স্টিভ জবস থেকে টিম কুক হয়ে অ্যাপলের হাল ধরলেন জন টার্নাস

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
বুধবারের ইভেন্টে আইফোন ডুয়ো উন্মোচন করে অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাস। ছবি: সংগৃহীত
বুধবারের ইভেন্টে আইফোন ডুয়ো উন্মোচন করে অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাস। ছবি: সংগৃহীত

অ্যাপলের নেতৃত্বে শুরু হলো নতুন অধ্যায়। প্রতিষ্ঠাতা ও প্রযুক্তি-দূরদর্শী স্টিভ জবসের পর টিম কুকের দীর্ঘ ১৫ বছরের নেতৃত্ব পেরিয়ে এবার বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হয়েছেন জন টার্নাস। সিইওর পদ ছেড়ে কুক এখন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন।

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুয়ো’। ছবি: সংগৃহীত
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুয়ো’। ছবি: সংগৃহীত

গত ১ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে টিম কুকের কাছ থেকে দায়িত্ব নেন টার্নাস। তবে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোয় স্টিভ জবস থিয়েটারে অনুষ্ঠিত অ্যাপলের ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’ ইভেন্টে নতুন সিইও হিসেবে প্রথমবারের মতো বড় মঞ্চে হাজির হন তিনি। প্রথম অনুষ্ঠানেই অবশ্য বাজিমাত করেছেন তিনি, ঘোষণা করেছেন অ্যাপলের বহুল প্রতীক্ষিত প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুয়ো’।

অ্যাপলের বর্তমান ইতিহাসে নেতৃত্বের এই উত্তরাধিকার বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৯৭ সালে কোম্পানিতে ফিরে আসার পর স্টিভ জবস অ্যাপলকে দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কা থেকে বিশ্বের অন্যতম উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। ২০১১ সালে অসুস্থতার কারণে সিইও পদ ছেড়ে দিলে দায়িত্ব নেন তার দীর্ঘদিনের সহযোগী ও তৎকালীন প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা টিম কুক।

জবসের যুগ ছিল নতুন পণ্যের ধারণা ও উদ্ভাবনের প্রতীক। আর কুকের নেতৃত্বে অ্যাপল আরও বড় বৈশ্বিক ব্যবসায়িক শক্তিতে পরিণত হয়। আইফোন, অ্যাপল ওয়াচ, এয়ারপডস ও সেবাভিত্তিক ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কোম্পানির আকার ও আর্থিক শক্তি বহুগুণ বেড়েছে।

এবার সেই দায়িত্ব এসেছে টার্নাসের হাতে। ২০০১ সালে অ্যাপলে যোগ দেওয়া এই প্রকৌশলী গত দুই যুগে কোম্পানির হার্ডওয়্যার উন্নয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। ২০২১ সাল থেকে তিনি হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার কর্মজীবন বিস্তৃত ছিল জবস ও কুক— দুই যুগ জুড়েই।

বুধবারের অনুষ্ঠানে আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো-ম্যাক্সও উন্মোচন করেছে অ্যাপল। ছবি: সংগৃহীত
বুধবারের অনুষ্ঠানে আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো-ম্যাক্সও উন্মোচন করেছে অ্যাপল। ছবি: সংগৃহীত

তবে টার্নাস এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন, যখন অ্যাপলের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জও রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতায় অবস্থান শক্ত করা, পরিণত স্মার্টফোন বাজারে নতুন প্রবৃদ্ধির পথ খোঁজা এবং জটিল ভূরাজনৈতিক ও সরবরাহ সংকট সামলানো— সবই এখন তার সামনে।

প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচনের মধ্য দিয়ে টার্নাস তার যাত্রা শুরু করেছেন। স্টিভ জবসের উদ্ভাবন আর টিম কুকের ব্যবসায়িক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় টার্নাস অ্যাপলকে আরেকটি নতুন প্রযুক্তি যুগে নিয়ে যাবেন— এমনটিই প্রত্যাশা অ্যাপল ভক্তদের।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement