
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ যখন ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে, ঠিক সেই সময় পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম একটি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম ‘এলজিএম-৩০ মিনিটম্যান থ্রি’, সক্ষমতা আর কার্যকারিতা বিবেচনায় যেটি ‘ডুমসডে’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স ঘাঁটি থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় ‘মিনিটম্যান থ্রি’ ক্ষেপণাস্ত্রটি। তাদের দাবি, এ পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ ছিল সফল।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এটি ছিল নিয়মিত পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ। তবে ইরান যুদ্ধের চলমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরীক্ষা কেবল প্রযুক্তিগত নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত বার্তাও হতে পারে। ফলে ‘মিনিটম্যান থ্রি’ তথা ‘ডুমসডে’ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
‘মিমিটম্যান থ্রি’কে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পাল্লা প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার। অর্থাৎ ১০ হাজার কিলোমিটার দূরত্বে যেকোনো স্থানে এটি আঘাত করতে সক্ষম। গতি ঘণ্টায় ১৫ হাজার মাইল বা ২৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য, পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রশান্ত মহাসাগর অতিক্রম করে প্রায় ছয় হাজার মাইল দূরের মার্শাল আইল্যান্ডে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছায়। পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি ছিল নিরস্ত্র। তবে এটি পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের একটি ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে— এমন পারমাণবিক ওয়ারহেডের ধ্বংসক্ষমতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে ব্যবহৃত পারমাণবিক বোমার চেয়েও বহু গুণ বেশি শক্তিশালী।

‘মিমিটম্যান থ্রি’ ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এটি ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াডে’র অংশ, যে কৌশলের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন রাখে।
এই তিন প্ল্যাটফর্ম হলো— স্থলভিত্তিক আইসিবিএম, সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং কৌশলগত বোমারু বিমান।
এই তিন স্তরের ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো— কোনো শত্রু রাষ্ট্র যেন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলা চালানোর ঝুঁকি নিতে না পারে। সে ধরনের কোনো ঝুঁকি তৈরি হলে তিন ধরনের প্ল্যাটফর্ম থেকে পালটা হামলা করতে পারবে মার্কিন বাহিনী, যার কেন্দ্রস্থলে থাকবে ‘মিনিটম্যান থ্রি’ বা ‘ডুমসডে’।
মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যুদ্ধে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার জবাবে তেহরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ইরানের লক্ষ্য ইসরায়েল ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, যেসব দেশে রয়েছে মার্কিন ঘাঁটি। ফলে পুরো অঞ্চল জুড়ে যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে।
এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের আইসিবিএম ‘মিনিটম্যান থ্রি’ পরীক্ষা বৈশ্বিক সব মহলের মনোযোগ কেড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী অবশ্য বলছে, এই পরীক্ষা বহু আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং চলমান সংঘাতের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫৭৬তম ফ্লাইট টেস্ট স্কোয়াড্রনের কমান্ডার ক্যারি রে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্থলভিত্তিক যে পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা রয়েছে, তার কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য এ ধরনের পরীক্ষা নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হয়। এসব পরীক্ষার সাফল্য নিশ্চিত করে যে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবসময় প্রস্তুত এবং প্রয়োজন হলেই তা দ্রুত ব্যবহার করা সম্ভব।
মার্কিন বাহিনীর ৩৭৭তম টেস্ট অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন গ্রুপের কমান্ডার কর্নেল ডাস্টিন হারমন বলেন, ‘পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণই আমাদের সক্ষমতা যাচাই এবং আমাদের ব্যবস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করার সবচেয়ে দৃশ্যমান ও গুরুত্বপূর্ণ উপায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর নারী-পুরুষরা দেশের প্রতিরক্ষায় সবচেয়ে উচ্চ প্রশিক্ষিত পেশাজীবীদের মধ্যে অন্যতম। এই পরীক্ষাগুলো প্রমাণ করে, এই গুরুত্বপূর্ণ মিশন পরিচালনায় তারা অত্যন্ত সক্ষম। পাশাপাশি এগুলো থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করে, আমাদের ব্যবস্থাগুলো যেকোনো সময় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত ও নির্ভরযোগ্য।’

