই স্পষ্ট যে এটিকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অংশ ছাড়া অন্যভাবে দেখা কঠিন।
সাবেক মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মিয়াদ মালেকি ভিন্ন একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, আইআরজিসির ক্ষেত্রে আদর্শ বা রাজনৈতিক মতাদর্শ একদিকে, আর অর্থনৈতিক স্বার্থ অন্যদিকে। অবৈধ জুয়া ব্যবসার ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রের কৌশল হতে পারে— একটি কর্মকাণ্ডকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা, তারপর সেই নিষিদ্ধ বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
রয়টার্স অবশ্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাও দিয়েছে। তদন্তকারীরা জুয়া নেটওয়ার্ক ও শেলবিটের সঙ্গে আইআরজিসির সম্পর্কের বহু সূত্র পেলেও তারা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি যে পুরো নেটওয়ার্কটি আইআরজিসির সরাসরি নিয়ন্ত্রণে ছিল কি না। কিংবা ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ঠিক কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ করত, সেটিও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে ৪০০ কোটি ডলারের অর্থের শেষ গন্তব্যও পুরোপুরি শনাক্ত করা যায়নি।
এই সীমাবদ্ধতাই অনুসন্ধানটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ প্রমাণগুলো একটি রাষ্ট্রীয় ছায়া-অর্থনীতির দিকে ইঙ্গিত করলেও এর পুরো সাংগঠনিক কাঠামো এখনো অন্ধকারে।
এই নেটওয়ার্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মোখতারির ব্যক্তিগত গল্পও পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে অদ্ভুতভাবে মিলে যায়। মার্চের শেষ দিকে দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ ছিল, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো ইরানি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করেছেন। তিনি অভিযোগটি অস্বীকার করেন।
৩৫ দিন আটকে রাখার পর মোখতারিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে রয়টার্সের সূত্রগুলো জানিয়েছে। এর মধ্যে ছিল তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও প্রায় ৫০ লাখ ডলারের একটি বাড়ি।

এরপর মোখতারিকে হংকংয়ের ভিক্টোরিয়া হারবারমুখী একটি হোটেলের স্যুইটে দেখা যায়, যার এক রাতের ভাড়া প্রায় দুই হাজার ডলার। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, দুবাই কর্তৃপক্ষ তার কাছ থেকে প্রায় সবকিছু কেড়ে নিয়েছে।
এক পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানে বন্ধুদের কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পাঠানোর পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
আরও বিস্ময়কর ছিল তার পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য। মোখতারি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনি অন্য একটি পরিচয়ে বসবাস করছিলেন। তিনি এমন একটি ১০ বছরের গোল্ডেন ভিসার ছবিও প্রকাশ করেন, যেখানে তার নাম ছিল দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ ভানুয়াতুর নাগরিক ‘প্যাট্রিক ফিলিপ’।
হংকংয়ে কিছুদিন অবস্থানের পর মোখতারির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপস্থিতিতেও পরিবর্তন দেখা যায়। ইরানভিত্তিক কিছু গণমাধ্যমে তাকে এমন একজন মানুষ হিসেবে তুলে ধরা হয়, যিনি ধর্মীয় জীবনে ফিরে গেছেন, কোরআন পড়েন এবং নিয়মিত নামাজ পড়েন।

জুলাইয়ের শুরুতে তিনি ব্যাংকক থেকে ইরানগামী বিমানের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি পোস্ট করেন। নিজের অনুসারীদের উদ্দেশে তিনি লিখেছিলেন, আল্লাহ চাইলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তেহরানে থাকবেন এবং দেশের মানুষের জন্য উপকারী হওয়ার প্রার্থনা করেছিলেন।
এরপর থেকে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর কোনো পোস্ট পাওয়া যায়নি।
একজন বিলাসী জীবনযাপনকারী সোশ্যাল মিডিয়া তারকার হঠাৎ ‘দেশে ফেরা’— এই ঘটনাটিও এখন সেই বৃহত্তর নেটওয়ার্কের প্রেক্ষাপটে নতুন অর্থ পাচ্ছে।
এই অনুসন্ধানের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই। বছরের পর বছর ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর আর্থিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা যত শক্তিশালী হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটানোর ব্যবস্থাও তত বেশি জটিল হয়েছে।
প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দেশ কীভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অর্থ প্রবাহিত করবে— তার একটি উত্তর এখন ক্রিপ্টোকারেন্সি।
কিন্তু শুধু ক্রিপ্টো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন এমন মধ্যবর্তী প্রতিষ্ঠান, যেগুলো সরাসরি রাষ্ট্রীয় পরিচয় বহন করবে না। প্রয়োজন এমন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেগুলো বৈধ ও অবৈধ ব্যবসার সীমা ঘোলাটে করতে পারে। প্রয়োজন এমন ইনফ্লুয়েন্সার, যারা সরাসরি রাজনৈতিক বা সামরিক পরিচয় না দিয়েও লাখো মানুষের কাছে একটি ব্যবসাকে পৌঁছে দিতে পারে।
আর প্রয়োজন আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো ইকোসিস্টেমের এমন জায়গা, যেখানে বিপুল অর্থের প্রবাহ অন্যান্য বৈধ লেনদেনের ভিড়ে আড়াল হতে পারে।
শেলবিটের ঘটনাটি সেই পুরো কাঠামোরই একটি উদাহরণ বলে মনে হচ্ছে।
ইরানের আইআরজিসি শুধু একটি সামরিক বা নিরাপত্তা বাহিনী নয়, দেশটির অর্থনীতিতেও এর দীর্ঘদিনের প্রভাব রয়েছে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বহু বিলিয়ন ডলারের ব্যবসার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে।
রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অবৈধ জুয়া খাতও সেই অর্থনৈতিক প্রভাবের আওতায় চলে এসেছে বলে সাবেক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করছেন।
এখানে একটি অদ্ভুত দ্বৈততা কাজ করে। একদিকে সরকার বলে— জুয়া ইসলামী মূল্যবোধের পরিপন্থি, তাই তা অপরাধ। অন্যদিকে একই নিষিদ্ধ বাজারের ওপর কোনো রাষ্ট্রীয় শক্তি যদি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে, তাহলে সেই বাজার থেকে বিপুল অর্থ উপার্জন এবং অর্থ বিদেশে সরানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়।
ফলে নিষেধাজ্ঞা, ধর্মীয় আইন, অপরাধ দমন এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ— চারটি আলাদা বিষয় আর থাকে না। এগুলো একই ব্যবস্থার ভিন্ন স্তরে পরিণত হয়।
সাবেক ইরানি কর্মকর্তা ঘেইবির ব্যাখ্যায়, ইরানে অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান সবসময় জনস্বার্থ রক্ষার জন্য হয় না, অনেক ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য থাকে প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরিয়ে দেওয়া। এই ব্যাখ্যা সঠিক হলে, ‘জুয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অভিযান’ এবং ‘জুয়ার ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ’— দুটি আপাতবিরোধী ঘটনাই একই অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে।
শেলবিটের মাধ্যমে অন্তত ৪০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো প্রবাহের তথ্য এই অনুসন্ধানকে ইরানের একটি জুয়া কেলেঙ্কারির চেয়ে অনেক বড় করে তুলেছে। কারণ এই অর্থের সঙ্গে জুয়া নেটওয়ার্ক যেমন যুক্ত, তেমনি রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রয়েছে ইরানি ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের সন্দেহভাজন উৎস। রয়েছে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি এক্সচেঞ্জ। রয়েছে আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত ওয়ালেট। আবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলোর একটি।
এই অর্থের পুরোটা কোথায় গেছে, সেটি এখনো জানা যায়নি। কতটা রাষ্ট্রীয় অর্থ, কতটা জুয়ার আয়, কতটা ক্রিপ্টো মাইনিং থেকে এসেছে— সেটিও পুরোপুরি আলাদা করা সম্ভব হয়নি। আর এখানেই রয়েছে সবচেয়ে বড় রহস্য।
যদি ৪০০ কোটি ডলারের অর্থের একটি অংশও ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তবে এটি কেবল একটি অবৈধ জুয়া নেটওয়ার্ক নয়, বরং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তৈরি একটি বিকল্প আর্থিক অবকাঠামোর প্রমাণ হতে পারে।
রয়টার্স ৩০ জনের বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলে এই নেটওয়ার্কের তথ্য সংগ্রহ করেছে। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, ইরানি রাষ্ট্রের ভেতরের বিষয়ে জানেন এমন ব্যক্তিরা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান তদন্ত সম্পর্কে সরাসরি অবগত মানুষ। পাশাপাশি জুয়ার সাইটগুলোর প্রযুক্তিগত সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সহায়তায়।
তবু অনুসন্ধানকারীরা একটি প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি— পুরো নেটওয়ার্কের প্রকৃত নিয়ন্ত্রক কে?
সোবহানি ও মোখতারি বলেছেন, তারা আইআরজিসি বা কোনো ইরানি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করেননি। শেলবিটের প্রতিষ্ঠাতা কায়ভানপুর কোনো মন্তব্য করেননি। ইরানি সরকারও রয়টার্সের প্রশ্নের উত্তর দেয়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, দেশটি অবৈধ অর্থপ্রবাহ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এবং বিভিন্ন খাতে কঠোর তদারকি চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ও বলেছে, তারা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল সম্পদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
অর্থাৎ তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। বরং তথ্যগুলো এমন একটি কাঠামোর দরজা খুলে দিয়েছে, যার ভেতরে আরও অনেক স্তর থাকতে পারে।
ইরানের অনলাইন জুয়া নিয়ে এই কাহিনির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো— এখানে জুয়াই শেষ কথা নয়। জুয়া ছিল দৃশ্যমান অংশ। তার আড়ালে ছিল ইনফ্লুয়েন্সারদের বিশাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেটওয়ার্ক। তার পেছনে ছিল হাজার হাজার ওয়েবসাইট। তার সঙ্গে যুক্ত ছিল দেশীয় পেমেন্ট ব্যবস্থা।
সেই অর্থ চলে যাচ্ছিল ক্রিপ্টোকারেন্সিতে। ক্রিপ্টো পৌঁছাচ্ছিল দুবাইয়ের মতো বৈশ্বিক আর্থিক কেন্দ্রের একটি অজ্ঞাতপ্রায় এক্সচেঞ্জে, সেখান থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো বাজারে এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বের বড় বড় প্ল্যাটফর্মে।
এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য— প্রতিটি স্তর আলাদা করে দেখলে সেটিকে ছোট একটি ঘটনা মনে হতে পারে। কিন্তু সবগুলো স্তর একসঙ্গে রাখলে চিত্রটি বদলে যায়।
তখন দেখা যায়, ইরানের মতো নিষেধাজ্ঞাগ্রস্ত একটি দেশ আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে দাঁড়িয়ে থেকেও কীভাবে নতুন আর্থিক পথ তৈরি করেছে। কীভাবে নিষিদ্ধ জুয়া ব্যবসা একটি প্রচারণা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে পারে। কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তারকারা বিলাসী জীবনযাপনের ছবি দিয়ে সেই অর্থনীতির মুখ হয়ে উঠতে পারেন। কীভাবে রাষ্ট্রীয় পেমেন্ট অবকাঠামো থেকে অর্থ বের হয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরিত হতে পারে। এবং কীভাবে সেই ক্রিপ্টো আবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে পারে।
এ কারণেই ৪০০ কোটি ডলারের শেলবিট নেটওয়ার্ক শুধু ইরানের অবৈধ জুয়া ব্যবসা নিয়ে একটি কাহিনি নয়, এটি নিষেধাজ্ঞার যুগে রাষ্ট্র, অপরাধ, প্রযুক্তি, ক্রিপ্টো এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার মধ্যকার নতুন সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
ইরানকে চাপে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো বছরের পর বছর নিষেধাজ্ঞা ব্যবহার করেছে। কিন্তু শেলবিটের মতো নেটওয়ার্কের অস্তিত্ব দেখায়, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যতটা সহজ, নিষেধাজ্ঞার বাইরে অর্থের প্রতিটি পথ বন্ধ করা ততটা সহজ নয়।
আর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয় তখনই, যখন একই সঙ্গে একটি নিষিদ্ধ বাজার, একটি রাষ্ট্রীয় আর্থিক অবকাঠামো, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ কাজ করতে শুরু করে।
রয়টার্সের অনুসন্ধান এখনো এই নেটওয়ার্কের পুরো নিয়ন্ত্রণ কাঠামো উন্মোচন করতে পারেনি। কিন্তু যে চিত্রটি এরই মধ্যে সামনে এসেছে, তাতে অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট— ইরানের নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর অর্থনীতি আর কেবল গোপন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সীমান্তপথে নগদ অর্থ বা ছদ্মবেশী কোম্পানির ওপর নির্ভর করছে না। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল অর্থের এক নতুন ভূগোল।
আর সেই ভূগোলে একটি ছোট দুবাই অফিস থেকে শুরু হওয়া ৪০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো প্রবাহ ইরানের ছায়া-অর্থনীতির অনেক গভীর গল্প বলে।

ইরানে জুয়া নিষিদ্ধ। দেশটির আইনে অনলাইন বেটিংও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অথচ নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত দেশটিতে দুই হাজারের বেশি ওয়েবসাইটের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে বিশাল এক অনলাইন জুয়া নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে শুধু দেশের ভেতরে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিপুল অর্থ স্থানান্তর হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দীর্ঘ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই নেটওয়ার্কের লেনদেনের সঙ্গে এমন এক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ জড়িয়ে আছে, যেটি অন্তত ৪ বিলিয়ন ডলার বা ৪০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো লেনদেন করেছে এবং যার সঙ্গে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ও নিষেধাজ্ঞার অধিক একাধিক প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুবাইয়ের একটি অখ্যাত ও প্রায় অচেনা অফিস থেকে পরিচালিত এ এক্সচেঞ্জটির নাম শেলবিট। বাইরে থেকে দেখলে সেটি যেন আর দশটি ছোট ব্যবসার মতোই— একটি সস্তা হোটেলের ওপরের তলায় অফিস, দরজায় অন্য একটি কোম্পানির নাম, ভেতরে পুরোনো ঘড়ি আর নগদ টাকা গোনার যন্ত্র। কিন্তু ব্লকচেইন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানটি গত মে ২০২৪ থেকে অন্তত ৪০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো লেনদেন প্রক্রিয়াজাত করেছে।
এর মধ্যে কয়েক শ মিলিয়ন ডলার গেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বিন্যান্সে। শেলবিট থেকে বিন্যান্সের বিভিন্ন ঠিকানায় গেছে অন্তত ৬৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের ক্রিপ্টো। একই সময়ে শেলবিটের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন হয়েছে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এবং এমন কিছু ওয়ালেটের, যেগুলো ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করেছে।
এই অর্থের একটি বড় উৎস আবার সেই জুয়া নেটওয়ার্ক, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো অনুসারী থাকা দুই ইরানি ইনফ্লুয়েন্সার—সাশা সোবহানি ও পুয়ান মোখতারির প্রচারে সামনে এসেছে।

রয়টার্সের অনুসন্ধান অনুযায়ী, এটি শুধু একটি অনলাইন জুয়ার ব্যবসা নয়, বরং এমন এক সমান্তরাল আর্থিক অবকাঠামো, যেখানে নিষিদ্ধ ব্যবসা, ক্রিপ্টোকারেন্সি, রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কৌশল একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে।
ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানে জুয়া দীর্ঘদিন ধরেই নিষিদ্ধ। দেশটির দণ্ডবিধির ৭০৫ নম্বর ধারায় জুয়ার জন্য কারাদণ্ড ও বেত্রাঘাতের বিধান রয়েছে। ২০২৩ সালে আইন সংশোধন করে অনলাইন বেটিংকেও স্পষ্টভাবে এর আওতায় আনা হয়। তবু রয়টার্স যে নেটওয়ার্কটি শনাক্ত করেছে, তার ওয়েবসাইটগুলো ইরানের ভেতরে সক্রিয় ছিল। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো— তাদের ইরানের অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার ছিল।
এই জায়গাটিই পুরো কাহিনির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ ইরানে ব্যাংক কার্ড, ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ও অর্থ স্থানান্তরের অবকাঠামোর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শক্ত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে একটি অবৈধ জুয়া নেটওয়ার্ক কীভাবে দেশটির অভ্যন্তরীণ পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে— সে প্রশ্নের উত্তরই শেষ পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে আইআরজিসির অর্থনৈতিক প্রভাব ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে এর সম্পর্কের জায়গায়।
সাবেক ইরানি সরকারি কর্মকর্তা রেজা ঘেইবি, একসময় আইআরজিসিকে পরামর্শ দেওয়া কৌশলবিদ হামিদ নিকু এবং আইআরজিসির একটি ইউনিটে কাজ করা সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হোসেইন তোরকামান— তিনজনই রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানে অনলাইন জুয়া দ্রুত বড় হয়ে উঠতে শুরু করার পর আইআরজিসি এই খাতের নিয়ন্ত্রণ নিতে এগিয়ে আসে।
