বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে, তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ডের তৃতীয় পর্যায়ের বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নতুন অর্থবছরের বাজেটকে ‘চানাচুরে’র সঙ্গে তুলনা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘জনগণের জন্য যেই বাজেটে সকল ব্যবস্থা রেখেছি, সেই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে, তারা কি কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে? তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না।’

আজ বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কার্যক্রম শুরু করা হয়।

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে বলেছে সেই বাজেট বলে তারা মানে না। দেখেছেন না পত্রিকায়? সংবাদে? আবার অনেকে বলেছে, …এই বাজেট নাকি চানাচুরের মতন! শুনেছেন এই কথা? কিছু কিছু লোক বলেছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘যেই বাজেট জনগণের বাজেট, যেই বাজেটের মাধ্যমে আমরা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই, সেই বাজেটকে তারা চানাচুরের সাথে তুলনা করে, …সেই বাজেটকে তারা বলে গণবিরোধী বাজেট!’

সংসদের বাইরে ও ভেতরে ‘ওইসব সমালোচক’দের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সকল লোকেরা, এই সকল দলগুলো দেশে যদি অশান্তি করার সুযোগ পায়, তাহলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করতে পারব না। …আজকে প্রতিবন্ধী মানুষগুলোকে যে আমরা সহযোগিতা করলাম, এই যে গরিব স্টুডেন্টগুলোকে যে আমরা সহযোগিতা করলাম, এই যে আমরা নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি দ্রব্যের ওপর থেকে ট্যাক্স তুলে নিতে পারলাম— এটি আমরা তাহলে কন্টিনিউ করতে পারব না।’

তিনি বলেন, ‘কাজেই যারা এসব কাজে বাধা দেবে, কী ব্যবস্থা করা উচিত তাদের বিরুদ্ধে? সতর্ক থাকতে হবে তাদের বিরুদ্ধে এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

বিগত আওয়ামী লীগ আমলের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জনগণের অর্থ জনগণকে না দিয়ে একটি দল বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল। প্রিয় ভাই-বোনেরা, যারা বলে কোত্থেকে আসবে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা, কোত্থেকে আসবে কৃষক কার্ডের টাকা, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই— এই জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেবো না আমরা!’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা হবে, জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা হবে, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে, জনগণের জন্য কাজ করা হবে। কাজেই ইনশাআল্লাহ টাকার কোনো অভাব হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আসুন, যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে, যারা এই দেশ থেকে টাকা বাইরে পাঠাতে চায়, জনগণের অর্থ টাকা বিদেশে পাঠাতে চায়, আমরা আজ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব। আমরা যদি সকলে চোখ কান খোলা রাখি, তাহলে এই দেশের মানুষের অর্থ-সম্পদ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না। সেই অর্থ দিয়ে আমরা দেশ এবং দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করব।’

‘এক বছরের মধ্যে সকল নারী শ্রমিক ফ্যামিলি কার্ড পাবে’

গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে সিলেট অঞ্চলে ভোটের প্রচারে এসে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সে কথা মনে করে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, ‘আমি আমার কথা আজকে রাখতে পেরেছি। …চা-বাগানের যারা নারী শ্রমিক আছেন, তাদের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছি আজকে।

তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা হয়তো আজকে সবাইকে দিতে পারিনি, কিন্তু ইনশাআল্লাহ আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা প্রায় সকল নারী শ্রমিকের কাছে, চা-বাগানের সকলের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেবো ইনশাআল্লাহ।’

বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এ অনুষ্ঠান। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথমে জাতীয় সঙ্গীত এবং পরে বিএনপির দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে ১০ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে কম্পিউটারের বোতাম চেপে ফ্যামিলি কার্ড তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। এরপর চা শ্রমিক আবাসন সমস্যা সমাধানে শ্রমিকদের দুই লক্ষ টাকার করে অনুদান, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি প্রদান, প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক অনুদানের চেক দেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, তার সরকার মনে করে, পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য সাহায্য করা না গেলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট— বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা।’

‘সে কারণেই আজকে শুধু ফ্যামিলি কার্ডই নয়, এই যে চা-বাগানের শ্রমিক নারী শ্রমিক যারা, তাদের ৫০ জন শ্রমিককে ঘর বানানোর জন্য ২ লক্ষ টাকা আমরা দিয়েছি। চা-শ্রমিকরা অত্যন্ত কষ্টে থাকে আমরা জানি, ধীরে ধীরে তাদেরকে একটু ভালো অবস্থায় যাতে আনা যায়, সেই জন্য আমরা ২ লক্ষ টাকা করে দিয়েছি,’ বলেন তারেক রহমান।

এ ছাড়া চা-শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য বিশেষ বৃত্তি দেওয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে কয়েকজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়া দেওয়া হয়। পাশাপাশি দেশের কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে বাজেট অর্থ বরাদ্দ রাখার কথা, আগামী এক বছরে দেশের ৪০ লাখ কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের শেষ ঠিকানা। আমাদের একটাই কাজ, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। আসুন, এদেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে। এ দেশ আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। তাহলেই আমরা এই বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারব।’

সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফরজানা শারমিন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, মৌলভীবাজার ৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রাণালয়ের অতিরিক্তি সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস এবং ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের মধ্যে শিউলী রানী দাস ও ওয়াজেদা বেগম।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

বাকলিয়ার শিশু ধর্ষণ মামলায় মনির হোসেনের যাবজ্জীবন

চট্টগ্রামের বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে ৩ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামি মনির হোসেনকে (৩২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা আজ বুধবার এই রায় ঘোষণা করেন।

৩ ঘণ্টা আগে

জুলাইয়ে হত্যাচেষ্টা: সেলিম প্রধানসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় গুলশানের বাঁশতলায় নাজিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচনায় আসা সেলিম প্রধান, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারের ছেলে শাহেদ আহমেদ মজুমদারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

৫ ঘণ্টা আগে

শিশু আয়াত হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট এলাকায় বাড়ির পাশের মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয় শিশুটি। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে প্রতিবেশী আবীর আলী তাকে অপহরণ করে।

৬ ঘণ্টা আগে

১০ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

আবহাওয়া অফিস জানায়, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে হতে পারে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার আশঙ

৮ ঘণ্টা আগে
বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে, তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী