
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

কেনিয়ার একটি আবাসিক (বোর্ডিং) স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। দেশটির রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে অবস্থিত গিলগিল এলাকার উতুমিশি গার্লস একাডেমি নামে একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ১৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিবিসির খবরে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডের পর কয়েক ডজন শিক্ষার্থীকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্কুলটি পরিদর্শনে গিয়ে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী জুলিয়াস ওগাম্বা জানান, আহতদের মধ্যে ৭১ জন ছাত্রী হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে এবং সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি রাখা হয়েছে। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
ঘুমের ঘোরেই বিপর্যয়
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোররাতের দিকে যখন শিক্ষার্থীরা সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল, ঠিক তখনই উতুমিশি গার্লস একাডেমিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। শিক্ষামন্ত্রী জানান, একটি স্কুলের আবাসিক ভবনের (ডরমিটরি) প্রথম তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তেই তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ভবনটি 'সম্পূর্ণ ধ্বংস' হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, 'উদ্ধারকারী দল ভোর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও, ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে।' তদন্ত চলাকালীন স্কুল কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে ছাত্রীদের তাদের অভিভাবক ও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা শুরু করবে বলেও জানান তিনি।
দুর্ঘটনাকবলিত স্কুলটিতে জড়ো হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে কেনিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিপচুম্বা মুরকোমেনও ছিলেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, 'এটি অত্যন্ত উদ্বেগের একটি মুহূর্ত। এখন পর্যন্ত আমরা ১৬ জনের মৃত্যুর হিসাব পেয়েছি। আমি কেনিয়ার সাধারণ মানুষকে এই শোকগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর এবং প্রার্থনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।" একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার এবং কোনো ধরনের গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে স্কুলের বাইরে অপেক্ষায় থাকা অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে পুলিশ কমান্ডার মাসুদ মউইনি বলেন, 'পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক।'
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে (গ্রিনিচ মান সময় বুধবার রাত ১০টা) গিলগিলের এই স্কুলটিতে আগুন লাগে। আগুনে যে আবাসিক ভবনটি পুড়ে গেছে, সেখানে প্রায় ২২০ জন শিক্ষার্থী থাকত। আর দুর্ঘটনার সময় পুরো স্কুলে ৮০০-র বেশি শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ কমান্ডার মউইনি আরও জানান, আগুন লাগার পর আতঙ্কিত হয়ে অনেক শিক্ষার্থী রাতের অন্ধকারে আশেপাশের এলাকায় পালিয়ে যায়। সকাল থেকে পুলিশ সদস্যরা ওই এলাকাগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছেন এবং নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
অভিভাবকদের উদ্বেগ ও আর্তনাদ
আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নিখোঁজ সন্তানদের খোঁজে উদ্বিগ্ন বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনরা স্কুলের সামনে ভিড় করতে শুরু করেন। লিয়া সেরেমা নামের এক অভিভাবক জানান, তার মেয়ে এই স্কুলের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। স্কুল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে নাকুরু শহর থেকে তিনি মেয়েকে খুঁজতে অন্য অভিভাবকদের সঙ্গে ছুটে এসেছেন।
লিয়া বলেন, 'আমরা চরম উদ্বেগের মধ্যে ছিলাম, কারণ আমাদের সন্তানরা বেঁচে আছে কি না তা জানতাম না।' প্রায় কয়েক ঘণ্টা পর তিনি তার মেয়ের সন্ধান পান। মেয়েকে অক্ষত দেখে সৃষ্টিকর্তার দরবারে শুকরিয়া জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তার মেয়েও জানে না কীভাবে আগুন লেগেছে। তবে আগুন লাগার পর ছাত্রীরা একে অপরকে ডেকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলছিল।
মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া অরেক অভিভাবক বলেন, 'আমরা ভোর ৬টা থেকে এখানে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু আমাদের মেয়ে কোথায় আছে তা কেউ বলছে না। আমার ১৭ বছরের মেয়েটি এই স্কুলের শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিল। আমরা আশেপাশের সব হাসপাতালে খুঁজেছি। শিক্ষকরা আমাদের কোনো তথ্য দিচ্ছেন না। কেউ তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।'
ওয়াম্বুই ন্দেরিতু নামে আরেকজন জানান, তার এক খালাতো বোন এই স্কুলে পড়ে। খবর পেয়ে স্কুলে আসার পর তারা চরম বিশৃঙ্খলা ও ভীতিকর পরিস্থিতি দেখতে পান। তিনি বলেন, 'ভবনের ওপরের তলায় থাকা কিছু শিক্ষার্থী জীবন বাঁচাতে জানালা দিয়ে নিচে লাফিয়ে পড়েছিল, তারা আহত হয়েছে।' ন্দেরিতুর বোন বেঁচে গেলেও লাফ দেওয়ার কারণে তার একটি পা ভেঙে গেছে।
কেনিয়ায় স্কুল আগুনের পুরনো ইতিহাস