নিকুর ভাষ্য, ইরানের কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুব বড় হয়ে উঠলে এবং স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে শুরু করলে আইআরজিসি সেটির ওপর নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। জুয়ার ওয়েবসাইটগুলোও সেই ধরনের একটি ব্যবস্থায় পরিণত হয়, যার মাধ্যমে দেশের ভেতরের আর্থিক ব্যবস্থা এবং দেশের বাইরের অর্থের জগতকে সংযুক্ত করা সম্ভব হয়।
অর্থাৎ, যা কাগজে-কলমে নিষিদ্ধ, সেটিই অন্য এক বাস্তবতায় হয়ে ওঠে অর্থ সরানোর একটি মাধ্যম।
রয়টার্সের সঙ্গে কাজ করা সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ইনফ্লক্স ও ক্রিপ্টো বিশ্লেষকদের মাসব্যাপী অনুসন্ধানে দুই হাজারের বেশি জুয়ার ওয়েবসাইটের একটি নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা হয়েছে। সেখানে স্লট, ব্ল্যাকজ্যাক, রুলেটসহ নানা ধরনের জুয়ার ব্যবস্থা ছিল।
বিভিন্ন ওয়েবসাইটকে আলাদা আলাদা ব্র্যান্ডের মতো দেখানো হলেও তাদের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, সফটওয়্যার ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে মিল পাওয়া গেছে। ফলে অনেকগুলো স্বতন্ত্র ব্যবসা আসলে একই বৃহৎ নেটওয়ার্কের অংশ— এমন ধারণা জোরালো হয়েছে।
ইনফ্লক্সের সাবেক গবেষক ও এখন ট্রিএম ল্যাবসের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জন ওজিক এই নেটওয়ার্ককে ইরানে আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় অবৈধ জুয়া নেটওয়ার্ক এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অবৈধ জুয়া নেটওয়ার্ক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রয়টার্স অন্তত ৬০ জন ইরানি ইনফ্লুয়েন্সারকে শনাক্ত করেছে, যারা এসব জুয়া ওয়েবসাইট প্রচার করতেন। তাদের প্রায় অর্ধেকের অনুসারী ১০ লাখের বেশি। তিনজনের অনুসারী এক কোটিরও বেশি।
এই বিশাল অনলাইন উপস্থিতি জুয়াকে শুধু গোপন কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে রাখেনি, বরং একে একটি জনপ্রিয় ডিজিটাল সংস্কৃতির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। বিশেষ করে যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব ও নিষেধাজ্ঞার কারণে চাপের মধ্যে থাকা ইরানি তরুণদের কাছে বিদেশে বিলাসী জীবনযাপনের ছবি দেখিয়ে এই সাইটগুলোকে আকর্ষণীয় করে তোলা হতো।
এই নেটওয়ার্কের সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর একজন সাশা সোবহানি। তার আসল নাম মোহাম্মদ জাভাদ। তিনি একজন সংগীতশিল্পী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী প্রায় ৩৭ লাখ।
তার অনলাইন উপস্থিতিতে সংগীত, দামি গাড়ি, বিলাসী জীবনযাপন এবং জুয়া— সবকিছুরই মিশেল দেখা যায়। তার প্রোফাইলে এমন জুয়ার ওয়েবসাইটের লিংকও ছিল, যেগুলো অনুসারীদের সরাসরি সাইটে ঢুকতে উৎসাহিত করত।

সোবহানি মাদ্রিদে একটি বিলাসবহুল ভিলায় থাকতেন। বাড়িটি এর আগে রিয়াল মাদ্রিদের এক খেলোয়াড়ের মালিকানাধীন ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে বিলাসবহুল হোটেল কক্ষে টাকা উড়াতে, দামি গাড়ির পাশে দাঁড়াতে এবং আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন প্রদর্শন করতে দেখা গেছে।
২০২৫ সালে তার স্প্যানিশ বান্ধবীর পোস্টে দেখা যায়, সোবহানি তাকে জন্মদিনে একটি উজ্জ্বল গোলাপি রঙের রোলস-রয়েস উপহার দিয়েছেন।
এসব দৃশ্য নিছক ব্যক্তিগত জীবনযাপন ছিল, নাকি জুয়া ব্যবসার প্রচারণার কৌশল— সেই প্রশ্নও অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আর তার পারিবারিক পরিচয়ও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সোবহানি সাবেক এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কূটনীতিক ও সরকারি মন্ত্রীর ছেলে। তার বাবা প্রকাশ্যে ছেলের কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন এবং সেগুলোকে ইসলামবিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছেন।
অন্য মুখটি পুয়ান মোখতারি— ইরানি গায়ক ও ইনফ্লুয়েন্সার। একসময় ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী ছিল আরও বেশি। পরে তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়।
মোখতারির পোস্টগুলোতে একদিকে ছিল সুপারকার, দামি ঘড়ি ও বিলাসী হোটেল, অন্যদিকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি সমর্থনসূচক বার্তাও।
তার মালিকানাধীন বা পরিচালিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে জুয়ার ব্যবসার যোগসূত্র রয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। তিনি অবশ্য জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি আইআরজিসির সদস্য নন এবং কোনো সামরিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন। একই সঙ্গে তিনি তার বিরুদ্ধে অর্থপাচার, নিষেধাজ্ঞা এড়ানো বা সন্ত্রাসে অর্থায়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মোখতারি ও সোবহানি দুজনেই দাবি করেছেন, তারা যে জুয়া সাইটগুলোর প্রচার করেছেন, সেগুলো পরস্পর সম্পর্কিত নয়। তারা আরও বলেছেন, ইরানি রাষ্ট্রীয় সংস্থার সঙ্গে জুয়া ব্যবসার কোনো যোগসূত্র সম্পর্কে তাদের জানা ছিল না।
কিন্তু প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ বলছে অন্য কথা। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ভিন্ন নামে, ভিন্ন সময়ে নিবন্ধিত হলেও তাদের সফটওয়্যার এবং প্রযুক্তিগত কাঠামোর মিল রয়েছে।
