
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

লিভার বা যকৃৎ আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়, হজমে সহায়তা করে, ভিটামিন জমিয়ে রাখে এবং রক্ত পরিশোধন করে। তাই লিভারে কোনো সমস্যা দেখা দিলে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। লিভারের রোগীদের জন্য সঠিক খাবার খাওয়া যেমন ওষুধের মতো কাজ করতে পারে, তেমনি ভুল খাবার তাদের আরও অসুস্থ করে তুলতে পারে। এই ফিচারে সহজ ভাষায় আলোচনা করা হবে, লিভারের রোগীদের কী খাওয়া উচিত, আর কী এড়িয়ে চলা উচিত। বিদেশি গবেষকদের মতামতও থাকছে এতে।
কেন খাবার এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভার যেহেতু শরীরের বর্জ্য বের করার কাজ করে, তাই এমন কোনো খাবার খাওয়া ঠিক নয় যা লিভারের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। আবার কিছু খাবার লিভারের কোষ মেরামতেও সাহায্য করে। তাই খাদ্য তালিকা ঠিকভাবে ঠিক করলে লিভারের সুস্থতা বজায় রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়।
সবুজ শাকসবজি ও ফল
লিভারের জন্য সবচেয়ে উপকারী হলো সবুজ পাতাযুক্ত শাক, যেমন পালং শাক, লাল শাক, মেথি শাক। এছাড়া গাজর, বিটরুট, কলা, পেঁপে, আপেল, আঙুর—এসব ফলও উপকারী।
যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনস্থ টেক্সাস লিভার ইনস্টিটিউট-এর হেপাটোলজিস্ট ডা. লিন্ডা উইলিয়ামস বলেন—“পাতাযুক্ত শাকসবজি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত ফল লিভারের প্রদাহ কমায় এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে।”
শস্য
ভাতের চেয়ে বেশি উপকারী হলো ওটস, লাল চাল, ব্রাউন ব্রেড, বার্লি ইত্যাদি। এতে ফাইবার বেশি থাকে, যা হজমে সাহায্য করে ও রক্তে চর্বির পরিমাণ কমায়।
প্রোটিনযুক্ত হালকা খাবার
ডিমের সাদা অংশ, ডাল, মুগ ডাল, চিড়া, টোফু, সেদ্ধ মুরগি বা মাছ লিভার রোগীদের জন্য ভালো। তবে অতিরিক্ত প্রোটিন এড়িয়ে চলতে হয় সিরোসিস বা হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি থাকলে।
দই বা প্রোবায়োটিক খাবার
পেট ভালো থাকলে লিভারও ভালো থাকে। দইয়ের মধ্যে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান হজমে সাহায্য করে ও শরীরে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়।
পানি
পর্যাপ্ত পানি পান লিভারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত ২.৫-৩ লিটার পানি পান করলে শরীর থেকে বর্জ্য দ্রুত বের হয়।
তেলেভাজা ও ফাস্টফুড
চিপস, বার্গার, ফ্রাইড চিকেন, পুরি, কচুরি—এসব খাবারে প্রচুর স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা লিভারের চর্বি বাড়ায় এবং ফ্যাটি লিভার রোগ সৃষ্টি করে।
কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিদ ও গবেষক ডা. ক্যারলিন ডিন বলেন— “স্যাচুরেটেড চর্বি লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে এবং দীর্ঘ মেয়াদে ফ্যাটি লিভার রোগ তৈরি করে।”
অতিরিক্ত লবণ ও চিনি
চিপস, প্যাকেটজাত খাবার, সফট ড্রিংকস—এসব খাবারে থাকা অতিরিক্ত লবণ ও চিনি লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। চিনিযুক্ত পানীয় লিভারে চর্বি জমার সম্ভাবনা বাড়ায়।
অ্যালকোহল
লিভার রোগীদের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো অ্যালকোহল। এটি সরাসরি লিভার কোষ ধ্বংস করে এবং সিরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. জর্জ ম্যাকগিনেস বলেন—“অ্যালকোহল হলো অসুস্থ লিভারের সবচেয়ে বড় শত্রু।”
রেড মিট ও অতিরিক্ত প্রোটিন
গরু, খাসির মাংস ও অতিরিক্ত ডিম, চিজ, ঘি খাওয়া লিভারের জন্য খারাপ। এসব খাবারে থাকা চর্বি হজম করতে লিভারকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়।