কেনিয়ার বোর্ডিং স্কুলগুলোতে অগ্নিকাণ্ড এটিই প্রথম নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে এমন বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অনেকগুলোই ছিল পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়ার ঘটনা। শৃঙ্খলা ও আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরাই অনেক সময় ক্ষোভ থেকে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অতীতে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া অসাবধানতা ও দুর্ঘটনার কারণেও অনেক সময় আগুন লেগেছে।
বিশেষ করে ডরমিটরিগুলোতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী রাখা এবং নিরাপত্তা নির্দেশিকা অমান্য করা (যেমন: জরুরি বহির্গমন পথ খোলা না রাখা বা জানালা বন্ধ করে রাখা) ইত্যাদি কারণে এসব দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হয়।
কেনিয়ার স্কুলগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের দীর্ঘ ও ভয়াবহ ইতিহাস রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০১ সালে মাচাকোস কাউন্টিতে। সেবার কিছু শিক্ষার্থী ডরমিটরিতে আগুন ধরিয়ে দিলে ৬৭ জন ছাত্রের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৪ সালেও মধ্য কেনিয়ার একটি স্কুলের ডরমিটরিতে আগুন লেগে অন্তত ২১ জন মারা যায়।
২০২৪ সালের শেষের দিকে কেনিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বেশিরভাগ আবাসিক স্কুলের ডরমিটরির জানালায় লোহার গ্রিল লাগানো রয়েছে, বাইরে বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ আছে এবং দরজাগুলো ভেতরের দিকে খোলে— যা জরুরি মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এ ছাড়া স্কুলগুলোতে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীও একটি বড় সমস্যা। ওই সমীক্ষার পর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ৩৪৮টি স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
২০২১ সালের নভেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটিকে জানায় যে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের মধ্যেই দেশটিতে ১২৬টি স্কুলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, ২০১৮ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু ওই এক বছরেই স্কুলে ৬০টি অগ্নিকাণ্ড রেকর্ড করা হয়েছিল।
রাজনীতি/আইআর

কেনিয়ার একটি আবাসিক (বোর্ডিং) স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। দেশটির রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে অবস্থিত গিলগিল এলাকার উতুমিশি গার্লস একাডেমি নামে একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ১৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিবিসির খবরে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডের পর কয়েক ডজন শিক্ষার্থীকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্কুলটি পরিদর্শনে গিয়ে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী জুলিয়াস ওগাম্বা জানান, আহতদের মধ্যে ৭১ জন ছাত্রী হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে এবং সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি রাখা হয়েছে। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
ঘুমের ঘোরেই বিপর্যয়
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোররাতের দিকে যখন শিক্ষার্থীরা সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল, ঠিক তখনই উতুমিশি গার্লস একাডেমিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। শিক্ষামন্ত্রী জানান, একটি স্কুলের আবাসিক ভবনের (ডরমিটরি) প্রথম তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তেই তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ভবনটি 'সম্পূর্ণ ধ্বংস' হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, 'উদ্ধারকারী দল ভোর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও, ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে।' তদন্ত চলাকালীন স্কুল কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে ছাত্রীদের তাদের অভিভাবক ও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা শুরু করবে বলেও জানান তিনি।
দুর্ঘটনাকবলিত স্কুলটিতে জড়ো হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে কেনিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিপচুম্বা মুরকোমেনও ছিলেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, 'এটি অত্যন্ত উদ্বেগের একটি মুহূর্ত। এখন পর্যন্ত আমরা ১৬ জনের মৃত্যুর হিসাব পেয়েছি। আমি কেনিয়ার সাধারণ মানুষকে এই শোকগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর এবং প্রার্থনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।" একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার এবং কোনো ধরনের গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে স্কুলের বাইরে অপেক্ষায় থাকা অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে পুলিশ কমান্ডার মাসুদ মউইনি বলেন, 'পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক।'
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে (গ্রিনিচ মান সময় বুধবার রাত ১০টা) গিলগিলের এই স্কুলটিতে আগুন লাগে। আগুনে যে আবাসিক ভবনটি পুড়ে গেছে, সেখানে প্রায় ২২০ জন শিক্ষার্থী থাকত। আর দুর্ঘটনার সময় পুরো স্কুলে ৮০০-র বেশি শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ কমান্ডার মউইনি আরও জানান, আগুন লাগার পর আতঙ্কিত হয়ে অনেক শিক্ষার্থী রাতের অন্ধকারে আশেপাশের এলাকায় পালিয়ে যায়। সকাল থেকে পুলিশ সদস্যরা ওই এলাকাগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছেন এবং নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
অভিভাবকদের উদ্বেগ ও আর্তনাদ
আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নিখোঁজ সন্তানদের খোঁজে উদ্বিগ্ন বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনরা স্কুলের সামনে ভিড় করতে শুরু করেন। লিয়া সেরেমা নামের এক অভিভাবক জানান, তার মেয়ে এই স্কুলের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। স্কুল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে নাকুরু শহর থেকে তিনি মেয়েকে খুঁজতে অন্য অভিভাবকদের সঙ্গে ছুটে এসেছেন।
লিয়া বলেন, 'আমরা চরম উদ্বেগের মধ্যে ছিলাম, কারণ আমাদের সন্তানরা বেঁচে আছে কি না তা জানতাম না।' প্রায় কয়েক ঘণ্টা পর তিনি তার মেয়ের সন্ধান পান। মেয়েকে অক্ষত দেখে সৃষ্টিকর্তার দরবারে শুকরিয়া জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তার মেয়েও জানে না কীভাবে আগুন লেগেছে। তবে আগুন লাগার পর ছাত্রীরা একে অপরকে ডেকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলছিল।
মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া অরেক অভিভাবক বলেন, 'আমরা ভোর ৬টা থেকে এখানে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু আমাদের মেয়ে কোথায় আছে তা কেউ বলছে না। আমার ১৭ বছরের মেয়েটি এই স্কুলের শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিল। আমরা আশেপাশের সব হাসপাতালে খুঁজেছি। শিক্ষকরা আমাদের কোনো তথ্য দিচ্ছেন না। কেউ তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।'
ওয়াম্বুই ন্দেরিতু নামে আরেকজন জানান, তার এক খালাতো বোন এই স্কুলে পড়ে। খবর পেয়ে স্কুলে আসার পর তারা চরম বিশৃঙ্খলা ও ভীতিকর পরিস্থিতি দেখতে পান। তিনি বলেন, 'ভবনের ওপরের তলায় থাকা কিছু শিক্ষার্থী জীবন বাঁচাতে জানালা দিয়ে নিচে লাফিয়ে পড়েছিল, তারা আহত হয়েছে।' ন্দেরিতুর বোন বেঁচে গেলেও লাফ দেওয়ার কারণে তার একটি পা ভেঙে গেছে।
কেনিয়ায় স্কুল আগুনের পুরনো ইতিহাস
কেনিয়ার বোর্ডিং স্কুলগুলোতে অগ্নিকাণ্ড এটিই প্রথম নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে এমন বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অনেকগুলোই ছিল পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়ার ঘটনা। শৃঙ্খলা ও আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরাই অনেক সময় ক্ষোভ থেকে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অতীতে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া অসাবধানতা ও দুর্ঘটনার কারণেও অনেক সময় আগুন লেগেছে।
বিশেষ করে ডরমিটরিগুলোতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী রাখা এবং নিরাপত্তা নির্দেশিকা অমান্য করা (যেমন: জরুরি বহির্গমন পথ খোলা না রাখা বা জানালা বন্ধ করে রাখা) ইত্যাদি কারণে এসব দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হয়।
কেনিয়ার স্কুলগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের দীর্ঘ ও ভয়াবহ ইতিহাস রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০১ সালে মাচাকোস কাউন্টিতে। সেবার কিছু শিক্ষার্থী ডরমিটরিতে আগুন ধরিয়ে দিলে ৬৭ জন ছাত্রের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৪ সালেও মধ্য কেনিয়ার একটি স্কুলের ডরমিটরিতে আগুন লেগে অন্তত ২১ জন মারা যায়।
২০২৪ সালের শেষের দিকে কেনিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বেশিরভাগ আবাসিক স্কুলের ডরমিটরির জানালায় লোহার গ্রিল লাগানো রয়েছে, বাইরে বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ আছে এবং দরজাগুলো ভেতরের দিকে খোলে— যা জরুরি মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এ ছাড়া স্কুলগুলোতে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীও একটি বড় সমস্যা। ওই সমীক্ষার পর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ৩৪৮টি স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
২০২১ সালের নভেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটিকে জানায় যে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের মধ্যেই দেশটিতে ১২৬টি স্কুলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, ২০১৮ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু ওই এক বছরেই স্কুলে ৬০টি অগ্নিকাণ্ড রেকর্ড করা হয়েছিল।
রাজনীতি/আইআর

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, হজরত ইবরাহিম (আ.) যখন মহান আল্লাহর নির্দেশে তার পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন শয়তান তাকে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করতে প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছিল। সেই সময় হজরত ইবরাহিম (আ.) তিন স্থানে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করেছিলেন। হাজিদের এই আনুষ্ঠানিকতা সেই
১ দিন আগে
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার খসড়া সামনে এসেছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। মার্কিন ওই খসড়া অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবার যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে তেহরান, যার বিনিময়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রত্যাহার করা হবে নৌ অবরোধ ও
১ দিন আগে
এরদোয়ান বলেন, ধর্মীয় উৎসবগুলো মূলত সামাজিক বন্ধন, পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সংহতিকে শক্তিশালী করার দিন। তবে এবার গাজা উপত্যকার চলমান পরিস্থিতি তুরস্কসহ পুরো বিশ্বের মুসলমানদের ঈদ উদ্যাপনে বিষাদের ছায়া ফেলেছে।
১ দিন আগে
টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের রিমাল এলাকায় এ হামলা চালায় ইসরায়েল। হামাস প্রশাসনের অধীনে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনাকারী গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানায়, হামলায় কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।
১ দিন আগে