
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

স্কার্ভি একটি পুরনো ও ভয়ংকর রোগ, যার ইতিহাস কয়েক শতাব্দী ধরে মানুষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে সমুদ্রযাত্রার যুগে হাজার হাজার নাবিক এই রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই রোগটির কারণ ও প্রতিকার অত্যন্ত সহজ—শুধু একটি ভিটামিন, ভিটামিন সি-এর অভাব থেকেই এই রোগের উৎপত্তি। আজও দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চল, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে এটি দেখা দেয়।
স্কার্ভি আসলে চর্ম রোগ নয়—এটি একটি পুষ্টিগত রোগ, তবে এর লক্ষণ বেশির ভাগ সময় ত্বকে দেখা যায়, তাই অনেকেই একে চর্ম রোগ হিসেবে চেনেন। ভিটামিন সি শরীরে না থাকলে কোলাজেন নামের একটি প্রোটিন ঠিকভাবে তৈরি হয় না। কোলাজেন চামড়া, রক্তনালি, হাড় ও চুলের গঠন মজবুত রাখে। কোলাজেন উৎপাদন ব্যাহত হলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলেই স্কার্ভির লক্ষণ দেখা দেয়।
স্কার্ভির লক্ষণ ধীরে ধীরে শরীরে প্রকাশ পায়। প্রথমে ক্লান্তি, দুর্বলতা ও খাওয়ায় অনীহা দেখা দেয়। এরপর ত্বকে ছোট ছোট লাল দানা বা ফুসকুড়ির মতো দাগ তৈরি হয়, যা রক্ত জমাট দাগের মতো দেখায়। রোগ বাড়তে থাকলে দাঁতের মাড়ি ফুলে ওঠে, সহজে রক্ত পড়ে এবং দাঁত নড়তে শুরু করে। হাড় ও পেশিতে ব্যথা, ক্ষত ভালো হতে দেরি হওয়া, এমনকি রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া-ও হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে হাড় বাঁকা হয়ে যাওয়ার মতো জটিল উপসর্গ দেখা যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) পুষ্টি গবেষক ড. মারিয়া গঞ্জালেজ বলেন, ‘স্কার্ভি বিরল, কিন্তু পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। এটি দীর্ঘ সময় ধরে ভিটামিন সি-এর ঘাটতির কারণে হয়, বিশেষ করে যাদের তাজা ফলমূল ও সবজির প্রতি সহজ প্রবেশাধিকার নেই, তাদের মধ্যে।’
ভিটামিন সি-এর অভাব কেন হয়, সেটা বুঝতে হলে আমাদের খাদ্যাভ্যাসের দিকে তাকাতে হবে। যেসব মানুষ নিয়মিত টাটকা ফলমূল, বিশেষ করে লেবু, কমলা, পেয়ারা, জাম্বুরা, কাঁচা মরিচ, টমেটো বা শাকসবজি খান না, তাদের শরীরে ধীরে ধীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি তৈরি হয়। আবার কোনো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তি, যারা একঘেয়ে বা তরল খাবারে অভ্যস্ত, তারাও ঝুঁকিতে থাকেন। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, ধূমপায়ী এবং দীর্ঘমেয়াদি মদ্যপানে আসক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে স্কার্ভির ঝুঁকি বেশি।
এই রোগের প্রতিকার অত্যন্ত সহজ—প্রতিদিনের খাদ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত করা। এমনকি স্কার্ভির প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলেও, দিনে মাত্র ১০০–২০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি খেলেই এক সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গগুলো দূর হয়ে যায়। তাই চিকিৎসকরা সাধারণত স্কার্ভি রোগীকে ফলমূল খাওয়ার পরামর্শ দেন, বিশেষ করে লেবু, কমলা, পেয়ারা বা কাঁচা মরিচ। ক্ষেত্রবিশেষে ভিটামিন সি-এর ট্যাবলেট বা সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. পিটার হোল্ট বলেন,
‘স্কার্ভির সবচেয়ে করুণ দিক হলো, এটি আজও শরণার্থী শিবির, বৃদ্ধাশ্রম বা দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলে দেখা যায়, অথচ একটি সাধারণ কমলালেবুই এই রোগ সারাতে পারে।’
সবশেষে বলা যায়, স্কার্ভি একটি প্রতিরোধযোগ্য, সহজে নিরাময়যোগ্য কিন্তু অযত্নে ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে এমন রোগ। সচেতনতা, পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ এবং সামান্য নজরদারিই পারে এই রোগ থেকে বাঁচাতে। তাজা ফল আর সবজির গুরুত্ব বুঝতে হবে, বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের খাদ্যতালিকায় এগুলো থাকা উচিত প্রতিদিন। চিকিৎসা বিজ্ঞান যতই এগিয়ে যাক, যদি খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা না থাকে, তাহলে স্কার্ভির মতো রোগও ফিরে আসতে পারে ১৮শ শতকের মতই। এই সহজ কিন্তু ভয়ংকর বাস্তবতাকেই বুঝে উঠতে হবে এখনই।

