
অরুণ কুমার

সূর্যের ভেতর ক্রমাগত নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া সংঘটিত হচ্ছে। সূর্যের ভেতরকার হাইড্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে তৈরি হচ্ছে হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। হিলিয়ামগুলো আবার যুক্ত হয়ে তৈরি হচ্ছে আরও ভারী পরমাণু। আর এসব নিউক্লিয়ার প্রক্রিয়া থেকে তৈরি হচ্ছে প্রচণ্ড মাত্রার শক্তি। তাপের আকারে। সেই তাপ আবার নতুন করে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার জন্য শক্তি জোগাচ্ছে। অর্থাৎ সূর্যের ভেতরে আসলে অনবরত চলছে পরমাণু কণিকাদের ভাঙাগড়ার খেলা। পৃথিবী থেকে সবসময় এসব ঘটনা মোটাদাগে দেখার উপায় থাকে না। কিন্তু মাঝে মাঝে এত বড় বড় ঘটনা ঘটে, নাড়িয়ে দেয় গোটা সৌরজগতকেও। এমনই এক ঘটনা ঘটেছিল ২০০৩ সালের ২৮ অক্টোবর।
সেদিন সূর্যের পৃষ্ঠের দিকে একটা বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটেছিল। সেখান থেকে উদগীরণ ঘটেছিলে অসংখ্য আয়নিত কণাদের। (আয়নিত কণা কী জানতে পড়ুন ব্ল্যাকহোলের এই লেখাটি) অর্থাৎ সূর্যের বুক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ছিটকে বেরিয়ে এসেছিল চার্জি কণা, তারপর পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল।
এরকম ঘটনা মাঝে মাঝেই ঘটে। সূর্যের বিস্ফোরণ থেকে ছিটক বেরুনো কণা পৃথিবীতে আসে। তৈরি করে সৌর ঝড়। পৃথিবীর মেরু অঞ্চলে যে অরোরা হয়, তারও কারণ এই ঝড়। কিন্তু ২০০৩ সালে সূর্যপৃষ্ঠে বিস্ফোরণটা ঘটেছিল, তার তুলনা ইতিহাসে বিরল। আর এই বিস্ফোরণের ফলে পৃথিবীতে তৈরি হয়েছিল উপর্যপুরি সৌর ঝড়।
সেই বিস্ফোরণের ছবিকে রীতিমতো ঐতিহাসিক হিসেবে রায় দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। কারণ ছবিতে সূর্যকে সবুজ ও ভূতুড়ে দেখাচ্ছিল। আর সেদিন যে সৌর ঝড় উঠেছিল পৃথিবীতে, তার নাম বিজ্ঞানীরা দিয়েছিলেন হ্যালোউইন ঝড়। হ্যালোইনের ঠিক ৩ দিন আগে ২৮ অক্টোবর সৌর ঝড়টি দেখা দিয়েছিল বলেও একে হ্যালোইন ঝড় বলা হয়।
সেদিনের সেই ভূতুড়ে বিস্ফোরণটি ছিল বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ করা সবেচেয়ে তীব্র সৌর বিস্ফোরণ, যাকে বিজ্ঞানীরা ফেলেছিলেন এক্স-ক্লাস ফ্লেয়ারের কাতারে। সেই বিস্ফোরণ আর তার ফলে তৈরি ঝড়ের মাত্রা বোঝা যায় এর বিশালত্ব দেখে। সেদিন সৌর পৃষ্ঠের যে জায়গাটা বিস্ফোরিত হয়েছিল, সেটার আকার ১৩টা পৃথিবীর সমান। সেই বিস্ফোরণের মাত্রা ৪৫। সেটা এতটাই ব্যাপক ছিল, পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করা অর্ধেক স্যাটেলাইট তাদের অবস্থান থেকে বিচ্যূত হয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের বিজ্ঞানীরাও তেজস্ক্রিয়তার হাত থেকে বাঁচতে বাড়তি সুরক্ষা নিয়েছিলেন।
আগেই বলেছি, এই বিস্ফোরণের ফলে উদগীরিত আয়ন কণা প্রবল গতিতে আছড়ে পড়েছিল। এর প্রভাব পড়ে পৃথিবীর ভূ-চুম্ককের ওপর। তারই ফলে তিনদিন ধরে পৃথিবীতে চলে সৌর ঝড়। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঞ্চলে বেতার যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটে। এমনকী বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও নষ্ট হয়।
যদি এখন এ ধরনের ঘটনা ঘটত,তাহলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতো বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এখন মহাকাশে স্যাটেলাইটের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। সারা বিশ্বের যোগাযোগব্যবস্থা এসব স্যাটেলাইটের ওপরে অনেকটাই নির্ভরশীল।
তবে এখন যদি নাও ঘটে, ২০০৩ সালের ওই ‘হ্যালোইন’ ঝড় একটা পরিস্কার বার্তা দিয়ে রেখেছে—আগামী কয়েক দশকে সূর্যে এরকম বড় বড় ঘটনা ঘটার পরিমাণ আরও বাড়বে।

সূর্যের ভেতর ক্রমাগত নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া সংঘটিত হচ্ছে। সূর্যের ভেতরকার হাইড্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে তৈরি হচ্ছে হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। হিলিয়ামগুলো আবার যুক্ত হয়ে তৈরি হচ্ছে আরও ভারী পরমাণু। আর এসব নিউক্লিয়ার প্রক্রিয়া থেকে তৈরি হচ্ছে প্রচণ্ড মাত্রার শক্তি। তাপের আকারে। সেই তাপ আবার নতুন করে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার জন্য শক্তি জোগাচ্ছে। অর্থাৎ সূর্যের ভেতরে আসলে অনবরত চলছে পরমাণু কণিকাদের ভাঙাগড়ার খেলা। পৃথিবী থেকে সবসময় এসব ঘটনা মোটাদাগে দেখার উপায় থাকে না। কিন্তু মাঝে মাঝে এত বড় বড় ঘটনা ঘটে, নাড়িয়ে দেয় গোটা সৌরজগতকেও। এমনই এক ঘটনা ঘটেছিল ২০০৩ সালের ২৮ অক্টোবর।
