
ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসনের প্রণয়ন করা ৫৮ জন শিক্ষকের তালিকা এবং তাদের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে’র অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল।
বর্তমানে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে পরিচিত শিক্ষকদের সংগঠনটি বলছে, কোনো ধরনের পরীক্ষণ-নিরীক্ষণ ছাড়াই অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে তদন্ত কমিটি গঠন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদা দলের (ক্ষমতাসীন বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন) একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার এক নতুন হাতিয়ার।
রোববার (২৩ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নীল দল এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। নীল দলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বিবৃতিতে সই করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি অনলাইনভিত্তিক পত্রিকা গত ৪ আগস্ট ৪০৪ জন শিক্ষকের গোপন তৎপরতা সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই পত্রিকার সংবাদকে মূল সূত্র ধরে ঢাবি জনসংযোগ দপ্তর তথাকথিত রাষ্ট্রবিরোধী ও আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নীল দলের শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করে যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, তা ঔদ্ধত্যমূলক ও ধৃষ্টতাপূর্ণ।
গণমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমন একটি প্রতিবেদনের সত্যতা কিছুমাত্র যাচাই না করেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮ জন শিক্ষকের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিচ্ছিন্ন স্ক্রিনশটসহ যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে রয়েছে অসংখ্য ভুল, কাল্পনিক নাম ও অসঙ্গতি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত অলীক তথ্য-উপাত্ত জোড়াতালি দিয়ে তৈরি করা এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণভাবে পূর্বনির্ধারিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কাল্পনিক ও ত্রুটিপূর্ণভাবে তথ্য উপস্থাপনের কারণে কলেজ অধ্যক্ষদেরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে অধ্যাপক জিনাত বলেন, এ ধরনের একটি ভিত্তিহীন ও অগ্রহণযোগ্য প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে শিক্ষক নিপীড়নের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন।
তিনি আরও বলেন, তথাকথিত রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতার অভিযোগ আনার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষকদের দেওয়া হচ্ছে নেতিবাচক ট্যাগিং এবং সামাজিকভাবে করা হচ্ছে হেয় প্রতিপন্ন। তার ওপর বিদেশ যেতে বাধা প্রদান, বেতন-ভাতা বন্ধ ও নানা ধরনের হুমকি প্রদানের মাধ্যমে এসব শিক্ষক হচ্ছেন একাডেমিক ও মানসিক নিপীড়নের শিকার।
‘রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতা’র অভিযোগে গঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে ‘প্রহসনের কমিটি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে বিবৃতিতে। বলা হয়েছে, এ তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা), যিনি সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক; এবং অন্য দুই সদস্য একই প্রক্রিয়ায় সাদা দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত দুজন ভারপ্রাপ্ত ডিন। পক্ষপাতদুষ্ট এ তদন্ত কমিটির নেই কোনো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
অধ্যাপক জিনাত বিবৃতিতে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়ে থাকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সরাসরি লিখিত অভিযোগ ও প্রমাণ দাখিলের মাধ্যমে। কিন্তু তালিকাভুক্ত ৫৮ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কোনো লিখিত অভিযোগ উত্থাপন করেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি অলীক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৫৮ জন শিক্ষকের তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে তথাকথিত তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
অধ্যাপক জিনাতের অভিযোগ, এরই সমান্তরাল ধারায় প্রশাসনে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিরাই বিচারকের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নীল দলকে নির্মূল করার লক্ষ্যে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মূলত পূর্ববর্তী অনির্বাচিত প্রশাসন মব সৃষ্টির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ভয়ের সংস্কৃতি প্রবর্তন করে এবং নীল দলের শিক্ষকদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার প্রক্রিয়া শুরু করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন শিক্ষক নিপীড়নের এ ধারাকে পূর্ণ মাত্রা প্রদান করে চলেছে। এরই ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও সেন্টার থেকে বিদ্যমান চেয়ারপারসন ও পরিচালককে জোর করে অব্যাহতি দেওয়ার মাধ্যমে সাদা দলের শিক্ষকদের প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে।
অধ্যাপক জিনাত বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩ অনুযায়ী চেয়ারপারসন বা পরিচালকের পদ নির্ধারিত হয়ে থাকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে, কোনো রাজনৈতিক দলের আদর্শের ভিত্তিতে নয়। বিগত দুই বছরে কোনো নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ না নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেমন সিনেট ও সিন্ডিকেটের পদ জোর করে করায়ত্ত করেছে, ঠিক একই প্রক্রিয়ায় একাডেমিক অঙ্গনের ডিন, চেয়ারম্যান ও পরিচালকের পদ নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতির সূচনা করেছে বর্তমান প্রশাসন।
রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্দেশনা নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয় উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঢাবির বর্তমান প্রশাসন ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশ লঙ্ঘনের মাধ্যমে শিক্ষকদের তালিকা প্রণয়ন, অস্বচ্ছ ও জবাবদিহিতাহীন তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও পদ দখলের যে নিম্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রবর্তন করেছে, তা পাকিস্তান সামরিক বাহিনী কর্তৃক বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধনের তালিকা প্রণয়নের কালো ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
এসব প্রয়াসের মাধ্যমে ঢাবিকে মেধাশূন্য করার অপপ্রয়াস চলছে এবং একে একটি গর্হিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষকদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে অর্থনৈতিকভাবে নাজুক ও মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত করার যে অপকৌশল বর্তমান প্রশাসন গ্রহণ করেছে, সেটি সম্পূর্ণ সংবিধান ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম।
এ কারণে অবিলম্বে সব ধরনের তদন্ত কমিটি বাতিলের মাধ্যমে শিক্ষক নিপীড়নের রাজনীতি বন্ধ করা এবং বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউট থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন ও পরিচালকদের স্বপদে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছে নীল দল। পাশাপাশি একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সিনেট, সিন্ডিকেট ও ডিন নির্বাচন এবং আগামী ডিসেম্বর মাসে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়ারও জোর দাবি জানিয়েছে নীল দল।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩ অনুসরণের মাধ্যমে শিক্ষকদের মর্যাদা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার লক্ষ্যে নীল দল সবসময়ই প্রকাশ্যে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শিক্ষকদের পেশাগত স্বার্থরক্ষার প্রশ্নে এবং শিক্ষক নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীল দল থাকবে আজীবন বলিষ্ঠ, উচ্চকণ্ঠ, সোচ্চার ও প্রকাশ্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসনের প্রণয়ন করা ৫৮ জন শিক্ষকের তালিকা এবং তাদের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে’র অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল।
বর্তমানে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে পরিচিত শিক্ষকদের সংগঠনটি বলছে, কোনো ধরনের পরীক্ষণ-নিরীক্ষণ ছাড়াই অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে তদন্ত কমিটি গঠন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদা দলের (ক্ষমতাসীন বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন) একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার এক নতুন হাতিয়ার।
রোববার (২৩ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নীল দল এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। নীল দলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বিবৃতিতে সই করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি অনলাইনভিত্তিক পত্রিকা গত ৪ আগস্ট ৪০৪ জন শিক্ষকের গোপন তৎপরতা সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই পত্রিকার সংবাদকে মূল সূত্র ধরে ঢাবি জনসংযোগ দপ্তর তথাকথিত রাষ্ট্রবিরোধী ও আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নীল দলের শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করে যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, তা ঔদ্ধত্যমূলক ও ধৃষ্টতাপূর্ণ।
গণমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমন একটি প্রতিবেদনের সত্যতা কিছুমাত্র যাচাই না করেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮ জন শিক্ষকের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিচ্ছিন্ন স্ক্রিনশটসহ যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে রয়েছে অসংখ্য ভুল, কাল্পনিক নাম ও অসঙ্গতি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত অলীক তথ্য-উপাত্ত জোড়াতালি দিয়ে তৈরি করা এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণভাবে পূর্বনির্ধারিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কাল্পনিক ও ত্রুটিপূর্ণভাবে তথ্য উপস্থাপনের কারণে কলেজ অধ্যক্ষদেরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে অধ্যাপক জিনাত বলেন, এ ধরনের একটি ভিত্তিহীন ও অগ্রহণযোগ্য প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে শিক্ষক নিপীড়নের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন।
তিনি আরও বলেন, তথাকথিত রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতার অভিযোগ আনার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষকদের দেওয়া হচ্ছে নেতিবাচক ট্যাগিং এবং সামাজিকভাবে করা হচ্ছে হেয় প্রতিপন্ন। তার ওপর বিদেশ যেতে বাধা প্রদান, বেতন-ভাতা বন্ধ ও নানা ধরনের হুমকি প্রদানের মাধ্যমে এসব শিক্ষক হচ্ছেন একাডেমিক ও মানসিক নিপীড়নের শিকার।
‘রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতা’র অভিযোগে গঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে ‘প্রহসনের কমিটি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে বিবৃতিতে। বলা হয়েছে, এ তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা), যিনি সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক; এবং অন্য দুই সদস্য একই প্রক্রিয়ায় সাদা দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত দুজন ভারপ্রাপ্ত ডিন। পক্ষপাতদুষ্ট এ তদন্ত কমিটির নেই কোনো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