স্কার্ভি একটি পুরনো ও ভয়ংকর রোগ, যার ইতিহাস কয়েক শতাব্দী ধরে মানুষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে সমুদ্রযাত্রার যুগে হাজার হাজার নাবিক এই রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই রোগটির কারণ ও প্রতিকার অত্যন্ত সহজ—শুধু একটি ভিটামিন, ভিটামিন সি-এর অভাব থেকেই এই রোগের উৎপত্তি। আজও দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চল, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে এটি দেখা দেয়।
স্কার্ভি আসলে চর্ম রোগ নয়—এটি একটি পুষ্টিগত রোগ, তবে এর লক্ষণ বেশির ভাগ সময় ত্বকে দেখা যায়, তাই অনেকেই একে চর্ম রোগ হিসেবে চেনেন। ভিটামিন সি শরীরে না থাকলে কোলাজেন নামের একটি প্রোটিন ঠিকভাবে তৈরি হয় না। কোলাজেন চামড়া, রক্তনালি, হাড় ও চুলের গঠন মজবুত রাখে। কোলাজেন উৎপাদন ব্যাহত হলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলেই স্কার্ভির লক্ষণ দেখা দেয়।
স্কার্ভির লক্ষণ ধীরে ধীরে শরীরে প্রকাশ পায়। প্রথমে ক্লান্তি, দুর্বলতা ও খাওয়ায় অনীহা দেখা দেয়। এরপর ত্বকে ছোট ছোট লাল দানা বা ফুসকুড়ির মতো দাগ তৈরি হয়, যা রক্ত জমাট দাগের মতো দেখায়। রোগ বাড়তে থাকলে দাঁতের মাড়ি ফুলে ওঠে, সহজে রক্ত পড়ে এবং দাঁত নড়তে শুরু করে। হাড় ও পেশিতে ব্যথা, ক্ষত ভালো হতে দেরি হওয়া, এমনকি রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া-ও হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে হাড় বাঁকা হয়ে যাওয়ার মতো জটিল উপসর্গ দেখা যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) পুষ্টি গবেষক ড. মারিয়া গঞ্জালেজ বলেন, ‘স্কার্ভি বিরল, কিন্তু পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। এটি দীর্ঘ সময় ধরে ভিটামিন সি-এর ঘাটতির কারণে হয়, বিশেষ করে যাদের তাজা ফলমূল ও সবজির প্রতি সহজ প্রবেশাধিকার নেই, তাদের মধ্যে।’
ভিটামিন সি-এর অভাব কেন হয়, সেটা বুঝতে হলে আমাদের খাদ্যাভ্যাসের দিকে তাকাতে হবে। যেসব মানুষ নিয়মিত টাটকা ফলমূল, বিশেষ করে লেবু, কমলা, পেয়ারা, জাম্বুরা, কাঁচা মরিচ, টমেটো বা শাকসবজি খান না, তাদের শরীরে ধীরে ধীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি তৈরি হয়। আবার কোনো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তি, যারা একঘেয়ে বা তরল খাবারে অভ্যস্ত, তারাও ঝুঁকিতে থাকেন। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, ধূমপায়ী এবং দীর্ঘমেয়াদি মদ্যপানে আসক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে স্কার্ভির ঝুঁকি বেশি।
এই রোগের প্রতিকার অত্যন্ত সহজ—প্রতিদিনের খাদ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত করা। এমনকি স্কার্ভির প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলেও, দিনে মাত্র ১০০–২০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি খেলেই এক সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গগুলো দূর হয়ে যায়। তাই চিকিৎসকরা সাধারণত স্কার্ভি রোগীকে ফলমূল খাওয়ার পরামর্শ দেন, বিশেষ করে লেবু, কমলা, পেয়ারা বা কাঁচা মরিচ। ক্ষেত্রবিশেষে ভিটামিন সি-এর ট্যাবলেট বা সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. পিটার হোল্ট বলেন,
‘স্কার্ভির সবচেয়ে করুণ দিক হলো, এটি আজও শরণার্থী শিবির, বৃদ্ধাশ্রম বা দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলে দেখা যায়, অথচ একটি সাধারণ কমলালেবুই এই রোগ সারাতে পারে।’
সবশেষে বলা যায়, স্কার্ভি একটি প্রতিরোধযোগ্য, সহজে নিরাময়যোগ্য কিন্তু অযত্নে ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে এমন রোগ। সচেতনতা, পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ এবং সামান্য নজরদারিই পারে এই রোগ থেকে বাঁচাতে। তাজা ফল আর সবজির গুরুত্ব বুঝতে হবে, বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের খাদ্যতালিকায় এগুলো থাকা উচিত প্রতিদিন। চিকিৎসা বিজ্ঞান যতই এগিয়ে যাক, যদি খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা না থাকে, তাহলে স্কার্ভির মতো রোগও ফিরে আসতে পারে ১৮শ শতকের মতই। এই সহজ কিন্তু ভয়ংকর বাস্তবতাকেই বুঝে উঠতে হবে এখনই।

পল কাপুরের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি তার কাছে উল্লেখ করেছি, আমাদের দুজন বাংলাদেশি মারা গেছেন, সাতজন আহত হয়েছেন। এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘতর বা বিস্তৃত হয় তাহলে এ শঙ্কা বাড়তে পারে। তার চাইতে…এবং একইসঙ্গে আমাদের মতো দেশের পক্ষে এই যুদ্ধের অর্থনীতিক যে
৭ ঘণ্টা আগে
জানা গেছে, ঘটনার পর খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়কে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৭ ঘণ্টা আগে
নারীদের জন্য জাতীয় ঈদগাহের দক্ষিণ দিকে আলাদা প্রবেশপথসহ আসন রাখার ব্যবস্থা রাখার বিষয়টিও প্রচার করতে হবে। ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতের ইমাম মনোনয়নের জন্য তিনজন আলেম, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত পরিচালনার জন্য তিনজন উপস্থাপকের তালিকা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পাঠাতে হবে।
৭ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হাতে থাকা জ্বালানি জনগণকে সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
৯ ঘণ্টা আগে