
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

আমরা জানি, আলো ছোটে চলে সর্বোচ্চ গতিতে—এক মুহূর্তেই অতিক্রম করে ফেলে হাজার হাজার কিলোমিটার। কিন্তু এই গতির গল্পটা যতটা সরল মনে হয়, বাস্তবে তা অনেক বেশি জটিল। বিশেষ করে যখন আলো কোনো পদার্থের মধ্য দিয়ে যায়, তখন তার গতি কিছুটা কমে যায়, পথ হয় ঘুরপথে চলার মতো। এবার সেই ঘুরপথে চলার রহস্য আরও একটু গভীরে গিয়ে উন্মোচন করলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড-এর দুই পদার্থবিজ্ঞানী, ইসাবেলা জিওভানেলি ও স্টিভেন আনলাগে। তাঁরা যা আবিষ্কার করেছেন, তা শুনতে অবাস্তব মনে হলেও, বিজ্ঞানের এক বাস্তব চিত্র—আলোকে ধরা হয়েছে 'ইম্যাজিনারি টাইম'-এ।
'ইম্যাজিনারি টাইম' বা কল্পনামূলক সময়—শব্দটির মধ্যেই যেন রহস্য। সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবনে এই সময়ের কোনো অস্তিত্ব নেই। এটি গাণিতিক একটি ধারণা, যেখানে সময়কে দেখানো হয় কাল্পনিক সংখ্যার মাধ্যমে, যেমন –১ এর বর্গমূল। এতদিন এই ধারণাটি শুধু তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানেই ব্যবহৃত হতো। বাস্তবজগতে এর কোনো স্পষ্ট রূপ ছিল না। কিন্তু এবার বিজ্ঞানীরা সেই কাল্পনিক সময়ের মধ্যেই দেখতে পেলেন আলোর আচরণ।
কীভাবে তাঁরা সেটি দেখলেন? গবেষকেরা একজোড়া কোঅক্সিয়াল কেবলকে (যা আমরা সাধারণত টেলিভিশনের তার হিসেবে চিনি) বৃত্তাকারে জুড়ে একটি 'রিং গ্রাফ' তৈরি করেন। এর মধ্যে দিয়ে তাঁরা মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ পাঠান। এটি আমাদের চোখে দেখা যায় না, কিন্তু আলো হিসেবেই বিবেচিত হয়। এরপর আধুনিক ও অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অস্কিলোস্কোপ ব্যবহার করে তাঁরা পরিমাপ করেন, এই তরঙ্গ কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে—তার গতি, দিক এবং ফ্রিকোয়েন্সি।
যা তাঁরা খুঁজে পান, তা অবাক করার মতো। দেখা যায়, মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গের ভেতরের ঢেউগুলো এমনভাবে আচরণ করছে, যা কেবল 'ইম্যাজিনারি' বা কাল্পনিক সময়ের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। গবেষকেরা বুঝতে পারেন, এতদিন যেটিকে নিছক গাণিতিক সুবিধা মনে করা হতো, সেটি আসলে বাস্তব তরঙ্গের চলাচলের একটি গোপন ভাষা। স্টিভেন আনলাগে বলেন, “এটা এক ধরনের ‘লুকানো স্বাধীনতা’ যা আমরা এতদিন উপেক্ষা করেছিলাম। আমরা সেটিকে বাস্তব রূপ দিতে পেরেছি।”
এই গবেষণার মূলে রয়েছে এক গভীর ধারণা—আলোর তরঙ্গ হয়তো সবসময় একই গতি বজায় রাখে না। একক ফোটনের গতি পরিবর্তন হয় না ঠিকই, কিন্তু আলোর পালস বা তরঙ্গমালার সমষ্টিগত গতি নানা কারণে কমে বা বাড়ে। এমনকি এমনও হয় যে, একটি আলো পালস তার ফোটনের চেয়ে দ্রুত চলে যায়। একে 'নেগেটিভ গ্রুপ ভেলোসিটি' বলা হয়। এটি শুনতে অবাস্তব মনে হলেও বাস্তবে এমন ঘটনা ঘটে। এই জটিল গতি বুঝতে বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করেন বাস্তব সংখ্যা (যেমন ৩, ৫, ১০) এবং কাল্পনিক সংখ্যা (যেমন i, যেখানে i = √−1)। কিন্তু এতদিন সেই কাল্পনিক সংখ্যার আসল অর্থ অনাবিষ্কৃতই ছিল। এবার সেটা খুঁজে পেলেন জিওভানেলি ও আনলাগে।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের কোয়ান্টাম পদার্থবিদ ড. অ্যালেক্স রাইট বলেন, “এই গবেষণা প্রমাণ করে, কাল্পনিক সংখ্যা শুধু সমীকরণের অঙ্ক নয়—এর শারীরিক রূপ আছে। মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ যখন পদার্থের মধ্য দিয়ে যায়, তখন এদের ফ্রিকোয়েন্সিতে যে সূক্ষ্ম পরিবর্তন হয়, সেটাই আসলে সেই 'ইম্যাজিনারি টাইম'।”
এমন একটি পরীক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও অনেক কিছু জানা যেতে পারে। পদার্থবিদরা মনে করছেন, আলোর এই আচরণ বোঝা গেলে আমরা আরও নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব ফাইবার অপটিক্স, কোয়ান্টাম কমিউনিকেশন, এমনকি নতুন প্রজন্মের মেটামেটেরিয়াল। অর্থাৎ এমন উপাদান যা আলোকে বাঁকিয়ে দিতে পারে, লুকিয়ে রাখতে পারে, বা অভূতপূর্ব গতিতে চালিত করতে পারে।
এই গবেষণা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বিজ্ঞানের যেসব ধারণা আমরা অনেক সময় শুধু 'গাণিতিক কল্পনা' বলে মনে করি, তারাও বাস্তবের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। আমাদের চোখে যা দেখা যায় না, তা সবসময় অবাস্তব নয়। বিজ্ঞান বারবার আমাদের শিখিয়েছে, যেটিকে আমরা আজ বুঝি না, তা আগামীকাল বাস্তবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।
‘ইম্যাজিনারি টাইম’-এর মধ্যে আলোকে ধরা—এ যেন সময়ের আরেকটি মাত্রায় গিয়ে তার চলাচল বোঝার চেষ্টা। এই কাজ শুধু বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় নয়, বরং আমাদের উপলব্ধিকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কারণ সময়, গতি, আলো—সবকিছুই একে অপরের সঙ্গে অদ্ভুতভাবে জড়িত। আর এই জটিল সম্পর্ককে বুঝতেই পদার্থবিজ্ঞানীরা আজও নিরবধি গবেষণা করে যাচ্ছেন।
তাঁদের এই অনুসন্ধান আমাদের একটাই বার্তা দেয়—বাস্তবতা সবসময় চোখে দেখা জিনিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কখনো কখনো কল্পনাও হয়ে উঠতে পারে বাস্তব ব্যাখ্যার দরজা। আর সেই দরজা খুলে গেল আজ, এক কাপালের মতো অদৃশ্য সময়ের মধ্যে আলো ধরা পড়ার মধ্য দিয়ে।

আমরা জানি, আলো ছোটে চলে সর্বোচ্চ গতিতে—এক মুহূর্তেই অতিক্রম করে ফেলে হাজার হাজার কিলোমিটার। কিন্তু এই গতির গল্পটা যতটা সরল মনে হয়, বাস্তবে তা অনেক বেশি জটিল। বিশেষ করে যখন আলো কোনো পদার্থের মধ্য দিয়ে যায়, তখন তার গতি কিছুটা কমে যায়, পথ হয় ঘুরপথে চলার মতো। এবার সেই ঘুরপথে চলার রহস্য আরও একটু গভীরে গিয়ে উন্মোচন করলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড-এর দুই পদার্থবিজ্ঞানী, ইসাবেলা জিওভানেলি ও স্টিভেন আনলাগে। তাঁরা যা আবিষ্কার করেছেন, তা শুনতে অবাস্তব মনে হলেও, বিজ্ঞানের এক বাস্তব চিত্র—আলোকে ধরা হয়েছে 'ইম্যাজিনারি টাইম'-এ।
'ইম্যাজিনারি টাইম' বা কল্পনামূলক সময়—শব্দটির মধ্যেই যেন রহস্য। সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবনে এই সময়ের কোনো অস্তিত্ব নেই। এটি গাণিতিক একটি ধারণা, যেখানে সময়কে দেখানো হয় কাল্পনিক সংখ্যার মাধ্যমে, যেমন –১ এর বর্গমূল। এতদিন এই ধারণাটি শুধু তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানেই ব্যবহৃত হতো। বাস্তবজগতে এর কোনো স্পষ্ট রূপ ছিল না। কিন্তু এবার বিজ্ঞানীরা সেই কাল্পনিক সময়ের মধ্যেই দেখতে পেলেন আলোর আচরণ।
কীভাবে তাঁরা সেটি দেখলেন? গবেষকেরা একজোড়া কোঅক্সিয়াল কেবলকে (যা আমরা সাধারণত টেলিভিশনের তার হিসেবে চিনি) বৃত্তাকারে জুড়ে একটি 'রিং গ্রাফ' তৈরি করেন। এর মধ্যে দিয়ে তাঁরা মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ পাঠান। এটি আমাদের চোখে দেখা যায় না, কিন্তু আলো হিসেবেই বিবেচিত হয়। এরপর আধুনিক ও অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অস্কিলোস্কোপ ব্যবহার করে তাঁরা পরিমাপ করেন, এই তরঙ্গ কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে—তার গতি, দিক এবং ফ্রিকোয়েন্সি।
যা তাঁরা খুঁজে পান, তা অবাক করার মতো। দেখা যায়, মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গের ভেতরের ঢেউগুলো এমনভাবে আচরণ করছে, যা কেবল 'ইম্যাজিনারি' বা কাল্পনিক সময়ের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। গবেষকেরা বুঝতে পারেন, এতদিন যেটিকে নিছক গাণিতিক সুবিধা মনে করা হতো, সেটি আসলে বাস্তব তরঙ্গের চলাচলের একটি গোপন ভাষা। স্টিভেন আনলাগে বলেন, “এটা এক ধরনের ‘লুকানো স্বাধীনতা’ যা আমরা এতদিন উপেক্ষা করেছিলাম। আমরা সেটিকে বাস্তব রূপ দিতে পেরেছি।”