অধ্যাপক জিনাত বিবৃতিতে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়ে থাকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সরাসরি লিখিত অভিযোগ ও প্রমাণ দাখিলের মাধ্যমে। কিন্তু তালিকাভুক্ত ৫৮ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কোনো লিখিত অভিযোগ উত্থাপন করেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি অলীক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৫৮ জন শিক্ষকের তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে তথাকথিত তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
অধ্যাপক জিনাতের অভিযোগ, এরই সমান্তরাল ধারায় প্রশাসনে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিরাই বিচারকের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নীল দলকে নির্মূল করার লক্ষ্যে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মূলত পূর্ববর্তী অনির্বাচিত প্রশাসন মব সৃষ্টির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ভয়ের সংস্কৃতি প্রবর্তন করে এবং নীল দলের শিক্ষকদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার প্রক্রিয়া শুরু করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন শিক্ষক নিপীড়নের এ ধারাকে পূর্ণ মাত্রা প্রদান করে চলেছে। এরই ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও সেন্টার থেকে বিদ্যমান চেয়ারপারসন ও পরিচালককে জোর করে অব্যাহতি দেওয়ার মাধ্যমে সাদা দলের শিক্ষকদের প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে।
অধ্যাপক জিনাত বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩ অনুযায়ী চেয়ারপারসন বা পরিচালকের পদ নির্ধারিত হয়ে থাকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে, কোনো রাজনৈতিক দলের আদর্শের ভিত্তিতে নয়। বিগত দুই বছরে কোনো নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ না নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেমন সিনেট ও সিন্ডিকেটের পদ জোর করে করায়ত্ত করেছে, ঠিক একই প্রক্রিয়ায় একাডেমিক অঙ্গনের ডিন, চেয়ারম্যান ও পরিচালকের পদ নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতির সূচনা করেছে বর্তমান প্রশাসন।
রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্দেশনা নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয় উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঢাবির বর্তমান প্রশাসন ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশ লঙ্ঘনের মাধ্যমে শিক্ষকদের তালিকা প্রণয়ন, অস্বচ্ছ ও জবাবদিহিতাহীন তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও পদ দখলের যে নিম্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রবর্তন করেছে, তা পাকিস্তান সামরিক বাহিনী কর্তৃক বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধনের তালিকা প্রণয়নের কালো ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
এসব প্রয়াসের মাধ্যমে ঢাবিকে মেধাশূন্য করার অপপ্রয়াস চলছে এবং একে একটি গর্হিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষকদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে অর্থনৈতিকভাবে নাজুক ও মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত করার যে অপকৌশল বর্তমান প্রশাসন গ্রহণ করেছে, সেটি সম্পূর্ণ সংবিধান ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম।
এ কারণে অবিলম্বে সব ধরনের তদন্ত কমিটি বাতিলের মাধ্যমে শিক্ষক নিপীড়নের রাজনীতি বন্ধ করা এবং বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউট থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন ও পরিচালকদের স্বপদে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছে নীল দল। পাশাপাশি একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সিনেট, সিন্ডিকেট ও ডিন নির্বাচন এবং আগামী ডিসেম্বর মাসে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়ারও জোর দাবি জানিয়েছে নীল দল।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩ অনুসরণের মাধ্যমে শিক্ষকদের মর্যাদা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার লক্ষ্যে নীল দল সবসময়ই প্রকাশ্যে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শিক্ষকদের পেশাগত স্বার্থরক্ষার প্রশ্নে এবং শিক্ষক নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীল দল থাকবে আজীবন বলিষ্ঠ, উচ্চকণ্ঠ, সোচ্চার ও প্রকাশ্য।

দুদক জানিয়েছে, শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপার পৃথক সম্পদ বিবরণী নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে তাদের নামে আলাদা আদেশপত্র ও সম্পদ বিবরণীর ফরম ইস্যু করা হয়। সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে তাদের না পেলে সে আদেশপত্র ও ফরম ফিরিয়ে নিয়ে আসেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কনস্টেবল মো. জুয়েল মিয়া।
১৪ ঘণ্টা আগে
রাষ্ট্রপতি রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় বঙ্গভবনে পৌঁছান। এ সময় প্রধান ফটক-২-এ বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল তাকে অভ্যর্থনা জানায়। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাকে ক্রেডেনশিয়াল মাঠে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
১৫ ঘণ্টা আগে
আকতারুল ইসলাম বলেন, জাল কাগজপত্র বানিয়ে এম এইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক মমিনুর রহমানের নামে এক কোটি ৯৫ লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুর ও আত্মসাতের অভিযোগে অনুসন্ধান করে দুদক। মমিনুরের অভিযোগের ভিত্তিতেই অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল। তবে অনুসন্ধানে দুদক তারও সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে।
১৬ ঘণ্টা আগে
গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সহায়তায় নতুন একটি অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত অধিদপ্তরের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন দেওয়ার পাশাপাশি তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
১৭ ঘণ্টা আগে