দেশ-বিদেশের টাকায় জবিতে সোয়া লাখের গরু, ‘আনন্দ মিছিল’

জবি প্রতিনিধি
শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনের টাকাসহ দেশ-বিদেশ থেকে পাওয়া টাকায় কেনা সোয়া লাখ টাকার গরু নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর জবিতে ‘আনন্দ মিছিল’ করেন ‘গরু ভোজ’ কর্মসূচির আয়োজকরা। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনের টাকাসহ দেশ-বিদেশ থেকে পাওয়া টাকায় কেনা সোয়া লাখ টাকার গরু নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর জবিতে ‘আনন্দ মিছিল’ করেন ‘গরু ভোজ’ কর্মসূচির আয়োজকরা। ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে প্রশাসনের দেওয়া পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে ‘গরু ভোজ’ কর্মসূচির জন্য শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ও দেশ-বিদেশ থেকে পাওয়া অর্থে গরু কিনেছেন শিক্ষার্থীরা। এক লাখ ২৫ হাজার টাকার ওই গরুর পাশাপাশি ‘অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে’ ভোজের জন্য ছাগলও কেনা হয়েছে। পরে ওই গরু ও ছাগল নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ‘আনন্দ মিছিল’ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় ‘লাল গরু না কালা গরু, লাল গরু লাল গরু’, ‘গরু খাওয়ার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা।

‘গরু ভোজ’ কর্মসূচির জন্য গরু কেনার তথ্য জানিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা এসেছে। এর সঙ্গে দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্নভাবে অর্থসহায়তা এসেছে। এসব অর্থ দিয়েই এই গরু কেনা হয়েছে।’

মাসুদ রানা জানান, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে ‘গরু ভোজে’র খাবার বিতরণ করা হবে। কী পরিসরে রান্না হবে এবং কীভাবে খাবার বিতরণ করা হবে, তা পরে জানিয়ে দেওয়া হবে। সবাইকে ‘গরু ভোজে’র দাওয়াত জানান তিনি।

জকসুর এই নেতা আরও বলেন, ‘কেউ যেন ভবিষ্যতে গরু খাওয়া আটকানোর দুঃসাহস না দেখাতে পারে, সেই বিশেষ বার্তা দিতেই আমাদের এই আয়োজন। আমরা প্রশাসনের বার্তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব।’ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের কথা বিবেচনায় রেখে গরুর পাশাপাশি একটি ছাগলও রাখা হবে বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচি প্রসঙ্গে জবি প্রক্টরের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. মো. আজম খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই কর্মসূচি মনিটরিং করছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, আমরা সেটাই মনিটরিং করছি।

এর আগে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে জবি কেন্দ্রীয় মন্দিরের অদূরে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নৈশভোজের আয়োজনে গরুর মাংস রান্নাকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিতর্ক হয়। শিক্ষার্থীদের ওই আয়োজনে মন্দিরের পরিত্যক্ত ইট ব্যবহার করা এবং মন্দিরের অদূরেই গরুর মাংস রান্না করায় সনাতবন ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় উসকানির অভিযোগ তোলেন।

ওই ঘটনায় জবি কেন্দ্রীয় মন্দির এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়। পরে বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

প্রশাসনের ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পরে জকসুর উদ্যোগে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় গরু ও খাসির মাংস অন্তর্ভুক্ত করা এবং ক্যাম্পাসে ধর্মীয় সম্প্রীতি নিশ্চিত করার দাবি জানান জকসুর নেতারা। শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ‘গরু ভোজ’ কর্মসূচিরও ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে অংশ নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ৭০ টাকা নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়।

পরে সমালোচনার মুখে জবি প্রশাসন ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক ঘটনার পর যেন নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য প্রক্টর পশু জবাইয়ের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে ওই আহ্বানকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি হওয়ায় প্রশাসন দুঃখ প্রকাশ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেছে, ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠানা উদ্‌যাপনের এখতিয়ার সবারই রয়েছে। তবে একটি উদ্‌যাপন যেন অন্য কোনো উদ্‌যাপনের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement