আমরা এখনো একটি রাষ্ট্র গঠন করতে পারছি না: ফরহাদ মজহার

ঢাবি প্রতিনিধি

কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার বলেছেন, আমরা এখনো একটি রাষ্ট্র গঠন করতে পারছি না। গঠন করা সম্ভব হলে প্রতিবন্ধী নাগরিকরা এমনিতেই তার মধ্যে চলে আসবেন। কারও দয়ার প্রয়োজন হবে না।

শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনায় প্রতিবন্ধীদের নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জনপরিসরে অদৃশ্য প্রতিবন্ধী নাগরিক: বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে আমাদের প্রত্যাশা’ শিরোনামে আলোচনাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড এডভেক্যাসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান)।

ফরহাদ মজহার বলেন, আমরা গ্রামে বড় হয়েছি। গ্রামে প্রতিবন্ধীদের জন্য একটা আলাদা দরদ ছিল। প্রতিবন্ধী ইস্যুটা সামাজিকভাবে গ্রামীণ সমাজে বিরাট কোনো সংকট আকারে হাজির হয়নি। কোনো না কোনোভাবে সমাজ তার (প্রতিবন্ধী) প্রতি রেসপন্স করে। এ বিষয়টা সমাজে ছিল। কিন্তু এ বিষয়টি রাষ্ট্র এবং সমাজে ভেঙে গেছে। পুঁজিবাদের যে ব্যাপার, এটা সবকিছু ভেঙে ফেলে।

তিনি বলেন, আমাদের সমাজের রাষ্ট্রচিন্তা অত্যন্ত দুর্বল। আমরা রাষ্ট্র এবং সরকারের পার্থক্য বুঝি না। আমি বারবার ‘গঠন’ কথাটা বলি। এই গঠন ধারণার মধ্যেই প্রতিবন্ধী কথাটি আছে। কারণ, সে দেশের নাগরিক এবং আপনি যে রাষ্ট্র গঠন করবেন, তার নীতিগত ভিত্তির মধ্যে রাষ্ট্রের ভিন্নভাবে প্রতিভাবান মানুষদের থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, খাদ্যাভ্যাসের সাথে অনেককিছু জড়িত। আমাদের দেশের অটিস্টিক বাচ্চার সংখ্যা বেড়েছে। সেগুলো সয়াবিন তেল খেয়ে। সয়াবিন যেহেতু জেনেটিক্যালি মডিফাইড; বিদেশে তারা খায় না। তৃতীয় বিশ্বের দেশে খালাস করে। আমাদের যেগুলো ভালো সেগুলো নিয়ে তারা বলে, এটা খাওয়া যাবে না। কেবল বাইরে ব্যবহার করা যাবে।

আলোচনায় বাংলা একাডেমির পরিচালক অধ্যাপক আজম বলেন, যারা মানবসৃষ্টভাবে প্রতিবন্ধী, তাদের দায় রাষ্ট্র কখনো এড়াতে পারে না। এছাড়া যারা প্রাকৃতিকভাবে প্রতিবন্ধী তাদের দিকে তাদের মতো করে নজর দিতে পারাটা সভ্যতা-সংস্কৃতির স্মারক। আমাদের রাষ্ট্রের সক্ষমতা অনেক কমেছে। ফলে আকাঙ্ক্ষা তুঙ্গে নিয়ে অনেককিছু আমরা হয়তো চাইতে পারব না। কিন্তু বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে অনেক চাওয়া পূরণ করা সম্ভব।

আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীনের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু অসুস্থতার জন্য তিনি ছিলেন না। এছাড়া নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবির, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা উপস্থিত ছিলেন না। সালমা খাতুনের সঞ্চালনায় আলোচনায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বি-স্ক্যানের পরিচালক ইফতেখার মাহমুদ।

ইফতেখার মাহমুদ বলেন, আমাদের জন্য দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে পরিবর্তন হবে! আমাদের দেশে মানুষের বৈচিত্র্য কম। ফলে এখানে বহুত্ববাদী আলোচনা কম হয়। সে কারণে আমরা লেখাপড়া করলেও ভিক্ষুক, হকারি করলেও ভিক্ষুক; এরকম একটা মানসিকতা কাজ করে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

হাইকোর্টের ২ বিচারপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ

এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি এক বছর ধরে ছুটিতে থাকা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মামনুন রহমান পদত্যাগ করেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠানো পদত্যাগ পত্রটি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও আইন মন্ত্রণালয়ের ই-মেইলে পাঠান তিনি। কানাডা থেকে বিচারপতি মামনুন রহমান পদত্যাগ পত্রটি পাঠ

১০ ঘণ্টা আগে

একযোগে ইসির ১১২ কর্মকর্তাকে বদলি

ইসি জনবল ব্যবস্থাপনার শাখার সহকারি সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমানের স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়সহ বিভিন্ন উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তা পর্যায়ের ১১২ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

১০ ঘণ্টা আগে

তিন সচিবকে প্রত্যাহার

প্রত্যাহার হওয়া সচিবদের মধ্যে রয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মিজ রেহানা পারভীন।

১১ ঘণ্টা আগে

এবার বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন যারা

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫ প্রাপ্তরা হলেন- কবিতায় মোহন রায়হান, কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিস, প্রবন্ধ/গদ্যে সৈয়দ আজিজুল হক, শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ, অনুবাদে আলী আহমদ, গবেষণায় মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান, বিজ্ঞানে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী ও মুক্তিযুদ্ধে মঈদুল হাসান।

১১ ঘণ্টা আগে