
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

অর্থনৈতিক করিডোরে বাংলাদেশকে যুক্ত করার প্রস্তাব, ব্রিকসের সদস্যপদ পেতে সহায়তার আশ্বাস এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে চীন সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, কৌশলগত অংশীদারিত্ব, অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্প স্থানান্তরসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইটটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এর আগে এ দিন বেইজিংয়ের হোটেল ‘দিয়াওইউতাই’-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীনের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একে অপরকে সমর্থন জানানো এবং বাংলাদেশকে ব্রিকসের সদস্যপদ পেতে সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছে দেশটি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের শেষ দিনে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

পরে হোটেল দিয়াওইউতাইয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি ‘দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব ও কৌশলগত’ সম্পর্কে রূপ দিতে নতুন একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দুই দেশ। তিনি জানান, সফরকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও শীর্ষ নেতা এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, এ সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং চারটি অতিরিক্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, চীনের সঙ্গে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সড়ক, সেতু ও রেলওয়েসহ অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশকে ‘মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্টেশন ম্যাকানিজম’ তৈরির ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে চায়।
তিনি জানান, বৈঠক শেষে দুই দেশ একটি যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্বে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও যেসব বিষয়ে আলোচনা
চীন সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া চীনের দালিয়ান শহরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘সামার দাভোস ২০২৬’ সম্মেলনেও অংশ নেন তিনি। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গেও বৈঠক করেন।
শুক্রবার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর সেখানে আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন মাহ্দী আমিন। আলোচনায় ‘পরস্পরের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা’র বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই নেতার আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি ছিল তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা। এই প্রকল্পের কারিগরি সহায়তা এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এ ছাড়া বিসিআইএম (বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার) অর্থনৈতিক করিডোর, চট্টগ্রাম বন্দরকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা এবং মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বাড়ানোর পরিকল্পনাও আলোচনায় এসেছে।
মাহ্দী আমিন জানান, ‘দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনার ভিত্তিতে ১৬ দফার একটি যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও বড়ো সিদ্ধান্তগুলো জায়গা পেয়েছে।’
বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চীনের শিল্প স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে যুক্ত করার পরিকল্পনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
উন্নয়নের ক্ষেত্রে সড়ক, সেতু ও রেলওয়ে অবকাঠামোর পাশাপাশি আনোয়ারায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে চীন।
বৈঠকের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘বিশ্ব পরিস্থিতি যেমনই পরিবর্তিত হোক না কেন, চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মূল লক্ষ্য থেকে বেইজিং কখনও সরে আসবে না। চীন সবসময়ই বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু, সুপ্রতিবেশী এবং ভালো অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।’
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চীন বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে এবং যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধী।
এর আগে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন জানান, সমঝোতা স্মারকগুলো মূলত বিনিয়োগ সহযোগিতা, সবুজ উন্নয়ন (গ্রিন ডেভেলপমেন্ট) এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সই করা হয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা (জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান) নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ওই সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন আরও বলেন, ‘আমাদের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অর্থাৎ যার অধীনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়গুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়ে এমওইউ হয়েছে। একই সঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়নে এক পৃথক কো-অপারেশন প্ল্যান সই হয়েছে।’
এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার বিষয়ে চীন আশ্বস্ত করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ছাড়াও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একে অপরকে সমর্থন জানানো এবং বাংলাদেশকে ব্রিকস সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে চীন।’

অর্থনৈতিক করিডোরে বাংলাদেশকে যুক্ত করার প্রস্তাব, ব্রিকসের সদস্যপদ পেতে সহায়তার আশ্বাস এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে চীন সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, কৌশলগত অংশীদারিত্ব, অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্প স্থানান্তরসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইটটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এর আগে এ দিন বেইজিংয়ের হোটেল ‘দিয়াওইউতাই’-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীনের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একে অপরকে সমর্থন জানানো এবং বাংলাদেশকে ব্রিকসের সদস্যপদ পেতে সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছে দেশটি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের শেষ দিনে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

পরে হোটেল দিয়াওইউতাইয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি ‘দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব ও কৌশলগত’ সম্পর্কে রূপ দিতে নতুন একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দুই দেশ। তিনি জানান, সফরকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও শীর্ষ নেতা এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, এ সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং চারটি অতিরিক্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, চীনের সঙ্গে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সড়ক, সেতু ও রেলওয়েসহ অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশকে ‘মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্টেশন ম্যাকানিজম’ তৈরির ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে চায়।
তিনি জানান, বৈঠক শেষে দুই দেশ একটি যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্বে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও যেসব বিষয়ে আলোচনা
চীন সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া চীনের দালিয়ান শহরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘সামার দাভোস ২০২৬’ সম্মেলনেও অংশ নেন তিনি। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গেও বৈঠক করেন।
শুক্রবার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর সেখানে আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন মাহ্দী আমিন। আলোচনায় ‘পরস্পরের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা’র বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই নেতার আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি ছিল তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা। এই প্রকল্পের কারিগরি সহায়তা এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এ ছাড়া বিসিআইএম (বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার) অর্থনৈতিক করিডোর, চট্টগ্রাম বন্দরকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা এবং মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বাড়ানোর পরিকল্পনাও আলোচনায় এসেছে।
মাহ্দী আমিন জানান, ‘দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনার ভিত্তিতে ১৬ দফার একটি যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও বড়ো সিদ্ধান্তগুলো জায়গা পেয়েছে।’
বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চীনের শিল্প স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে যুক্ত করার পরিকল্পনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
উন্নয়নের ক্ষেত্রে সড়ক, সেতু ও রেলওয়ে অবকাঠামোর পাশাপাশি আনোয়ারায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে চীন।
বৈঠকের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘বিশ্ব পরিস্থিতি যেমনই পরিবর্তিত হোক না কেন, চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মূল লক্ষ্য থেকে বেইজিং কখনও সরে আসবে না। চীন সবসময়ই বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু, সুপ্রতিবেশী এবং ভালো অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।’
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চীন বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে এবং যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধী।
এর আগে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন জানান, সমঝোতা স্মারকগুলো মূলত বিনিয়োগ সহযোগিতা, সবুজ উন্নয়ন (গ্রিন ডেভেলপমেন্ট) এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সই করা হয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা (জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান) নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ওই সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন আরও বলেন, ‘আমাদের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অর্থাৎ যার অধীনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়গুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়ে এমওইউ হয়েছে। একই সঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়নে এক পৃথক কো-অপারেশন প্ল্যান সই হয়েছে।’
এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার বিষয়ে চীন আশ্বস্ত করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ছাড়াও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একে অপরকে সমর্থন জানানো এবং বাংলাদেশকে ব্রিকস সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে চীন।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। আজ শুক্রবার দুপুরে বেইজিংয়ের তিয়াওইউথাই হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
৯ ঘণ্টা আগে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় ১০ হাজার মানুষকে পুশব্যাকের যে দাবি করা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা বা দালিলিক পরিসংখ্যান বাংলাদেশ সরকারের কাছে নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ হিসেবে সীমান্তে এ ধরনের তৎপরতা প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পা
১০ ঘণ্টা আগে
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগরবাসী সচেতন হয়ে নিজ বাসাবাড়ি, আঙিনা, ছাদ ও ফুলের টবে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করলে ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তিনি ছাদ, আঙিনা কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি দ্রুত ফেলে দেওয়ারও আহ্বান জানান।
১১ ঘণ্টা আগে
বৈঠক শেষে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সমুন্নত রাখার পাশাপাশি যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রেও ঢাকার অবস্থানকে দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছে বেইজিং।
১১ ঘণ্টা আগে