শাহবাগ থেকে সরে গেলেন কোটা আন্দোলনকারীরা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে মিছিল করেছেন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি নীলক্ষেত, সায়েন্স ল্যাব ও বাটা সিগন্যাল মোড় ঘুরে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে থেমেছে৷

শাহবাগ মোড়ে এক ঘণ্টা অবস্থানের পর সরে যান বিক্ষোভকারীরা। এরপর শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল আবার শুরু হয়।

মিছিলে আন্দোলনকারীরা ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘কোটাপ্রথা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’, ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ এমন নানা স্লোগান দেন৷ বিকেল পৌনে চারটার দিকে মিছিলটি শাহবাগ মোড়ে পৌঁছায়৷ অবশ্য তার আগেই সেখানে সড়কের ওপর বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য অবস্থান করছিলেন৷ মুখোমুখি হয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীরা পুলিশকে ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন৷ একপর্যায়ে পুলিশ সরে যায়৷

বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে শাহবাগ মোড় থেকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা প্রচলিত ছিল৷ এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষদের জন্য ৫ শতাংশ আর প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিল৷ ওই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে বড় বিক্ষোভ হয়৷ কোটাব্যবস্থার সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা৷ পরে সে বছরের ৪ অক্টোবর কোটা বাতিল বিষয়ক পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়৷

এর মাধ্যমে ৪৬ বছর ধরে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে যে কোটাব্যবস্থা ছিল, তা বাতিল হয়ে যায়৷ ২০২১ সালে সেই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের অংশটিকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উচ্চ আদালতে রিট করেন৷ সেই রিটের রায়ে গত ৫ জুন পরিপত্রের ওই অংশটি অবৈধ ঘোষণা করা হয়৷ এরপর থেকেই চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা মাঠে নেমেছেন৷

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ এই শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা সেই পরিপত্র পুনর্বহালের পাশাপাশি আরও কিছু দাবি জানাচ্ছেন৷ এগুলো হলো—পরবর্তী সময়ে সরকার কোটাব্যবস্থা নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে চাইলে ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া, সংবিধান অনুযায়ী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা, চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটাসুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করার সুযোগ বন্ধ করা ও কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া এবং দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া৷

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

ঘরের চালে সৌরবিদ্যুৎ করেন, সব সরকারের ওপর চাপাবেন না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশকে বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

৯ ঘণ্টা আগে

হাম ও উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫৫ জনে।

১০ ঘণ্টা আগে

বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সবচেয়ে স্বাধীন: আইনমন্ত্রী

বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সব থেকে স্বাধীন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন বলেই ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) নেতারা গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিন পেয়েছেন।

১১ ঘণ্টা আগে

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হবে ঈদুল আজহার জামাত

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টায় পবিত্র ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ সচিবালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

১২ ঘণ্টা আগে