
আবীর হাসান

১৯১৫ সালে প্রকাশ হয় আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা। সেই তত্ত্ব থেকেই বেরিয়ে আসে মহাকর্ষ তরঙ্গের ভবিষ্যদ্বাণী। কিন্তু ভবিষ্যদ্বাণী প্রমাণ হতে লেগে গেছে পাক্কা এক শ বছর। তার আগে ঘটে গেছে কত ধুন্ধুমার কাণ্ড। নাথান রোজেনকে সঙ্গে নিয়ে স্বয়ং আইনস্টাইন এই তরঙ্গ বাতিল করতে উঠেপড়ে লাগেন, জোসেফ ওয়েবারের জোচ্চুরি ঝড় তোলে, রিচার্ড ফাইনম্যান এই তরঙ্গ শনাক্তের এক কাল্পনিক যন্ত্রের নকশা করেন। শেষমেশ মার্কিন বিজ্ঞানী রেইনার ওয়েসই করেন কাজের কাজ।
মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্তের জন্য আলোর ব্যতিচার ধর্ম কাজে লাগানোর কথা ভাবেন। সে জন্য বানাতে হবে বিশাল এক ইন্টারফেরোমিটার। সেই যন্ত্রের দুটো ফাঁপা বাহু থাকবে। বাহু দুটো থাকবে পরস্পরের সমকোণে। মহাকর্ষ তরঙ্গ প্রবাহিত হলে একটা বাহুর দৈর্ঘ্য বেড়ে যাবে। তখন সেই বাহুর সমকোণে থাকা বাহুটির দৈর্ঘ্য যাবে কমে। পরমুহূর্তে যে ঢেউ আসবে, সেটা প্রথম বাহুটির দৈর্ঘ্য কমিয়ে দেবে এবং প্রসারিত হবে দ্বিতীয় বাহুটি।
একমাত্র আলোই মহাকর্ষ তরঙ্গের প্রভাবমুক্ত। আলোকে থামানো যায় না। আলোর বেগও শূন্য মাধ্যমে একটুও কমবেশি হয় না। নলের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত করা হবে লেজার আলো। মহাকর্ষ তরঙ্গের প্রভাবে ইন্টারফেরোমিটারের দৈর্ঘ্যের প্রসারণ-সংকোচনে বাড়বে, কমবে আলোর গতিপথের দূরত্ব। ফলে দুই বাহু থেকে আসা লেজার আলোর ব্যতিচার নকশা তৈরি হবে যন্ত্রটির বিশেষ পর্দায়। তা থেকেই নিশ্চিত হবে মহাকর্ষ তরঙ্গের উপস্থিতি।
১৯৬২ সালে ওয়েস ইন্টারফেরোমিটার যন্ত্রের ওপর একটা গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। তখন অনেকেই বিশ্বাস করতেন না আলোর ব্যতিচার ধর্ম ব্যবহার করে মহাকর্ষ তরঙ্গ শনাক্ত করা যেতে পারে। এই দলে ছিলেন ক্যালটেকের গবেষক কিপ থর্নও। ইন্টারফেরোমিটার যন্ত্র তৈরির জন্য টাকা দরকার। ওয়েস সরকারের বিভিন্ন মহলে দেনদরবার করছেন। সরকারই বা একজন বিজ্ঞানীর স্বপ্নের পেছনে শুধু শুধু অর্থ ঢালবে কেন? সরকারের প্রস্তাব, নাসার এক বৈজ্ঞানিক প্যানেলকে বোঝাতে হবে পুরো বিষয়টা।
১৯৭৫ সালের কথা। ওয়েইস উঠেপড়ে লেগেছেন মহাকর্ষ তরঙ্গ শনাক্তের কাজে। সেই মুহূর্তে ওয়েসের ডাক পড়ে ওয়াশিংটনে। নাসার প্যানেলে বক্তৃতা দিতে হবে তাঁর যন্ত্রের কার্যকারিতা তুলে ধরে। ওয়েস থর্নকে আমন্ত্রণ জানান সেই অনুষ্ঠানে। আগের রাতটা কাটালেন দুজন ওয়াশিংটনের এক হোটেলে একই কক্ষে। সেই রাতেই ওয়েইস থর্নকে বোঝাতে সক্ষম হলেন, আলোর ব্যতিচার ধর্মকে ব্যবহার করেই মহাকর্ষ তরঙ্গ শনাক্ত করা সম্ভব।
এরপর রোখ চেপে যায় থর্নের। থর্ন ও ওয়েইস আরেক বিজ্ঞানী ডোনাল্ড ড্রেভরকে নিয়ে নকশা করেন মহাকর্ষ তরঙ্গ শিকারি লাইগো যন্ত্রের। নকশা তো হলো। সেটা তৈরি করতে লাগবে ২৭২ কোটি ডলার। টাকা দেবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (এনএসএফ)। এর বিরোধিতা করলেন অনেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী। মহাকর্ষ তরঙ্গ শনাক্তের ব্যাপারে তাঁরা সন্দিহান।
