
মো. কাফি খান

ফুটবলের ভাষায় ব্রাজিল শুধু একটি দেশের নাম নয়, এটি একটি অনুভূতি। হলুদ জার্সি, সাম্বার ছন্দ, জোগো বনিতোর শিল্প, পেলের উত্তরাধিকার, গ্যারিঞ্চার জাদু, জিকোর সৌন্দর্য, রোমারিওর ক্ষিপ্রতা, রোনালদোর বিস্ফোরণ, রোনালদিনহোর হাসি, কাকার সৌন্দর্য এবং নেইমারের সৃজনশীলতা— সব মিলিয়ে ব্রাজিল যেন বিশ্ব ফুটবলের এক জীবন্ত মহাকাব্য।
কিন্তু ফুটবল নিষ্ঠুরও বটে। এখানে অতীতের গৌরব বর্তমানের সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। ২০০২ সালে পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে ব্রাজিল বারবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখেছে, কিন্তু প্রতিবারই কোনো না কোনো মোড়ে এসে গল্পটি অসমাপ্ত থেকে গেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে ২-১ ব্যবধানে রাউন্ড অব ১৬ থেকে বিদায় সেই অসমাপ্ত গল্পের সর্বশেষ অধ্যায়। ১৯৯০ সালের পর এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে দ্রুত বিশ্বকাপ বিদায়। এটি কেবল একটি ম্যাচে পরাজয় নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের পরিবর্তিত শক্তির ভারসাম্যের প্রতিচ্ছবি।
২০০২ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্রাজিল তাদের পঞ্চম বিশ্বকাপ জয় করে। রোনালদো, রিভালদো ও রোনালদিনহোর আক্রমণভাগ ছিল ইতিহাসের অন্যতম সেরা। মনে হয়েছিল, বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিলের আধিপত্য আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
কিন্তু ২০০৬ সালে জার্মানিতে কোয়ার্টার ফাইনালে জিনেদিন জিদানের অসাধারণ নেতৃত্বে ফ্রান্স ১-০ ব্যবধানে ব্রাজিলকে বিদায় করে। তারকাখচিত দলটি প্রত্যাশার ভার বহন করতে পারেনি। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ডুঙ্গার শৃঙ্খলাবদ্ধ দল প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেও নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায়। সেই ম্যাচে মানসিক দৃঢ়তার অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে ব্রাজিলের স্বপ্ন ছিল ষষ্ঠ শিরোপা। কিন্তু সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ৭-১ গোলের ঐতিহাসিক পরাজয় শুধু ব্রাজিল নয়, সমগ্র ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেয়। সেই ম্যাচ আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি।
২০১৮ সালে বেলজিয়ামের কাছে ২-১ ব্যবধানে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায়। সুযোগ ছিল, দখল ছিল, কিন্তু কার্যকারিতা ছিল না।
২০২২ সালে কাতারে অতিরিক্ত সময়ে এগিয়ে থেকেও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে টাইব্রেকারে বিদায়। অনেকের মতে, এটি ছিল ব্রাজিলের সবচেয়ে বেদনাদায়ক আধুনিক বিশ্বকাপ পরাজয়।
অবশেষে ২০২৬ সালে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হেরে রাউন্ড অব ১৬ থেকেই বিদায়। বিশ্ব ফুটবলের নতুন যুগে এটি একটি প্রতীকী ঘটনা।
ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শক্তি সবসময়ই প্রতিভা। কিন্তু আধুনিক ফুটবলে প্রতিভার পাশাপাশি কৌশল, পরিকল্পনা, তথ্যনির্ভর প্রস্তুতি এবং মানসিক স্থিতিশীলতা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
গত দুই দশকে ইউরোপীয় ফুটবল অসাধারণভাবে এগিয়েছে। উচ্চমাত্রার স্পোর্টস সায়েন্স, ডেটা অ্যানালিটিক্স, ভিডিও বিশ্লেষণ, কৌশলগত নমনীয়তা এবং সুসংগঠিত যুব উন্নয়ন ব্যবস্থা তাদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। অন্যদিকে ব্রাজিল এখনো অনেক সময় ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। ম্যাচের কঠিন মুহূর্তে দলগত কাঠামো অনেক সময় ভেঙে পড়ে।
এই বিশ্বকাপ প্রমাণ করেছে, এখন আর কোনো ম্যাচ সহজ নয়। নরওয়ে, মরক্কো, প্যারাগুয়ে, কানাডা কিংবা কেপ ভার্দের মতো দলগুলো দেখিয়েছে, সঠিক পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো শক্তিধর দলকে হারানো সম্ভব। ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের জয়ও ছিল সুসংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত পালটা আক্রমণ এবং অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তার ফল।
ফুটবল তাই এখন শুধু শিল্প নয়, এটি বিজ্ঞানও।
একসময় ব্রাজিলের ফুটবল মানেই ছিল সৌন্দর্যের প্রতীক। কিন্তু আধুনিক ফুটবল কেবল সুন্দর খেললেই জেতা যায় না। আজকের বিশ্বকাপে দলগুলো বলের দখল, প্রেসিং, ট্রানজিশন, সেট-পিস, শারীরিক সক্ষমতা ও ম্যাচ ব্যবস্থাপনাকে সমান গুরুত্ব দেয়।
ব্রাজিলের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— তারা কি নিজেদের ঐতিহ্য বজায় রেখেই আধুনিক ফুটবলের বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে?
২০০২ সালের পর অনুষ্ঠিত ছয়টি বিশ্বকাপে ব্রাজিল একবারও ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি। ২০০৬, ২০১০, ২০১৮ ও ২০২২ সালে কোয়ার্টার ফাইনালেই বিদায় নিতে হয়েছে। ২০১৪ সালে সেমিফাইনালে পৌঁছেও ৭-১ গোলের ঐতিহাসিক পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। আর ২০২৬ সালে ৩৬ বছরের মধ্যে প্রথমবার রাউন্ড অব ১৬ থেকেই বিদায়।
এই পরিসংখ্যান শুধু ফলাফল নয়, বিশ্ব ফুটবলের পরিবর্তিত শক্তির মানচিত্রও তুলে ধরে।
একসময় বিশ্বকাপের শিরোপার আলোচনায় কয়েকটি দেশের নামই ঘুরে ফিরে আসত। আজ সেই বাস্তবতা বদলে গেছে। মরক্কো, নরওয়ে, ক্রোয়েশিয়া, বেলজিয়াম, প্যারাগুয়ে এবং আরও অনেক দল দেখিয়ে দিয়েছে, আধুনিক ফুটবলে শৃঙ্খলাবদ্ধ দলগত ফুটবল অনেক সময় ব্যক্তিগত প্রতিভাকেও হার মানায়। এটাই ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বার্তা।
ব্রাজিলের জন্য এখন আত্মসমালোচনার সময়। তাদের যুব উন্নয়ন কাঠামোকে আরও বৈজ্ঞানিক করতে হবে। ডেটা অ্যানালিটিক্স, স্পোর্টস সায়েন্স, মানসিক প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত অভিযোজনকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের শুধু তারকা নয়, দলগত নেতা হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।
ব্রাজিলের ইতিহাস প্রমাণ করে, তারা যতবার পড়েছে, ততবারই আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে। পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপা, অসংখ্য কিংবদন্তি এবং বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ফুটবল সংস্কৃতি কোনো একটি ব্যর্থতায় মুছে যায় না। তবে এটাও সত্য, অতীতের স্মৃতি দিয়ে ভবিষ্যতের ট্রফি জেতা যায় না।
সাম্বার ছন্দকে আবার বিশ্বকাপের সিংহাসনে ফিরিয়ে আনতে হলে ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে হবে। সম্ভবত ২০২৬ সালের এই বিদায় ব্রাজিলের পতনের গল্প নয়, বরং তাদের পরবর্তী পুনর্জাগরণের সূচনা।
ফুটবলে ইতিহাস সম্মান এনে দেয়। কিন্তু ভবিষ্যৎ জয় করে তারা, যারা নিজেদের অতীতকে শ্রদ্ধা করেও পরিবর্তনের সাহস দেখায়। আজ ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ম্যাচ কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নয়, বরং নিজেদের সম্ভাবনাকে নতুন করে আবিষ্কারের লড়াই।
লেখক: কলামিস্ট ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক

ফুটবলের ভাষায় ব্রাজিল শুধু একটি দেশের নাম নয়, এটি একটি অনুভূতি। হলুদ জার্সি, সাম্বার ছন্দ, জোগো বনিতোর শিল্প, পেলের উত্তরাধিকার, গ্যারিঞ্চার জাদু, জিকোর সৌন্দর্য, রোমারিওর ক্ষিপ্রতা, রোনালদোর বিস্ফোরণ, রোনালদিনহোর হাসি, কাকার সৌন্দর্য এবং নেইমারের সৃজনশীলতা— সব মিলিয়ে ব্রাজিল যেন বিশ্ব ফুটবলের এক জীবন্ত মহাকাব্য।
কিন্তু ফুটবল নিষ্ঠুরও বটে। এখানে অতীতের গৌরব বর্তমানের সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। ২০০২ সালে পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে ব্রাজিল বারবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখেছে, কিন্তু প্রতিবারই কোনো না কোনো মোড়ে এসে গল্পটি অসমাপ্ত থেকে গেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে ২-১ ব্যবধানে রাউন্ড অব ১৬ থেকে বিদায় সেই অসমাপ্ত গল্পের সর্বশেষ অধ্যায়। ১৯৯০ সালের পর এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে দ্রুত বিশ্বকাপ বিদায়। এটি কেবল একটি ম্যাচে পরাজয় নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের পরিবর্তিত শক্তির ভারসাম্যের প্রতিচ্ছবি।
২০০২ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্রাজিল তাদের পঞ্চম বিশ্বকাপ জয় করে। রোনালদো, রিভালদো ও রোনালদিনহোর আক্রমণভাগ ছিল ইতিহাসের অন্যতম সেরা। মনে হয়েছিল, বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিলের আধিপত্য আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
কিন্তু ২০০৬ সালে জার্মানিতে কোয়ার্টার ফাইনালে জিনেদিন জিদানের অসাধারণ নেতৃত্বে ফ্রান্স ১-০ ব্যবধানে ব্রাজিলকে বিদায় করে। তারকাখচিত দলটি প্রত্যাশার ভার বহন করতে পারেনি। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ডুঙ্গার শৃঙ্খলাবদ্ধ দল প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেও নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায়। সেই ম্যাচে মানসিক দৃঢ়তার অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে ব্রাজিলের স্বপ্ন ছিল ষষ্ঠ শিরোপা। কিন্তু সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ৭-১ গোলের ঐতিহাসিক পরাজয় শুধু ব্রাজিল নয়, সমগ্র ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেয়। সেই ম্যাচ আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি।
২০১৮ সালে বেলজিয়ামের কাছে ২-১ ব্যবধানে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায়। সুযোগ ছিল, দখল ছিল, কিন্তু কার্যকারিতা ছিল না।
২০২২ সালে কাতারে অতিরিক্ত সময়ে এগিয়ে থেকেও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে টাইব্রেকারে বিদায়। অনেকের মতে, এটি ছিল ব্রাজিলের সবচেয়ে বেদনাদায়ক আধুনিক বিশ্বকাপ পরাজয়।
অবশেষে ২০২৬ সালে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হেরে রাউন্ড অব ১৬ থেকেই বিদায়। বিশ্ব ফুটবলের নতুন যুগে এটি একটি প্রতীকী ঘটনা।
ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শক্তি সবসময়ই প্রতিভা। কিন্তু আধুনিক ফুটবলে প্রতিভার পাশাপাশি কৌশল, পরিকল্পনা, তথ্যনির্ভর প্রস্তুতি এবং মানসিক স্থিতিশীলতা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
গত দুই দশকে ইউরোপীয় ফুটবল অসাধারণভাবে এগিয়েছে। উচ্চমাত্রার স্পোর্টস সায়েন্স, ডেটা অ্যানালিটিক্স, ভিডিও বিশ্লেষণ, কৌশলগত নমনীয়তা এবং সুসংগঠিত যুব উন্নয়ন ব্যবস্থা তাদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। অন্যদিকে ব্রাজিল এখনো অনেক সময় ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। ম্যাচের কঠিন মুহূর্তে দলগত কাঠামো অনেক সময় ভেঙে পড়ে।
এই বিশ্বকাপ প্রমাণ করেছে, এখন আর কোনো ম্যাচ সহজ নয়। নরওয়ে, মরক্কো, প্যারাগুয়ে, কানাডা কিংবা কেপ ভার্দের মতো দলগুলো দেখিয়েছে, সঠিক পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো শক্তিধর দলকে হারানো সম্ভব। ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের জয়ও ছিল সুসংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত পালটা আক্রমণ এবং অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তার ফল।
ফুটবল তাই এখন শুধু শিল্প নয়, এটি বিজ্ঞানও।
একসময় ব্রাজিলের ফুটবল মানেই ছিল সৌন্দর্যের প্রতীক। কিন্তু আধুনিক ফুটবল কেবল সুন্দর খেললেই জেতা যায় না। আজকের বিশ্বকাপে দলগুলো বলের দখল, প্রেসিং, ট্রানজিশন, সেট-পিস, শারীরিক সক্ষমতা ও ম্যাচ ব্যবস্থাপনাকে সমান গুরুত্ব দেয়।
ব্রাজিলের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— তারা কি নিজেদের ঐতিহ্য বজায় রেখেই আধুনিক ফুটবলের বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে?
২০০২ সালের পর অনুষ্ঠিত ছয়টি বিশ্বকাপে ব্রাজিল একবারও ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি। ২০০৬, ২০১০, ২০১৮ ও ২০২২ সালে কোয়ার্টার ফাইনালেই বিদায় নিতে হয়েছে। ২০১৪ সালে সেমিফাইনালে পৌঁছেও ৭-১ গোলের ঐতিহাসিক পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। আর ২০২৬ সালে ৩৬ বছরের মধ্যে প্রথমবার রাউন্ড অব ১৬ থেকেই বিদায়।
এই পরিসংখ্যান শুধু ফলাফল নয়, বিশ্ব ফুটবলের পরিবর্তিত শক্তির মানচিত্রও তুলে ধরে।
একসময় বিশ্বকাপের শিরোপার আলোচনায় কয়েকটি দেশের নামই ঘুরে ফিরে আসত। আজ সেই বাস্তবতা বদলে গেছে। মরক্কো, নরওয়ে, ক্রোয়েশিয়া, বেলজিয়াম, প্যারাগুয়ে এবং আরও অনেক দল দেখিয়ে দিয়েছে, আধুনিক ফুটবলে শৃঙ্খলাবদ্ধ দলগত ফুটবল অনেক সময় ব্যক্তিগত প্রতিভাকেও হার মানায়। এটাই ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বার্তা।
ব্রাজিলের জন্য এখন আত্মসমালোচনার সময়। তাদের যুব উন্নয়ন কাঠামোকে আরও বৈজ্ঞানিক করতে হবে। ডেটা অ্যানালিটিক্স, স্পোর্টস সায়েন্স, মানসিক প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত অভিযোজনকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের শুধু তারকা নয়, দলগত নেতা হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।
ব্রাজিলের ইতিহাস প্রমাণ করে, তারা যতবার পড়েছে, ততবারই আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে। পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপা, অসংখ্য কিংবদন্তি এবং বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ফুটবল সংস্কৃতি কোনো একটি ব্যর্থতায় মুছে যায় না। তবে এটাও সত্য, অতীতের স্মৃতি দিয়ে ভবিষ্যতের ট্রফি জেতা যায় না।
সাম্বার ছন্দকে আবার বিশ্বকাপের সিংহাসনে ফিরিয়ে আনতে হলে ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে হবে। সম্ভবত ২০২৬ সালের এই বিদায় ব্রাজিলের পতনের গল্প নয়, বরং তাদের পরবর্তী পুনর্জাগরণের সূচনা।
ফুটবলে ইতিহাস সম্মান এনে দেয়। কিন্তু ভবিষ্যৎ জয় করে তারা, যারা নিজেদের অতীতকে শ্রদ্ধা করেও পরিবর্তনের সাহস দেখায়। আজ ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ম্যাচ কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নয়, বরং নিজেদের সম্ভাবনাকে নতুন করে আবিষ্কারের লড়াই।
লেখক: কলামিস্ট ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক

ভিনিসিয়ুস জানান, পেনাল্টি নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল কোচ কার্লো অ্যানচেলত্তির। ম্যাচ শুরুর আগেই ব্রুনো গিমারায়েসকে প্রথম পেনাল্টি টেকার হিসেবে ঠিক করে দিয়েছিলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ভিনিসিয়ুস বলেন, “কোচ ম্যাচের আগেই ঠিক করে দেন কে পেনাল্টি নেবে। তিনি ব্রুনোকেই বেছে নিয়েছিলেন।”
১০ ঘণ্টা আগে
শুরুতে একটি সহজ ক্যাচ হাতছাড়া হলেও পরে তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার দারুণ বোলিংয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। ১৫ ওভারের মধ্যেই ৫ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ৪৭ রান।
১১ ঘণ্টা আগে
বিশ্বকাপের প্রথম ২৪ দিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্ট প্রায় পুরোপুরিই রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের একটি আবেদন ঘিরে সেই পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গেল। ফিফার নিরপেক্ষতা, ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক প্রভাব— সবকিছুই এখন প্রশ্নের মুখে।
১২ ঘণ্টা আগে
ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই শুরু হয় আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ। ম্যাচের ৩৬ ও ৩৮ মিনিটে, মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। তবে সেই ধাক্কা সামলে উঠতে বেশি সময় নেয়নি মেক্সিকো; ৪২ মিনিটে হুলিয়ান কিনিওনেসের দুর্দান্ত গোলে ব্যবধান কমিয়ে ২-১-এ প্রথ
১৪ ঘণ্টা আগে