সোবহানি ও মোখতারির বিরুদ্ধে এর আগেও মামলা ছিল। ইরানি আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকেই তারা একাধিক অবৈধ জুয়া সাইট পরিচালনার অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়ার মুখে পড়েছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার মধ্যে ছিল এবিটি৯০ ও হাজরাত নামের সাইটও।
২০২৩ সালে দুজনকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই মামলায় শেলবিটের প্রতিষ্ঠাতা সিয়াভাশ কায়ভানপুরও জড়িত ছিলেন এবং তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা শেলবিট ও জুয়া নেটওয়ার্কের মধ্যে সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিভিত্তিক সূত্রগুলোর একটি।
ইরান তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশও চেয়েছিল। পরে দুজন স্পেনে আটক হয়েছিলেন। মোখতারি জানান, তিনি এক মাসের বেশি সময় আটক ছিলেন।
কিন্তু এখানেও কাহিনিটি অস্বাভাবিক। যে ব্যক্তিদের ইরানি কর্তৃপক্ষ অবৈধ জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করতে চেয়েছিল, তাদের প্রচার করা সাইটগুলোই পরবর্তী সময়ে আরও বড় নেটওয়ার্ক হিসেবে সক্রিয় থেকে যায়।
সাবেক ইরানি কর্মকর্তাদের একজনের বক্তব্য, নিষেধাজ্ঞা কিংবা অভিযান সবসময় জুয়ার বিরুদ্ধে নীতিগত লড়াই নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসাকে সরিয়ে দেওয়ার একটি পদ্ধতি।
২০২৪ সালের মার্চে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় ৫৪টি অবৈধ জুয়া সাইট পরিচালনার অভিযোগে ‘নাইট্রো বেট’ নামে লন্ডনভিত্তিক একটি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। তখন সেটিকে ইরানের সবচেয়ে বড় জুয়া নেটওয়ার্ক বলা হয়েছিল। অথচ রয়টার্সের অনুসন্ধানে পাওয়া নেটওয়ার্কটি তার চেয়ে বহু গুণ বড়।
এই পুরো ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুবাইভিত্তিক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ শেলবিট। একনজরে প্রতিষ্ঠানটিকে দেখে বড় কোনো আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কথা মনে হওয়ার সুযোগ নেই। দুবাইয়ের দেইরা এলাকায় একটি কম বাজেটের হোটেলের ওপরের তলায় এর নিবন্ধিত ঠিকানা। কিন্তু সেখানে গিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদক যে চিত্র দেখেছেন, তা বিস্ময়কর।
অফিসের দরজায় শেলবিটের নাম নেই। সেখানে ছিল ‘ভেলোরিক্স ওয়াচেস ট্রেডিং এলএলসি’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড। এই কোম্পানিটিও শেলবিটের প্রতিষ্ঠাতা কায়ভানপুরের সঙ্গে যুক্ত বলে দুবাইয়ের করপোরেট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
ভেতরে মাত্র তিনটি কক্ষ। প্রদর্শনীতে রাখা ছিল ১৩টি পুরোনো ঘড়ি, একটি নগদ টাকা গোনার যন্ত্র এবং কয়েকটি ডেস্ক। সেখানে থাকা কর্মীদের একজন কায়ভানপুরের নামই শুনেছেন বলে মনে হয়নি। তারা শেলবিট নামের কোম্পানি সম্পর্কেও অবগত ছিলেন না।
কিন্তু ব্লকচেইনে ছবিটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ক্রিপ্টো বিশ্লেষকদের মতে, মে ২০২৪ থেকে শেলবিট অন্তত ৪০০ কোটি ডলারের লেনদেন করেছে। শুধু একটি জুয়া সাইটের সঙ্গেই এর লেনদেনের পরিমাণ ছিল অন্তত ১৩ কোটি ডলার।
আর ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে শেলবিটের লেনদেনের পরিমাণ ছিল অন্তত সাড়ে ১২ কোটি ডলার। এর বড় অংশ সরাসরি এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়ালেট থেকে।
ক্রিপ্টো বিশ্লেষকদের মতে, আরও অন্তত দুই কোটি ডলার এসেছে এমন একটি সন্দেহভাজন ইরানি বিটকয়েন মাইনিং অপারেশন থেকে, যেখানে মধ্যবর্তী ওয়ালেট ব্যবহার করে অর্থের উৎস আড়াল করা হয়েছে।
অর্থাৎ, জুয়া থেকে পাওয়া টাকা, ইরানের রাষ্ট্রীয় আর্থিক ব্যবস্থার টাকা, ক্রিপ্টো মাইনিং থেকে আসা সম্পদ— সবকিছুই কোনো না কোনো পর্যায়ে একই নেটওয়ার্কে এসে মিলেছে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও বৈদেশিক মুদ্রার বাজার থেকে বিচ্ছিন্ন। সেই শূন্যতা পূরণে ক্রিপ্টোকারেন্সি দেশটির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইরান ২০১৯ সালে বিটকয়েন মাইনিংকে বৈধতা দেয় এবং লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসে। এরপর থেকে দেশটির জন্য ক্রিপ্টো মাইনিং বৈশ্বিক আর্থিক নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে।
রয়টার্সের পর্যালোচনা করা তথ্য অনুযায়ী, ইরানে মাইন করা বিটকয়েন আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির ক্ষেত্রে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা রয়েছে। ২০২৪ সালে মার্কিন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও অ্যাঙ্গাস কিংও মার্কিন প্রশাসনের কাছে লেখা এক চিঠিতে ইরানের বিটকয়েন মাইনিং ও বৈদেশিক বাজারে তা বিক্রির বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন।
এখানে ক্রিপ্টোর সুবিধাটি স্পষ্ট— প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করেই অর্থ দেশের সীমানা পার হতে পারে।
আর শেলবিটের মতো একটি মধ্যবর্তী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেই অর্থ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জে পৌঁছানো সম্ভব হলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এই অনুসন্ধানের সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলোর ভূমিকা।
শেলবিটের ঠিকানা থেকে অন্তত ৬৭ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো বিন্যান্সে গেছে বলে ব্লকচেইন বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আনুমানিক ৫৪ কোটি ডলার গেছে তখন, যখন দুবাইয়ের ভার্চুয়াল অ্যাসেটস রেগুলেটরি অথরিটি (ভারা) শেলবিটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো— স্বাধীন গবেষক রিচ স্যান্ডার্স ২০২৫ সালের অক্টোবরে বিন্যান্সকে শেলবিটের ইরান সংযোগের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন বলে জানিয়েছেন। এরপরও শেলবিট থেকে বিন্যান্সে ক্রিপ্টো প্রবাহ অব্যাহত ছিল।
বিন্যান্স অবশ্য বলেছে, শেলবিটের নামে তার প্ল্যাটফর্মে কোনো অ্যাকাউন্ট ছিল না এবং শেলবিট নিজে নিষেধাজ্ঞার তালিকায়ও ছিল না। কোম্পানিটির বক্তব্য, তাদের প্ল্যাটফর্মে শেলবিট-সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের লেনদেন ঝুঁকি মূল্যায়নের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে তথ্য দেওয়া হয়েছিল।
তবে লেনদেনের পরিমাণ নিয়ে স্বাধীন বিশ্লেষকদের সঙ্গে বিন্যান্সের ব্যাখ্যার পার্থক্য রয়ে গেছে।
এর আগে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিন্যান্সকে ৪৩০ কোটি ডলার জরিমানা করেছিল অর্থপাচারবিরোধী নিয়ম ভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগে, যার মধ্যে ইরানি ক্রিপ্টো লেনদেনও ছিল।
দুবাইয়ের ভার্চুয়াল অ্যাসেটস রেগুলেটরি অথরিটি (ভারা) এরই মধ্যে শেলবিটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তারা এবং দুবাইয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমি অ্যান্ড ট্যুরিজম শেলবিটের বিরুদ্ধে লাইসেন্সবিহীনভাবে ভার্চুয়াল অ্যাসেট কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে পদক্ষেপ নেয়।
পরে ২৪ জুলাই রয়টার্সের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন পাঠানোর পর ভারা একটি নোটিশ জারি করে। সেখানে বলা হয়, শেলবিট অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নবিরোধী আইনের লঙ্ঘন করেছে এবং লাইসেন্স ছাড়া ভার্চুয়াল অ্যাসেট-সংক্রান্ত কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
তবে এখানেই নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়। যদি শেলবিটের কার্যক্রম নিয়ে আগে থেকেই সন্দেহ থাকে, যদি তাকে লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রমের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে, তারপরও কীভাবে তার ওয়ালেট থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে শত শত মিলিয়ন ডলারের অর্থ যেতে পারে?
আরও গুরুত্বপূর্ণ— এই অর্থের কিছু অংশ কেন এমন প্রতিষ্ঠান থেকে আসছিল, যাদের সঙ্গে ইরানি রাষ্ট্রের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে?
এই প্রশ্নগুলোর পূর্ণ উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।
রয়টার্সের অনুসন্ধানে কথা বলা স্বাধীন ব্লকচেইন গবেষক রিচ স্যান্ডার্সের দাবি, শেলবিটের কার্যক্রমের মধ্যে আইআরজিসির উপস্থিতি এতটাই স্পষ্ট যে এটিকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অংশ ছাড়া অন্যভাবে দেখা কঠিন।
সাবেক মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মিয়াদ মালেকি ভিন্ন একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, আইআরজিসির ক্ষেত্রে আদর্শ বা রাজনৈতিক মতাদর্শ একদিকে, আর অর্থনৈতিক স্বার্থ অন্যদিকে। অবৈধ জুয়া ব্যবসার ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রের কৌশল হতে পারে— একটি কর্মকাণ্ডকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা, তারপর সেই নিষিদ্ধ বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
রয়টার্স অবশ্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাও দিয়েছে। তদন্তকারীরা জুয়া নেটওয়ার্ক ও শেলবিটের সঙ্গে আইআরজিসির সম্পর্কের বহু সূত্র পেলেও তারা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি যে পুরো নেটওয়ার্কটি আইআরজিসির সরাসরি নিয়ন্ত্রণে ছিল কি না। কিংবা ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ঠিক কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ করত, সেটিও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে ৪০০ কোটি ডলারের অর্থের শেষ গন্তব্যও পুরোপুরি শনাক্ত করা যায়নি।
এই সীমাবদ্ধতাই অনুসন্ধানটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ প্রমাণগুলো একটি রাষ্ট্রীয় ছায়া-অর্থনীতির দিকে ইঙ্গিত করলেও এর পুরো সাংগঠনিক কাঠামো এখনো অন্ধকারে।
এই নেটওয়ার্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মোখতারির ব্যক্তিগত গল্পও পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে অদ্ভুতভাবে মিলে যায়। মার্চের শেষ দিকে দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ ছিল, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো ইরানি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করেছেন। তিনি অভিযোগটি অস্বীকার করেন।
৩৫ দিন আটকে রাখার পর মোখতারিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে রয়টার্সের সূত্রগুলো জানিয়েছে। এর মধ্যে ছিল তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও প্রায় ৫০ লাখ ডলারের একটি বাড়ি।

এরপর মোখতারিকে হংকংয়ের ভিক্টোরিয়া হারবারমুখী একটি হোটেলের স্যুইটে দেখা যায়, যার এক রাতের ভাড়া প্রায় দুই হাজার ডলার। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, দুবাই কর্তৃপক্ষ তার কাছ থেকে প্রায় সবকিছু কেড়ে নিয়েছে।
এক পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানে বন্ধুদের কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পাঠানোর পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
আরও বিস্ময়কর ছিল তার পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য। মোখতারি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনি অন্য একটি পরিচয়ে বসবাস করছিলেন। তিনি এমন একটি ১০ বছরের গোল্ডেন ভিসার ছবিও প্রকাশ করেন, যেখানে তার নাম ছিল দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ ভানুয়াতুর নাগরিক ‘প্যাট্রিক ফিলিপ’।