ওয়েবারের ব্যর্থতা তাঁদের আত্মবিশ্বাসের ভিত নড়বড়ে করেছে। আরও একটা ব্যাপার আছে। এনএসএফ যদি এত টাকা একটা প্রকল্পের পেছনে ব্যয় করে ফেলে, অন্য প্রকল্পে টাকার ঘাটতি পড়ার আশঙ্কা আছে।
দমলেন না তিন বিজ্ঞানী। লড়াই চালিয়ে গেলেন। ১৯৮১ সালে থর্ন ধরলেন বাজি। প্রতিদ্বন্দ্বী জ্যোতির্বিজ্ঞানী জেরোমিয়া অস্ট্রাইকার। বাজিতে থর্ন বলেছিলেন, ২০০০ সালের আগেই তাঁরা মহাকর্ষ তরঙ্গ শনাক্ত করতে পারবেন। সেটা যে পারেননি, সেটা এখন সবাই জানে। তাই বাজিতে হারতে হয়েছিল থর্নকে। কিন্তু হেরেও কি অসুখী হয়েছিলেন থর্ন? ২০১৬ সালে যখন মহাকর্ষ তরঙ্গ শনাক্তের ঘোষণা এলো, এটাই এখন পর্যন্ত এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক সাফল্য। ২০১৭ সালে ওয়েইসের সঙ্গে নোবেল পান থর্ন।

১৯১৫ সালে প্রকাশ হয় আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা। সেই তত্ত্ব থেকেই বেরিয়ে আসে মহাকর্ষ তরঙ্গের ভবিষ্যদ্বাণী। কিন্তু ভবিষ্যদ্বাণী প্রমাণ হতে লেগে গেছে পাক্কা এক শ বছর। তার আগে ঘটে গেছে কত ধুন্ধুমার কাণ্ড। নাথান রোজেনকে সঙ্গে নিয়ে স্বয়ং আইনস্টাইন এই তরঙ্গ বাতিল করতে উঠেপড়ে লাগেন, জোসেফ ওয়েবারের জোচ্চুরি ঝড় তোলে, রিচার্ড ফাইনম্যান এই তরঙ্গ শনাক্তের এক কাল্পনিক যন্ত্রের নকশা করেন। শেষমেশ মার্কিন বিজ্ঞানী রেইনার ওয়েসই করেন কাজের কাজ।
মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্তের জন্য আলোর ব্যতিচার ধর্ম কাজে লাগানোর কথা ভাবেন। সে জন্য বানাতে হবে বিশাল এক ইন্টারফেরোমিটার। সেই যন্ত্রের দুটো ফাঁপা বাহু থাকবে। বাহু দুটো থাকবে পরস্পরের সমকোণে। মহাকর্ষ তরঙ্গ প্রবাহিত হলে একটা বাহুর দৈর্ঘ্য বেড়ে যাবে। তখন সেই বাহুর সমকোণে থাকা বাহুটির দৈর্ঘ্য যাবে কমে। পরমুহূর্তে যে ঢেউ আসবে, সেটা প্রথম বাহুটির দৈর্ঘ্য কমিয়ে দেবে এবং প্রসারিত হবে দ্বিতীয় বাহুটি।
একমাত্র আলোই মহাকর্ষ তরঙ্গের প্রভাবমুক্ত। আলোকে থামানো যায় না। আলোর বেগও শূন্য মাধ্যমে একটুও কমবেশি হয় না। নলের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত করা হবে লেজার আলো। মহাকর্ষ তরঙ্গের প্রভাবে ইন্টারফেরোমিটারের দৈর্ঘ্যের প্রসারণ-সংকোচনে বাড়বে, কমবে আলোর গতিপথের দূরত্ব। ফলে দুই বাহু থেকে আসা লেজার আলোর ব্যতিচার নকশা তৈরি হবে যন্ত্রটির বিশেষ পর্দায়। তা থেকেই নিশ্চিত হবে মহাকর্ষ তরঙ্গের উপস্থিতি।
১৯৬২ সালে ওয়েস ইন্টারফেরোমিটার যন্ত্রের ওপর একটা গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। তখন অনেকেই বিশ্বাস করতেন না আলোর ব্যতিচার ধর্ম ব্যবহার করে মহাকর্ষ তরঙ্গ শনাক্ত করা যেতে পারে। এই দলে ছিলেন ক্যালটেকের গবেষক কিপ থর্নও। ইন্টারফেরোমিটার যন্ত্র তৈরির জন্য টাকা দরকার। ওয়েস সরকারের বিভিন্ন মহলে দেনদরবার করছেন। সরকারই বা একজন বিজ্ঞানীর স্বপ্নের পেছনে শুধু শুধু অর্থ ঢালবে কেন? সরকারের প্রস্তাব, নাসার এক বৈজ্ঞানিক প্যানেলকে বোঝাতে হবে পুরো বিষয়টা।
১৯৭৫ সালের কথা। ওয়েইস উঠেপড়ে লেগেছেন মহাকর্ষ তরঙ্গ শনাক্তের কাজে। সেই মুহূর্তে ওয়েসের ডাক পড়ে ওয়াশিংটনে। নাসার প্যানেলে বক্তৃতা দিতে হবে তাঁর যন্ত্রের কার্যকারিতা তুলে ধরে। ওয়েস থর্নকে আমন্ত্রণ জানান সেই অনুষ্ঠানে। আগের রাতটা কাটালেন দুজন ওয়াশিংটনের এক হোটেলে একই কক্ষে। সেই রাতেই ওয়েইস থর্নকে বোঝাতে সক্ষম হলেন, আলোর ব্যতিচার ধর্মকে ব্যবহার করেই মহাকর্ষ তরঙ্গ শনাক্ত করা সম্ভব।
এরপর রোখ চেপে যায় থর্নের। থর্ন ও ওয়েইস আরেক বিজ্ঞানী ডোনাল্ড ড্রেভরকে নিয়ে নকশা করেন মহাকর্ষ তরঙ্গ শিকারি লাইগো যন্ত্রের। নকশা তো হলো। সেটা তৈরি করতে লাগবে ২৭২ কোটি ডলার। টাকা দেবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (এনএসএফ)। এর বিরোধিতা করলেন অনেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী। মহাকর্ষ তরঙ্গ শনাক্তের ব্যাপারে তাঁরা সন্দিহান।
ওয়েবারের ব্যর্থতা তাঁদের আত্মবিশ্বাসের ভিত নড়বড়ে করেছে। আরও একটা ব্যাপার আছে। এনএসএফ যদি এত টাকা একটা প্রকল্পের পেছনে ব্যয় করে ফেলে, অন্য প্রকল্পে টাকার ঘাটতি পড়ার আশঙ্কা আছে।
দমলেন না তিন বিজ্ঞানী। লড়াই চালিয়ে গেলেন। ১৯৮১ সালে থর্ন ধরলেন বাজি। প্রতিদ্বন্দ্বী জ্যোতির্বিজ্ঞানী জেরোমিয়া অস্ট্রাইকার। বাজিতে থর্ন বলেছিলেন, ২০০০ সালের আগেই তাঁরা মহাকর্ষ তরঙ্গ শনাক্ত করতে পারবেন। সেটা যে পারেননি, সেটা এখন সবাই জানে। তাই বাজিতে হারতে হয়েছিল থর্নকে। কিন্তু হেরেও কি অসুখী হয়েছিলেন থর্ন? ২০১৬ সালে যখন মহাকর্ষ তরঙ্গ শনাক্তের ঘোষণা এলো, এটাই এখন পর্যন্ত এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক সাফল্য। ২০১৭ সালে ওয়েইসের সঙ্গে নোবেল পান থর্ন।

অভিযানে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ওয়ারী ট্রাফিক বিভাগে, যেখানে ৫৬৩টি মামলা দায়ের করা হয়। এরপর উত্তরা বিভাগে ৪৪৩টি, মিরপুরে ৩২৯টি, গুলশানে ২৪৯টি, মতিঝিলে ২৩৩টি, তেজগাঁওয়ে ২২৭টি, লালবাগে ১৮২টি এবং রমনা বিভাগে ১১০টি মামলা করা হয়।
৫ ঘণ্টা আগে
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য কমাতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকদের দক্ষতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতেও কাজ করছে সরকার।’
৭ ঘণ্টা আগে
নির্বাচন কমিশনার মাছউদ বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে পাবলিক পরীক্ষা, ধর্মীয় উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান, বর্ষা মৌসুম এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক ও যোগাযোগ পরিস্থিতি। এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই কমিশন চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করবে।
৭ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রীও এই আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করেছেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, শিগগিরই সৌদি ক্রাউন প্রিন্সও বাংলাদেশ সফরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
৭ ঘণ্টা আগে