
সৈয়দ তোশারফ আলী

একবিংশ শতাব্দীর আন্তর্জাতিক রাজনীতি ক্রমেই বহুমাত্রিক ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভারতের আঞ্চলিক নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা, ইন্দো-প্যাসিফিককে ঘিরে নতুন নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থাপত্য এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস— সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি।
এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী অবস্থান, দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি, বৃহৎ জনসংখ্যা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত করেছে।
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো— চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তির সঙ্গে কীভাবে এমন সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়, যাতে জাতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চ সুরক্ষিত থাকে এবং কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার বলয়ে দেশ আটকে না পড়ে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক ভিত্তি হওয়া উচিত জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন। এই লক্ষ্যে ঘোষিত হয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি— ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’— যা আজও বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর কূটনৈতিক দর্শন। তবে বর্তমান বিশ্বে এই নীতির সফল প্রয়োগের জন্য কেবল সদিচ্ছা নয়; প্রয়োজন বিচক্ষণতা, বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল।
চীন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী। পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতেও শিল্পায়ন, প্রযুক্তি এবং উৎপাদন খাতে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, চীনের বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার এবং উচ্চমানের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও উদ্ভাবনের অন্যতম উৎস। বাংলাদেশ যদি আগামী দশকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে চায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। শ্রমমান, সুশাসন ও মানবাধিকার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু সেগুলোকে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করাই হবে বিচক্ষণ কূটনীতির পরিচায়ক।
ভারত বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী। ভৌগোলিক বাস্তবতা পরিবর্তন করা যায় না। তাই দুই দেশের সম্পর্কও কেবল আবেগের নয়, বাস্তবতার ভিত্তিতেই পরিচালিত হওয়া উচিত। সীমান্ত নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বাণিজ্য, ট্রানজিট এবং আঞ্চলিক যোগাযোগে দুই দেশের সহযোগিতা উভয়ের জন্যই লাভজনক। তবে তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, সীমান্তে হতাহতের ঘটনা এবং বাণিজ্য বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো দ্রুত ও ন্যায্যভাবে সমাধান করা গেলে পারস্পরিক আস্থা আরও দৃঢ় হবে।
বাংলাদেশের উচিত এই তিনটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রতিযোগিতামূলক নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে দেখা। চীন অবকাঠামো ও শিল্পায়নে সহায়তা করতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি, বাজার ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে এবং প্রতিবেশী ভারত আঞ্চলিক সংযোগ ও স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনটি সম্পর্কের প্রত্যেকটিরই স্বতন্ত্র মূল্য রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ যেন কোনো ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ না হয়ে ওঠে। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের একমাত্র ভিত্তি হওয়া উচিত তার নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ। কোনো সামরিক জোটে জড়িয়ে পড়া বা একক শক্তির ওপর অতিনির্ভরশীলতা দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
একই সঙ্গে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা কাজে লাগানোই হতে পারে আগামী দশকের প্রধান কূটনৈতিক লক্ষ্য। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি তখনই সফল হবে, যখন তা সরাসরি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখবে।
পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাও জরুরি। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কূটনৈতিক অগ্রাধিকারে মৌলিক পরিবর্তন এলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়। তাই পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক বিষয়গুলোতে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
বাংলাদেশ আজ আর সাহায্যনির্ভর রাষ্ট্র নয়; বরং উদীয়মান একটি আঞ্চলিক অর্থনীতি। সেই বাস্তবতার আলোকে কূটনীতিও হতে হবে আত্মবিশ্বাসী, ভারসাম্যপূর্ণ এবং দূরদর্শী। বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রেখে, কিন্তু কারও প্রভাববলয়ে আবদ্ধ না হয়ে, বাংলাদেশ তার সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অটুট রাখতে পারলেই ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ ও সমৃদ্ধ হবে।
বাংলাদেশের সামনে তাই একটিই কার্যকর পথ— ভারসাম্যের কূটনীতি। চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ, সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলাই দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদা নিশ্চিত করার সর্বোত্তম কৌশল। বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে এ ধরনের বিচক্ষণ ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট

একবিংশ শতাব্দীর আন্তর্জাতিক রাজনীতি ক্রমেই বহুমাত্রিক ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভারতের আঞ্চলিক নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা, ইন্দো-প্যাসিফিককে ঘিরে নতুন নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থাপত্য এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস— সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি।
এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী অবস্থান, দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি, বৃহৎ জনসংখ্যা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত করেছে।