মার্কিন বাহিনী নিয়মিত পরীক্ষার কথা বললেও সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন সময় এ ধরনের পরীক্ষা প্রতিপক্ষের কাছে একটি শক্ত বার্তা হিসেবেও কাজ করে থাকে।
বিশেষ করে পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে যখন ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত প্রতিরোধ ব্যবস্থা যে পূর্ণ সক্ষমতায় রয়েছে, এটি প্রদর্শন করাও যুক্তরাষ্ট্রের এ পরীক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ পরীক্ষা শুধু ইরানের উদ্দেশেই নয়; বরং বৈশ্বিক শক্তিগুলোর কাছেও যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী বার্তা।
পারমাণবিক প্রতিরোধের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে রাশিয়া এবং চীনও। বিশ্ব রাজনীতিতে এই তিন পরাশক্তির মধ্যে পারমাণবিক ভারসাম্য দীর্ঘদিন ধরে কৌশলগত স্থিতিশীলতার একটি প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ত্র প্রতিযোগিতা, আঞ্চলিক সংঘাত ও নতুন প্রযুক্তির কারণে এই ভারসাম্য আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম ‘মিনিটম্যান থ্রি’ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা সেই ভারসাম্যেও রাশিয়া ও চীনের জন্য বড় বার্তা।
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তা গোটা মধ্যপ্রাচ্যেই বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল, জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর প্রভাব হবে বিস্তৃত।
এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কৌশলগত’ অস্ত্র পরীক্ষা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে— এটি কি কেবল নিয়মিত সামরিক পরীক্ষা, নাকি চলমান সংঘাতের মধ্যেই শক্তির প্রদর্শন?
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, এনডিটিভি, ইউএস স্টেটস স্পেস ফোর্স, এয়ার ফোর্স নিউক্লিয়ার উইপনস সেন্টার

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ যখন ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে, ঠিক সেই সময় পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম একটি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম ‘এলজিএম-৩০ মিনিটম্যান থ্রি’, সক্ষমতা আর কার্যকারিতা বিবেচনায় যেটি ‘ডুমসডে’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স ঘাঁটি থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় ‘মিনিটম্যান থ্রি’ ক্ষেপণাস্ত্রটি। তাদের দাবি, এ পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ ছিল সফল।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এটি ছিল নিয়মিত পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ। তবে ইরান যুদ্ধের চলমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরীক্ষা কেবল প্রযুক্তিগত নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত বার্তাও হতে পারে। ফলে ‘মিনিটম্যান থ্রি’ তথা ‘ডুমসডে’ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
‘মিমিটম্যান থ্রি’কে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পাল্লা প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার। অর্থাৎ ১০ হাজার কিলোমিটার দূরত্বে যেকোনো স্থানে এটি আঘাত করতে সক্ষম। গতি ঘণ্টায় ১৫ হাজার মাইল বা ২৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য, পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রশান্ত মহাসাগর অতিক্রম করে প্রায় ছয় হাজার মাইল দূরের মার্শাল আইল্যান্ডে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছায়। পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি ছিল নিরস্ত্র। তবে এটি পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের একটি ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে— এমন পারমাণবিক ওয়ারহেডের ধ্বংসক্ষমতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে ব্যবহৃত পারমাণবিক বোমার চেয়েও বহু গুণ বেশি শক্তিশালী।