হংকংয়ে কিছুদিন অবস্থানের পর মোখতারির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপস্থিতিতেও পরিবর্তন দেখা যায়। ইরানভিত্তিক কিছু গণমাধ্যমে তাকে এমন একজন মানুষ হিসেবে তুলে ধরা হয়, যিনি ধর্মীয় জীবনে ফিরে গেছেন, কোরআন পড়েন এবং নিয়মিত নামাজ পড়েন।

জুলাইয়ের শুরুতে তিনি ব্যাংকক থেকে ইরানগামী বিমানের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি পোস্ট করেন। নিজের অনুসারীদের উদ্দেশে তিনি লিখেছিলেন, আল্লাহ চাইলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তেহরানে থাকবেন এবং দেশের মানুষের জন্য উপকারী হওয়ার প্রার্থনা করেছিলেন।
এরপর থেকে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর কোনো পোস্ট পাওয়া যায়নি।
একজন বিলাসী জীবনযাপনকারী সোশ্যাল মিডিয়া তারকার হঠাৎ ‘দেশে ফেরা’— এই ঘটনাটিও এখন সেই বৃহত্তর নেটওয়ার্কের প্রেক্ষাপটে নতুন অর্থ পাচ্ছে।
এই অনুসন্ধানের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই। বছরের পর বছর ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর আর্থিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা যত শক্তিশালী হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটানোর ব্যবস্থাও তত বেশি জটিল হয়েছে।
প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দেশ কীভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অর্থ প্রবাহিত করবে— তার একটি উত্তর এখন ক্রিপ্টোকারেন্সি।
কিন্তু শুধু ক্রিপ্টো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন এমন মধ্যবর্তী প্রতিষ্ঠান, যেগুলো সরাসরি রাষ্ট্রীয় পরিচয় বহন করবে না। প্রয়োজন এমন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেগুলো বৈধ ও অবৈধ ব্যবসার সীমা ঘোলাটে করতে পারে। প্রয়োজন এমন ইনফ্লুয়েন্সার, যারা সরাসরি রাজনৈতিক বা সামরিক পরিচয় না দিয়েও লাখো মানুষের কাছে একটি ব্যবসাকে পৌঁছে দিতে পারে।
আর প্রয়োজন আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো ইকোসিস্টেমের এমন জায়গা, যেখানে বিপুল অর্থের প্রবাহ অন্যান্য বৈধ লেনদেনের ভিড়ে আড়াল হতে পারে।
শেলবিটের ঘটনাটি সেই পুরো কাঠামোরই একটি উদাহরণ বলে মনে হচ্ছে।
ইরানের আইআরজিসি শুধু একটি সামরিক বা নিরাপত্তা বাহিনী নয়, দেশটির অর্থনীতিতেও এর দীর্ঘদিনের প্রভাব রয়েছে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বহু বিলিয়ন ডলারের ব্যবসার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে।
রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অবৈধ জুয়া খাতও সেই অর্থনৈতিক প্রভাবের আওতায় চলে এসেছে বলে সাবেক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করছেন।
এখানে একটি অদ্ভুত দ্বৈততা কাজ করে। একদিকে সরকার বলে— জুয়া ইসলামী মূল্যবোধের পরিপন্থি, তাই তা অপরাধ। অন্যদিকে একই নিষিদ্ধ বাজারের ওপর কোনো রাষ্ট্রীয় শক্তি যদি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে, তাহলে সেই বাজার থেকে বিপুল অর্থ উপার্জন এবং অর্থ বিদেশে সরানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়।
ফলে নিষেধাজ্ঞা, ধর্মীয় আইন, অপরাধ দমন এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ— চারটি আলাদা বিষয় আর থাকে না। এগুলো একই ব্যবস্থার ভিন্ন স্তরে পরিণত হয়।
সাবেক ইরানি কর্মকর্তা ঘেইবির ব্যাখ্যায়, ইরানে অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান সবসময় জনস্বার্থ রক্ষার জন্য হয় না, অনেক ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য থাকে প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরিয়ে দেওয়া। এই ব্যাখ্যা সঠিক হলে, ‘জুয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অভিযান’ এবং ‘জুয়ার ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ’— দুটি আপাতবিরোধী ঘটনাই একই অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে।
শেলবিটের মাধ্যমে অন্তত ৪০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো প্রবাহের তথ্য এই অনুসন্ধানকে ইরানের একটি জুয়া কেলেঙ্কারির চেয়ে অনেক বড় করে তুলেছে। কারণ এই অর্থের সঙ্গে জুয়া নেটওয়ার্ক যেমন যুক্ত, তেমনি রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রয়েছে ইরানি ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের সন্দেহভাজন উৎস। রয়েছে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি এক্সচেঞ্জ। রয়েছে আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত ওয়ালেট। আবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলোর একটি।
এই অর্থের পুরোটা কোথায় গেছে, সেটি এখনো জানা যায়নি। কতটা রাষ্ট্রীয় অর্থ, কতটা জুয়ার আয়, কতটা ক্রিপ্টো মাইনিং থেকে এসেছে— সেটিও পুরোপুরি আলাদা করা সম্ভব হয়নি। আর এখানেই রয়েছে সবচেয়ে বড় রহস্য।
যদি ৪০০ কোটি ডলারের অর্থের একটি অংশও ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তবে এটি কেবল একটি অবৈধ জুয়া নেটওয়ার্ক নয়, বরং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তৈরি একটি বিকল্প আর্থিক অবকাঠামোর প্রমাণ হতে পারে।
রয়টার্স ৩০ জনের বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলে এই নেটওয়ার্কের তথ্য সংগ্রহ করেছে। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, ইরানি রাষ্ট্রের ভেতরের বিষয়ে জানেন এমন ব্যক্তিরা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান তদন্ত সম্পর্কে সরাসরি অবগত মানুষ। পাশাপাশি জুয়ার সাইটগুলোর প্রযুক্তিগত সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সহায়তায়।
তবু অনুসন্ধানকারীরা একটি প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি— পুরো নেটওয়ার্কের প্রকৃত নিয়ন্ত্রক কে?