সেদিন সূর্যের পৃষ্ঠের দিকে একটা বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটেছিল। সেখান থেকে উদগীরণ ঘটেছিলে অসংখ্য আয়নিত কণাদের। (আয়নিত কণা কী জানতে পড়ুন ব্ল্যাকহোলের এই লেখাটি) অর্থাৎ সূর্যের বুক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ছিটকে বেরিয়ে এসেছিল চার্জি কণা, তারপর পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল।
এরকম ঘটনা মাঝে মাঝেই ঘটে। সূর্যের বিস্ফোরণ থেকে ছিটক বেরুনো কণা পৃথিবীতে আসে। তৈরি করে সৌর ঝড়। পৃথিবীর মেরু অঞ্চলে যে অরোরা হয়, তারও কারণ এই ঝড়। কিন্তু ২০০৩ সালে সূর্যপৃষ্ঠে বিস্ফোরণটা ঘটেছিল, তার তুলনা ইতিহাসে বিরল। আর এই বিস্ফোরণের ফলে পৃথিবীতে তৈরি হয়েছিল উপর্যপুরি সৌর ঝড়।
সেই বিস্ফোরণের ছবিকে রীতিমতো ঐতিহাসিক হিসেবে রায় দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। কারণ ছবিতে সূর্যকে সবুজ ও ভূতুড়ে দেখাচ্ছিল। আর সেদিন যে সৌর ঝড় উঠেছিল পৃথিবীতে, তার নাম বিজ্ঞানীরা দিয়েছিলেন হ্যালোউইন ঝড়। হ্যালোইনের ঠিক ৩ দিন আগে ২৮ অক্টোবর সৌর ঝড়টি দেখা দিয়েছিল বলেও একে হ্যালোইন ঝড় বলা হয়।
সেদিনের সেই ভূতুড়ে বিস্ফোরণটি ছিল বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ করা সবেচেয়ে তীব্র সৌর বিস্ফোরণ, যাকে বিজ্ঞানীরা ফেলেছিলেন এক্স-ক্লাস ফ্লেয়ারের কাতারে। সেই বিস্ফোরণ আর তার ফলে তৈরি ঝড়ের মাত্রা বোঝা যায় এর বিশালত্ব দেখে। সেদিন সৌর পৃষ্ঠের যে জায়গাটা বিস্ফোরিত হয়েছিল, সেটার আকার ১৩টা পৃথিবীর সমান। সেই বিস্ফোরণের মাত্রা ৪৫। সেটা এতটাই ব্যাপক ছিল, পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করা অর্ধেক স্যাটেলাইট তাদের অবস্থান থেকে বিচ্যূত হয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের বিজ্ঞানীরাও তেজস্ক্রিয়তার হাত থেকে বাঁচতে বাড়তি সুরক্ষা নিয়েছিলেন।
আগেই বলেছি, এই বিস্ফোরণের ফলে উদগীরিত আয়ন কণা প্রবল গতিতে আছড়ে পড়েছিল। এর প্রভাব পড়ে পৃথিবীর ভূ-চুম্ককের ওপর। তারই ফলে তিনদিন ধরে পৃথিবীতে চলে সৌর ঝড়। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঞ্চলে বেতার যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটে। এমনকী বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও নষ্ট হয়।
যদি এখন এ ধরনের ঘটনা ঘটত,তাহলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতো বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এখন মহাকাশে স্যাটেলাইটের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। সারা বিশ্বের যোগাযোগব্যবস্থা এসব স্যাটেলাইটের ওপরে অনেকটাই নির্ভরশীল।
তবে এখন যদি নাও ঘটে, ২০০৩ সালের ওই ‘হ্যালোইন’ ঝড় একটা পরিস্কার বার্তা দিয়ে রেখেছে—আগামী কয়েক দশকে সূর্যে এরকম বড় বড় ঘটনা ঘটার পরিমাণ আরও বাড়বে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, নাৎসি বাহিনী ও গেস্টাপোর মতো রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে গণহত্যার অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগও দায়মুক্তি পেতে পারে না।
৪ ঘণ্টা আগে
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার এবং ১০ শিল্পগোষ্ঠীর দেশে-বিদেশে ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন।
৪ ঘণ্টা আগে
গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা) দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ১৭২ জনের শরীরে। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে হামের তথ্য প্রকাশ করে আসছে।
৫ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী জানান, সঠিক তালিকা প্রণয়নের লক্ষ্যে দেশের বিশিষ্ট মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা এবং একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে।
৫ ঘণ্টা আগে