বিজ্ঞান

কান্নার বৈজ্ঞানিক কারণ

অরুণ কুমার
কান্নার পেছনেও বিজ্ঞান আছে

কান্নার অনুভূতির জন্ম মস্তিষ্কে। চোখের কাছাকাছি অঞ্চলে মস্তিষ্কের যে অংশটি, তার নাম ল্যাক্রিমাল গ্ল্যান্ড। সেখান থেকেই প্রোটিন, মিউকাস বা তেলতেলে নোনা জল তৈরি হয়। এগুলো চোখ দিয়ে অশ্রুর আকারে বেরিয়ে আসে। এটিকেই আসলে কান্না বলে।

মস্তিষ্কে সেরিব্রাম নামে একটা অংশ আছে, সেখানে দুঃখ জমা হয় বা দুঃখের অনুভূতি তৈরি হয়। সেই অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ হলো কান্না। দুঃখের বা মন খারাপের কারণে শীররে একধরনের টক্সিন বা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়। সেগুলো বের করে দেয়ার জন্য কান্নার প্রয়োজন। চোখের জলের সঙ্গে সেই ক্ষতিকর পদার্থ বেরিয়ে আসে।

কাঁদার যেমন ধরন আছে, দুঃখ, ব্যথা ছাড়াও অনেক সময় আমরা কেঁদে ফেলি। যেমন চোখে ঝাল বা পেঁয়াজের কষ লাগলে পানি চলে আসে। এটাকে আমরা কান্না বলি না অবশ্য। কিন্তু কান্নার বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে এর মিল আছে।

স্রেরিব্রাম অংশ থেকে এন্ডেক্রিন সিস্টেম বা অন্তঃক্ষরা পদ্ধতিতে হরমোন নির্গত হয়। দুঃখের কারণে জমা হওয়া ক্ষতিকর পদার্থগুলো বহন করে চোখের আশপাশের অঞ্চলে নিয়ে যায় এই হরমোনগুলো। সেখান থেকে চোখের জলের সঙ্গে টক্সিনগুলো বেরিয়ে আসে কান্নার আকারে। এটিই আসলে আবেগীয় কান্না। যন্ত্রণার বা খুশির কান্নাও একই পদ্ধতিতে আসে।

রিফ্লেক্স নামে আরেক ধরনের কান্না আছে। এই কান্নাকে অবশ্য সত্যিকার কান্না বলা যায় না। হঠাৎ ব্যথা পেলে, কিংবা ঝাঁঝালো কোনো বস্তু যেমন পেঁয়াজ বা সর্ষের তেলের কিংবা ধুলাবালি নাক বা চোখ দিয়ে ঢুকলে এ ধরনের কান্না তৈরি হয়। এসব ঝাঁঝালো বস্তু চোখে ঢুকলে চোখের কর্নিয়ায় যে স্নায়ুতন্ত্র আছে, সেটাতে বার্তা পাঠায়। বদলে মস্তিষ্কও প্রতিরক্ষার জন্য হরমোন পাঠিয়ে দেয়ে চোখের পাতায়। চোখে সেগুলো অশ্রুর মতো জমা হয়। ধুলাবালি বা ক্ষতিকর পদার্থ বয়ে নিয়ে চোখ থেকে বেরিয়ে আসে সেই অশ্রু।

আপনজনের কান্না দেখে আমরা যে ভয় পেয়ে যাই, সেটা আসলে অমূলক। কান্নার মাধ্যমে ক্ষতিকর পদার্থই বেরিয়ে আসে চোখ থেকে। কান্নার পর মাথা অনেক সজীব হয়। ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হয়। তাই ক্ষণস্থায়ী কান্নাকে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই।

Ad
Ad
ad
ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

তারেক রহমানকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানালেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী

জাপানের সিনিয়র ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নামাজু হিরোযুকি বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি জাপানের মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল (এফওআইপি) গড়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে বাংলাদেশকে অবহিত করেন।

২ ঘণ্টা আগে

এসডিজি অর্জনে সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়নের মূল কেন্দ্র পরিবার। একটি পরিবারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তাই এসডিজি বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে সাধারণ মানুষের প্রয়োজন ও জীবনমানের উন্নয়নকে সর্ব

১৬ ঘণ্টা আগে

ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ‘পলিটিক্যাল ক্লাউন’: চিফ প্রসিকিউটর

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ‘পলিটিক্যাল ক্লাউন’ আখ্যা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের যে সেক্রেটারি জেনারেল, অর্থাৎ ওবায়দুল কাদের, তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন রাজনৈতিক জোকার বা পলিটিক্যাল ক্লাউন।’

১৬ ঘণ্টা আগে

পুলিশে বড় রদবদল, ২৩ কর্মকর্তাকে বদলি-পদায়ন

বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এসব প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদের সই করা আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এসব বদলি ও পদায়ন অবিলম্বে কার্যকর হবে।

১৭ ঘণ্টা আগে