মহাবিশ্ব

শিগগির ধংস হবে মহাবিশ্ব, কী বলছে নতুন গবেষণা!

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
গবেষক দল হিসাব করে দেখিয়েছেন, একটি সাধারণ হোয়াইট ডোয়ার্ফ তারার শেষ হতে সময় লাগবে প্রায় ১০⁷⁸ বছর। একে তারা ধরেছেন মহাবিশ্বের "শেষের সময়" বোঝার মানদণ্ড হিসেবে।

আমরা সবাই জানি, একদিন না একদিন আমাদের এই মহাবিশ্বেরও শেষ হবে। তবে বিজ্ঞানীরা এতদিন ভেবেছিলেন, সেই শেষ আসতে এখনও অনেক সময় বাকি — সম্ভবত ১০১,১০০ বছর (মানে একশো কোটি কোটি বছর!)। কিন্তু এক দল গবেষক বলছেন, এই মহাবিশ্বের পরিণতি ভাবনার চেয়েও অনেক আগে চলে আসতে পারে।

নেদারল্যান্ডসের র‌্যাডবাউড ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানী হেইনো ফাল্কে ও তাঁর সহকর্মীরা নতুন এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, মহাবিশ্বের যাবতীয় বস্তু আস্তে আস্তে "বাষ্পীভবিত" হতে থাকবে, যাকে বলে ‘হকিং-এর মতো বিকিরণ’ । এভাবে সবকিছু একসময় শেষ হয়ে যাবে। তাঁদের মতে, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে সময় লাগবে প্রায় ১০⁷⁸ বছর (মানে, একের পরে ৭৮টি শূন্য!) — যা আগের ধারণার চেয়ে অনেক কম।

১৯৭০-এর দশকে বিখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং বলেছিলেন, কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাক হোলও ধীরে ধীরে বিকিরণ ছড়িয়ে শেষ হয়ে যেতে পারে। এটাকেই বলা হয় হকিং বিকিরণ। নতুন গবেষণায় ফাল্কে এবং তাঁর দুই সহকর্মী — মাইকেল ভনড্রাক (Michael Wondrak) ও ওয়াল্টার ফন সয়লেকম (Walter van Suijlekom) — দেখিয়েছেন, শুধু ব্ল্যাক হোল নয়, বরং তুলনায় কম ঘন বস্তু যেমন নিউট্রন তারা, হোয়াইট ডোয়ার্ফ, এমনকি গ্যালাক্সি ক্লাস্টারও একইভাবে ধীরে ধীরে বিকিরণ ছড়িয়ে শেষ হতে পারে।

ফাল্কে বলেন, “এই ফলাফল আমাদের কেবল হকিং বিকিরণের নতুন ধারণাই দেয় না, বরং মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়।”

কোন জিনিস কত দিনে শেষ হবে?

গবেষক দল হিসাব করে দেখিয়েছেন, একটি সাধারণ হোয়াইট ডোয়ার্ফ তারার শেষ হতে সময় লাগবে প্রায় ১০⁷⁸ বছর। একে তারা ধরেছেন মহাবিশ্বের "শেষের সময়" বোঝার মানদণ্ড হিসেবে।

স্টেলার ব্ল্যাক হোল শেষ হতে পারে পারে ১০^৬৭ থেকে ১০^৬৮ বছরের মধ্যে। নিউট্রন তারাও একই সময়ে শেষ হবে বলে দেখা গেছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে হোয়াইট ডোয়ার্ফই সবচেয়ে বেশি সময় নেবে — কারণ তাদের ঘনত্ব কম।

মানুষ, চাঁদ আর কৃষ্ণগহ্বরের শেষ কোথায়?

এই গবেষণার সবচেয়ে মজার অংশ হল, বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন, যদি কোনোভাবে একটি মানুষের দেহ মহাবিশ্বে চিরকাল টিকে থাকে, তবে সেটিরও শেষ হতে সময় লাগবে প্রায় ১০⁹⁰ বছর। চাঁদ শেষ হতে সময় লাগবে ১০⁸⁹ বছর। আর যে সুবিশাল কৃষ্ণগহ্বর গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থাকে — যাদের সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল বলা হয় — সেগুলো শেষ হতে সময় লাগবে ১০⁹⁶ বছর। সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হবে গ্যালাক্সি সুপারক্লাস্টারের চারপাশে থাকা ডার্ক ম্যাটারের বিশাল বলয় — যেটি শেষ হতে সময় নেবে ১০¹³⁵ বছর।

আমাদের চিন্তার কিছু আছে?

সত্যি কথা বলতে, এই মহাবিশ্বের শেষ আমাদের বা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কোনো সমস্যা তৈরি করবে না। সূর্য তো আরও ৫ বিলিয়ন (পাঁচশো কোটি) বছর জ্বলবে। যদি কোনোভাবে মানুষ আন্তর্গ্রহ বা আন্তর্জাগতিক ভ্রমণে সক্ষমও হয়, তাহলে তাকে মহাবিশ্বের বর্তমান আয়ুর চেয়েও অনেক বেশি সময় টিকে থাকতে হবে — যা প্রায় অসম্ভব।

তবু, এই গবেষণা আমাদের এক ঝলক দেখায় ভবিষ্যতের একদম চূড়ান্ত গন্তব্য — যেখানে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। গবেষক ওয়াল্টার ফন সয়লেকম বলেন, “এই ধরনের চরম প্রশ্ন নিয়ে ভাবতে গিয়ে আমরা হয়তো একদিন হকিং বিকিরণের রহস্য পুরোপুরি বুঝে ফেলব।”

এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানপত্র Journal of Cosmology and Astroparticle Physics-এ। এর মাধ্যমে আমরা শুধু মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়েই নয়, বরং মহাকর্ষ, সময় ও পদার্থের গভীর রহস্য নিয়েও নতুন করে ভাবতে পারি।

অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট মাইকেল ভনড্রাক বলেন, “ব্ল্যাক হোলের কোনো পৃষ্ঠ নেই। ফলে তারা নিজের বিকিরণের কিছু অংশ আবার শুষে নেয়, যা তাদের শেষ হয়ে যেতে সময় বাড়িয়ে দেয়।”

এইসব গবেষণা হয়তো এখনকার জীবনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে না। কিন্তু ভবিষ্যতের বিজ্ঞানের জন্য এগুলো একেকটি মূল্যবান ধাপ — যেগুলো একদিন হয়তো আমাদের মহাবিশ্বকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

৩০% জ্বালানি কম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুধু জ্বালানি নয়, সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান ও কম্পিউটার ক্রয়ও আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি কার্যালয়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবহার ৩০ শতাংশ এবং ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

৯ ঘণ্টা আগে

‘তেলের সংকট নেই, সেচ মৌসুমে কৃষকদের সমস্যা হবে না’

তিনি বলেন, বিশেষ করে এই অঞ্চলে যেমন পাট রয়েছে, এগুলো মাথায় রেখে আমাদের কৃষক ডিজেলের ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের সমস্যায় না পড়ে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে তারা যেন ডিজেল ও বিদ্যুৎ পায় সেক্ষেত্রে আমরা তৎপর আছি। কৃষকদের কোনো সমস্যা হবে না।

১০ ঘণ্টা আগে

চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করল অধিদপ্তর

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়, আপৎকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং হামের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

১১ ঘণ্টা আগে

যুদ্ধে অর্থনীতিতে কিছুটা চাপ বাড়ছে, তবে উন্নয়ন থেমে নেই: ত্রাণমন্ত্রী

মন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। নির্বাচনের আঙুলের দাগ মুছে যাওয়ার আগেই ফ্যামিলি কার্ড চালু, ইমামদের ভাতা প্রদান এবং কৃষি ঋণ মওকুফের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

১২ ঘণ্টা আগে