এই গবেষণার মূলে রয়েছে এক গভীর ধারণা—আলোর তরঙ্গ হয়তো সবসময় একই গতি বজায় রাখে না। একক ফোটনের গতি পরিবর্তন হয় না ঠিকই, কিন্তু আলোর পালস বা তরঙ্গমালার সমষ্টিগত গতি নানা কারণে কমে বা বাড়ে। এমনকি এমনও হয় যে, একটি আলো পালস তার ফোটনের চেয়ে দ্রুত চলে যায়। একে 'নেগেটিভ গ্রুপ ভেলোসিটি' বলা হয়। এটি শুনতে অবাস্তব মনে হলেও বাস্তবে এমন ঘটনা ঘটে। এই জটিল গতি বুঝতে বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করেন বাস্তব সংখ্যা (যেমন ৩, ৫, ১০) এবং কাল্পনিক সংখ্যা (যেমন i, যেখানে i = √−1)। কিন্তু এতদিন সেই কাল্পনিক সংখ্যার আসল অর্থ অনাবিষ্কৃতই ছিল। এবার সেটা খুঁজে পেলেন জিওভানেলি ও আনলাগে।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের কোয়ান্টাম পদার্থবিদ ড. অ্যালেক্স রাইট বলেন, “এই গবেষণা প্রমাণ করে, কাল্পনিক সংখ্যা শুধু সমীকরণের অঙ্ক নয়—এর শারীরিক রূপ আছে। মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ যখন পদার্থের মধ্য দিয়ে যায়, তখন এদের ফ্রিকোয়েন্সিতে যে সূক্ষ্ম পরিবর্তন হয়, সেটাই আসলে সেই 'ইম্যাজিনারি টাইম'।”
এমন একটি পরীক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও অনেক কিছু জানা যেতে পারে। পদার্থবিদরা মনে করছেন, আলোর এই আচরণ বোঝা গেলে আমরা আরও নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব ফাইবার অপটিক্স, কোয়ান্টাম কমিউনিকেশন, এমনকি নতুন প্রজন্মের মেটামেটেরিয়াল। অর্থাৎ এমন উপাদান যা আলোকে বাঁকিয়ে দিতে পারে, লুকিয়ে রাখতে পারে, বা অভূতপূর্ব গতিতে চালিত করতে পারে।
এই গবেষণা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বিজ্ঞানের যেসব ধারণা আমরা অনেক সময় শুধু 'গাণিতিক কল্পনা' বলে মনে করি, তারাও বাস্তবের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। আমাদের চোখে যা দেখা যায় না, তা সবসময় অবাস্তব নয়। বিজ্ঞান বারবার আমাদের শিখিয়েছে, যেটিকে আমরা আজ বুঝি না, তা আগামীকাল বাস্তবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।
‘ইম্যাজিনারি টাইম’-এর মধ্যে আলোকে ধরা—এ যেন সময়ের আরেকটি মাত্রায় গিয়ে তার চলাচল বোঝার চেষ্টা। এই কাজ শুধু বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় নয়, বরং আমাদের উপলব্ধিকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কারণ সময়, গতি, আলো—সবকিছুই একে অপরের সঙ্গে অদ্ভুতভাবে জড়িত। আর এই জটিল সম্পর্ককে বুঝতেই পদার্থবিজ্ঞানীরা আজও নিরবধি গবেষণা করে যাচ্ছেন।
তাঁদের এই অনুসন্ধান আমাদের একটাই বার্তা দেয়—বাস্তবতা সবসময় চোখে দেখা জিনিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কখনো কখনো কল্পনাও হয়ে উঠতে পারে বাস্তব ব্যাখ্যার দরজা। আর সেই দরজা খুলে গেল আজ, এক কাপালের মতো অদৃশ্য সময়ের মধ্যে আলো ধরা পড়ার মধ্য দিয়ে।

সরকার নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দেশের আলোচিত বিশেষ বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব) পুনর্গঠন বা নতুন নামে একটি 'এলিট ফোর্স' হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
১৬ ঘণ্টা আগে
গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার বাণিজ্যিক ব্যাংকের সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে না কেন— তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
১৭ ঘণ্টা আগে
ফলো-আপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ সোমবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় পৌঁছান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
১৭ ঘণ্টা আগে
ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সব ফিলিং স্টেশনকে ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঈদযাত্রায় যান চলাচলে সুবিধার্থে টানা ১৩ দিন সিএনজি ফিলিং স্টেশন খোলা রাখার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
১৭ ঘণ্টা আগে