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো— চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তির সঙ্গে কীভাবে এমন সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়, যাতে জাতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চ সুরক্ষিত থাকে এবং কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার বলয়ে দেশ আটকে না পড়ে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক ভিত্তি হওয়া উচিত জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন। এই লক্ষ্যে ঘোষিত হয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি— ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’— যা আজও বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর কূটনৈতিক দর্শন। তবে বর্তমান বিশ্বে এই নীতির সফল প্রয়োগের জন্য কেবল সদিচ্ছা নয়; প্রয়োজন বিচক্ষণতা, বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল।
চীন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী। পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতেও শিল্পায়ন, প্রযুক্তি এবং উৎপাদন খাতে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, চীনের বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার এবং উচ্চমানের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও উদ্ভাবনের অন্যতম উৎস। বাংলাদেশ যদি আগামী দশকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে চায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। শ্রমমান, সুশাসন ও মানবাধিকার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু সেগুলোকে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করাই হবে বিচক্ষণ কূটনীতির পরিচায়ক।
ভারত বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী। ভৌগোলিক বাস্তবতা পরিবর্তন করা যায় না। তাই দুই দেশের সম্পর্কও কেবল আবেগের নয়, বাস্তবতার ভিত্তিতেই পরিচালিত হওয়া উচিত। সীমান্ত নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বাণিজ্য, ট্রানজিট এবং আঞ্চলিক যোগাযোগে দুই দেশের সহযোগিতা উভয়ের জন্যই লাভজনক। তবে তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, সীমান্তে হতাহতের ঘটনা এবং বাণিজ্য বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো দ্রুত ও ন্যায্যভাবে সমাধান করা গেলে পারস্পরিক আস্থা আরও দৃঢ় হবে।
বাংলাদেশের উচিত এই তিনটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রতিযোগিতামূলক নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে দেখা। চীন অবকাঠামো ও শিল্পায়নে সহায়তা করতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি, বাজার ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে এবং প্রতিবেশী ভারত আঞ্চলিক সংযোগ ও স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনটি সম্পর্কের প্রত্যেকটিরই স্বতন্ত্র মূল্য রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ যেন কোনো ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ না হয়ে ওঠে। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের একমাত্র ভিত্তি হওয়া উচিত তার নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ। কোনো সামরিক জোটে জড়িয়ে পড়া বা একক শক্তির ওপর অতিনির্ভরশীলতা দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
একই সঙ্গে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা কাজে লাগানোই হতে পারে আগামী দশকের প্রধান কূটনৈতিক লক্ষ্য। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি তখনই সফল হবে, যখন তা সরাসরি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখবে।
পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাও জরুরি। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কূটনৈতিক অগ্রাধিকারে মৌলিক পরিবর্তন এলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়। তাই পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক বিষয়গুলোতে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
বাংলাদেশ আজ আর সাহায্যনির্ভর রাষ্ট্র নয়; বরং উদীয়মান একটি আঞ্চলিক অর্থনীতি। সেই বাস্তবতার আলোকে কূটনীতিও হতে হবে আত্মবিশ্বাসী, ভারসাম্যপূর্ণ এবং দূরদর্শী। বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রেখে, কিন্তু কারও প্রভাববলয়ে আবদ্ধ না হয়ে, বাংলাদেশ তার সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অটুট রাখতে পারলেই ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ ও সমৃদ্ধ হবে।
বাংলাদেশের সামনে তাই একটিই কার্যকর পথ— ভারসাম্যের কূটনীতি। চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ, সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলাই দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদা নিশ্চিত করার সর্বোত্তম কৌশল। বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে এ ধরনের বিচক্ষণ ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং নতুন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সূচনা। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন, এরপর নির্ধারিত ৯০ দিন সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন
১০ দিন আগে
কেন বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় মুসলিম বিশ্বের উপস্থিতি সীমিত? কেন এত প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বহু মুসলিম দেশ প্রযুক্তির ক্রেতা, উদ্ভাবক নয়? কেন রাজনৈতিক বিভক্তি ও অভ্যন্তরীণ সংঘাত বাইরের শক্তির জন্য হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করে?
১১ দিন আগে
২০ জুলাইয়ের সেই দিন এবং এরপর পুলিশি দমন-পীড়ন প্রত্যক্ষ করার পরও মানুষ যে আবার যন্তর মন্তরে ফিরে এসেছে, তা সম্ভব হতো না, যদি এমন এক শ্রেণির মানুষ এতে যুক্ত না হতো, যারা এতদিন সংগঠিত রাজনীতির বাইরে ছিল। তারা এতদিন শুধু পর্যবেক্ষক ছিল। কিন্তু এবার তারা সিদ্ধান্ত নেয়, আর নয়। নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও স্বী
১১ দিন আগে
বিশ্ব জুড়ে মানুষের খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস এখন পোল্ট্রি বা ফার্মের মুরগির মাংস। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এই মাংসের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। তবে এই প্রতিযোগিতায় বিশ্ববাজারে এখনো বেশ পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) তথ্যমতে, বি
১২ দিন আগে