অতিরিক্ত ভিটামিন বা হেলথ সাপ্লিমেন্ট
অনেকেই ভিটামিন এ, ডি, ই ও কেএর সাপ্লিমেন্ট খেয়ে থাকেন নিয়মিত। কিন্তু এগুলো অতিরিক্ত খেলে লিভারের ওপর বিষক্রিয়ার মতো প্রভাব ফেলতে পারে। সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
লিভারের যত্ন নিতে হলে আরও কিছু বিষয় মেনে চলুন-
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র মতে,“বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের লিভার রোগে আক্রান্ত, যার বেশিরভাগই জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।”
লিভার যদি ভালো থাকে, তাহলে শরীরের অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গও ভালোভাবে কাজ করে। তাই লিভারকে সুস্থ রাখতে হলে ওষুধের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে সঠিক খাবার এবং জীবনযাপন পদ্ধতির ওপর। মনে রাখতে হবে, খাবারই হতে পারে ওষুধ—আবার ভুল খাবারই হতে পারে বিষ।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

লিভার বা যকৃৎ আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়, হজমে সহায়তা করে, ভিটামিন জমিয়ে রাখে এবং রক্ত পরিশোধন করে। তাই লিভারে কোনো সমস্যা দেখা দিলে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। লিভারের রোগীদের জন্য সঠিক খাবার খাওয়া যেমন ওষুধের মতো কাজ করতে পারে, তেমনি ভুল খাবার তাদের আরও অসুস্থ করে তুলতে পারে। এই ফিচারে সহজ ভাষায় আলোচনা করা হবে, লিভারের রোগীদের কী খাওয়া উচিত, আর কী এড়িয়ে চলা উচিত। বিদেশি গবেষকদের মতামতও থাকছে এতে।
কেন খাবার এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভার যেহেতু শরীরের বর্জ্য বের করার কাজ করে, তাই এমন কোনো খাবার খাওয়া ঠিক নয় যা লিভারের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। আবার কিছু খাবার লিভারের কোষ মেরামতেও সাহায্য করে। তাই খাদ্য তালিকা ঠিকভাবে ঠিক করলে লিভারের সুস্থতা বজায় রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়।
সবুজ শাকসবজি ও ফল
লিভারের জন্য সবচেয়ে উপকারী হলো সবুজ পাতাযুক্ত শাক, যেমন পালং শাক, লাল শাক, মেথি শাক। এছাড়া গাজর, বিটরুট, কলা, পেঁপে, আপেল, আঙুর—এসব ফলও উপকারী।
যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনস্থ টেক্সাস লিভার ইনস্টিটিউট-এর হেপাটোলজিস্ট ডা. লিন্ডা উইলিয়ামস বলেন—“পাতাযুক্ত শাকসবজি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত ফল লিভারের প্রদাহ কমায় এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে।”
শস্য
ভাতের চেয়ে বেশি উপকারী হলো ওটস, লাল চাল, ব্রাউন ব্রেড, বার্লি ইত্যাদি। এতে ফাইবার বেশি থাকে, যা হজমে সাহায্য করে ও রক্তে চর্বির পরিমাণ কমায়।
প্রোটিনযুক্ত হালকা খাবার
ডিমের সাদা অংশ, ডাল, মুগ ডাল, চিড়া, টোফু, সেদ্ধ মুরগি বা মাছ লিভার রোগীদের জন্য ভালো। তবে অতিরিক্ত প্রোটিন এড়িয়ে চলতে হয় সিরোসিস বা হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি থাকলে।
দই বা প্রোবায়োটিক খাবার
পেট ভালো থাকলে লিভারও ভালো থাকে। দইয়ের মধ্যে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান হজমে সাহায্য করে ও শরীরে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়।
পানি
পর্যাপ্ত পানি পান লিভারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত ২.৫-৩ লিটার পানি পান করলে শরীর থেকে বর্জ্য দ্রুত বের হয়।
তেলেভাজা ও ফাস্টফুড
চিপস, বার্গার, ফ্রাইড চিকেন, পুরি, কচুরি—এসব খাবারে প্রচুর স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা লিভারের চর্বি বাড়ায় এবং ফ্যাটি লিভার রোগ সৃষ্টি করে।
কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিদ ও গবেষক ডা. ক্যারলিন ডিন বলেন— “স্যাচুরেটেড চর্বি লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে এবং দীর্ঘ মেয়াদে ফ্যাটি লিভার রোগ তৈরি করে।”
অতিরিক্ত লবণ ও চিনি
চিপস, প্যাকেটজাত খাবার, সফট ড্রিংকস—এসব খাবারে থাকা অতিরিক্ত লবণ ও চিনি লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। চিনিযুক্ত পানীয় লিভারে চর্বি জমার সম্ভাবনা বাড়ায়।
অ্যালকোহল
লিভার রোগীদের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো অ্যালকোহল। এটি সরাসরি লিভার কোষ ধ্বংস করে এবং সিরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. জর্জ ম্যাকগিনেস বলেন—“অ্যালকোহল হলো অসুস্থ লিভারের সবচেয়ে বড় শত্রু।”
রেড মিট ও অতিরিক্ত প্রোটিন
গরু, খাসির মাংস ও অতিরিক্ত ডিম, চিজ, ঘি খাওয়া লিভারের জন্য খারাপ। এসব খাবারে থাকা চর্বি হজম করতে লিভারকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়।
অতিরিক্ত ভিটামিন বা হেলথ সাপ্লিমেন্ট
অনেকেই ভিটামিন এ, ডি, ই ও কেএর সাপ্লিমেন্ট খেয়ে থাকেন নিয়মিত। কিন্তু এগুলো অতিরিক্ত খেলে লিভারের ওপর বিষক্রিয়ার মতো প্রভাব ফেলতে পারে। সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
লিভারের যত্ন নিতে হলে আরও কিছু বিষয় মেনে চলুন-
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র মতে,“বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের লিভার রোগে আক্রান্ত, যার বেশিরভাগই জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।”
লিভার যদি ভালো থাকে, তাহলে শরীরের অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গও ভালোভাবে কাজ করে। তাই লিভারকে সুস্থ রাখতে হলে ওষুধের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে সঠিক খাবার এবং জীবনযাপন পদ্ধতির ওপর। মনে রাখতে হবে, খাবারই হতে পারে ওষুধ—আবার ভুল খাবারই হতে পারে বিষ।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

শফিকুল আলম বলেন, ইভারস আইজাবস বৈঠকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছে। এ কারণেই তারা বড় আকারের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনেক দেশেই নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায় না; কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বড় বাণিজ্যিক অং
১৩ ঘণ্টা আগে
চিঠিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনপূর্ব সময়ে আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালনের নির্দেশনা রয়েছে। লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কোনো কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি সেমিনার, সংবর্ধনা, যুবসমাবেশ ইত্যাদির নামে ভোটারদের জমায়েত করে নির্বাচনী প
১৪ ঘণ্টা আগে
চিঠিতে বলা হয়েছে, হিজরি ১৪৪৭/২০২৬ সালের হজযাত্রীদের হজ ফ্লাইট আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এক সার্ভিস কোম্পানির হজযাত্রী একই ফ্লাইটে সৌদি আরবে পাঠাতে হবে। এছাড়া হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন, ২০২৬ অনুযায়ী প্রত্যেক এজেন্সির মোট হজযাত্রীর কমপক্ষে ২০ শতাংশ প্রি-হজ ফ্লাইটের
১৪ ঘণ্টা আগে
ডিএমপির ডিবিপ্রধান জানান, ঢাকা, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মূল পরিকল্পনাকারী মো. বিল্লাল, শ্যুটার জিন্নাত ও মো. রিয়াজ এবং আসামিদের আত্মগোপনে সহায়তাকারী বিল্লালের ভাই আব্দুল কাদিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারওয়ান বাজারে ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বে এই হত্যাকাণ্ড ঘ
১৪ ঘণ্টা আগে