‘মিমিটম্যান থ্রি’ ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এটি ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াডে’র অংশ, যে কৌশলের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন রাখে।
এই তিন প্ল্যাটফর্ম হলো— স্থলভিত্তিক আইসিবিএম, সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং কৌশলগত বোমারু বিমান।
এই তিন স্তরের ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো— কোনো শত্রু রাষ্ট্র যেন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলা চালানোর ঝুঁকি নিতে না পারে। সে ধরনের কোনো ঝুঁকি তৈরি হলে তিন ধরনের প্ল্যাটফর্ম থেকে পালটা হামলা করতে পারবে মার্কিন বাহিনী, যার কেন্দ্রস্থলে থাকবে ‘মিনিটম্যান থ্রি’ বা ‘ডুমসডে’।
মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যুদ্ধে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার জবাবে তেহরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ইরানের লক্ষ্য ইসরায়েল ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, যেসব দেশে রয়েছে মার্কিন ঘাঁটি। ফলে পুরো অঞ্চল জুড়ে যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে।
এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের আইসিবিএম ‘মিনিটম্যান থ্রি’ পরীক্ষা বৈশ্বিক সব মহলের মনোযোগ কেড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী অবশ্য বলছে, এই পরীক্ষা বহু আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং চলমান সংঘাতের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫৭৬তম ফ্লাইট টেস্ট স্কোয়াড্রনের কমান্ডার ক্যারি রে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্থলভিত্তিক যে পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা রয়েছে, তার কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য এ ধরনের পরীক্ষা নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হয়। এসব পরীক্ষার সাফল্য নিশ্চিত করে যে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবসময় প্রস্তুত এবং প্রয়োজন হলেই তা দ্রুত ব্যবহার করা সম্ভব।
মার্কিন বাহিনীর ৩৭৭তম টেস্ট অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন গ্রুপের কমান্ডার কর্নেল ডাস্টিন হারমন বলেন, ‘পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণই আমাদের সক্ষমতা যাচাই এবং আমাদের ব্যবস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করার সবচেয়ে দৃশ্যমান ও গুরুত্বপূর্ণ উপায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর নারী-পুরুষরা দেশের প্রতিরক্ষায় সবচেয়ে উচ্চ প্রশিক্ষিত পেশাজীবীদের মধ্যে অন্যতম। এই পরীক্ষাগুলো প্রমাণ করে, এই গুরুত্বপূর্ণ মিশন পরিচালনায় তারা অত্যন্ত সক্ষম। পাশাপাশি এগুলো থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করে, আমাদের ব্যবস্থাগুলো যেকোনো সময় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত ও নির্ভরযোগ্য।’

মার্কিন বাহিনী নিয়মিত পরীক্ষার কথা বললেও সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন সময় এ ধরনের পরীক্ষা প্রতিপক্ষের কাছে একটি শক্ত বার্তা হিসেবেও কাজ করে থাকে।
বিশেষ করে পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে যখন ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত প্রতিরোধ ব্যবস্থা যে পূর্ণ সক্ষমতায় রয়েছে, এটি প্রদর্শন করাও যুক্তরাষ্ট্রের এ পরীক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ পরীক্ষা শুধু ইরানের উদ্দেশেই নয়; বরং বৈশ্বিক শক্তিগুলোর কাছেও যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী বার্তা।
পারমাণবিক প্রতিরোধের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে রাশিয়া এবং চীনও। বিশ্ব রাজনীতিতে এই তিন পরাশক্তির মধ্যে পারমাণবিক ভারসাম্য দীর্ঘদিন ধরে কৌশলগত স্থিতিশীলতার একটি প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ত্র প্রতিযোগিতা, আঞ্চলিক সংঘাত ও নতুন প্রযুক্তির কারণে এই ভারসাম্য আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম ‘মিনিটম্যান থ্রি’ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা সেই ভারসাম্যেও রাশিয়া ও চীনের জন্য বড় বার্তা।
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তা গোটা মধ্যপ্রাচ্যেই বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল, জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর প্রভাব হবে বিস্তৃত।
এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কৌশলগত’ অস্ত্র পরীক্ষা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে— এটি কি কেবল নিয়মিত সামরিক পরীক্ষা, নাকি চলমান সংঘাতের মধ্যেই শক্তির প্রদর্শন?
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, এনডিটিভি, ইউএস স্টেটস স্পেস ফোর্স, এয়ার ফোর্স নিউক্লিয়ার উইপনস সেন্টার

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল স্পষ্ট করেছেন যে, বার্লিন ইরানে কোনো ধরনের 'শাসন পরিবর্তন' অভিযানে সমর্থন দেবে না।
৯ ঘণ্টা আগে
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এনবিসিতে যে মন্তব্য করেছিলেন যে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলি স্থল আক্রমণের জন্য প্রস্তুত, সেটিও ‘অযথা মন্তব্য’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
৯ ঘণ্টা আগে
ট্রাম্প বলেন, “তারা এখন ডাকছে। বলছে— ‘একটি চুক্তি করলে কেমন হয়?’ কিন্তু আমি বলেছি, তোমরা খানিকটা দেরি করে ফেলেছ।”
১০ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকা পরিস্থিতির মধ্যে ইরাক ও আশপাশের অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২৭টি হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক (আইআরআই)।
১১ ঘণ্টা আগে