
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

গত বছরের গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যে উদ্দেশে রওনা হওয়া তিন শতাধিক অভিবাসীকে পথে অপহরণ ও নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি মুক্তিপণ না দিলে জোর করে তাদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, বিশেষ করে কিডনি কেটে নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো অভিবাসীর কিডনি কেটে নেওয়াও হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন গা শিউরে ওঠা তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অপহরণের শিকার তরুণদের সবাই ইরাকি কুর্দিস্তানের বাসিন্দা।
খবরে বলা হয়েছে, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর সেখানকার একটি স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের জিম্মি করে। এরপর জিম্মিদের পরিবারের কাছে জনপ্রতি পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই টাকা পরিশোধ না করলে বন্দিদের কিডনি কেটে বিক্রি করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয় ওই সশস্ত্র গোষ্ঠী।
বিবিসি এরই মধ্যে মুক্তি পাওয়া বেশ কয়েকজন জিম্মির সঙ্গে কথা বলেছে। বিবিসির হাতে এমন কিছু আলোকচিত্র বা ছবিও প্রমাণ হিসেবে এসেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে— জোর করে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কারও কারও কিডনি সত্যিই কেটে নেওয়া হয়েছে।
জিম্মিরা তাদের শরীরে নির্যাতনের ভয়ংকর সব ক্ষতচিহ্ন দেখিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, তাদের অত্যন্ত ঘিঞ্জি ও গাদাগাদি পরিবেশে বন্দি রাখা হয়েছিল। মাত্র একটি সেলের (কক্ষ) ভেতরে প্রায় ১৮০ জন মানুষকে একসঙ্গে ঠাঁই দেওয়া হয়। ভয়াবহ এ নির্যাতনে এরই মধ্যে অন্তত একজন জিম্মির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এখনো কতজন সেখানে বন্দি অবস্থায় আছেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাজ ছিল অভিবাসীদের লিবিয়ার ভেতর দিয়ে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু অভিবাসীদের এই পুরো যাত্রা যাদের মাধ্যমে হয়েছে সেই ইরাকি কুর্দিস্তানের কুখ্যাত মানবপাচারকারী নোয়া অ্যারনের সঙ্গে অর্থ লেনদেন নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরোধ দেখা দেয়। এর জের ধরেই অপহরণের ঘটনা ঘটে।
মানবপাচারকারী নোয়া অ্যারন বর্তমানে অর্থপাচার ও মানবপাচারের পৃথক অপরাধে ফ্রান্সে ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
সম্প্রতি কার্দো জাফ নামে আরেক মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে বিবিসির চালানো এক অনুসন্ধানের সময় এ অপহরণের লোমহর্ষক বিবরণ সামনে আসে। গত মাসে কার্দো জাফও গ্রেপ্তার হয়েছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, এই দুই পাচারকারী অতীতে একসঙ্গে কাজ করতেন। তাদের দুজনেরই বাড়ি ইরাকি কুর্দিস্তানের রানিয়া শহরে। যুক্তরাজ্যের থিংক-ট্যাংক চ্যাথাম হাউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই গোটা অঞ্চলটিতেই মানবপাচারকারী নেটওয়ার্কে সক্রিয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিবিসির একটি অনুসন্ধানী দল রানিয়া শহরে কার্দো জাফ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই ব্যক্তি জানান, তার নিজের ছেলেও লিবিয়ায় জিম্মি হওয়া সেই দলে ছিলেন।
তিনি বিবিসিকে বলেন, যুক্তরাজ্যে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে নোয়া অ্যারনের পাচারকারী চক্র তার পরিবারের কাছ থেকে হাজার হাজার ডলার হাতিয়ে নিয়েছিল। রুট বা পথটি ছিল— উত্তর আফ্রিকা হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করা।
