আত্মসমর্পণের আইনি সুযোগ নেই শেখ হাসিনার: প্রধান কৌঁসুলি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ১৬: ৩২
শুক্রবার ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ছবি: স্ক্রিনশট

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেছেন, প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হলে তাকে সরাসরি কারাগারে যেতে হবে। দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ তার নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১২ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রধান কৌঁসুলি।

আমিনুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকলে নিজের ইচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ নেই। তাকে ফেরানোর ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে অথবা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠানো হতে পারে।

তিনি বলেন, “প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার হয়েই কারাগারে যেতে হবে।”



মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

এ বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, “নেতাকর্মীদের দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য এ বক্তব্য দিয়েছেন শেখ হাসিনা। সরকার কূটনৈতিকভাবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

দেশে ফিরলে শেখ হাসিনা জামিন পাবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, দেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির জামিন পাওয়ার নজির নেই।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে আনা হলে বা তিনি দেশে অবস্থান করলে প্রথমে তাকে কারাগারে যেতে হবে। এরপর আপিলের সুযোগ রয়েছে কি না, তা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

আপিলের সময়সীমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে আপিলের অধিকার হারানোর বিষয়টি প্রযোজ্য হবে।

শেখ হাসিনার সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, আদালতের রায়ের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে থাকা তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ব্যাংকে থাকা অর্থ বা অন্যান্য সম্পদের মালিকানা আর তার নেই, তা রাষ্ট্রের অনুকূলে চলে গেছে।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে শেখ হাসিনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

এদিকে ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য মামলার বিষয়ে প্রধান কৌঁসুলি জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধসহ ট্রাইব্যুনালে চলমান গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মামলার তদন্তও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই এসব মামলার প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি দমনে বিশেষ অভিযানের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে দেশ জুড়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার, মাদক চোরাচালান, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

৪ ঘণ্টা আগে

গুম প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি-কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত জরুরি: আসক

গুম প্রতিরোধে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; গুমের প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি বলে জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

৪ ঘণ্টা আগে

ওআইসির নতুন মহাসচিব মৌরিতানিয়ার ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কাজ করা উলদ শেখ আহমেদ জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বেশ কিছু জটিল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায়ও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

৬ ঘণ্টা আগে

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, দেশের সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

সতর্কবার্তায় বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর ওড়িশা উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দরগুলো, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

৭ ঘণ্টা আগে