
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

পিঁপড়া আর মিলিবাগ—এই দুটি ছোট্ট পোকা যেন হরিহর আত্মা। প্রকৃতির এক অদ্ভুত মিত্রতার নিদর্শন এরা। পিঁপড়া দলবদ্ধভাবে প্রাণী, কৌতূহলী এবং চঞ্চল। অন্যদিকে মিলিবাগের চলাফেরাচলাফেরা ধীর, পারতপক্ষে নড়াচড়া করে না। শরীর তুলোর মতো সাদা আর নরম। পিঁপড়ে আর মিলিবাগকে প্রায়ই একসঙ্গে দেখা যায়। সেটা দেখে অনেকেই মনে করেন, পিঁপড়ারা বুঝি মিলিবাগকে খেতে এসেছে। কিন্তু আসল ঘটনা সম্পূর্ণ উল্টো। এই দুই প্রজাতির মধ্যে রয়েছে এক গভীর পারস্পরিক সম্পর্ক। বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে “মিউচুয়ালিজম। এই সম্পর্কে দু’পক্ষই লাভবান হয়।
কিন্তু কেমন সেই সম্পর্ক? কেনই বা পিঁপড়রা মিলিবাগকে আক্রমণ না করে বরং তাদের রক্ষা করে, লালন-পালন করে, এমনকি বংশবিস্তারে সাহায্য করে?
প্রথমে আসা যাক মিলিবাগের কথায়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Pseudococcidae, গাছের কচি পাতা, কান্ড এবং শিকড় থেকে রস শুষে খায়। এদের মুখে রয়েছে সুচালো অংশ চোষকণ, এর সাহায্যে তারা গাছের কোষ ভেদ করে মিষ্টি রস টেনে নেয়। কিন্তু এই রস হজম করার পর মিলিবাগের শরীর থেকে নির্গত হয় একধরনের মিষ্টি তরল। তার নাম নাম হানি ডিউ। এগুলো আসলে মিলিবাগের বিষ্ঠা। তবে পিঁপড়াদের কাছে তা অত্যন্ত প্রিয় খাদ্য। এই হানি ডিউয়ের লোভে তারা মিলিবাগকে আক্ষরিক অর্থেই লালন-পালন করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইড-এর কীটতত্ত্ববিদ ড. জেনিফার ন্যাশ মন্তব্য করেছেন, ‘পিঁপড়ারা মিলিবাগের গায়ে হালকা কামড় দিয়ে তাদের হানি ডিউ নিঃসরণে সহায়তা করে। অনেকটা দুধ দোয়ানোর মতো। এটা একধরনের ‘ডোমেস্টিকেশন’। ঠিক যেভাবে মানুষ গরু পোষে দুধের জন্য, পিঁপড়ারাও তেমনি মিলিবাগ পোষে হানি ডিউয়ের জন্য।’
পিঁপড়ারা মিলিবাগকে শিকারি পতঙ্গ কিংবা পরজীবীর হাত থেকে আগলে রাখে। কেউ আক্রমণ করতে এলে দল বেঁধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শুধু তা-ই নয়, অনেক পিঁপড়া মিলিবাগের ডিমকেও রক্ষা করে। মিলিবাগ যখন ডিম পাড়ে, তখন পিঁপড়ারা সেই ডিমগুলিকে এমনভাবে ঘিরে রাখে যেন কোনো শত্রু বা পরিবেশগত ঝুঁকি তাদের ক্ষতি করতে না পারে।
জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটির কীটবিজ্ঞানী ড. কেইসুকে কুরোসাওয়া বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি, পিঁপড়ারা প্রজনন মৌসুমে মিলিবাগের ডিমকে এমনভাবে লুকিয়ে রাখে ও আগলে রাখে, যেন নিজের ছানাকে আগলে রাখছে। এমনকি কিছু পিঁপড়া ডিম ফুটে গেলে নবজাতক মিলিবাগকে মুখে করে নিয়ে গিয়ে নতুন গাছে বসিয়ে আসে। ফলে নতুন গাছে গিয়ে মিলিবাগের নতুন কলোনি গড়ে ওঠে, পিঁপড়েদেরও নতুন খাদ্যসংস্থান তৈরি হয়।’
এই সম্পর্কের ফলে মিলিবাগ যেমন নিরাপদ পরিবেশে বেঁচে থাকার সুযোগ পায়, তেমনি পিঁপড়ারাও নিয়মিত মিষ্টি খাদ্য পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো এলাকায় যদি পিঁপড়া কমে যায়, সেখানে মিলিবাগের সংখ্যাও হ্রাস পায়। কারণ তারা তখন শিকারি পতঙ্গ বা পরিবেশগত প্রতিকূলতার কবলে পড়ে।
