জুলাইয়ে সাংবাদিক নির্যাতনের ৩৬ ঘটনা, জুনের চেয়ে দ্বিগুণ: এমএসএফ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০০: ০৬
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের লোগো

জুলাই মাসে দেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬টিতে, যা আগের মাস জুনের তুলনায় দ্বিগুণ। জুনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ১৮টি ঘটনা ঘটেছিল। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) মাসিক মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এমএসএফ বলছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য গুরুতর হুমকি। একই সঙ্গে জুলাইয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় মামলা ও গ্রেপ্তারও বেড়েছে। এতে অনলাইনে মতপ্রকাশের ওপর চাপ আরও বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) এমএসএফ সভাপতি সুলতানা কামালের সই করা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি জাতীয় দৈনিক এবং স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে মব সহিংসতায় ৩১ জন নিহত হয়েছেন। জুনে এ সংখ্যা ছিল ৩২। এ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৭ জন। এমএসএফ বলছে, দেশের রাজনৈতিক ও আইনগত পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকার পতন-পরবর্তী মামলায় জুলাই মাসে নতুন করে ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এ সময়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা কমে ১২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে—জুনে ৩০৩ জন আহত হলেও জুলাইয়ে এ সংখ্যা নেমে এসেছে ৯৫ জনে। তবে নিহতের সংখ্যা সামান্য বেড়েছে। এমএসএফের মতে, এটি সংঘর্ষের ভয়াবহতা অব্যাহত থাকারই প্রমাণ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে জুলাই মাসে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া কারাগারে মারা গেছেন ৯ জন। এমএসএফের মতে, এ ধরনের ঘটনা দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে গোলাগুলি-সংক্রান্ত ঘটনায় জুলাইয়ে কেউ নিহত না হলেও আহতের সংখ্যা এক মাসের ব্যবধানে ২ থেকে বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। সংস্থাটির মতে, এতে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অস্থিরতার বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে।

প্রতিবেদনে অজ্ঞাতনামা ও পরিচয় শনাক্ত হওয়া লাশ উদ্ধারের ঘটনাকেও বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাই মাসে মোট ৮৯টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি ছিল অজ্ঞাতনামা এবং ৩৩টির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। আগের মাসের তুলনায় এ সংখ্যা বেশি। অধিকাংশ লাশের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া ও মানবাধিকার সুরক্ষা ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করে এমএসএফ।

সীমান্ত পরিস্থিতিও এখনো ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সীমান্তে পুশ-ইন, আটক এবং বিচ্ছিন্ন হত্যার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় সহিংসতার ঘটনাও বিচ্ছিন্নভাবে ঘটেছে, যা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছে সংস্থাটি।

এ ছাড়া জুলাই মাসে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। জুনে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ২ হাজার ৮৯৭ জনকে। জুলাইয়ে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৯৬ জনে। এমএসএফ বলছে, এই বৃদ্ধি আইন প্রয়োগের তৎপরতা বাড়ার ইঙ্গিত দিলেও অভিযানের স্বচ্ছতা এবং মানবাধিকার মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন

এমএসএফের জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ৩২০টি ঘটনা তারা পেয়েছিল। জুলাইয়ে এ সংখ্যা কমে হয়েছে ৩০৬টি। অর্থাৎ সার্বিক ঘটনা প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। তবে পরিস্থিতিকে এখনো উদ্বেগজনক বলে মনে করছে সংস্থাটি।

এমএসএফের পর্যবেক্ষণ বলছে, মোট অপরাধের সংখ্যা কমলেও নির্যাতনের ধরন এখন আরও বেশি নৃশংস ও জটিল রূপ নিয়েছে। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৯০টি। জুনে এ সংখ্যা ছিল ৬৮টি। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ।

জুনে যৌন নিপীড়ন বা হয়রানির ঘটনা ছিল ২১টি। জুলাইয়ে এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২২টি। অন্যদিকে, জুনে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিল ১৭টি। জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮টিতে। অর্থাৎ এক মাসে আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ।

এমএসএফ মনে করে, ধর্ষণের মতো ঘটনা বৃদ্ধি নারী ও শিশুদের চরম নিরাপত্তাহীনতার ইঙ্গিত দেয়। আর আত্মহত্যার উচ্চ হার সামাজিক নিপীড়ন ও বিচারহীনতার মানসিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

পরিত্যক্ত নবজাতক উদ্ধারের ঘটনাও উদ্বেগজনক

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১১টি নবজাতক উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮টি ছিল মৃত এবং ৩টি জীবিত।

এমএসএফ বলছে, সাধারণত এসব ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কার্যকর কোনো তদন্ত করে না। ফলে অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যায়। মৃত নবজাতকের ক্ষেত্রে পুলিশ সাধারণত অপমৃত্যুর মামলা করে। আর জীবিত নবজাতকদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সংস্থাটির মতে, বেআইনি সালিস ও নবজাতক পরিত্যাগের ঘটনাগুলো সমাজে দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে আরও দৃঢ় করছে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

ঢাবি শিক্ষকদের বহিষ্কার-অব্যাহতির প্রতিবাদ শিক্ষক সমিতির, সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি

১৫ ঘণ্টা আগে

ছাত্রীকে অশালীন মেসেজ পাঠিয়ে চাকরিচ্যুত খুবি অধ্যাপক

গত ১৮ জুন অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে মেসেঞ্জারে অশালীন মেসেজ পাঠানো ও ‘কুপ্রস্তাব’ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে ডিসিপ্লিনের প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এবার তাকে চাকরিচ্যুত করা হলো।

১৫ ঘণ্টা আগে

খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, শ্রমিকরা যাবেন আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে: মাহদী আমিন

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মাহদী আমিন বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই, আমাদের দুই দেশই অবিলম্বে এই শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। একটি নতুন ও আধুনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যত দ্রুতসম্ভব আমরা এই শ্রমবা

১ দিন আগে

জুলাইয়ের বিরোধিতা: সাদেকা হালিমসহ ৩ ঢাবি শিক্ষক বরখাস্ত, ৪ জনকে অব্যাহতি

ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও জবির সাবেক উপাচার্য ড. সাদেকা হালিম প্রসঙ্গে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

১ দিন আগে