বিজ্ঞান

নিষিদ্ধ পরমাণুবাদ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

স্বর্ণযুগে একজন দার্শনিক ছিলেন গ্রিসে। তার নাম লিউসিপ্পাস। তিনি খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করেন, কোনো বস্তুকে ইচ্ছামতো একের পর এক ভাঙা যাবে না। ভাঙতে ভাঙতে এমন একটা অবস্থায় পৌঁছবে, তখন আর বস্তুটিকে শত চেষ্টা করলেও সম্ভব নয় ভাঙা।

বস্তুটি পৌঁছবে একটা ক্ষুদ্রতম আকারে। কিন্তু সেই ক্ষুদ্রতম আকারের নাম-ধাম, বৈশিষ্ট্য কেমন হবে এ কথা বলে যাননি লিউসিপ্পাস। পরমাণুতত্ত্বের সবচেয়ে আলোচিত প্রবক্তা ডেমোক্রিটাস। লিউসিপ্পাসের ছাত্র।

ডেমোক্রিটাস বস্তুর ক্ষুদ্রতম অবস্থার নাম দিলেন, ‘অ্যাটোম’। অ্যাটোম শব্দের অর্থ অবিভাজ্য। বাংলায় আমরা যাকে বলি ‘পরমাণু’। লিউসিপ্পাসের মতো ডেমোক্রিটাসের পরমাণুকেও আধুনিক পরমাণুর সাথে মেলানো যাবে না।

কিন্তু ডেমোক্রিটাসের সাফল্যটা অন্য জায়গায়। তিনি বস্তুর ক্ষুদ্রতম কণার যে নামটা দিয়েছিলেন। আড়াই হাজার বছর পরেও সেই ‘অ্যাটোম’ নামটা বহাল তবিয়তে রয়েছে বিজ্ঞানের রাজ্যে।

ডেমোক্রিটাসের জীবদ্দশায়ই জন্ম সর্বকালের অন্যতম সেরা দার্শনিক অ্যারিস্টোটলের। সব কিছুতেই তিনি পাণ্ডিত্যের বহর দেখিয়েছেন।

সমাজে ব্যাপক প্রভাব ছিল তাঁর। তাঁর কথাকে অমর বাণী মনে করত গ্রিকবাসী। পরবর্তীকালে অনেক ধর্মগ্রন্থেই অ্যারিস্টোটলের মতের প্রতিফলন দেখা গেছে। দার্শনিক হিসেবে যত দূরদর্শীই হোন অ্যারিস্টোটল, বিজ্ঞানবক্তা হিসেবে তাঁর ব্যর্থতা অনেক। ডেমোক্রিটাসের পরমাণুতত্ত্ব মানতে পারেননি অ্যারিস্টোটল। তিনি ভাবতেন, বস্তুকে ইচ্ছামতো একের পর এক ভাঙা যায়। সেই মত তিনি প্রকাশ্যে প্রচারও করেন। তাঁর কথা ধর্মের বাণীর মতো। তাই সবাই গ্রহণ করল অ্যারিস্টোটলের মত। পরবর্তী সময়ে খ্রিস্টধর্মেও সেই মতের প্রতিফলন দেখা যায়।

তবে ডেমোক্রিটাসকে সবাই কিন্তু উড়িয়ে দেননি। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের দার্শনিক ছিলেন এপিকারুস। ছিলেন তিনি শিক্ষকও। এপিকারুস পরমাণুবাদকে গ্রহণ করেছিলেন পরম মমতায়। তাঁর পড়ানোর বিষয়গুলোতে যুক্ত করেন পরমাণুবাদ। পরমাণুবাদের ওপর ভিত্তি করে তিনি বেশ কিছু পাঠ্য বইও লেখেন।
খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীতে আবির্ভাব ঘটে লুক্রেটিয়াস নামে আরেক কবি ও দার্শনিকের। রোমান ছিলেন তিনি। তিনি এপিকারুস দর্শনে অনুপ্রাণিত হন। একটি দীর্ঘ কবিতায় এপিকারুসের পরমাণুবাদ তুলে ধরেন তিনি।

এরপর আবার পরমাণুবাদের অন্ধকার যুগের শুরু। খ্রিস্টধর্মের প্রভাব দিন দিন বাড়তে থাকে। সমাজে শক্তিশালী জায়গা করে নেয় অ্যারিস্টোটলের দর্শন। মধ্যযুগ। পোপ ও পাদ্রিদের ব্যাপক দাপট তখন। সেই দাপটের কাছে তুচ্ছ ইউরোপীয় সম্রাটরাও। তাইতো পোপ আর তার চ্যালারা বিজ্ঞান চর্চার বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হতে পেরেছিল। মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল হাইপেশিয়া, ব্রুনোকে। গ্যালিলিওকে দেওয়া হয়েছিল কঠিন সাজা।

অ্যারিস্টোটল পরমাণু ধারণা মানতে পারেননি। ধর্মও সেটা মানবে কেন? খ্রিস্ট ধর্মে তাই পরমাণুর কথাও বলা পাপ। তখন লুক্রেটিয়াসের লেখা বইটিকে নাস্তিকতার অভিযোগে নিষিদ্ধ করা হয়। ধ্বংস করা হয় তাঁর বইয়ের সব কপি। একটা কপিই কেবল টিকে ছিল। ১৪১৭ সালে সেটা উদ্ধার করেন বিজ্ঞানীরা। তৈরি করা হয় সেটার প্রতিলিপিও।

সূত্র : ব্রিটানিকা

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

বাণিজ্য মেলা কেবল পণ্যের প্রদর্শনী নয়, বাণিজ্যিক উন্নয়নেরও প্রদর্শনী: বাণিজ্য উপদেষ্টা

বাণিজ্য মেলা কেবল পণ্যের প্রদর্শনী নয়, এটি বাংলাদেশের উদ্যোগ, উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিক উন্নয়নের প্রদর্শনীও বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন।

৩ ঘণ্টা আগে

নির্বাচন নিয়ে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বাংলাদেশের সঙ্গে বহির্বিশ্বের সবার ভালো সম্পর্ক। আমরাই নির্বাচন করতে চাই, নির্বাচন নিয়ে বহির্বিশ্বের কোনও চাপ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। শনিবার মুন্সিগঞ্জে সরকারি দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

৪ ঘণ্টা আগে

কবরের ওপর খেজুরের ডাল পোঁতা হয় কেন?

জিয়া উদ্যানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরেও খেজুরগাছের ডাল পোঁতা হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ কবর জিয়ারত করতে গিয়ে দেখছেন খেজুরের এই ডালটি। সাধারণ মানুষ থেকে অসাধারণ—প্রায় সব মুসলিমের কবরেই খেজুরের ডাল পোঁতা হয়। কিন্তু কেন?

৪ ঘণ্টা আগে

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতে কাজ করছে পুলিশ: ডিএমপি কমিশনার

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, বর্তমানে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবচেয়ে গ

৫ ঘণ্টা আগে