এই সম্পর্ক কৃষিক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ে। আফ্রিকার কিছু অঞ্চল, বিশেষত মোজাম্বিক ও কেনিয়াতে, চিনির বাদাম বা কাসাভা গাছের পিঁপড়া-মিলিবাগ জোটকে একধরনের 'দুর্যোগ' হিসেবে দেখা হয়। কারণ মিলিবাগ গাছের রস চুষে গাছ দুর্বল করে ফেলে, আর পিঁপড়ারা তাদের রক্ষা করায় কোনোভাবেই সহজে নির্মূল করা যায় না। এ বিষয়ে আফ্রিকান অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফরেস্ট্রি জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ড. জ্যাকব ওকোথ লিখেছেন, ‘আমরা দেখেছি, কীটনাশক প্রয়োগ করেও মিলিবাগ ধ্বংস করা যায় না। কারণ পিঁপড়ারা তখন মিলিবাগদের সরিয়ে অন্য জায়গায় নিয়ে যায়।ফলে মিলিবাগ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত কঠিন। পিঁপড়া এবং মিলিবাগ উভয়ের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।’
তবে সব কিছু মিলিয়ে এ সম্পর্ককে একাধারে আশ্চর্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের নিদর্শন বলা যায়। এক প্রাণী আরেক প্রাণীকে শুধু টিকে থাকার জন্য তো বটেই, খাদ্য ও বংশবিস্তারের প্রয়োজনে সহায়তা করে- জীবজগতে এমন ‘বন্ধুত্ব’ খুব কমই দেখা যায়।
প্রকৃতির এই মিত্রতার গল্প থেকে একটা স্পষ্ট, প্রকৃতিতে কোনো জীব কখনো একলা বাঁচে না। একে অপরের উপর নির্ভর করে, সাহচর্যে টিকে থাকা এবং প্রয়োজনে নিজের স্বার্থে হলেও অপরকে রক্ষা করার প্রবণতা রয়েছে।

পিঁপড়া আর মিলিবাগ—এই দুটি ছোট্ট পোকা যেন হরিহর আত্মা। প্রকৃতির এক অদ্ভুত মিত্রতার নিদর্শন এরা। পিঁপড়া দলবদ্ধভাবে প্রাণী, কৌতূহলী এবং চঞ্চল। অন্যদিকে মিলিবাগের চলাফেরাচলাফেরা ধীর, পারতপক্ষে নড়াচড়া করে না। শরীর তুলোর মতো সাদা আর নরম। পিঁপড়ে আর মিলিবাগকে প্রায়ই একসঙ্গে দেখা যায়। সেটা দেখে অনেকেই মনে করেন, পিঁপড়ারা বুঝি মিলিবাগকে খেতে এসেছে। কিন্তু আসল ঘটনা সম্পূর্ণ উল্টো। এই দুই প্রজাতির মধ্যে রয়েছে এক গভীর পারস্পরিক সম্পর্ক। বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে “মিউচুয়ালিজম। এই সম্পর্কে দু’পক্ষই লাভবান হয়।
কিন্তু কেমন সেই সম্পর্ক? কেনই বা পিঁপড়রা মিলিবাগকে আক্রমণ না করে বরং তাদের রক্ষা করে, লালন-পালন করে, এমনকি বংশবিস্তারে সাহায্য করে?
প্রথমে আসা যাক মিলিবাগের কথায়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Pseudococcidae, গাছের কচি পাতা, কান্ড এবং শিকড় থেকে রস শুষে খায়। এদের মুখে রয়েছে সুচালো অংশ চোষকণ, এর সাহায্যে তারা গাছের কোষ ভেদ করে মিষ্টি রস টেনে নেয়। কিন্তু এই রস হজম করার পর মিলিবাগের শরীর থেকে নির্গত হয় একধরনের মিষ্টি তরল। তার নাম নাম হানি ডিউ। এগুলো আসলে মিলিবাগের বিষ্ঠা। তবে পিঁপড়াদের কাছে তা অত্যন্ত প্রিয় খাদ্য। এই হানি ডিউয়ের লোভে তারা মিলিবাগকে আক্ষরিক অর্থেই লালন-পালন করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইড-এর কীটতত্ত্ববিদ ড. জেনিফার ন্যাশ মন্তব্য করেছেন, ‘পিঁপড়ারা মিলিবাগের গায়ে হালকা কামড় দিয়ে তাদের হানি ডিউ নিঃসরণে সহায়তা করে। অনেকটা দুধ দোয়ানোর মতো। এটা একধরনের ‘ডোমেস্টিকেশন’। ঠিক যেভাবে মানুষ গরু পোষে দুধের জন্য, পিঁপড়ারাও তেমনি মিলিবাগ পোষে হানি ডিউয়ের জন্য।’
পিঁপড়ারা মিলিবাগকে শিকারি পতঙ্গ কিংবা পরজীবীর হাত থেকে আগলে রাখে। কেউ আক্রমণ করতে এলে দল বেঁধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শুধু তা-ই নয়, অনেক পিঁপড়া মিলিবাগের ডিমকেও রক্ষা করে। মিলিবাগ যখন ডিম পাড়ে, তখন পিঁপড়ারা সেই ডিমগুলিকে এমনভাবে ঘিরে রাখে যেন কোনো শত্রু বা পরিবেশগত ঝুঁকি তাদের ক্ষতি করতে না পারে।
জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটির কীটবিজ্ঞানী ড. কেইসুকে কুরোসাওয়া বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি, পিঁপড়ারা প্রজনন মৌসুমে মিলিবাগের ডিমকে এমনভাবে লুকিয়ে রাখে ও আগলে রাখে, যেন নিজের ছানাকে আগলে রাখছে। এমনকি কিছু পিঁপড়া ডিম ফুটে গেলে নবজাতক মিলিবাগকে মুখে করে নিয়ে গিয়ে নতুন গাছে বসিয়ে আসে। ফলে নতুন গাছে গিয়ে মিলিবাগের নতুন কলোনি গড়ে ওঠে, পিঁপড়েদেরও নতুন খাদ্যসংস্থান তৈরি হয়।’
এই সম্পর্কের ফলে মিলিবাগ যেমন নিরাপদ পরিবেশে বেঁচে থাকার সুযোগ পায়, তেমনি পিঁপড়ারাও নিয়মিত মিষ্টি খাদ্য পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো এলাকায় যদি পিঁপড়া কমে যায়, সেখানে মিলিবাগের সংখ্যাও হ্রাস পায়। কারণ তারা তখন শিকারি পতঙ্গ বা পরিবেশগত প্রতিকূলতার কবলে পড়ে।
এই সম্পর্ক কৃষিক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ে। আফ্রিকার কিছু অঞ্চল, বিশেষত মোজাম্বিক ও কেনিয়াতে, চিনির বাদাম বা কাসাভা গাছের পিঁপড়া-মিলিবাগ জোটকে একধরনের 'দুর্যোগ' হিসেবে দেখা হয়। কারণ মিলিবাগ গাছের রস চুষে গাছ দুর্বল করে ফেলে, আর পিঁপড়ারা তাদের রক্ষা করায় কোনোভাবেই সহজে নির্মূল করা যায় না। এ বিষয়ে আফ্রিকান অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফরেস্ট্রি জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ড. জ্যাকব ওকোথ লিখেছেন, ‘আমরা দেখেছি, কীটনাশক প্রয়োগ করেও মিলিবাগ ধ্বংস করা যায় না। কারণ পিঁপড়ারা তখন মিলিবাগদের সরিয়ে অন্য জায়গায় নিয়ে যায়।ফলে মিলিবাগ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত কঠিন। পিঁপড়া এবং মিলিবাগ উভয়ের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।’
তবে সব কিছু মিলিয়ে এ সম্পর্ককে একাধারে আশ্চর্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের নিদর্শন বলা যায়। এক প্রাণী আরেক প্রাণীকে শুধু টিকে থাকার জন্য তো বটেই, খাদ্য ও বংশবিস্তারের প্রয়োজনে সহায়তা করে- জীবজগতে এমন ‘বন্ধুত্ব’ খুব কমই দেখা যায়।
প্রকৃতির এই মিত্রতার গল্প থেকে একটা স্পষ্ট, প্রকৃতিতে কোনো জীব কখনো একলা বাঁচে না। একে অপরের উপর নির্ভর করে, সাহচর্যে টিকে থাকা এবং প্রয়োজনে নিজের স্বার্থে হলেও অপরকে রক্ষা করার প্রবণতা রয়েছে।

উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি ও সমমান) পরীক্ষার প্রথম দিনেই ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। ফরম পূরণ করেও এসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি। সংখ্যার হিসাবে এটি গত দুই বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
১৭ ঘণ্টা আগে
কালেমা খচিত পতাকা বা ইসলামের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীককে ঘিরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, অবমাননা কিংবা রাজনৈতিক অপব্যবহার কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
১৭ ঘণ্টা আগে
পদ্মা রেল সংযোগ সেতুর পিলারের নিচে মাটি কেটে নেওয়া ‘ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার স্বার্থেই’ এবং এতে কোনো ধরনের ‘ঝুঁকি নেই’ বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
১৮ ঘণ্টা আগে
এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৭২ শিশু মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৮৮, সিলেটে ৮২, চট্টগ্রামে ৫১, বরিশালে ৪০, ময়মনসিংহে ৬২, খুলনায় ২৮ এবং রংপুরে ৮ শিশু মারা গেছে।
১৮ ঘণ্টা আগে