অস্ট্রেলিয়ার বন্ডি সৈকতে হামলাকারী ভারতীয়

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩: ৪৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি বিচে ইহুদি হানুক্কা উৎসব চলাকালে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত দুই বাবা-ছেলে সাজিদ আকরাম ও নাভিদ আকরাম কোন দেশের নাগরিক, তা নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এখনো কোন মন্তব্য না করলেও এবার তাদের পরিচয়য় জানিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।

ঘটনার পরে নাম পরিচয়ের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই হামলাকারীদের পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত বলে সন্দেহ করেন। তবে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভারতের তেলেঙ্গানা পুলিশের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, অভিযুক্ত সাজিদ আকরাম ভারতীয় নাগরিক, তিনি থাকতেন হায়দ্রাবাদে।

তেলেঙ্গানা পুলিশের মহাপরিচালক এনডিটিভিকে জানান, সাজিদ আকরাম ১৯৯৮ সালের নভেম্বরে শিক্ষার্থী ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় যান এবং ২৭ বছর ধরে সেখানে বসবাস করেন। ভারতে থাকা পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে তিনি তেমন যোগাযোগ করতেন না।

ভারতের পুলিশ আরও জানায়, পারিবারিক বিরোধের কারণে হায়দরাবাদের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সাজিদের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ২০১৭ সালে তার বাবার মৃত্যুর সময়ও তিনি জানাজায় অংশ নেননি। সবশেষ ২০২২ সালে তিনি হায়দ্রাবাদে গিয়েছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকালে সাজিদ ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত ভেনেরা গ্রোসোকে বিয়ে করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তার পাসপোর্টও ভারতীয়, তবে অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়ায় তার ছেলে-মেয়ে অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্টধারী।

গত মাসে সাজিদ ও নাভিদ ফিলিপাইনের আইএস-অধ্যুষিত একটি অঞ্চলে ভ্রমণ করেছিলেন বলে জানিয়েছে ফিলিপাইনের অভিবাসন দপ্তর। তারা গত ১ নভেম্বর দেশটিতে প্রবেশ করে ২৮ নভেম্বর আবার অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান। বিষয়টি নিয়ে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে, গত রোববার (১৪ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে এ ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যান হামলাকারী ৫০ বছর বয়সী ব্যক্তি, যিনি একটি ‘গান ক্লাবে’র সদস্য। তার অস্ত্র রাখার লাইসেন্স ছিল। আর ২৪ বছর বয়সী ছেলে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ কমিশনার ক্রিসি ব্যারেট এ ঘটনাকে ‘ইসলামিক স্টেট অনুপ্রাণিত সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হামলাকারীরা বয়স বা শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা না করে শুধু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই হামলা চালিয়েছিল।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement