ইরান যুদ্ধে হুতিদের নীরবতা বিশ্লেষকদের ভাবাচ্ছে

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৬, ১৭: ৩৩
হুতি যোদ্ধা। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে ইসরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান শহরগুলো—আবুধাবি, দোহা, কুয়েত সিটি থেকে বৈরুত পর্যন্ত যখন অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে, তখন ইরানের অন্যতম প্রধান মিত্র হুতিদের এক রহস্যময় নীরবতা বিশ্লেষকদের ভাবিয়ে তুলছে।

গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের শুরু থেকেই লোহিত সাগরে জাহাজে আক্রমণ এবং ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালিয়ে আসা হুতিরা এবার কেন সরাসরি যুদ্ধে জড়াচ্ছে না? বিশ্লেষকেরা এটিকে ‘ধৈর্যের কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

নেতৃত্বের সুরক্ষাই কি মূল কারণ?

স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটার (এসিএলইডি) জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক লুকা নেভোলা জানান, হুতিদের বর্তমান অগ্রাধিকার হলো নিজেদের ভূখণ্ডে আমেরিকা বা ইসরায়েলের সরাসরি পাল্টা হামলা এড়ানো। গত বছর আগস্টে সানায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় হুতিদের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাওয়ি এবং সেনাপ্রধান মোহাম্মদ আল-ঘুমারিসহ ১২ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হন। নেতৃত্বের এই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হুতিদের ওপর গভীর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা ‘লিডারশিপ ডিক্যাপিটেশন’ বা শীর্ষ নেতৃত্ব হারানোর ভয়ে অনেক বেশি সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তেহরানের হাতে ‘শেষ কার্ড’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাদাম আল-হুরাইবি আল জাজিরাকে জানান, হুতিরা আদতে ইরানের জন্য একটি বড় কার্ড, যা তেহরান এখনই খরচ করতে চাচ্ছে না। ইরান সম্ভবত হুতিদের যুদ্ধের পরবর্তী ধাপের জন্য জমা রাখছে। তবে হুতিপ্রধান আবদেল-মালেক আল-হুতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের হাত ট্রিগারেই আছে।’ ইয়েমেনের জনগণের বিশাল বিক্ষোভ এবং হুতি নেতাদের কড়া বক্তব্য এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইয়েমেন যেকোনো মুহূর্তে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।

গবেষকদের মতে, হুতিরা যদি সরাসরি যুদ্ধে নামে, তবে তাদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে: ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড; অঞ্চলে মোতায়েনকৃত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক সম্পদ; সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সোমালিল্যান্ডের মতো আঞ্চলিক অংশীদারদের অবকাঠামো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যখন ক্লান্ত হয়ে পড়বে, তখন হুতিদের দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অনেক বেশি বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারে।

যদি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বর্তমান সরকার দুর্বল হয়ে পড়ে বা ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে, তবে তা হুতিদের জন্য বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকটের কারণ হবে। হুতিরা কেবল ধর্মীয় আদর্শের জন্যই নয়, অস্ত্র সরবরাহের জন্যও ইরানের ওপর নির্ভরশীল। ইরানের পতন হলে ইয়েমেনে অস্ত্র চোরাচালান বন্ধ হয়ে যাবে, যা হুতিদের সামরিক শক্তিকে পঙ্গু করে দিতে পারে।

এদিকে সানার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় সানার আকাশে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দেখা দিতে পারে। মানুষজন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও জ্বালানি মজুত করতে শুরু করেছেন।

আপাতত হুতিরা মাঠের যুদ্ধের বদলে কেবল রাজপথের বিক্ষোভ এবং কড়া বক্তৃতার মাধ্যমে সমর্থন সীমাবদ্ধ রাখলেও পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ এখন ঝুলে আছে সানার পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। হুতিরা এই রণক্ষেত্রে নামলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

তেহরানে আরও এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা

ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মিনাবের গার্লস স্কুলটি ইরানের বিপ্লবী গার্ড আইআরজিসির ঘাঁটির অংশ। তবে আল।জাজিরা বিভিন্ন সময়ের উপগ্রহ চিত্রসহ অন্যান্য প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর সে দাবি সত্য নয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও স্বীকার করে নিয়েছে এ হামলার তথ্য। জানিয়েছে, তাদের সা

৫ ঘণ্টা আগে

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহত বেড়ে ২১৭, গৃহহীন লাখো মানুষ

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী এই পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।

৬ ঘণ্টা আগে

‘আজ রাতেই ইরানে বড় হামলা’, মার্কিন অর্থমন্ত্রীর বিস্ফোরক ঘোষণা

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র এই কঠোর পদক্ষেপের কথা জানালো। বিশেষ করে আজ রাতেই এই ব্যাপক হামলা শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্কট বেসেন্ট।

৭ ঘণ্টা আগে

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের নথি প্রকাশ

বিচার বিভাগ প্রকাশিত তিনটি এফবিআই সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ওই নারী অভিযোগ করেছেন যে অভিযুক্ত যৌন পাচারকারী জেফরি এপস্টেইনের মাধ্যমে তার সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিচয় হয়েছিল। ওই সময় তিনি অল্পবয়সী কিশোরী ছিলেন।

৭ ঘণ্টা আগে