এই যাত্রাপথে লিবিয়া পার হতে হতো। লিবিয়ায় মানবপাচার নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের একজন উপদেষ্টা অ্যান্থনি ডাংকারলি বলেন, দেশটিতে বর্তমানে সরকারের হাতে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। লিবিয়ার সিংহ ভাগ এলাকাই এখন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে। আর সেখানকার মানবপাচারকারী নেটওয়ার্কগুলো মূলত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করেই টিকে আছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৫ সালের গ্রীষ্মকালে ইরাকি কুর্দিস্তান থেকে বিমানে করে লিবিয়ায় পৌঁছানো অভিবাসীদের একের পর এক দলকে একটি পাহারাবেষ্টিত কম্পাউন্ডে নিয়ে বন্দি করা হয়। এরপর মিলিশিয়ারা জনপ্রতি পাঁচ হাজার ডলার মুক্তিপণ দাবি করে বসে। তাদের দাবি ছিল— পাচারকারী নোয়া অ্যারন আগের একটি চুক্তির টাকা তাদের পরিশোধ করেনি। টাকা দিতে দেরি হলে বন্দিদের ‘কিডনি কেটে’ সেই উসুল করা হবে বলে জিম্মিদের পরিবারগুলোকে হুমকি দেওয়া হয়।
লিবিয়ার ওই সশস্ত্র গোষ্ঠী জিম্মিদের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও পাঠায়, যার অনেকগুলোই ছিল অত্যন্ত নির্মম ও সহিংস। এমন একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক তরুণকে বলা হচ্ছে— কিডনি কেটে নেওয়ার জন্য তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
রানিয়া শহরে বিবিসির মুখোমুখি হওয়া ওই বাবা জানান, তিনি শেষ পর্যন্ত মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করেছিলেন। ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি বিশেষ বিমানে গত জানুয়ারি মাসে যে ১১০ জন জিম্মি দেশে ফিরেছেন, তার ছেলেও তাদের মধ্যে ছিলেন। তবে তিনি তার ছেলের বন্দিদশার একটি ছবি দেখান, যেখানে পিঠের নিচে একটি টাটকা ক্ষতচিহ্ন দেখা যাচ্ছিল। তাদের আশঙ্কা, জোর করে তার ছেলের কিডনি কেটে নেওয়া হয়েছে।
এই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও ডজনখানেক ভুক্তভোগী পরিবার সামনে আসে এবং অনেকেই তাদের ফোনে থাকা একই ধরনের ছবি দেখান।
বিবিসি পরে ছবিগুলোর একটি যুক্তরাজ্যের একজন বিশেষজ্ঞ সার্জনকে দেখায়। তিনি জানান, ক্ষতচিহ্নগুলো দেখতে ঠিক কিডনি অপারেশনের সময় চামড়া কাটার দাগের মতোই। তবে ল্যাব বা প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষা ছাড়া জোর করে কিডনি কেটে নেওয়ার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব না।
জাতিসংঘের উপদেষ্টা ডাংকারলি জানান, লিবিয়ার অভিবাসন রুটে মুক্তিপণের জন্য অপহরণের ঘটনা ব্যাপকভাবে নথিবদ্ধ রয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ না থাকার সুযোগ নিয়ে অপরাধী চক্রগুলো সক্রিয় থাকে, ফলে এসব অপরাধের তদন্ত বা অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
জিম্মিদের অনেকেই এখন মুক্ত। কিছু পরিবার দ্রুত টাকা দিয়ে তাদের স্বজনদের ছাড়িয়ে এনেছেন। তবে কুর্দি কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, অনেক জিম্মিকে হয়তো টাকা দিতে না পারায় নিজেদের শরীরের ভেতরের অঙ্গ দিয়ে মূল্য চুকাতে হয়েছে।
রানিয়া শহরে ফিরে আসা বেশ কয়েকজন জিম্মির সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছে বিবিসি। এক তরুণ জানান, তার পায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে নির্যাতন করা হতো। তিনি তার প্যান্টের কাপড় গুটিয়ে সেই ভয়ংকর পোড়া ক্ষতচিহ্ন দেখান।
