পশ্চিমবঙ্গে ভোটের পর পুশ-ইনের চেষ্টা ৩৬ বার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ২২: ৩৭
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: টিভি থেকে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ৩৬টি পুশ-ইন চেষ্টা বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি সফলভাবে প্রতিরোধ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফের পুশ-ইন করা দুই হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে দুই হাজার ১৭৫ জনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ১১ জনকে বিএসএফের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং ১৮৩ জনকে পুশ-ব্যাক করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন। বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে অনুষ্ঠিত সীমান্ত সম্মেলনে বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংসদ সদস্যের প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহতদের পরিবারকে ভারত সরকারের সরাসরি আর্থিক সহায়তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা বা চুক্তি হয়নি। তবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ সরকার সবসময়ই সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র’ ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে এবং ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহিতার জন্য চাপ দিয়ে আসছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, সীমান্ত হত্যার ঘটনা কমাতে ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ নৈশ টহল বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে কোম্পানি বা ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে দ্রুত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

আরেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালেকের প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করে নন-লেথাল অস্ত্র ব্যবহারের জন্য বিএসএফকে অনুরোধ করা হচ্ছে। সংবেদনশীল সীমান্তে সমন্বিত টহল এবং নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকাকে ‘উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত করে সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বিওপির অধীন ৫-৭ কিলোমিটার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবি দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধে সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থায়ী বা অস্থায়ী পোস্ট নির্মাণ করা হয়েছে এবং মাদক ও চোরাকারবারের রুট বন্ধ করতে রাতের টহল বাড়ানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্তের নদী ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। রাত বা ঘন কুয়াশার সুযোগে পুশ-ইন, মাদক বা চোরাকারবার বন্ধ করতে থার্মাল ইমেজার, নাইট ভিশন ডিভাইস ও সিসিটিভির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংবেদনশীল এলাকায় ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্তে অপরাধের চেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে নস্যাৎ করা হচ্ছে।

পুশ-ইন ও চোরাকারবারিদের ঠেকাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনদের নিয়ে একটি ‘বর্ডার কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ’ গঠন করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, মাইকিংয়ের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় জনসচেতনতা বাড়ানো হয়েছে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা, নিরাপত্তা চাইল ৮০ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি

জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হচ্ছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে জানিয়ে নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি দিয়েছে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

২ ঘণ্টা আগে

নদী বাঁচাতে খুঁটিবিহীন সেতু চান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

নদী বাঁচাতে এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে হলে প্রচলিত খুঁটিযুক্ত সেতুর বদলে খুঁটিবিহীন বা ঝুলন্ত সেতু তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, পিলারভিত্তিক ব্রিজের ঐতিহ্য থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

৩ ঘণ্টা আগে

‘সমকামিতার’ অভিযোগ— ২ ঢাবি শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার

হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর দুই শিক্ষার্থীর আসন বাতিল করে তাদের হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি জানান, এটিকে প্রাথমিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

৪ ঘণ্টা আগে

৭ ধরনের মামলায় মধ্যস্থতার ক্ষমতা পেল সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস

আইনগুলো হলো— পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩; পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩; যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০; দণ্ডবিধি, ১৮৬০; সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এবং নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১।

৫ ঘণ্টা আগে