সোবহানি ও মোখতারি বলেছেন, তারা আইআরজিসি বা কোনো ইরানি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করেননি। শেলবিটের প্রতিষ্ঠাতা কায়ভানপুর কোনো মন্তব্য করেননি। ইরানি সরকারও রয়টার্সের প্রশ্নের উত্তর দেয়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, দেশটি অবৈধ অর্থপ্রবাহ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এবং বিভিন্ন খাতে কঠোর তদারকি চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ও বলেছে, তারা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল সম্পদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
অর্থাৎ তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। বরং তথ্যগুলো এমন একটি কাঠামোর দরজা খুলে দিয়েছে, যার ভেতরে আরও অনেক স্তর থাকতে পারে।
ইরানের অনলাইন জুয়া নিয়ে এই কাহিনির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো— এখানে জুয়াই শেষ কথা নয়। জুয়া ছিল দৃশ্যমান অংশ। তার আড়ালে ছিল ইনফ্লুয়েন্সারদের বিশাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেটওয়ার্ক। তার পেছনে ছিল হাজার হাজার ওয়েবসাইট। তার সঙ্গে যুক্ত ছিল দেশীয় পেমেন্ট ব্যবস্থা।
সেই অর্থ চলে যাচ্ছিল ক্রিপ্টোকারেন্সিতে। ক্রিপ্টো পৌঁছাচ্ছিল দুবাইয়ের মতো বৈশ্বিক আর্থিক কেন্দ্রের একটি অজ্ঞাতপ্রায় এক্সচেঞ্জে, সেখান থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো বাজারে এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বের বড় বড় প্ল্যাটফর্মে।
এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য— প্রতিটি স্তর আলাদা করে দেখলে সেটিকে ছোট একটি ঘটনা মনে হতে পারে। কিন্তু সবগুলো স্তর একসঙ্গে রাখলে চিত্রটি বদলে যায়।
তখন দেখা যায়, ইরানের মতো নিষেধাজ্ঞাগ্রস্ত একটি দেশ আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে দাঁড়িয়ে থেকেও কীভাবে নতুন আর্থিক পথ তৈরি করেছে। কীভাবে নিষিদ্ধ জুয়া ব্যবসা একটি প্রচারণা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে পারে। কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তারকারা বিলাসী জীবনযাপনের ছবি দিয়ে সেই অর্থনীতির মুখ হয়ে উঠতে পারেন। কীভাবে রাষ্ট্রীয় পেমেন্ট অবকাঠামো থেকে অর্থ বের হয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরিত হতে পারে। এবং কীভাবে সেই ক্রিপ্টো আবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে পারে।
এ কারণেই ৪০০ কোটি ডলারের শেলবিট নেটওয়ার্ক শুধু ইরানের অবৈধ জুয়া ব্যবসা নিয়ে একটি কাহিনি নয়, এটি নিষেধাজ্ঞার যুগে রাষ্ট্র, অপরাধ, প্রযুক্তি, ক্রিপ্টো এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার মধ্যকার নতুন সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
ইরানকে চাপে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো বছরের পর বছর নিষেধাজ্ঞা ব্যবহার করেছে। কিন্তু শেলবিটের মতো নেটওয়ার্কের অস্তিত্ব দেখায়, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যতটা সহজ, নিষেধাজ্ঞার বাইরে অর্থের প্রতিটি পথ বন্ধ করা ততটা সহজ নয়।
আর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয় তখনই, যখন একই সঙ্গে একটি নিষিদ্ধ বাজার, একটি রাষ্ট্রীয় আর্থিক অবকাঠামো, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ কাজ করতে শুরু করে।
রয়টার্সের অনুসন্ধান এখনো এই নেটওয়ার্কের পুরো নিয়ন্ত্রণ কাঠামো উন্মোচন করতে পারেনি। কিন্তু যে চিত্রটি এরই মধ্যে সামনে এসেছে, তাতে অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট— ইরানের নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর অর্থনীতি আর কেবল গোপন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সীমান্তপথে নগদ অর্থ বা ছদ্মবেশী কোম্পানির ওপর নির্ভর করছে না। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল অর্থের এক নতুন ভূগোল।
আর সেই ভূগোলে একটি ছোট দুবাই অফিস থেকে শুরু হওয়া ৪০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো প্রবাহ ইরানের ছায়া-অর্থনীতির অনেক গভীর গল্প বলে।

মার্কিন মেরিন কোর জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় বিধ্বস্ত হওয়ার আগেই এফ-৩৫বি স্টেলথ ফাইটার থেকে পাইলট ইজেক্ট (নিরাপদে বের হয়ে আসা) করেন। এ ঘটনায় তিনি সামান্য আঘাত পেলেও তা গুরুতর নয়। শুক্রবার সান দিয়েগোর মিরামার বিমানঘাঁটির কাছে জেট বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
১২ ঘণ্টা আগে
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিবিসির খবরে বলা হয়, এক সংবাদ সম্মেলনে ভিভাস বলেন, সেউতায় পৌঁছানোর এই চেষ্টার সময় অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
১ দিন আগে
চীনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে দেশটির সামরিক গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ব্যবহার করে নিজেদের দেশীয় এআই ব্যবস্থা প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের তৈরি এসব মার্কিন এআই মডেল কাজে লাগিয়ে চীনের সামরিক ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বিশেষায়িত
১ দিন আগে