১৬ বছর বয়সী এক কিশোর জানায়, মাত্র একটা ছোট ঘরে ১৭৮ জনের সঙ্গে তাকে থাকতে হয়েছে। সে বলে, আমরা একটানা ছয় মাস সূর্যের আলো দেখিনি। জায়গাটি এতটাই সংকীর্ণ ছিল যে সবাইকে বসে বসে ঘুমাতে হতো। সব বন্দির জন্য ছিল মাত্র একটি টয়লেট। সেখানে কেউ সামান্য বেশি সময় নিলেই তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হতো।
জিম্মিদের পরিবারগুলো জানায়, সারা দিনে খাবার হিসেবে দেওয়া হতো মাত্র এক টুকরো রুটি, তাও আবার অপহরণকারীদের অতিরিক্ত টাকা দিলে তবেই মিলত সে খাবার।
কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হেম্ন মেরানি জানান, এত ঝুঁকি ও ভয়ংকর সব ঘটনা জানার পরও ইরাকি কুর্দিস্তান থেকে ইউরোপে অবৈধ অভিবাসীদের স্রোত থামানো যাচ্ছে না। তিনি ফিরে আসা জিম্মিদের অনুরোধ করেছেন, তারা যেন তাদের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের জানায়, যেন অন্য কেউ এই মরণফাঁদে পা না বাড়ায়।
কিন্তু মেরানি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। রানিয়া শহরের এক বাবা লিবিয়ায় তার ছেলেকে হারিয়েছেন, যার কিডনি জোর করে কেটে নেওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ছেলের দাফন সম্পন্ন করার সময় ওই বাবা জানতে পারেন, তার মৃত ছেলেরই আপন দুই চাচাতো ভাই মাত্র কয়েকদিন আগে ইউরোপের উদ্দেশে দেশ ছেড়ে চলে গেছে।
হেম্ন মেরানি বলেন, এই পুরো চক্রের সবচেয়ে দুঃখজনক অংশ হলো— আমরা কেউই অতীত থেকে শিক্ষা নিই না।

গত বছরের গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যে উদ্দেশে রওনা হওয়া তিন শতাধিক অভিবাসীকে পথে অপহরণ ও নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি মুক্তিপণ না দিলে জোর করে তাদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, বিশেষ করে কিডনি কেটে নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো অভিবাসীর কিডনি কেটে নেওয়াও হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন গা শিউরে ওঠা তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অপহরণের শিকার তরুণদের সবাই ইরাকি কুর্দিস্তানের বাসিন্দা।
খবরে বলা হয়েছে, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর সেখানকার একটি স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের জিম্মি করে। এরপর জিম্মিদের পরিবারের কাছে জনপ্রতি পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই টাকা পরিশোধ না করলে বন্দিদের কিডনি কেটে বিক্রি করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয় ওই সশস্ত্র গোষ্ঠী।
বিবিসি এরই মধ্যে মুক্তি পাওয়া বেশ কয়েকজন জিম্মির সঙ্গে কথা বলেছে। বিবিসির হাতে এমন কিছু আলোকচিত্র বা ছবিও প্রমাণ হিসেবে এসেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে— জোর করে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কারও কারও কিডনি সত্যিই কেটে নেওয়া হয়েছে।
জিম্মিরা তাদের শরীরে নির্যাতনের ভয়ংকর সব ক্ষতচিহ্ন দেখিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, তাদের অত্যন্ত ঘিঞ্জি ও গাদাগাদি পরিবেশে বন্দি রাখা হয়েছিল। মাত্র একটি সেলের (কক্ষ) ভেতরে প্রায় ১৮০ জন মানুষকে একসঙ্গে ঠাঁই দেওয়া হয়। ভয়াবহ এ নির্যাতনে এরই মধ্যে অন্তত একজন জিম্মির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এখনো কতজন সেখানে বন্দি অবস্থায় আছেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাজ ছিল অভিবাসীদের লিবিয়ার ভেতর দিয়ে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু অভিবাসীদের এই পুরো যাত্রা যাদের মাধ্যমে হয়েছে সেই ইরাকি কুর্দিস্তানের কুখ্যাত মানবপাচারকারী নোয়া অ্যারনের সঙ্গে অর্থ লেনদেন নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরোধ দেখা দেয়। এর জের ধরেই অপহরণের ঘটনা ঘটে।
মানবপাচারকারী নোয়া অ্যারন বর্তমানে অর্থপাচার ও মানবপাচারের পৃথক অপরাধে ফ্রান্সে ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
সম্প্রতি কার্দো জাফ নামে আরেক মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে বিবিসির চালানো এক অনুসন্ধানের সময় এ অপহরণের লোমহর্ষক বিবরণ সামনে আসে। গত মাসে কার্দো জাফও গ্রেপ্তার হয়েছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, এই দুই পাচারকারী অতীতে একসঙ্গে কাজ করতেন। তাদের দুজনেরই বাড়ি ইরাকি কুর্দিস্তানের রানিয়া শহরে। যুক্তরাজ্যের থিংক-ট্যাংক চ্যাথাম হাউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই গোটা অঞ্চলটিতেই মানবপাচারকারী নেটওয়ার্কে সক্রিয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিবিসির একটি অনুসন্ধানী দল রানিয়া শহরে কার্দো জাফ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই ব্যক্তি জানান, তার নিজের ছেলেও লিবিয়ায় জিম্মি হওয়া সেই দলে ছিলেন।
তিনি বিবিসিকে বলেন, যুক্তরাজ্যে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে নোয়া অ্যারনের পাচারকারী চক্র তার পরিবারের কাছ থেকে হাজার হাজার ডলার হাতিয়ে নিয়েছিল। রুট বা পথটি ছিল— উত্তর আফ্রিকা হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করা।
এই যাত্রাপথে লিবিয়া পার হতে হতো। লিবিয়ায় মানবপাচার নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের একজন উপদেষ্টা অ্যান্থনি ডাংকারলি বলেন, দেশটিতে বর্তমানে সরকারের হাতে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। লিবিয়ার সিংহ ভাগ এলাকাই এখন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে। আর সেখানকার মানবপাচারকারী নেটওয়ার্কগুলো মূলত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করেই টিকে আছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৫ সালের গ্রীষ্মকালে ইরাকি কুর্দিস্তান থেকে বিমানে করে লিবিয়ায় পৌঁছানো অভিবাসীদের একের পর এক দলকে একটি পাহারাবেষ্টিত কম্পাউন্ডে নিয়ে বন্দি করা হয়। এরপর মিলিশিয়ারা জনপ্রতি পাঁচ হাজার ডলার মুক্তিপণ দাবি করে বসে। তাদের দাবি ছিল— পাচারকারী নোয়া অ্যারন আগের একটি চুক্তির টাকা তাদের পরিশোধ করেনি। টাকা দিতে দেরি হলে বন্দিদের ‘কিডনি কেটে’ সেই উসুল করা হবে বলে জিম্মিদের পরিবারগুলোকে হুমকি দেওয়া হয়।
লিবিয়ার ওই সশস্ত্র গোষ্ঠী জিম্মিদের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও পাঠায়, যার অনেকগুলোই ছিল অত্যন্ত নির্মম ও সহিংস। এমন একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক তরুণকে বলা হচ্ছে— কিডনি কেটে নেওয়ার জন্য তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
রানিয়া শহরে বিবিসির মুখোমুখি হওয়া ওই বাবা জানান, তিনি শেষ পর্যন্ত মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করেছিলেন। ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি বিশেষ বিমানে গত জানুয়ারি মাসে যে ১১০ জন জিম্মি দেশে ফিরেছেন, তার ছেলেও তাদের মধ্যে ছিলেন। তবে তিনি তার ছেলের বন্দিদশার একটি ছবি দেখান, যেখানে পিঠের নিচে একটি টাটকা ক্ষতচিহ্ন দেখা যাচ্ছিল। তাদের আশঙ্কা, জোর করে তার ছেলের কিডনি কেটে নেওয়া হয়েছে।
এই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও ডজনখানেক ভুক্তভোগী পরিবার সামনে আসে এবং অনেকেই তাদের ফোনে থাকা একই ধরনের ছবি দেখান।
বিবিসি পরে ছবিগুলোর একটি যুক্তরাজ্যের একজন বিশেষজ্ঞ সার্জনকে দেখায়। তিনি জানান, ক্ষতচিহ্নগুলো দেখতে ঠিক কিডনি অপারেশনের সময় চামড়া কাটার দাগের মতোই। তবে ল্যাব বা প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষা ছাড়া জোর করে কিডনি কেটে নেওয়ার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব না।
জাতিসংঘের উপদেষ্টা ডাংকারলি জানান, লিবিয়ার অভিবাসন রুটে মুক্তিপণের জন্য অপহরণের ঘটনা ব্যাপকভাবে নথিবদ্ধ রয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ না থাকার সুযোগ নিয়ে অপরাধী চক্রগুলো সক্রিয় থাকে, ফলে এসব অপরাধের তদন্ত বা অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
জিম্মিদের অনেকেই এখন মুক্ত। কিছু পরিবার দ্রুত টাকা দিয়ে তাদের স্বজনদের ছাড়িয়ে এনেছেন। তবে কুর্দি কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, অনেক জিম্মিকে হয়তো টাকা দিতে না পারায় নিজেদের শরীরের ভেতরের অঙ্গ দিয়ে মূল্য চুকাতে হয়েছে।
রানিয়া শহরে ফিরে আসা বেশ কয়েকজন জিম্মির সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছে বিবিসি। এক তরুণ জানান, তার পায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে নির্যাতন করা হতো। তিনি তার প্যান্টের কাপড় গুটিয়ে সেই ভয়ংকর পোড়া ক্ষতচিহ্ন দেখান।
১৬ বছর বয়সী এক কিশোর জানায়, মাত্র একটা ছোট ঘরে ১৭৮ জনের সঙ্গে তাকে থাকতে হয়েছে। সে বলে, আমরা একটানা ছয় মাস সূর্যের আলো দেখিনি। জায়গাটি এতটাই সংকীর্ণ ছিল যে সবাইকে বসে বসে ঘুমাতে হতো। সব বন্দির জন্য ছিল মাত্র একটি টয়লেট। সেখানে কেউ সামান্য বেশি সময় নিলেই তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হতো।
জিম্মিদের পরিবারগুলো জানায়, সারা দিনে খাবার হিসেবে দেওয়া হতো মাত্র এক টুকরো রুটি, তাও আবার অপহরণকারীদের অতিরিক্ত টাকা দিলে তবেই মিলত সে খাবার।
কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হেম্ন মেরানি জানান, এত ঝুঁকি ও ভয়ংকর সব ঘটনা জানার পরও ইরাকি কুর্দিস্তান থেকে ইউরোপে অবৈধ অভিবাসীদের স্রোত থামানো যাচ্ছে না। তিনি ফিরে আসা জিম্মিদের অনুরোধ করেছেন, তারা যেন তাদের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের জানায়, যেন অন্য কেউ এই মরণফাঁদে পা না বাড়ায়।
কিন্তু মেরানি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। রানিয়া শহরের এক বাবা লিবিয়ায় তার ছেলেকে হারিয়েছেন, যার কিডনি জোর করে কেটে নেওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ছেলের দাফন সম্পন্ন করার সময় ওই বাবা জানতে পারেন, তার মৃত ছেলেরই আপন দুই চাচাতো ভাই মাত্র কয়েকদিন আগে ইউরোপের উদ্দেশে দেশ ছেড়ে চলে গেছে।
হেম্ন মেরানি বলেন, এই পুরো চক্রের সবচেয়ে দুঃখজনক অংশ হলো— আমরা কেউই অতীত থেকে শিক্ষা নিই না।

উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা ১ লাখ ডলারের (প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা) নতুন ভিসা ফি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত।
১১ ঘণ্টা আগে
সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস আরও বলেছে, আপাচি হেলিকপ্টারটি কি গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে নাকি এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে অথবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না সেটি এখনো জানা যায়নি।
১৩ ঘণ্টা আগে
ভূমিকম্পের পর প্রকাশিত বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে একাধিক ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে একটি জোলিবি ফাস্টফুড রেস্তোরাঁকে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা যায়। এছাড়া কয়েকটি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর তিন মাসেরও বেশি সময় পরও মধ্যপ্রাচ্য যে কতটা অস্থিতিশীল রয়ে গেছে, ভঙ্গুর জোট এবং অকার্যকর যুদ্ধবিরতির বর্তমান জটিল পরিস্থিতি তা স্পষ্ট করে।
১৩ ঘণ্টা আগে