হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত ৮ জনের শরীরে ‘অ্যান্ডিজ স্ট্রেইন’ শনাক্ত: ডব্লিউএইচও

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। ছবি: সংগৃহীত

নেদারল্যান্ডসের প্রমোদতরি এমভি হোন্ডিয়াসে ছড়িয়ে পড়া হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত আট ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসটির অ্যান্ডিজ স্ট্রেইন শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। হান্টাভাইরাস সাধারণত মানুষ থেকে মানুষে খুব কম ছড়ালেও এর অ্যান্ডিজ স্ট্রেইনই মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম হান্টাভাইরাসের একমাত্র ধরন।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, বুধবার (১৪ মে) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে ডব্লিউএইচও জানায়, ‘আটটি ঘটনায় পরীক্ষাগারে অ্যান্ডিজ স্ট্রেইন সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। দুটি সম্ভাব্য ও একটি ঘটনার ফল এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ওই ব্যক্তির আরও পরীক্ষা চলছে।’

যার পরীক্ষার ফল এখনও নিশ্চিত হয়নি, তিনি একজন মার্কিন যাত্রী। তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ডব্লিউএইচও জানায়, একটি পরীক্ষায় পজিটিভ এবং অন্যটিতে নেগেটিভ ফল আসার পর বর্তমানে তার আরও পরীক্ষা চলছে। তবে তার শরীরে এখন কোনো উপসর্গ নেই।

গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনা থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়া এই ক্রুজ জাহাজে যাত্রা শুরুর পর এ পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। ডব্লিউএইচও জানায়, মৃতদের মধ্যে দুই জনের শরীরে অ্যান্ডিজ ভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছিল। আর তৃতীয় ব্যক্তিকে ‘সম্ভাব্য’ আক্রান্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। ইঁদুরের প্রস্রাব, বিষ্ঠা বা লালার মাধ্যমে ভাইরাসটি পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। দূষিত বাতাস নিশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে সংক্রমণ হতে পারে। ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, ভৌগোলিক অবস্থান ও ভাইরাসের ধরন অনুযায়ী হান্টাভাইরাস বিভিন্ন রোগের জন্ম দিতে পারে। যদিও বিরল, তবুও ইঁদুরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এই ভাইরাসের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো স্বীকৃত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা এবং দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাইরাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো— এটি দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতা তৈরি করতে পারে।

ডব্লিউএইচও বলছে, মূল সংক্রমণটি এমভি হোন্ডিয়াস আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরুর আগেই ঘটেছিল। কারণ প্রথম আক্রান্ত হন ৭০ বছর বয়সী এক ডাচ নাগরিক, যার শরীরে ৬ এপ্রিল থেকে উপসর্গ দেখা যায়। এরপর ১১ এপ্রিল তিনি মারা যান। ২৪ এপ্রিল সেন্ট হেলেনায় ওই ব্যক্তির মরদেহ নিয়ে তার স্ত্রী জাহাজ থেকে নেমে পড়েন। পরে তিনিও জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে মারা যান। দোসরা মে জাহাজে মারা যান আরও এক জার্মান নাগরিক।

ওই ডাচ প্রমোদতরিটিতে হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের উৎস এখনও জানা যায়নি। তবে ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস ঘেব্রেয়েসাস বলেছেন, হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ডাচ দম্পতি এমন কিছু স্থানে গিয়েছিলেন, যেখানে ভাইরাসটি বহনকারী ইঁদুরের একটি প্রজাতির উপস্থিতি ছিল। তবে প্রাদুর্ভাবটি কীভাবে ছড়িয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরান ও তার সহায়তাকারীদের ‘কঠোর পরিণতি’র হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানকে আমি ছাড়া আর কেউ চুক্তির জন্য এত সুযোগ-সুবিধা বা ছাড় দেয়নি। তবে এটি দুঃখজনক যে তারা চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণেই আজ আমি ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান ঘোষণা করছি। এই অভিযান এতটাই সর্বাত্মক হবে যে এর আগে কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

৮ ঘণ্টা আগে

কলকাতায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত আরও দুজনের পরিচয় প্রকাশ

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কলকাতার নিউমার্কেটের কাছে অবস্থিত শিখা ইন নামের ওই হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আগুন পাশের আরও কয়েকটি হোটেলেও ছড়িয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

১৮ ঘণ্টা আগে

কলকাতায় হোটেলে আগুন: স্ত্রী-সন্তান-শ্বশুরসহ বাংলাদেশি সাংবাদিকের মৃত্যু

নিহত দেবাশীষ দত্ত আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন তিনি। অগ্নিকাণ্ডে তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), ছেলে শর্ণশীষ দত্ত (৩) ও শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬০) মারা গেছেন।

১ দিন আগে

কলকাতায় আগুনে নিহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত

বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক বলে স্থানীয় পুলিশ তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের চারজন একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।

১ দিন আগে