ইরান যুদ্ধে জয়ী হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০: ৩৭
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন হামলায় ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনীসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো বিধ্বস্ত হয়েছে এবং দেশটিতে কার্যকর শাসন পরিবর্তন ঘটেছে। তবে যুদ্ধের এই দ্রুত সমাপ্তিতে খোদ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ‘হতাশ’ হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একদিকে যখন রণক্ষেত্রে ধ্বংসলীলা আর শীর্ষ নেতাদের প্রাণহানির খবর আসছে, অন্যদিকে তখন পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে ওয়াশিংটনের ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব পাঠানোর গুঞ্জন—সব মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটে এক রহস্যময় ও জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা বিজয়ী হয়েছি। এ যুদ্ধে ইতোমধ্যে আমাদের জয় এসে গেছে। আমরা তাদের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করেছি…. বিমানবাহিনী, অস্ত্রাগার, এবং বিভিন্ন সেনা-স্থাপনায় হামলা করেছি…নিউ ইয়র্ক টাইমস, এবিসি, সিবিসি-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রচুর ভুয়া সংবাদ ছড়াচ্ছে; কিন্তু সত্য হলো— আমরা জয় পেয়েছি এবং এত দ্রুত বিজয় আসায় পিট (হেগসেথ) খানিকটা হতাশ হয়েছে।”

নিজ বক্তব্যে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানে কার্যকরভাবে সরকারের পরিবর্তন হয়েছে এবং বর্তমানে যারা ইরানের নেতৃত্বে আছেন, তারা আগের নেতাদের থেকে ‘অনেকটা ভিন্ন’। ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার সংলাপের মধ্যে আছেন বলেও উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইরানের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইতেমধ্যে ইরানে নিহত হয়েছেন ২ হাজারের বেশি মানুষ।

এদিকে সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে।

তবে গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইরানকে ১৫টি পয়েন্ট সম্বলিত একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রস্তাবটি তেহরানে পৌঁছানো হয়েছে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

লন্ডনে পরস্পরবিরোধী দুই মিছিলে হাজার হাজার মানুষ

নগর পুলিশ একে একে সাম্প্রতিক বছরের অন্যতম বড় পুলিশি তৎপরতা বলে উল্লেখ করেছে। কারণ শনিবার বিকেলে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে এফএ কাপ ফাইনাল উপলক্ষে হাজার হাজার ফুটবল সমর্থকও উপস্থিত হয়েছিলেন।

১৩ ঘণ্টা আগে

ইবোলা ভাইরাসে জরুরি অবস্থা ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

জেনেভাভিত্তিক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ও উগান্ডায় বুন্দিবুগিও ভাইরাসজনিত ইবোলা সংক্রমণকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগজনক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা (পিএইচইআইসি) হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

১৪ ঘণ্টা আগে

হামলার হুমকির জবাবে পাল্টা যুদ্ধের ঘোষণা ইরানের

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ওয়াশিংটনে জ্বালানি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং গৃহঋণের সুদের হার যেভাবে বাড়ছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দার দিকে যেতে পারে বলে দাবি তেহরানের। আল-জাজিরার বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

১৫ ঘণ্টা আগে

আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধ অত্যাসন্ন ধরে নিয়ে ইতিমধ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত পদক্ষেপের জন্য এখন কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেষ সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

১৬ ঘণ্টা আগে